Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

পর্তুগাল, বিশ্বের সেরা দল গড়েও…?

মিনহাজুর রহমান জিহাদ:

দরজায় কড়া নাড়ছে। আবারো আরেকটি বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর ! হ্যাঁ, শুরু হতে যাচ্ছে। ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২ ঘিরে সারাবিশ্বের ভক্তকুলের ঘুম নেই। প্রিয় দেশের খেলা দেখবে বলে !

এদিকে ইউরোপ জুড়ে ক্লাবপাড়ায় প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়নি এখনো। বিষয়টা, অনেকের জন্য কালই হয়ে দাঁড়াচ্ছে ! কারণ কি ? বিশ্বমানের ফুটবলারেরা ইনজুরিতে পড়ছে যে ! বিশ্বকাপ স্বপ্নে বিভোর থেকেও ভাগ্য বলছে, তুমি খেলতে পারছো না !

পর্তুগাল বিশ্বকাপ দল ২০২২

একের পর এক খেলোয়াড়দের ইনজুরি ! প্রশ্ন তুলছে ফিফা ও উয়েফার ভূমিকা নিয়েও। একদিকে বরাবরের মত করে বিশ্বকাপের আসর জুন মাস থেকে সরিয়ে নভেম্বরে নেয়া হল। ফিফা বলছে, ভালই তো করলাম ! খেলোয়াড়েরা সেরাটা দিতে পারবে। এমনিতেই ক্লাব মওসুম শেষ করার পর বিশ্বকাপের আসর বসে থাকে। তখন, অধিকাংশ খেলোয়াড়ই ক্লান্ত থাকে, ইনজুরিতে থাকে—-সেরাটা দিতে পারে না। তাই একদিক দিয়ে ফিফার এমন ঘোষণায় বিশ্বসেরাদের শ্রেষ্ঠ পর্যায়ের খেলা এবার বিশ্ববাসী দেখতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ কম। ফিফা কাতারে কেন বিশ্বকাপ করতে গেল, তা নিয়ে আলোচনা করা হলে এখন অর্থহীন হবে। তবে, ফুটবলের জন্য সার্বজনীন সাংস্কৃতিক পরিবেশ কাতার তৈরি করতে পারবে কিনা, সন্দেহ রয়েই যায়।

অন্যদিকে উয়েফা ইচ্ছে করলে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের আসর ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত রাখতে পারত। এতে করে শেষ মুহূর্তে খেলোয়াড়দের জীবিকার প্রয়োজনে ক্লাবে দেয়া সেরাটা একটু আগভাগে শেষ হলে, নির্ভার হয়ে তারা দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে পারত।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মনে অপরদিকে টি-টোয়েন্টি  ক্রিকেট বিশ্বকাপ ঘিরে এর উন্মাদনা ছিল।আর মাত্র এক ম্যাচ পরেই যবনিকাপাত ঘটবে সেটার। উচ্ছ্বাসের প্রশ্নে, বাংলাদেশের বিদায়ে তা এখন অতীত। উপমহাদেশীয় ক্রীড়ার রাজ্যে আর দুই একদিন থাকবে।

সূত্র বলছে, প্রবলভাবে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়ছে।  গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ বলে কথা ! চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কোয়ালিফাই করা দলগুলো জানিয়ে দিচ্ছে তাদের স্কোয়াড। কা’রা লড়বে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ! সেরা দলটি বাছাইয়ে অফফর্ম, ইনজুরি ও পিপলস চয়েজ—সবই গণ্য করছে দেশগুলোর কোচ ও নির্বাচকেরা। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল দল ঘোষণা করেছে পর্তুগাল।

পর্তুগাল বস সান্তোস আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, সেরা খেলোয়াড়দের জায়গা দিতে বাদ দেওয়া হবে ইউরো, নেশন্স কাপ জয়ে অবদান আছে এমন অনেককেই। দল ঘোষণার সময় জানিয়ে দিলেন, রোনালদো সহ যাদেরকে ডেকেছেন, তাদের জয়ের ক্ষুধা আছে, পর্তুগালকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানানোর ক্ষুধা আছে। অর্থ্যাৎ, ভিশন পরিষ্কার, পর্তুগাল যাবে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই। হতে পারবে কিনা, সে প্রশ্ন সময়ের হাতেই তোলা থাকুক। তার আগে দেখে নেওয়া যাক ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের। কেমন হলো পর্তুগাল স্কোয়াড ?

