Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

‘অদম্য সিংহ’ ক্যামেরুনের গর্জন শোনা যাবে ?

আহসান হাবীব সুমন/ক্রীড়ালোকঃ

বিশ্বকাপ ফুটবলে আফ্রিকার দেশ ক্যামেরুন অন্যতম জনপ্রিয় দল । শুধুমাত্র ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ সাফল্য দিয়েই তারা জয় করে নিয়েছে ফুটবলের বিশ্বের মনোযোগ । যদিও পরবর্তী সময়ে ক্যামেরুন বিশ্ব ফুটবলের মুলমঞ্চে খুবই সাধারণ মানের দলের কাতারে নেমে এসেছে । তবু ক্যামেরুনকে নিয়ে আলাদা আগ্রহ মানুষের মনে থাকছেই ।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ক্যামেরুনঃ

আফ্রিকার ‘অদম্য সিংহ’ নামে পরিচিত ক্যামেরুন প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশ নেয় ১৯৫৬ সালে । সেই সময় দুই দলের পরিচিতি ছিল ফ্রেঞ্চ ক্যামেরুন আর বেলজিয়ান কঙ্গো নামে । ম্যাচটি ক্যামেরুন হেরে যায় ২-৩ গোলে ।

ক্যামেরুন প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেয় ১৯৭০ সালের আফ্রিকান নেশন্স কাপে । প্রথম ম্যাচেই ক্যামেরুন ৩-২ গোলে হারিয়ে দেয় আইভরি কোস্টকে । পরের ম্যাচেও ক্যামেরুন হারায় ইথিওপিয়াকে । আর শেষ ম্যাচে হেরে যায় স্বাগতিক সুদানের কাছে । গ্রুপের তিনটি দল দুইটি করে জয় পায় । কিন্তু গোলব্যবধানে ক্যামেরুন বাদ পড়ে তৃতীয় হয়ে ।

ক্যামেরুন পাঁচবার আফ্রিকান নেশন্স কাপের শিরোপা জিতেছে । আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ আসরে সবচেয়ে বেশী সাতবার শিরোপা জিতেছে মিশর । আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিরোপা ক্যামেরুনের । ২০১৭ সালে সর্বশেষ আফ্রিকান কাপ অফ নেশন্সের শিরোপা ঘরে তুলেছিল ক্যামেরুন । আর ২০২১ সালে তৃতীয় হয়ে শেষ করেছে আসর ।

২০০৩ সালে ক্যামেরুন খেলেছে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপে । সেই আসরে ক্যামেরুনের গ্রুপে ছিল ব্রাজিল , তুরস্ক আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ২০০২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় বিশাল চমক । পরের ম্যাচেও তুরস্ককে হারায় একই ব্যবধানে । আর শেষ গ্রুপ ম্যাচে মার্কিনিদের সাথে গোলশূন্য ড্র করে উঠে যায় সেমিতে । সেমিতেও ক্যামেরুনের কাছে ০-১ গোলে হার মানে কলম্বিয়া । তবে ফাইনালে স্বাগতিক ফ্রান্সের সাথে পেরে ওঠেনি । তাই রানার্স-আপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় অদম্য সিংহদের ।

ক্যামেরুনের অলিম্পিক দল ২০০০ সালে জিতেছে ফুটবলের সোনা ।

ক্যামেরুনের বিশ্বকাপ চমকঃ

ক্যামেরুনের বিশ্বকাপ অভিষেক ১৯৮২ সালে । প্রথম আসরেই নিজেদের অদম্য মানসিকতার প্রমাণ রাখে তারা । হারেনি একটি ম্যাচও । টানা তিনটি ম্যাচ ড্র করে পেরু , পোল্যান্ড আর ইটালির বিপক্ষে । প্রথম দুইটি ম্যাচ ছিল গোলশূন্য । শেষ গ্রুপ ম্যাচে ইটালির বিপক্ষে গোল করেন জর্জি মাবিদা আবেগা ।  তিন ড্র থেকে ইটালির সমান পয়েন্ট নিয়ে গোলব্যবধানে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় ক্যামেরুন ।

