Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

বাংলাদেশের দাবায় শুধুই হাহাকার

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

একটা সময় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ছিল দাবার সেরা শক্তি । এমনকি , এই উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার অনন্য কৃতিত্ব নিয়াজ মোর্শেরদের । সেটা ১৯৮৭ সালের ঘটনা । যা শুধু বাংলাদেশকেই নাড়া দেয় নি , ছুঁয়ে গিয়েছিল উপমহাদেশের মানুষের হৃদয় । দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার হিসেবে রাজকীয় সম্বর্ধনায় সিক্ত হয়েছিলেন নিয়াজ । বেড়েছিল বুদ্ধির খেলা দাবার চর্চা ।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে অনেক উজ্জ্বল দাবাড়ুর জন্ম হয়েছে । ছেলেদের মধ্যে জিয়াউর রহমান , জিয়াউর রহমান, রিফাত বিন সাত্তার, আবদুল্লাহ আল রাকিব ও এনামুল হেসেন রাজিব পেয়েছেন গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব । তবে ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশের আর কোন দাবাড়ু গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব পাননি । এদিকে , ভারতে বর্তমানে গ্র্যান্ডমাস্টার দাবাড়ু ছেলেদের মধ্যেই ৭৮ জন । বিশ্বনাথন আনন্দ তো জয় করেছিলেন বিশ্বশিরোপা । অথচ ভারত এক সময় দাবায় বাংলাদেশের চেয়ে বেশ পিছিয়েই ছিল ।

উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ মনে করেন ফেডারেশনের যথাযথ মনোযোগ না দেয়া , স্পন্সরের অভাব আর প্রচারণার অভাবেই দাবা কখনও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি । এছাড়া দাবা খেলে নিশ্চিত আয়ের উপায় না থাকায় এই খেলাকে পেশা হিসেবে নেয়ার মানসিকতা গড়ে ওঠে নি । নিয়াজ নিজেও গ্র্যান্ডমাস্টার হবার পর দাবার প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন নি । পড়াশুনা , সঙ্গীত , মডেলিং আর ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন । তাই তার সমসাময়িক বিস্বনাথন তাঁকে ছাড়িয়ে চলে যায় বহুদুর , এই দায় নিয়াজ নিজেও এড়াতে পারবেন না ।

বহুদিন ধরেই বাংলাদেশের চার আন্তর্জাতিক মাস্টার অপেক্ষায় ছিলেন গ্র্যান্ডমাস্টার হবেন । যদিও জিল্লুর রহমান এখন খেলার বাইরে । আবু সুফিয়ান শাকিল এবং মিনহাজ উদ্দিন তেমন সক্রিয় নন। সুফিয়ান ২০১১ ও মিনহাজ ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক মাস্টার হলেও এখনো তাঁরা কোনো জিএম নর্ম অর্জন করতে পারেননি। সুফিয়ান তো খেলা ছেড়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দাবা কোচ হিসেবে কাজ করছেন । পালন করছেন চেস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব ।

তবে ৩৩ বছরের মিনহাজ আশা ছাড়ছেন না । আরও কয়েক বছর দাবার বোর্ডে চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান । ভাগ্যপরীক্ষা করতে চান গ্র্যান্ডমাস্টার নর্ম পাওয়ার জন্য ।

নিয়মিত আন্তর্জাতিক আসরে খেলতে না পারায় বাংলাদেশের দাবাড়ুদের রেটিং পয়েন্ট বাড়ছে না । বাংলাদেশের মাটিতে জিএম টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়মিত না । যেখানে ভারতে ২০২২ সালে ১২টি জিএম টুর্নামেন্ট হয়েছে , বাংলাদেশে একটিও না । এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের দাবা যে টিকে আছে সেটাই বেশী ।

আহাস/ক্রী/০০৯