Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

বড় ম্যাচের বড় খেলোয়াড় মেসি নন , ডি মারিয়া

আহসান হাবীব সুমন/ক্রীড়ালোকঃ

তারকাখ্যাতিতে লিওনেল মেসির চেয়ে অনেক পিছিয়ে আনহেল ডি মারিরা । কিন্তু কার্যকারিতায় মেসির চেয়ে এগিয়ে তিনি । অন্তত আর্জেন্টিনার প্রয়োজনের সময় ডি মারিয়াকে যেভাবে জ্বলে উঠতে দেখা গেছে , সেভাবে  পাওয়া যায় নি মেসিকে । সহজ কথায় , আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সময়ের যা সাফল্য , তাতে মেসির চেয়ে অনেক বেশী অবদান ডি মারিয়ার ।

তাহলে কি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের মেসির অবদান নেই ? অবশ্যই আছে । আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশী ৯১ গোল মেসির । সবচেয়ে বেশী ম্যান অফ দা ম্যাচ হয়েছেন তিনি । কিন্তু পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যাবে , মেসির বেশীরভাগ গোল এসেছে প্রীতি ম্যাচ ,  টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে কিংবা অপেক্ষাকৃত ছোট দলের বিপক্ষে  । যেমন ,  ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ‘গোল্ডেন-বল’ জিতেছিলেন মেসি । তিনি অসাধারণ খেলেছিলেন গ্রুপ পর্বে । তাঁর তিনটি গোলই পেয়েছিলেন গ্রুপের ম্যাচে ।  কিন্তু নক আউট পর্ব থেকে মেসির আধিপত্য আর থাকেনি । ২০২১ সালের কোপা আমেরিকায় একই দৃশ্য দেখা গেছে । সেমি ফাইনাল কিংবা ফাইনালে মেসি কোন গোলের দেখা পাননি । কিন্তু চার গোল করে তিনি ছিলেন সেরা গোলদাতা । যার তিনটি ছিল গ্রুপ পর্বে । আর ফাইনালেও তিনি সেরা খেলোয়াড় ছিলেন না  । কে ছিলেন কোপা ফাইনালের সেরা ? উত্তর –  ডি মারিয়া ।

ফুটবলের বড় আসরে মহান খেলোয়াড়রা খেলাই শুরু করেন নক আউট পর্ব থেকে , এমন কথা প্রচলিত আছে। দিয়াগো ম্যারাডোনা কিংবা জিনেদিন জিদান সেই কারণেই গ্রেট । পেলে আর রোনাল্ডো নাজারিওরা গ্রুপ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত দলকে টেনেছেন ।   যা মেসি পারেন নি । কিন্তু পেরেছেন ডি মারিয়া ।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ডি মারিয়া থাকলে আর্জেন্টিনা হারত না জার্মানির কাছে  , এমন কথা বিশ্বাস করেন খোদ আলবেসেলেস্তে সমর্থকরা । নক আউট পর্বের শুরুতেই ডি মারিয়ার ১১৮ মিনিটের গোলে আর্জেন্টিনা হারায় সুইসদের । কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হিগুয়াইনের একমাত্র গোলে এসিস্ট ছিল ডি মারিয়ার । কিন্তু সেমি ফাইনাল থেকে মারিয়া ছিলেন না । আর্জেন্টিনাও আর গোলের দেখা পায় নি । হল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ চারের লড়াইয়ে কোনমতে টাইব্রেকারে জিতলেও মারিয়াবিহীন আর্জেন্টিনা পারেনি জার্মানির সাথে । সর্বশেষ ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ নক আউট পর্বেও ফ্রান্সের বিপক্ষে অসাধারণ গোল করেছিলেন ডি মারিয়া । দলমে খেলায় রেখেছিলেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত । 

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে বড় সাফল্য এনে দেয়ায় অভ্যস্ত ডি মারিয়া । ২০০৮ সালের অলিম্পিক ফাইনালে তাঁর একমাত্র গোলেই আর্জেন্টিনা হারায় নাইজেরিয়াকে । ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে একমাত্র জয়সুচক গোলটি তাঁর । চলতি বছরের লা ফিনালিসিমায় ইটালির বিপক্ষেও অসাধারণ একটি গোল করেন ডি মারিয়া । অন্যদিকে মেসির রয়েছে ফাইনালের মতো মঞ্চে খেই হারিয়ে ফেলার রেকর্ড । কয়েক বছর আগে কোপা ফাইনালে চিলির বিরুদ্ধে তাঁর পেনাল্টি মিস এখনও কাঁদায় ভক্তদের । ২০১৪ সালের ফাইনালে মিস করেছেন সহজ সুযোগ ।  জাতীয় দলের বাইরেও বার্সেলোনার জার্সিতে নক আউট পর্বের এওয়ে ম্যাচে মেসিকে থাকতে দেখা গেছে নিষ্প্রাণ । সেটা লিভারপুল হোক কিংবা বায়ার্নের বিপক্ষে । সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লীগেও পিএসজির হয়ে রিয়েলের বিপক্ষে নক আউট পর্বে পেনাল্টি মিস করে দলকে ডুবিয়েছেন মেসি ।

কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা অন্যতম ফেভারিট হিসেবে খেলতে চলেছে । আর্জেন্টিনা দলের সবাই মেসির জন্য চাইছে বিশ্বকাপ জিততে । বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন খেলোয়াড় হিসেবে মেসির বিশ্বকাপ পাওয়া দাবী রাখে । কিন্তু সেই ক্ষেত্রে মাঠে জ্বলে উঠতে হবে ডি মারিয়াকেই । অন্তত বড় ম্যাচগুলোতে । ডি মারিয়া নিজেও জানেন এই সত্য । তাই হয়ত বিশ্বকাপ শুরুর আগে মারিয়া বলেছেন , ‘ আমি মেসির খেলার ভক্ত । কিন্তু তাঁর মানে এই না যে , মেসিকে খেলার সময় সব বল বাড়াতে হবে । আমাদের দল মেসি নির্ভর নয় । ‘

একই কথা বলেছেন লিওনেল স্কালোনি , ‘ মেসির আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য । কিন্তু আমরা মেসি নির্ভরতা কাটিয়েই একটি দল হিসেবে সঙ্গবদ্ধ হয়েছি । ‘

অর্থাৎ , আর্জেন্টিনা বুঝে গেছে মেসির দিকে তাকিয়ে থাকলে তাদের বিশ্বকাপ জেতা হবে না । লাগবে ডি মারিয়ার মতো বড় ম্যাচের বড় তারকা । যিনি যে কোন মুহূর্তে দুরুহ সব কোন থেকে অবিশ্বাস্য গোলার মতো শটে প্রতিপক্ষকে স্তব্ধ করে দিতে পারেন । পারেন একটি অসাধারণ পাসে প্রতিপক্ষের রক্ষণের সব দৃঢ়তা ভেঙে দিতে ।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ডি মারিয়া ১২৪  ম্যাচে ২৭ গোল করেছেন । তিনি গোল করেছেন ব্রাজিল , জার্মানি , পর্তুগাল , ফ্রান্সের মতো হেভিওয়েট দলের বিপক্ষে । 

আহাস/ক্রী/০০২