Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

ভ্যালেন্সিয়া আর কাতারের রেকর্ডের ম্যাচে মিলেছে শুধু হতাশা

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম স্বাগতিক দেশ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচে হারার রেকর্ড গড়ল  কাতার । তাদেরকে হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করেছে ইকুয়েডর । কিন্তু ল্যাটিন থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ টিকেট পাওয়া দলটিও ভরাতে পারেনি ফুটবলপ্রেমীদের মন ।

রবিবার (২০ নভেম্বর) পর্দা উঠেছে ২২তম ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের । উদ্বোধনী দিনের একমাত্র ম্যাচে ইকুয়েডর ২-০ গোলে হারিয়েছে কাতারকে । ইকুয়েডরের পক্ষে জোড়া গোল করে দলকে জিতিয়েছেন এনার ভ্যালেন্সিয়া ।

খেলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাতারকে মনে হয়েছে ‘নবীশ’ দল । বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের খেলার যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে । অবশ্য কাতার ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের মুলমঞ্চে খেলছে স্বাগতিকের সুবিধা নিয়ে । যে সুবিধা পাওয়ার পেছনে রয়েছে আর্থিক কেলেংকারির গল্প । বিশ্ব ফুটবলে অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। কাতার বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার পরই ২০২০ সালে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য জানায় সংস্থাটি। তাতে অভিযোগ করা হয়, ঘুষ দিয়ে বিশ্বকাপের আয়োজক স্বত্ব পেয়েছে ধনী দেশ কাতার। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আয়োজক নির্ধারণে ফিফার নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সাবেক সদস্য ঘুষের প্রস্তাব পান। সেই প্রস্তাব তারা গ্রহণ করে কাতারের পক্ষে ভোট দেন। যদিও এমন অভিযোগ বরাবরই উড়িয়ে দিয়েছে কাতার।

কিন্তু কাতারের যে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা আসলেই নেই , সেটা প্রমাণ হয়েছে প্রথম ম্যাচেই । প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর কোন পরাশক্তি নয় । বরং ল্যাটিনের মাঝারীশক্তি । সেই তাদের কাছেই পাত্তা পায় নি স্বাগতিকরা । খেলায় হারজিত থাকবেই ।  অথচ  ইকুয়েডরের বিপক্ষে কাতারের খেলায় ছিল না কোন পরিকল্পনা । পুরো ম্যাচে প্রথমার্ধের শেষদিকে সতীর্থের বাড়ানো ক্রস থেকে আলমোয়েজ আলীর হেডের প্রচেস্টা ছাড়া আর কিছু চোখে পড়ে নি । বাকী সময়ে আকরাম আফিফরা দুই একবার ইকুয়েডরের গোলমুখে দূর থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিয়েই সময় পার করেছেন ।

অন্যদিকে , ইকুয়েডর বিজয়ী হলেও মাঠের খেলায় মুগ্ধ করতে পারেনি । তাদের দুইটি গোলই এসেছে প্রতিপক্ষের দুর্বল মার্কিং এর কারণে । প্রথমে রক্ষণের ভুলে বল নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া ভ্যালেন্সিয়াকে ফাউল করে দেয়া ছাড়া কোন উপায় ছিল না গোলরক্ষক সাদ আল শিবের । ১৬ মিনিটে এই ঘটনায় পেনাল্টিও পায় ইকুয়েডর । আর হলুদ কার্ড দেখেছেন স্বাগতিক গোলরক্ষক । যদিও এই ফাউলে রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখালেও অবাক হবার কিছু ছিল না । পেনাল্টি থেকে প্রাপ্ত সুযোগ ঠাণ্ডা মাথায় কাজে লাগিয়েছেন অধিনায়ক ভ্যালেন্সিয়া ।

গোলরক্ষক আল শিবের ভুলেই ৩ মিনিটের মাথায় গোল করে ফেলেছিল ইকুয়েডর । যদিও ভ্যালেন্সিয়ার সেই গোল বাতিল হয় ভিডিও রেফারির পরীক্ষায় অফ সাইডের কারণে ।

৩১ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়ার গোলটি ছিল অসাধারণ । ডান দিক থেকে সতীর্থ ডিফেন্ডার আনহেলো প্রেসিয়াদোর দারুণ ক্রস দূরের পোস্টে পেয়ে লাফিয়ে নেওয়া হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেনারবাখে খেলা ইকুয়েডরিয়ান অধিনায়ক ।

এই নিয়ে বিশ্বকাপে গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচটি । ২০০২ সালে ১টি আর ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে দুইটি গোল করেছিলেন ভ্যালেন্সিয়া । আর ২০২২ সালের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল । তিনিই এখন ইকুয়েডরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী বিশ্বকাপ গোলের মালিক ।

ইকুয়েডর জিতলেও মুগ্ধ করার মতো ফুটবল খেলতে পারেনি । বরং দিনদিন ইউরোপের তুলনায় ল্যাটিনের পিছিয়ে পড়ার প্রমাণ যেন প্রথম ম্যাচে জিতেও দিয়ে গেল ইকুয়েডর ।

আহাস/ক্রী/০০৩