১৯৯০ সালে ইটালির মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো ফেরে ক্যামেরুন । গড়ে নতুন ইতিহাস । প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে উঠে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে । প্রথম ম্যাচেই ক্যামেরুনের উজ্জীবিত ফুটবলের কাছে হার মানে ১৯৮৬ সালের চ্যাম্পিয়ন দিয়াগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা । সেই ম্যাচে গোল করে ওমাম বায়িক পেয়ে যান বিশ্বতারকার মর্যাদা ।

দ্বিতীয় ম্যাচে ক্যামেরুন হারায় গিওর্গি হ্যাজিদের রোমানিয়াকে । শেষ ম্যাচে সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে হারলেও গ্রুপের সেরা দল হয়েই পা রাখে নক আউট পর্বে । ক্যামেরুনের আগে মরক্কো ১৯৮৬ সালে নক আউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে চমক দেখিয়েছিল ।

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ক্যামেরুন ২-১ গোলে হারিয়ে দেয় কলম্বিয়াকে । রেনে হিগুইতাদের কলম্বিয়া সেই সময় বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় দল । কিন্তু একজন ‘বুড়ো সিংহ’ রজার মিলার জোড়া গোল তাদের স্বপ্ন ভেঙে দেয় । সেই আসরে ৩৮ বছরের রজার মিলার গোল উদযাপনের নাচ এখনও বিশ্বসেরা ।

ইংল্যান্ডের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে ক্যামেরুনের হার এখনও অনেকেই মেনে নিতে পারেন না । খেলার এক পর্যায়ে ক্যামেরুন এগিয়ে ছিল ২-১ গোলে । কিন্তু রেফারি শেষদিকে দুইটি বিতর্কিত পেনাল্টি দেন ইংল্যান্ডের পক্ষে । তাতেই ইংল্যান্ড উঠে যায় সেমিতে । ক্যামেরুন বিদায় নিলেও জয় করেছিল সারা বিশ্বের ফুটবল দর্শকদের মন । বলা যায় , বিশ্ব ফুটবলে ক্যামেরুনই উড়িয়েছিল ‘কালো মানুষ’দের বিজয় নিশান । এখনও অনেকের দৃঢ় বিশ্বাস , রেফারির শত্রুতার কবলে না পড়লে ক্যামেরুন ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপ ট্রফিও জিততে পারত ।

১৯৯০  পরবর্তী আরও পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ক্যামেরুন । কিন্তু কোনবারেই পেরুতে পারেনি গ্রুপপর্বের বাঁধা ।

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে সাতবার অংশগ্রহণে মোট ২৩ ম্যাচ খেলেছে ক্যামেরুন । জয় চারটি , ড্র সাতটি আর পরাজয় ১২টি । ক্যামেরুনের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে গোল করেছে ১৮টি আর হজম করেছে ৪৩টি!

ক্যামেরুনের বিশ্বকাপ হিরো- 

বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের হয়ে সবচেয়ে বেশী পাঁচ গোল রজার মিলার ।১৯৯৪ সালে জাপানের বিপক্ষে গোল করার সময় তাঁর বয়স ছিল ৪৩ বছর ৩দিন । তিনিই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা । জাতীয় দলের হয়ে তাঁর গোলের সংখ্যা ৭৭ ম্যাচে ৪৩টি । দুইবার আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবলার হয়েছেন মিলা । দুইবার হয়েছেন আফ্রিকান নেশন্স কাপের সেরা ফুটবলার । ১৯৮৬ আর ১৯৮৮ সালের সেই আসরে সেরা গোলদাতাও ছিলেন তিনি । ২০০৭ সালে আফ্রিকার ফেডারেশন তাঁকে ৫০ বছরের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি দেয় । ২০১৪ সালে জিতেছেন ‘গোল্ডেন ফুট’ । ২০০৬ সালে ফ্রান্স সরকার তাঁকে প্রদান করেছে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা । তিনি ক্লাব ফুটবলে মোনাকোসহ ফ্রান্সের একাধিক দলে খেলেছেন ।

