Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

সেনেগালের মহানায়ক আলিউ সিসে

আহসান হাবীব সুমন/ক্রীড়ালোকঃ

বিশ্বকাপে পা রাখার আগেই এসেছিল ভয়ংকর দুঃসংবাদ । খেলতে পারবেন না সেনেগালের সেরা তারকা সাদিও মানে । যিনি বর্তমানে শুধু সেনেগাল না আফ্রিকার নন , বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার । তাঁকে ছাড়া সেনেগাল কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাঁধা পেরুতে পারবে কিনা , এই নিয়েই ছিল অনেকের সন্দেহ । কিন্তু না , সেনেগাল পেরেছে । সাদিও মানেকে ছাড়াই উঠে গেছে নক আউট পর্বে । কারণ তাদের দলে আছে একজন আলিউ সিসে । যিনি সেনেগালের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার । অন্যতম সেরা অধিনায়ক । আর বর্তমানে কোচ হিসেবেও যিনি অনন্য ।

সেনেগালের নামটা সবাই জেনেছিল ২০০২ সালে । সেবারেও বিশ্বকাপের আসর বসেছিল এশিয়ায় । যৌথ আয়োজক ছিল জাপান আর দক্ষিণ কোরিয়া । সেই আসরেই বিশ্বকাপ অভিষেক হয় সেনেগালের । প্রথম ম্যাচেই সেই সময়ের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচে হারিয়ে দেয় সেনেগাল । তাক লাগিয়ে দেয় পুরো বিশ্বকে । শেষ পর্যন্ত সেনেগাল উঠেছিল কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত । যে রেকর্ড আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে আছে কেবল ক্যামেরুন , নাইজেরিয়া আর ঘানার ।

২০০২ সালে সেনেগালকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আলিউ সিসে । যার অধীনে শুধু বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নয় , সেনেগাল প্রথমবারের মতো খেলেছিল আফ্রিকান নেশন্স কাপের ফাইনালে । সেই সিসে ২০১৫ সাল থেকে থেকে কাজ করছেন সেনেগালের কোচ হিসেবে । তার অধীনেই সেনেগাল দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মুলমঞ্চে খেলার সুযোগ পায় ২০১৮ সালে । যদিও রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত আসরে সেনেগাল পেরুতে পারে নি গ্রুপ পর্বের বাঁধা । কিন্তু ২০১৯ সালে আবারও উঠে যায় আফ্রিকা মহাদেশের সেরা কাপ অফ নেশন্সের ফাইনালে ।

খেলোয়াড় আর কোচ হিসেবে দুইটি আফ্রিকান কাপ অফ নেশন্সের ফাইনাল হারের জ্বালা আলিউ সিসে মেটান ২০২১ সালে । মিশরকে হারিয়ে জিতে নেন আফ্রিকার সেরার মুকুট । আর সেই মিশরকে প্লে-অফে হারিয়েই টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে সেনেগাল । তবে বিশ্বকাপে আসার আগেই সাদিও মানে র ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়ায় বড় ধাক্কা খায় সেনেগাল ।

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ৯৩ ম্যাচে ৩৪ গোল করা সাদিও মানে সেনেগালের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় । ২০২১ সালে সেনেগালকে আফ্রিকান কাপ অফ নেশন্সের শিরোপা জিতিয়েছেন । ছিলেন আসরের সেরা খেলোয়াড় । ২০১৯ সালের পর ২০২২ সালেও পেয়েছেন আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার । লিভারপুলের হয়ে দুইটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগসহ ক্লাব ক্যারিয়ারে জিতেছেন ১০টি শিরোপা । বর্তমানে খেলছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে । ক্লাব ক্যারিয়ারে যার গোলের সংখ্যা ২০৫টি । যিনি প্লে-অফে টাইব্রেকারে গোল করে দলকে মিশরের বিরুদ্ধে জিতিয়ে এনেছেন বিশ্বকাপে , সেই মানেই নেই কাতারে ।

মানে নেই তো কি হয়েছে ? আলিউ সিসে আছেন । তিনিই দলকে নিয়ে গেছেন নক আউট পর্বে । অথচ প্রথম ম্যাচেই হল্যান্ডের কাছে ০-২ গোলের হার দিয়ে শুরু হয়েছিল সিসের দলের মিশন । কিন্তু পরবর্তী দুই ম্যাচে কাতার আর ইকুয়েডরকে হারিয়ে ঠিকই সেরা ষোল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে সেনেগাল । শেষ গ্রুপ ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ড্র করলেই ইকুয়েডর চলে যেতো প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে । কিন্তু উল্টো সেনেগাল জিতেছে ২-১ গোলে । তাই হল্যান্ডের সাথে তারা সঙ্গী হয়েছে নক আউট পর্বের ।

সেনেগালের এই সাফল্যে খেলোয়াড়দের অবদান খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই । কিন্তু সিসে হচ্ছেন সাফল্যের মুল কারিগর । ২০২২ সালে আফ্রিকা মহাদেশের সেরা কোচ তো এমনি এমনি নির্বাচিত হন নি ।

আহাস/ক্রী/০০১