Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

আর্জেন্টিনার জয় ছিল পরিকল্পিত

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

পোল্যান্ডের বিপক্ষে হারলেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় । ড্র করলেও রয়েছে ঝুঁকি । এমন পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিতে নিয়েছে পোল্যান্ডের বিপক্ষে । জায়গা  করে  নিয়েছে নক আউট পর্বে । অন্যদিকে , হেরে যাওয়া পোল্যান্ডেরও কোন ক্ষতি হয় নি । তারাও নাম লিখিয়ে নক আউট পর্বে ।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) ”সি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা আর পোল্যান্ড । আরেক ম্যাচে মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ ছিল সৌদি আরব । এই ম্যাচের আগে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছিল পোল্যান্ড । সমান তিন পয়েন্ট নিয়ে আর্জেন্টিনা আর সৌদি আরব ছিল পরের দুটি স্থানে । মেক্সিকো এক পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছিল সবার পেছনে ।

পোল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সমীকরণ ছিল একটাই । জয় । তাহলেই নক আউট পর্বে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে এড়াতে পারবে আর্জেন্টিনা , যাদের কাছে সেরা ষোল পর্বেই হেরে গত আসরে বিদায় নিয়েছিল । অন্যদিকে , পোল্যান্ডের জন্যেও ম্যাচটি খুব বেশী ঝুঁকির ছিল না । কারণ সৌদি আরব প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারালেও সেটা ‘অঘটন’ ছাড়া আর কিছু ছিল না ।তাছাড়া ,  প্রথম দুই  ম্যাচে মেক্সিকো আর সৌদির সাথে লড়াই করে তাদের শক্তিও মাপা হয়ে গিয়েছিল পোলিশদের । যে কারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারলেও কম গোলে হারতে হবে ,  এটা বুঝে গিয়েছিল পোল্যান্ড ।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পোল্যান্ডের ম্যাচ যারাই দেখেছেন , এটি জিনিস স্পষ্ট , পুরো ম্যাচে পোল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে জয়ের কোন মানসিকতা ছিল না । এমনকি , কোচ সেসলো মিকিউইচের কৌশল নিয়েও ছিল প্রশ্ন ।  একাদশে  মাত্র একজন উইঙ্গার তিনি নামিয়েছেন , প্রামিস্লো ফ্রাংকোসকিকে । আর ফরোয়ার্ড লাইনে রবার্ট লেভেন্ডসকি এবং ক্যারল সুইডেরস্কি ছিলেন । যার মধ্যে সুইডেরস্কি ছিলেন সারাক্ষণ নিজেদের সীমানায় ।আবার  তাদের বল দেয়ার মতো মধ্যমাঠ ছিল না ।  বরং ছিল রক্ষণভাগ আর ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডের ছড়াছড়ি । ক্রিচোয়াক আর ক্রিস্টিয়ান বিয়েলিকরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হলেও তাদের অবস্থান ছিল নিজেদের রক্ষণে । সব মিলিয়ে পোল্যান্ড কোচ ম্যাচটি জেতার কোন চেষ্টাই করেন নি , এটা পরিস্কার । 

ম্যাচে রেফারির ভুমিকাও ছিল আপত্তিকর । প্রথমার্ধে ভিআর দেখে যে পেনাল্টি দিয়েছেন সেটা মানতে পারেন নি খোদ আর্জেন্টিনা ভক্তরা । পোলিশ কিপার সেজনির সাথে শুন্য অবস্থায় মেসির যখন সংঘর্ষ হয় , তখন আগেই বল চলে গেছে মেসির আয়ত্বের বাইরে । এমন অবস্থায় মেসির নিপুন অভিনয়ে বিভ্রান্ত রেফারি দিয়ে দেন পেনাল্টি । প্রথম ম্যাচে সৌদির বিপক্ষে মেসিরা পড়েছিল অফ সাইডের ফাঁদে । পোল্যান্ড সেই চেষ্টাও করে নি । বরং রক্ষণাত্মক খেলেও তারা যেভাবে জায়গা দিয়েছে মেসি আর আলভারেজ , ডি মারিয়াদের জায়গা দিয়েছে তা ছিল অবাক করার মতো ।

ম্যাচটি পুরো দেখলে যে কারো সন্দেহ হওয়াই স্বাভাবিক । এই ম্যাচটির পেছনে অন্য কোন সুত্র আছে । অতীতেও ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় পর্বে গ্রুপের শেষ ম্যাচে পেরুকে ম্যানেজ করে প্রয়োজনীয় গোল আদায় করে আর্জেন্টিনা খেলেছে বিশ্বকাপ ফাইনাল । ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ইকুয়েডরের বিপক্ষেও ঘটেছে একই ঘটনা । সেই ম্যাচ পরিকল্পনামাফিক জিতে আর্জেন্টিনা নাম লেখায় রাশিয়া বিশ্বকাপে । এবারেও তেমন কিছু বিচিত্র না ।

আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ুক এটা চায় না খোদ ফিফা কিংবা এডিডাসের মতো প্রতিষ্ঠান । সাথে অন্যান্য স্পন্সর আর টিভি স্বত্ব কেনা প্রতিষ্ঠানের মাথায় হাত পড়বে আর্জেন্টিনা , ব্রাজিলের মতো দল প্রথম রাউন্ডে বাদ পড়লে । আর এতে ক্ষতি ফিফা’র । কারণ এখনও সারা বিশ্বে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের মতো দলের সমর্থক দেখি , যারা এই দুই দলের খেলা দেখার জন্য বুঁদ হয়ে থাকে টিভি পর্দায় । মেসি , নেইমারদের নিজ নিজ স্পন্সর প্রতিষ্ঠান আছে । তবে সবচেয়ে বড় ফিফা’র নিজের বানিজ্য । তাই হয়ত মাঠে খোদ ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফানিত্তো উপস্থিত থাকলেও আর্জেন্টিনা আর পোল্যান্ড ম্যাচের কোন দুর্নীতি তার চোখে পড়ে নি । বরং তেমন কিছু হলে , সেটাকে ‘জায়েজ’ করতে তার উপস্থিতি ছিল উপকারী ।

প/ক্রী/০০৩