আর্জেন্টিনার সাথে ক্যামেরুনের ঐতিহাসিক বিজয়ের নায়ক ওমাম বায়িক খেলেছেন সর্বোচ্চ ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচ । রজার মিলার মতো তিনিও খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ । দেশের হয়ে ৭৩ ম্যাচে করেছেন ২৬ আন্তর্জাতিক গোল । ১৯৮৮ সালে জিতিয়েছেন আফ্রিকান কাপ অফ নেশন্স ।

ক্যামেরুনের কিংবদন্তী ইতোঃ

ক্যামেরুনের সর্বকালের সেরা ফুটবলার স্যামুয়েল ইতো । যিনি এই যুগের ফুটবল দর্শকদের কাছেও সমানভাবে পরিচিত । রেকর্ড চারবার হয়েছেন আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবলার । দেশের হয়ে খেলেছেন যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১৮ ম্যাচ । গোলের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৬টি ।

আফ্রিকার ফুটবলের সর্বকালের সেরা হিসেবেও ফুটবল-পণ্ডিতরা ইতোকে বিবেচনা করেন । মাত্র ১৬ বছর বয়সে রিয়েল মাদ্রিদের জুনিয়র দলে যোগ দেয়া ইতো মুল সফলতা পেয়েছেন ২০০৪-০৯ পর্যন্ত বার্সেলোনায় । রিয়েল মাদ্রিদের হয়ে একটি আর বার্সার হয়ে জিতেছেন চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ । ১৬টি ক্লাব ট্রফি জিতেছেন । দেশের হয়ে জিতেছেন দুইটি আফ্রিকান কাপ অফ নেশন্স আর অলিম্পিক সোনার পদক ।

বার্সেলোনা আর রিয়েল ছাড়াও মাতিয়েছেন লেগানেস , এস্পানিওল , মায়োর্কা , ইন্টার মিলান , সাম্পদোরিয়া , চেলসি , এভারটনে । ক্যারিয়ার শেষ করেছে ২০১৮-১৯ মৌসুমে কাতারের ক্লাবে ।

ক্লাব ফুটবলে ৭৬৪ ম্যাচে ৩৭১ গোল করেছেন ইতো । ২০০৫-০৬ মৌসুমে জিতেছেন স্প্যানিশ সেরা গোলদাতার ‘পিচিচি’ । আফ্রিকান কাপ অফ নেশন্সেও সর্বোচ্চ ১৮ গোলের মালিক ইতো ।

অন্যান্য সেরাঃ

ক্যামেরুনের হয়ে সর্বোচ্চ ১৩৭ ম্যাচ খেলেছেন রবার্টো সং । খেলেছেন দেশের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি বিশ্বকাপ । আফ্রিকার অন্যতম সেরা রাইট ব্যাক হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন ইতিহাসে । ২০০০ এবং ২০০২ সালে জিতেছেন আফ্রিকান কাপ অফ নেশন্স । ২০০৮ সালের ফাইনালে খেলেছেন । ২০০৩ কনফেডারেশন্স ফাইনালেও ছিলেন দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য । ক্লাব ফুটবলে লিভেরপুল , ওয়েস্ট হ্যাম , গ্যালাটেসারয়ে খেলেছেন ।

প্যাট্রিক এম’বোমাকেও রাখতে হবে ক্যামেরুনের সেরাদের তালিকায় । খেলেছেন ১৯৯৮ আর ২০০২ বিশ্বকাপে । দেশের জার্সিতে ৫৫ ম্যাচে ৩৩ গোল তাঁর । ২০০০ সালে আফ্রিকা কনফেডারেশন আর বিবিসির বিবেচনায় হয়েছেন মহাদেশের সেরা । দুইটি আফ্রিকান নেশন্স কাপ জিতেছেন । ছিলেন ২০০২ সালের আসরের সেরা গোলদাতা ।

এছাড়া গোলরক্ষক থমাস এন’কোনো , জেরেমি সোরেমি , ইমানুয়েল কুন্দে , থিওফিল্লে আবেগা আর জোসেফ এন্টোনি বেলকেও রাখতেও হবে ক্যামেরুনের সর্বকালের সেরাদের কাতারে ।