 
গোলকিপারঃ


১. ডিয়োগো কস্তা

অনেকটাই নিশ্চিত তিনি পর্তুগালের এক নম্বর গোলকিপার হিসেবে একাদশে থাকবেন। সাম্প্রতিক ফর্ম তেমনটাই আভাস দেয়। অনেক সেরা গোলকিপারদের পিছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের গ্রুপ পর্বের সেরা গোলকিপার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।  তার দল পোর্তো গ্রুপপর্ব পেরিয়েছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে। লীগে আছে দুই নম্বরে।  ২০২১ সালে পর্তুগাল দলে অভিষেক হওয়া কস্তা ২০২২ সালে এসে হয়েছেন এক নম্বর গোলকিপার। তাও রুই প্যাট্রিসিওর মত অভিজ্ঞ, পরিক্ষীত সৈনিককে পেছনে ফেলে! তার মানে তিনি দ্রুতই সেরা হয়ে উঠছেন। নিশ্চয়ই বিশ্বকাপে সেরাটা দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। 


২. রুই প্যাট্রিসিও

দীর্ঘদিন ধরে পর্তুগাল দল মানেই গোলবারের নিচে রুই প্যাট্রিসিও এটা ছিল চিরন্তন সত্যের মত। অনেক পথ পাড়ি দেওয়া রুই ইউরোপের লাইম লাইটে কখনোই হাইলি রেটেড না হলেও জাতীয় দলে দিতেন সর্বস্ব। নিংড়ে দিয়েছেন নিজেকে।  প্রথম ও একমাত্র ইউরো ২০১৬ জয়ের গোলবার সামলেছেন তিনি। ন্যাশন্স লীগ ২০১৯ জয়ী এ গোলরক্ষক  ইতোমধ্যেই ১০৪ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন।  পর্তুগিজ লিজেন্ড ৩৪ বছর বয়সী প্যাট্রিসিওর হয়তো এটাই শেষ বিশ্বকাপ। সুযোগ পেলে নিশ্চয়ই আরো একবার অতন্দ্র প্রহরী হয়ে থাকতে চাইবেন। 


৩. জোসে সা

দলের সাথে থেকে ন্যশন্স লীগ জিতলেও এখনো মাঠে নামা হয়নি জোসে সা’র। মিনি পর্তুগাল খ্যাত  উলভারহ্যাম্পটনের গোলবার সামলাচ্ছেন তিনি।  একের পর এক অতিমানবীয় সেভ এর সাথে টানা পেনাল্টি ঠেকিয়ে ভ্রু কুঁচকে দিচ্ছেন।  এইতো গত ১৫ অক্টোবরে উলভ’স স্টেডিয়াম মোলিন্যাক্স এরেনায় ৭৯ মিনিটের সময় নটিংহ্যাম ফরেস্টের ব্রেনান জনসনের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার দল জয় পেয়েছে ১-০ তে।  অথচ তিনি নাকি সেই ম্যাচটা খেলেছেন ভাঙ্গা কব্জি নিয়ে! খুব সম্ভবত পর্তুগাল পেনাল্টি শুটআউটের সামনে পড়লে তাঁর উপর দায়িত্ব অর্পিত হতে পারে। 

ডিফেন্ডারঃ


৪. দিয়োগো দালত

ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলা এই রাইটব্যাকের একাদশে থাকা মোটামুটি নিশ্চিত। ডিফেন্ডিং স্কিল আরেকটু ভালো করে আর ওভারলুপিং কমিয়ে মনোযোগ ঠিকঠাক রাখতে পারলে বিশ্বকাপে নজর কাড়তে পারেন। 


৫. জোয়াও ক্যানসেলো

খুব সম্ভবত লেফটব্যাকে তাকে বিশ্বের যে কোন দলই চাইবে। ম্যানচেষ্টার সিটির দাপুটে ফর্মের অন্যতম কান্ডারী।  গোল করতে,করাতে সিদ্ধহস্ত।  দলের প্রয়োজনে গোল,এসিস্ট, ক্রসিং দিয়ে নজর কাড়তে পারেন।  পর্তুগাল সফল হতে হলে তার দুরন্ত ফর্ম অবশ্যই লাগবে। এ বছরের ব্যালন ডি’অর লিস্টে ২৫ তম তালিকায় ছিলেন তিনি, একজন লেফট ব্যাক হয়ে! যদিও তিনি ফলত রাইট ব্যাক। সান্তোসের উচিত হবে ইনফর্ম ডালোট কে রাইট বয়াকে খেলিয়ে ক্যানসেলোকে লেফট উইং ব্যাক হিসাবে খেলানো।

