Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

কে হবেন বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক?

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

 ২০ নভেম্বর থেকে মাঠে গড়াচ্ছে স্বপ্নের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট । ৩২ দেশ নিয়ে বিশ্বকাপের মহাযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হবে মরুভূমির দেশ কাতারে । দ্বিতীয়বারের মতো ‘গ্রেটেস্ট শো অন দা আর্থ’ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এশিয়া মহাদেশে । ইতোপূর্বে ২০০২ সালে বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হয়েছিল এশিয়ার  জাপান আর দক্ষিণ কোরিয়া ।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে চলছে প্রতিটা দল আর খেলোয়াড় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ । ফুটবল পণ্ডিত থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্ত , সবাই হিসেব করছেন কা’র ঘরে যাবে ২২তম বিশ্বকাপ ফুটবল ট্রফি ? কে হবেন সেরা খেলোয়াড় বা  সেরা গোলদাতা ?

 ভাবনা আছে গোলরক্ষকদের নিয়েও । একটি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হচ্ছেন পোস্টের নীচে গ্লোভস হাতে দাঁড়ানো মানুষটি । যিনি অবিশ্বাস্য সব সেইভে অনেক বড় বিপদ থেকে দলকে বাঁচাতে পারেন । আবার সামান্য ভুলে দলকে ডোবাতে পারেন । যেমন- ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে শুধু গোলরক্ষক গয়কোচিয়া আর্জেন্টিনাকে তুলে দিয়েছিলেন ফাইনালে । আবার,  ২০০২ সালের ফাইনালে জার্মান কিপার অলিভার কানের দুটি শিশুসুলভ ভুলে ব্রাজিল পেয়েছিল শিরোপা ।সর্বশেষ  ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কিপার উইলি ক্যাবেলারোর  ‘হাস্যকর’ ভুল দেখেছে ফুটবল বিশ্ব । আবার দেখেছে বেলজিয়ামের থিবাউ কর্তোয়ার অসাধারণ নৈপুণ্য । ২০১৪ সালেও মানুষ মুগ্ধ হয়েছে ম্যানুয়েল ন্যুয়ারের কিপিং নৈপুণ্যে । দুইজনেই জিতেছিলেন বিশ্বকাপের সেরা গোলকিপারের স্বীকৃতি । ২০২২ সালেও আছেন এই দুই  কিপার ।  তাদের মধ্যেই কি কেউ জিতবেন আসন্ন বিশ্বকাপের ‘গোল্ডেন গ্লোভস’ ? নাকি অন্য কেউ ?   

ম্যানুয়েল ন্যুয়ারঃ  

জার্মানির ম্যানুয়েল ন্যুয়ার ইতোমধ্যেই তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন । জিতেছেন ২০১৪ সালের  বিশ্বকাপ ট্রফি । ৩৬ বছর বয়সী ন্যুয়ার   IFHHS এর বিবেচনায়  গত এক দশকের সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন ।তিনি আসলে এক দশক নয় , সর্বকালের অন্যতম সেরা । যে স্বীকৃতি হয়ত মিলবে তিনি খেলা ছাড়ার পর । একবার ফিফা আর পাঁচবার উয়েফা তাঁকে বর্ষসেরা নির্বাচিত করেছে ।  সাম্প্রতিক সময়ে ইনজুরির কারণে মাঝেমাঝেই ভুগছেন । কিন্তু মাঠে ফিরলেই দিচ্ছেন সেরাটা । দেশের হয়ে ১১৩ ম্যাচের অভিজ্ঞতায় পুষ্ট ন্যুইয়ার গত এক যুগ ধরে আছেন নিজ দেশের বায়ার্ন মিউনিখে । জাতীয় দল আর ক্লাব ফুটবল , দুই ক্ষেত্রেই নেতা তিনি ।  সুইপার-কিপার পজিশনে ন্যুয়ারের থাকা মানে ডিফেন্ডাররা কিছুটা হলেও থাকতে পারেন নির্ভার । দলের প্রয়োজনে উঠে যেতে পারেন আক্রমণে । কারণ পেছনে আছেন একজন ন্যুয়ার । যিনি দলকে উদ্ধার করতে পারেন অবিশ্বাস্য সব সেইভে ।  

