Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

নিজের ভুল কি বুঝতে পারছেন ফার্নান্দো স্যান্তস ?

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

কাতার বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট ছিল পর্তুগাল । কিন্তু সেই দলকেই বিদায় নিতে হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে । আফ্রিকার দেশ মরক্কোর কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় পর্তুগীজদের । যা এখনও অনেকের কাছে বিস্ময় ।

কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ের পর চাকুরী হারিয়েছেন কোচ ফার্নান্দো স্যান্তস । তাঁকে চাকুরিচ্যুত করেছে পর্তুগীজ ফুটবল ফেডারেশন । দলের ব্যর্থতায় কোচদের চাকুরী যাওয়া নতুন কিছু না । কিন্তু স্যান্তসের বিষয়টা ছিল ভিন্ন । শুধু দলীয় ব্যর্থতা নয় , বরং দলে থাকা একজন ‘মহানায়ক’কে ব্যবহার করতে না পারার কারণেই তিনি পদচ্যুত । অথচ স্যান্তস থাকতে পারতেন পর্তুগালের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল আর সম্মানিত কোচ হিসেবে । যার অধীনে পর্তুগাল প্রথম আন্তর্জাতিক সাফল্য পায় ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের মাধ্যমে । পরবর্তীতে ২০১৮-১৯ মৌসুমে পর্তুগীজরা জয় করে উয়েফা নেশন্স লীগ । অর্থাৎ পর্তুগালের সেরা দুটি আন্তর্জাতিক সাফল্যই এসেছে স্যান্তসের হাত ধরে ।

কিন্তু ২০২২ সালের বিশ্বকাপে স্যান্তস যা করেছেন সেটার কোন ব্যাখ্যা নেই । ইতিহাসের সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে তিনি বেঞ্চে বসিয়ে রাখার মতো দুঃসাহস দেখিয়েছেন তিনি । যদিও ফর্মের কারণে তিনি এমন করতেন , মানা যেতো । রোনালদো বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই পেনাল্টি থেকে গোল করে গড়েন বিশ্বরেকর্ড । টানা পাঁচ বিশ্বকাপে গোল করা একমাত্র ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান ইতিহাসের পাতায় । হয়ে যান ‘ম্যান অফ দা ম্যাচ’ । এটি ছিল পর্তুগীজ মহানায়কের অষ্টম বিশ্বকাপ ম্যান অফ দা ম্যাচের পুরস্কার , যা ছিল রেকর্ড । পরবর্তীতে লিওনেল মেসি সেই রেকর্ড ভেঙেছেন । পরবর্তী দুই ম্যাচে গোল না পেলেও রোনালদো ছিলেন সপ্রতিভ ।

কিন্তু স্যান্তস সবাইকে হতবাক করেন নক আউট পর্বে । সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন । ম্যাচটি সুইসদের বিপক্ষে পর্তুগাল জিতে নেয় ৬-১ গোলে । রোনালদোর জায়গায় খেলতে নামা গঞ্চালো গোমেজ হ্যাট্রিক করে বসেন । এতেই বুঝি আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল স্যান্তসের । মরক্কোর বিপক্ষে একই পথ অনুসরণ করতে গিয়ে দেশকে ডুবিয়েছেন পর্তুগীজ কোচ । আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে তিনি উপেক্ষা করেয়ার যে দুঃসাহস দেখিয়েছেন , নিয়তি সম্ভবত সুবিচার করে দিয়েছে । তাই মরক্কোর কাছে পর্তুগাল হেরে বিদায় নেয় ।

রোনালদো কি সত্যি ফর্মে ছিলেন না ? খেলোয়াড়দের খারাপ ফর্ম আসতেই পারে । কিন্তু সেটা গ্রেট খেলোয়াড়রা সেই পরিস্থিতি থেকে নিজেরাই বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে নেন । বিশ্বকাপের পর বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) প্রথম খেলতে নেমেছিলেন রোনালদো । সম্প্রতি তিনি যোগ দিয়েছেন সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসেরে । সৌদি লীগের আল নাসের আর আল হিলালের সম্মিলিত একাদশকে নেতৃত্ব দেন তিনি । প্রতিপক্ষ কাগজে-কলমে ইউরোপ তথা বিশ্বের সবচেয়ে তারকাখচিত দল পিএসজি । যে দলের হয়ে খেলেছেন মেসি , কিলিয়ান এমবাপ্পে , নেইমার আর সার্জিও র‍্যামোসরা ।

পিএসজির বিপক্ষে রোনালদো একাই লড়েছেন । ম্যাচে তার রেটিং পয়েন্ট ছিল ৯.১ । ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন । পিএসজির বিপক্ষে রোনালদোর দ্বিতীয় গোলটি ছিল দেখার মতো । প্রথমে দুর্দান্ত হেড সাইড-পোস্টে লেগে ফিরে আসার পর ফিরতি ভলিতে তিনি পরাস্ত করেন গোলরক্ষক কেইলর নাভাসকে । তার গতির সামনে পিএসজি ডিফেন্ডার মার্কুইনহোস কোন সুযোগ পান নি । সুযোগ পান নি নাভাস । সেই সময়ে মনেই হয় নি রোনালদোর বয়স ৩৭ পেরুতে চলেছে !

ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন রোনালদো । যেখানে এমবাপ্পে রেটিং পয়েন্ট পেয়েছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯ আর মেসির রেটিং ছিল ৭ । মাঠে সবার সেরা রোনালদো প্রমাণ করেছেন , ফুটবলকে এখনও অনেক কিছু দেবার বাকী তাঁর । অথচ সেটাই বুঝতে পারেন নি স্যান্তস । তাই আন্তর্জাতিক ফুটবলের সেরা গোলদাতাকে তিনি বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছেন । পরিনতিতে পর্তুগাল বাদ পড়েছে আর স্যান্তস চাকুরী খুইয়েছেন । এখন কি স্যান্তস বুঝতে পেরেছেন , তিনি আসলেই কি মারাত্মক ভুল করেছিলেন ।

আহাস/ক্রী/০০৭