তাদের ওপরেই পর্তুগালের এখন বিশ্বকাপ ভাগ্য। ছবিতে বারনান্ডো সিলভা ও ক্রিস্টিয়ানো


৬. দানিলো পেরেইরা

ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হলেও পিএসজির হয়ে খেলছেন ডিফেন্ডার হয়ে৷  সান্তোসের প্রিয় ছাত্রদের একজন হওয়ায় দলে থাকেনই৷ স্লো স্পিড, চাপের মুখে ভেঙ্গে পড়ার কারণে বাতাসে গুঞ্জন থাকলেও একাদশে থাকতে পারেন! সান্তোস তাকে কিভাবে ব্যবহার করেন সেটাই দেখার বিষয়।  


৭. পেপে

রিয়াল মাদ্রিদ লিজেন্ড বেসিকতাস হয়ে ৩৯ বছর বয়সেও পর্তুগিজ লীগ কাঁপাচ্ছেন। সমানতালে ডিফেন্ডিং স্কিল,বাতাসে দক্ষতা ও এগ্রেশনের জন্য বিখ্যাত। অভিজ্ঞতা, ফর্ম যে কোন বিচারে একাদশে অবশ্যম্ভাবী৷ সদ্য ইনজুরিমুক্ত হয়ে রিদম পাওয়াটাই আসল। পর্তুগাল ডিফেন্সের গুরুভার আসলে তার উপর। তিনি সুস্থ হয়ে খেলতে পারলে পর্তুগাল রক্ষণেও শক্তিশালী।

পেপে আর রুবেন ডিয়াস; চীনের প্রাচীরের মত করে !


৮. রুবেন দিয়াজ

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবসময়ই দুরন্ত ফর্মে থাকা দিয়াজ জাতীয় দলে এখনো সেভাবে প্রমাণ করতে পারেননি। ইঞ্জুরি সেটার বড় একটা কারণ৷ তবে পেপের সাথে জুটি বেঁধে ডিফেন্স সামলাবেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত। দীর্ঘদেহী দিয়াজের ডিফেন্সিভ স্কিল,স্লাইডিং ট্যাকল,বাতাসে দক্ষতা প্রমাণের মোক্ষম সময় এই বিশ্বকাপ।


৯. আন্তোনিও সিলভা

পর্তুগালের বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে আসা মাত্র ১৯ বছর বয়সী প্রতিভাবান এই সেন্টারব্যাক সান্তোসের দলে জায়গা করে অবাক করে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক ফর্ম আর স্কিলের এই ওয়ান্ডার কিড সুযোগ পেলে আলো ছড়াতে পারেন। পর্তুগিজ লীগে এক নম্বরে থাকা বেনফিকার হয়ে খেলেন তিনি। 


১০. নুনো মেন্ডেস

লেফটব্যাকে খেলা এই খেলোয়াড় ক্যানসেলোর বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। সান্তোস তাকে রাইটব্যাকে ব্যবহার করেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়। পিএসজির হয়ে ভার্সেটাইল খেলা এই তরুণ বিশ্বকাপে মাঠে নামবেন নিশ্চিত তবে পজিশনিংটাই আসল! 


১১. রাফায়েল গেরেইরো

তিনিও একজন লেফটব্যাক!  পর্তুগালের শক্তিশালী এই পজিশনে কমপক্ষে তিনজন খেলেয়াড় থাকায় তিনি রাইটব্যাকেও ব্যবহৃত হতে পারেন। গোল স্কোরিং এবিলিটি, ক্রসিং, স্কিল থাকায় ভার্সেটাইল পজিশনেও খেলতে পারেন।  


১২. রুবেন নেভেস

দারুণ মিডফিল্ডার।  পাসিং, ডিফেন্সিভ স্কিল, দূরপাল্লার শট, শক্তিশালী পজিশনিং মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার উপর চোখ রাখা আবশ্যক। গেম কন্ট্রোলিংয়ে দারুণ পরিশ্রমি নেভেস আলো ছড়াতে পারে বিশ্বকাপেও। 