চলতি ২০২২-২৩ মৌসুমে সব মিলিয়ে ১৪ ম্যাচ খেলেছেন ন্যুয়ার । হজম করেছেন ১৪ গোল ।ক্লিন-শিট রেখেছেন সাতটি । সেরা ফর্ম আর ইনজুরিমুক্ত থাকলে  কাতারেও  গোলকিপারদের ‘রাজা’ হতে পারেন ন্যুয়ার । 

অ্যালিসন বেকারঃ 

ব্রাজিল দলে আছেন বিশ্বমানের অ্যালিসন বেকার । বয়স ৩০ বছর । চার মৌসুম যাবত ভক্তদের মাতাচ্ছেন লিভারপুলের হয়ে । পরিনত হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকে । ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ৫৭ ম্যাচ । ২০১৯ সালে ফিফা আর ফ্রেঞ্চ সাময়িকীর ব্যালনে ছিলের সবার সেরা । ২০১৮ সালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন । ‘ওয়ান টু ওয়ান’ পজিশন আর পেনাল্টি সেইভে তাঁকে আলাদাভাবে হিসেবে রাখতে হয় । ব্রাজিলের বর্তমান স্কোয়াডে রক্ষণভাবে বয়স্ক খেলোয়াড়দের উপস্থিতি বেশী । যারা ইউরোপের গতিশীল দলের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারবেন কিনা , সন্দেহ আছে । সেই ক্ষেত্রে অ্যালিসন হবেন কাতার বিশ্বকাপে সেলেসাওদের শেষ ভরসা ।

থিবাউ কর্তোয়া:

বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত গোলরক্ষক থিবাউ কর্তোয়া । রিয়েল মাদ্রিদকে  লা লীগা আর চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতাতে রেখেছেন বিরাট ভুমিকা । সর্বশেষ মৌসুমেও লা লীগায় ১৬ আর চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ৫টি ক্লিন-শিট রেখেছিলেন । সবচেয়ে বড় কথা , নক আউট পর্ব থেকে ফাইনাল অবধি  একের পর এক ম্যাচে দানবীয় সব সেইভে দলকে বাঁচিয়েছেন বিপর্যয় থেকে । ৩০ বছর বয়সী কর্তোয়া  বেলজিয়ামের  হয়ে ৯৬ ম্যাচ খেলেছেন ।  কাতারেই তাঁর আন্তর্জাতিক ম্যাচের সেঞ্চুরি পূরণ হয়ে যাবে , আশা করা যায় । ২০১৮ সালে জিতেছেন ফিফা’র বিশ্বসেরা গোলরক্ষকের সম্মান । হয়েছেন লা লীগা  আর ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের সেরা গোলরক্ষক । কাতারে তিনি খেলতে চলেছেন তৃতীয় বিশ্বকাপ ।  

হুগো লরিসঃ 

গত বিশ্বকাপ শিরোপাজয়ী হুগো লরিস কাতারেও ফ্রান্সের এক নাম্বার গোলরক্ষক  হিসেবে খেলবেন । টটেনহ্যামে খেলছেন ২০১২-১৩ মৌসুম থেকে । ফ্রান্সের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা ১৩৯টি । ৩৫ বছরের এই কিপার নিজের দিনে দুর্দান্ত । কিন্তু মাঝেমাঝেই ছোটখাটো ভুল করে দলকে বিপদে ফেলেন । যেমন- ২০১৮ সালের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে করেছিলেন । তবু লরিস সেরাদের একজন । তিন মৌসুম তিনি ফ্রেঞ্চ লীগ ওয়ানের সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন ।

