Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

সেরার সেরা হয়েও বাবা পারেনি , ছেলে পেরেছে

আহসান হাবীব সুমন/ক্রীড়ালোকঃ

জর্জ উইয়াহ । আফ্রিকার ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় । কিন্তু লাইবেরিয়ার হয়ে কোনদিন খেলা হয় নি ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ফিফা বিশ্বকাপে । হবে কি করে ? লাইবেরিয়া যে কখনও বিশ্বকাপ ফুটবলের মূলপর্বে অংশ নেয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি । তাই আফ্রিকান ইতিহাসের সেরা হয়েও জর্জ উইয়াহকে থাকতে হয়েছে বিশ্বকাপের দর্শক হয়ে ।

জর্জ উইয়াহ না পারলেও তাঁর সন্তান টিম উইয়াহ কিন্তু ঠিকই খেলে ফেলেছেন বিশ্বকাপ । তবে সেটা লাইবেরিয়ার হয়ে নয় । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ওয়েলসের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছে তাঁর । বিশ্বকাপ খেললেও বাবা জর্জ উইয়াহর মতো তারকাখ্যাতি কিন্তু টিমোথি উইয়াহ ওরফে টিম উইয়াহর । জর্জ তিনবার আফ্রিকান বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়েছেন । ১৯৯৫ সালের ফিফা বর্ষসেরা হয়েছেন । একই বছর পেয়েছেন ‘ব্যালন ডি অর’ । আফ্রিকান আর কোন ফুটবলারের এই রেকর্ড নেই ।

নিজের সময়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে জর্জ উইয়াহ মাতিয়েছেন ইউরোপের ক্লাব ফুটবল । নিজের দেশের ক্লাব ছাড়াও খেলেছেন ফ্রান্সের মোনাকো , প্যারিস সেইন্ট জার্মেই , অলিম মার্সেই , ইটালির এসি মিলান আর ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার সিটি এবং চেলসির মতো বাঘা বাঘা সব দলে । ক্লাব ক্যারিয়ারে ৪৭৮ ম্যাচে ১৯৩ গোলের মালিক তিনি । জিতেছেন ১১টি ট্রফি । ১৯৯৪-৯৫ সালে ছিলেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেরা গোলদাতা । একই বছর বিবিসি’র সেরা আফ্রিকান ফুটবলার হয়েছেন । ১৯৯৬ সালে ছিলেন ফিফা’র বর্ষসেরা ফুটবলার তালিকায় তৃতীয় । ২০০৫ সালে তাঁকে দেয়া হয়েছে আজীবন ফুটবলে অবদানের জন্য ‘গোল্ডেন ফুট”।

জর্জ উইয়াহ দেশের হয়ে ৭৫ ম্যাচে ১৮ গোল করেছেন । লাইবেরিয়াকে বিশ্বকাপে মুলমঞ্চে নিয়ে যেতে পারেন নি । কিন্তু দেশটির মানুষের কাছে তিনি দেবতা-তুল্য । বর্তমানে তিনি লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন । পৃথিবীর আর কোন ফুটবলার দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদে আসীন হতে পারেন নি ।

জর্জ উইয়াহর লাইবেরিয়া ২০০২ সালে একটুর জন্য বিশ্বকাপে আসতে পারেনি । তাদের থেকে মাত্র এক পয়েন্ট এগিয়ে থাকা নাইজেরিয়া সুযোগ পায় জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপে । এশিয়্য আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপে বাবা পারেনি , কিন্তু ছেলে ঠিকই আরেকটি এশিয়ায় আয়োজিত বিশ্বকাপে খেলছে । জর্জ উইয়াহর সন্তান টিম উইয়াহ কাতার বিশ্বকাপে খেলছেন মার্কিনিদের হয়ে । নিজের অভিষেক ম্যাচেই মার্কিনিদের তিনি এগিয়ে নিয়েছিলেন গোল করে । যদিও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র হয় ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচটি ।

২২ বছর বয়সী উইঙ্গার টিমোথি উইয়াহ বাবার পথে ধরেই চলছেন । ইতোমধ্যে আমেরিকার হয়ে ২৬ ম্যাচে ৪ গোলের মালিক । প্যারিস সেইন্ট কার্মেই হয়ে এখন খেলছেন ফ্রান্সের আরেক বড় ক্লাব লিলেতে ।

প্রথম ম্যাচের পর টিমোথি উইয়াহ বলেছেন , ‘ আমি জানি , বিশ্বকাপে খেলা বাবার অনেক বড় স্বপ্ন ছিল । যদিও সেটা হয় নি । তবে আমি বিশ্বকাপে খেলছি । যা তাঁকে গর্বিত করবে । বলতে পারেন , বাবার একটা অপূর্ণ স্বপ্ন আমি পূরণ করতে পেরেছি । ‘

আহাস/ক্রী/০০১