১৩. হোয়াও পালহিনহা

গত ইউরোতে ইনডিভিজুয়াল শর্ট ক্লিপে যে কয়জন খেলোয়াড় নজর কেড়েছেন পালহিনহা তার টপ লিস্টে থাকবেন।  মাঠে নেমে মূহুর্তেই পগবা, এমবাপ্পেদের বোতলবন্দী করাটা ছিলো অনন্য। তারপরেই পাড়ি দিয়েছেন প্রিমিয়ার লীগের দল ফুলহামে।  ফর্মে আছেন সেখানেও।  সাবস্টিউট হিসেবে খেলার সম্ভাবনা প্রবল। দৈহিক ভাবে শক্তিশালী হওয়ায় ওয়ার্করেট দারুণ।  এমন খেলোয়াড় দলকে শক্তিশালী করে। 


১৪. উইলিয়াম কার্ভালহো

বস সান্তোসের প্রিয়পাত্রদের অন্যতম। সান্তোসের ট্যাকটিসে দলে না থাকাটাই আশ্চর্যের!  সান্তোসের মানসিকতা পরিবর্তন না হলে দলে থাকা নিশ্চিত। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। ডিফেন্স আর পাস। রিস্ক নেওয়া পছন্দ করেন না। মাঝে মাঝে দূরপাল্লার শট নেন। দীর্ঘকায় হওয়ায়  কর্ণারে হেডিংয়ে অবদান রাখতে পারেন। লা-লীগার দল রিয়াল বেতিসে নিয়মিত খেলেন। তবে তার জায়গায় রেনেটা সাঞ্চেজ দলে থাকলে পর্তুগাল শক্তিশালী হত, এমন মত খোদ পর্তুগিজদের।

দেশটির তিন নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়


১৫. ব্রুনো ফার্নান্দেস

ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডে শুরুর দিন থেকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। গোল,এসিস্ট,পাসিং, ধুন্ধুমার একটা অবস্থা!  জাতীয় দলের সেটার পঞ্চাশ ভাগ প্রতিফলনও দেখাতে পারেন নি।  এই অপবাদ নিশ্চয়ই ঘোচাতে চাইবেন ব্রুনো। জাতীয় দলে ছন্দ পেলে সুন্দর ফুটবল উপহারের সাথে পর্তুগাল অপ্রতিরোধ্য হয়েও উঠতে পারে। 


১৬. ভিতিনিয়া

পরিশ্রমী ভিতিনিয়া পর্তুগিজ যুবদল গুলো থেকেই পটেনশিয়াল।  সাবে নেমে দারুণ কিছু দেখাতে পারেন। এক্সট্রা টাইমে ম্যাচ গড়ালে ভিতিনিয়ার মত কেউ ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। 


১৭. ওটাভিও-

পোর্তের দারুণ পথচলায় অবদান অনেক। হঠাৎ প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেদ করে এগিয়ে যেতে পারেন। জমে উঠা ম্যাচগুলোয় দারুণ ইফেক্টিভ।  সাবে অবশ্যই নামবেন।  উইং ধরে বক্সে কিংবা বাইরে থেকে শট নিতে পারেন। ডিফেন্সিভ স্কিল, বল দখল,বল কেড়ে নেওয়া দারুণ।


১৮. জোয়াও মারিও –

পর্তুগালের পুরনো সারথী।  ইউরো জয়ে অবদান আছে। অনেক প্রতিভাবানের ভিড়ে জায়গা নিয়ে সন্দেহ ছিলো। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স লীগের দারুণ ফর্ম, জায়গা করে দিয়েছে। তার দল বেনফিকাকে গ্রুপপর্বে শীর্ষে রাখতে শেষ মূহুর্তে গোল করেছেন, লীগ টেবিলেও দাপটের সঙ্গে এক নম্বরে আছেন। পাসিং, ক্রসিং দিয়ে সাবে নেমে অবদান রাখতে পারেন৷ 


১৯. ম্যাথিউস নুনেজ

২৪ বছর বয়সী উলভস এই মিডফিল্ডার যথেষ্ট নামডাক নিয়েই ইউরোপে এসেছেন। সুযোগ পেলে স্তিমিত নামডাকটা আবারো বাড়িয়ে নিতে চাইবেন। ন্যুনেজ হল, সেই খেলোয়াড়, যাকে দিয়ে আক্রমণ শানানো থেকে শুরু করে ফলস নাইন হিসাবেও দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।


২০. বার্নাডো সিলভা

নিঃসন্দেহে পর্তুগাল মিডফিল্ডের নেতা। তার খেলার স্টাইলেই খেলা আবর্তিত হবে। তার ফর্মেই অ্যাটাকিং মুড অন থাকবে। ম্যানচেস্টার সিটির অপ্রতিরোধ্য হওয়ার অন্যতম নায়ক। গোল, এসিস্ট,পাস,ড্রিবলিং, কারিকুরি সবকিছু মিলিয়ে অসাধারণ সিলভা। ২০২২ ব্যালন ডি’অর লিস্টে ২২ নম্বরে ছিলেন তিনি। জাতীয় দলে খুব বেশি অবদান না রাখতে পারার আক্ষেপ ঘোচাতে চাইবেন নিশ্চয়ই। 