ওচিয়েহ সেসনি:

পোলিশ দলে রবার্ট লেভেন্ডস্কির পরেই বড় তারকা ওচিয়েহ সেসনি । চলতি মৌসুমে জুভেন্টাসের হয়ে মাঠে নেমেছেন ১৩ ম্যাচ । ক্লিন-শিট সাতটি । দেশের হয়ে ম্যাচের সংখ্যা ৬৬ । ৩২ বছর বয়সী কিপার আর্সেনাল আর জুভেন্টাসের  পক্ষে খেলে  জিতেছেন দুই দেশের শীর্ষলীগের বর্ষসেরা সম্মান ।

কেইলর নাভাস:

কোস্টারিকার গোলরক্ষক কেইলর নাভাস মাঝারী দলের বড় তারকা । বর্তমান বিশ্বের সেরাদের অন্যতম । তাঁর বয়সও ৩৬ ছুঁইছুঁই ।  আগের মৌসুমে সব মিলিয়ে ২৬ ম্যাচে ১০টি ক্লিন-শিট রেখেছেন । পিএসজির হয়ে আপাতত মাঠে নামার তেমন সুযোগ পাচ্ছেন না । কিন্তু  দেশের জার্সিতে এখনও নিয়মিত তিনি । ২০২২ সালেই খেলেছেন সাতটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ । ‘কনকাকফ’ অঞ্চলে দুইবার তিনি ছিলেন সেরা ফুটবলার । একবার হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেরা । এছাড়া তিন বছর ‘কনকাকফ’ অঞ্চলের সেরা গোলরক্ষকের স্বীকৃতি পেয়েছেন । দুইটি বিশ্বকাপসহ দেশের হয়ে ১০৭ ম্যাচ খেলেছেন নাভাস । কেইলর নাভাসের নৈপুণ্যের উপর নির্ভর করছে বিশ্বকাপে কোস্টারিকার সাফল্য ।

ক্যাসপার স্মিশেল:

বাবা পিটার স্মিশেল ছিলেন ডেনমার্কের সর্বকালের সেরা । একই পথে হাঁটছেন তাঁর সুযোগ্য সন্তান ক্যাসপার স্মিশেল । দুর্দান্ত সাহস তাঁর মুল পুঁজি । আছে  চিলের মতো ক্ষিপ্রতা । ৩৬ বয়সী  পিটার বর্তমানে খেলছেন ফ্রান্সের নিস ক্লাবে । দেশের হয়ে ৮৩ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে যাচ্ছেন কাতার । চারবার ডেনমার্কের বর্ষসেরা ফুটবলার হয়েছেন ।

সেনেগালের এডুয়ার্ড মেন্ডি – যিনি ২০২১ সালে জিতেছে ফিফার বর্ষসেরা সম্মান , আর্জেন্টিনার এমি মার্টিনেজকে অনেকেই তালিকায় না দেখে হতাশ হবেন । কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে , চেলসিতে খেলা মেন্ডি শিশুসুলভ ভুলে দলকে ডোবাবার প্রমাণ অনেকবার দিয়েছেন । এছাড়া , মার্টিনেজ কোপা আমেরিকায় হিরো হয়েছেন । কিন্তু ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে তিনি অতি সাধারণ মানের । সুযোগ পান না বড় দলেও । অ্যাস্টন ভিলার হয়ে চলতি মৌসুমেই ১৪ ম্যাচে ১৮ গোল হজম করে বসে আছেন ! ক্লিন-শিট মাত্র চারটি । তাই কোপা আমেরিকার ফর্ম বিশ্বকাপে তিনি ধরে রাখবেন এমন আস্থায় যাওয়ার সুযোগ কম । তবে আর্জেন্টিনা দলটি যেহেতু শক্তিশালী আর বিশ্বকাপের দাবীদার , তাই মার্টিনেজকে দেখাতে হবে সেরা কিছু ।

আহাস/ক্রী/০০১