রাফায়েল লেয়াও, কাতার বিশ্বকাপের সেরা তরুণ হয়ে আবির্ভূত হতে পারেন


২১. রাফায়েল লিয়াও

এসি মিলানের পুনরুত্থানের অন্যতম নায়ক। ২৩ বছর বয়সী তরুণ লিয়াও পরিপক্ক তার খেলায়।মিলানের হয়ে ২০২১-২২ সেরি আ শিরোপা জিতেছেন। ব্যালন ডি’অর তালিকায় ১৪ নম্বরে ছিলেন। পর্তুগাল অনুর্ধ্ব-১৭ এর হয়ে ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপ জিতেছেন, অনুর্ধ্ব-১৯,২১ এর হয়ে রানার্সআপ হয়েছেন। বড় মঞ্চে নিজেকে আরো বড় ভাবে মেলে ধরতে উন্মুখ হয়ে আছেন নিশ্চয়ই। তবে সান্টোস কিভাবে তাঁকে খেলাবেন সে প্রশ্ন রয়ে যায়। উইংগার, নাকি স্ট্রাইকার করিয়ে ? দারুণ গতি, স্কিল,ফিনিশিং প্যাকেজ বিশ্বকাপে লেআও আলো ছড়াতেই পারেন।


২২. জোয়াও ফেলিক্স

পর্তুগালের গোল্ডেন বয় সিমিওনের অ্যাটলেটিকোতে শরীর নির্ভর খেলায় যতটুকু আলো ছড়াচ্ছেন তার সামর্থ্য সেটার চেয়ে অনেক বেশি বলেই ধারণা।  শুরুর একাদশে স্থান না পাওয়া, ইঞ্জুরি মিলিয়ে স্তিমিত হওয়া ফেলিক্স আবারে লাইম লাইটে এসেছেন সাবে  নেমে দারুণ ফর্ম দেখিয়ে। সামর্থ্য আছে। এবার দেখানোর পালা। বড়মঞ্চ, ফেলিক্সের আরো বড় হওয়ার স্থান।  চোখ রাখতেই হবে। 


২৩. রিকার্ডো হোর্তা

ব্রাগার হয়ে অনবদ্য খেলা  হোর্তা সান্তোসের দলে উপেক্ষিত ছিলেন প্রায় সব সময়। তার দল ব্রাগা লীগ টেবিলে আছে তিন নম্বরে তিনিও আছেন দারুণ ফর্মে। সুযোগ পেলে কি করেন সেটাই দেখার বিষয়। 


২৪. গনসালো রামোস

পর্তুগিজ লীগের এক নম্বর দলের এক নম্বর ফরোয়ার্ড রামোস আছেন দূর্দান্ত ফর্মে। ইতোমধ্যে লীগে করেছেন ৭ গোল, চ্যাম্পিন্স লীগে করেছেন ৫ গোল। ২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের জাতীয় দলের অনভিজ্ঞতাই বড় বাঁধা।  সুযোগ পেয়ে ছন্দ পেলে দারুণ কিছু হতে পারে। 


২৫. আন্দ্রে সিলভা

পর্তুগিজ নাম্বার নাইন।  পর্তুগালের হয়ে ৫৬ ম্যাচে ১৯ গোল করেছেন। হেডিংয়ে শক্তিশালী, আরবি লেইপজিগের হয়ে খেলেন। জাতীয় দলে এখনো বড় কোন অবদান রাখতে পারেন নি।  নিশ্চয়ই নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে চাইবেন।


২৬. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

নামটাই যথেষ্ট।  ফর্ম থাকুক আর না থাকুক প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ। ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় অর্জনের জন্য মরণকামড় দিবেন নিশ্চিত। ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় নিয়ে বলার কিছু নেই। চোখ রাখুন রোনালদোতে। চোখ রাখুন পর্তুগালের ওপর। পর্তুগালের মিশন শুরু হবে  ২৪ তারিখ রাত ১০ টায় ঘানার বিপক্ষে। পর্তুগাল ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য প্রথম হয়ে বিশ্বকাপ ধরা দিতেই পারে।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগেও রোনালদো বলেছিলেন, একটা বিশ্বকাপ জিততে ৭/৮ জন বিশ্বমানের খেলোয়াড় থাকতে হয়। ২০১৪ সালের স্কোয়াডে তা তিনি না পেলেও তেমন স্কোয়াড ২০১৮ সালেও পেয়েছিলেন। আর ২০২২-এ ? সেরার সেরা টিম পেয়েছেন। কিন্তু, সমস্যা অন্যত্র। কোচ স্যান্টোসই এখন সমস্যা। তিনি তারকার পর তারকা পেয়েও খেলাতে পারেন না—এমন অভিযোগ আছে। ছোট মাঝারি দলগুলোর সামনে অতি আক্রমণাত্মক থাকলেও নামধারী বড় দল সামনে এলেই তিনি রক্ষণ কৌশলে চলে যান। বড় ম্যাচে তিনি ডিফেন্স ঠিক রাখতে যেয়ে সব ধ্বংস করেন। তখন গোল খাওয়ার পরে যতটুকু খেলার সময় পান, গোল আর ধরা দেয় না—এমন অভিযোগে স্যান্টোস এখন অভিযুক্ত। যা হবার তাই হয়, তিনি হেরে যান। অথচ, পর্তুগালের চিরন্তন আক্রমণাত্মক প্রথা ধরে রাখলে পৃথিবীর কোন ফুটবল দেশই তাদের সাথে পেরে ওঠার কথা নয়। উপরন্ত, ঘোষিত পর্তুগাল দলে কোন উন্নতমানের উইংগার নেই, স্ট্রাইকার হিসাবে আন্দ্রে সিলভা কিংবা হর্তা অথবা রামোস ধারাবাহিক নন। আবার রোনালদোকে সে দায়িত্ব দিলে পুরো ম্যাচে তাঁকে কেহ বলই যোগান দিত পারবে না। কারণ, রাফায়েল লেয়াও, সিলভারা ক্রস করতে জানেন না। তারা স্কিলসফুল খেলোয়াড় হয়ে পাসিং ফুটবলের মাধ্যমে স্ট্রাইকারের জন্য বল জোগান দেয়। তাই ব্রুনো ফারনান্ডেজের থ্রুর ঊপর একটা ফুটবল দেশ সাফল্য কামনা করতে পারে না। তাও তিনি মাঝেমাঝে স্বার্থপরের মত করে গোলের জন্য নিজেই চেষ্টা করে থাকেন।

দুই বন্ধু পেপে ও ক্রিস্টিয়ানো দলে থাকলেও কারসেমা নেই !

এমন একটা অবস্থায় পর্তুগাল বুড়ো রিকারডো কারেসেমাকে সুপার সাব হিসাবে খেলোনোর জন্য তাঁকে দলে রাখলে একাধিক বড় ম্যাচ নিজেদের করে নিতে পারত। কারণ, দুই উইং থেকেই তিনি বল প্রতিপক্ষের ডি বক্সে উঁচু করে ফেলার সক্ষমতায় ছিলেন। যা থেকে রোনালদো বা রাফায়েল লেয়াও হেডে গোল পেত। তিনি নিজেও গোল করার জন্য আদর্শ ছিল। কাজেই সান্টোসের কাছ থেকে নতুন পরিকল্পনার কোন কিছু ধরা দিচ্ছে না। বিপক্ষ দলের কাছ থেকে বল কেড়ে নেয়ার জন্য পারদর্শী ও আক্রমণে ওঠার জন্য খ্যাতি পাওয়া রেনাটা সানচেজকেও দলে রাখেন নি। রাখেন নি কুশলী গিয়েডেসকেও।

সত্যিকারের বাস্তবতা হল, ক্রিস্টিয়ানো রোনালাদোর হাতে একটি বিশ্বকাপ ওঠা উচিত। না পেলে পরের প্রজন্ম বলবে, লোকটা ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলদাতা ছিল, কিন্তু বিশ্বকাপ কেন পায়নি ?

এমতাবস্থায় পর্তুগালের বিশ্বকাপ সাফল্য এখন রোনালদোর নিজস্ব কোন পরিকল্পনার অংশ হয়ে বিস্তৃত কিনা, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে। তবে, আপাত দৃষ্টিতে বিশ্বের সেরা দল গড়েও পর্তুগালের বিশ্বকাপ ভাগ্য কোচ ও তার পুরোনো দুর্বল ছকে বন্দী বলেই মনে করা হচ্ছে।

কে/৭১৭/জ-০৯