রোড টু কাতারঃ

আফ্রিকা অঞ্চলের ‘ডি’ গ্রুপ থেকে আইভরি কোস্ট , মোজাম্বিক আর মালাউইকে পেছনে ফেলে প্লে-অফে জায়গা পেয়েছে ক্যামেরুন । ছয় ম্যাচের মধ্যে জিতেছিল পাঁচটি । একমাত্র হার আইভরি কোস্টের বিপক্ষে । ছয় ম্যাচে ১২ গোলের বিপরীতে হজমের সমগখ্যা তিনটি ।

প্লে-অফে ক্যামেরুনের মোকাবেলা ছিল এই মুহূর্তে আফ্রিকার অন্যতম শক্তি আলজেরিয়ার বিপক্ষে । যদিও প্রথম লেগের ম্যাচটি নিজেদের মাঠেই ক্যামেরুন হেরে যায় ০-১ গোলে । তবে দ্বিতীয় দেখায় আলজেরিয়াকে তাদের মাটিতেই পরাস্ত করে ২-১ গোলে । আর এওয়ে গোলের সুবিধায় জায়গা পায় বিশ্বকাপের মুলমঞ্চে ।

কঠিন গ্রুপে ক্যামেরুনঃ

বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে ক্যামেরুনের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল । এছাড়া ইউরোপের দুই প্রতিভাবান দল সুইজারল্যান্ড আর সার্বিয়ার মোকাবেলাও করতে হবে তাদের ।

ক্যামেরুনের গ্রুপে ব্রাজিল এখন ফিফা র‍্যাংকিং এর ১ নাম্বার দল । সুইসরা আছে ১৫ আর সার্বিয়া ২১ তম অবস্থানে । অন্যদিকে, ক্যামেরুনের অবস্থান আফ্রিকার বিশ্বকাপে আসা পাঁচ দলের মধ্যে চারে , তারা অবস্থান করছে ফিফা হিসেবে ৪৩ নাম্বারে । র‍্যাংকিং সব সময় সঠিক কথা বলে না , এটা ঠিক । কিন্তু তবু এই মুহূর্তে ক্যামেরুন বিশ্বশক্তি দুরের কথা , আফ্রিকার সেরাদের কাতারেও নেই । সর্বশেষ ২০১৮ সালের রাশিয়া আসরেও ক্যামেরুন অনুপস্থিত ছিল । মোট কথা , আফ্রিকার অদম্য সিংহরা এই মুহূর্তে খুব ভাল অবস্থায় নেই ।

বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের প্রথম প্রতিপক্ষ ২৪ নভেম্বর সুইজারল্যান্ড । এই দুই দলের সাথে কখনোই পূর্বে দেখা হয় নি ।

সার্বিয়ার বিপক্ষে ২০১০ সালের জুনে একবার দেখা হয়েছিল । ম্যাচটি ক্যামেরুন হেরেছে ৩-৪ গোলে । বিশ্বকাপে দুই দলের মোকাবেলা ২৮ নভেম্বর ।

২ ডিসেম্বর মুখোমুখি হবে ব্রাজিল আর ক্যামেরুন । এই দলের দেখা হয়েছে ছয়বার । ২০০৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপে একবারই ব্রাজিলকে হারিয়েছিল ক্যামেরুন । আর বাকী পাঁচ ম্যাচ হেরেছে । ১৯৯৪ আর ২০১৪ বিশ্বকাপেও জিতেছিল ব্রাজিল ।

কোচ এবং দলের শক্তিঃ

ক্যামেরুনের কোচ হিসেবে আছেন দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার রবার্টো সং । ২০১৬ সাল থেকেই ক্যামেরুনের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে কাজ করছেন । ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়েছেন মুল জাতীয়  দলের । তুলে এনেছেন বিশ্বকাপের মুলমঞ্চে । তাঁর অধীনে এখন পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচ খেলেছেন ক্যামেরুন । প্লে-অফের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার কাছে হেরে তাঁর অভিষেক । সব মিলিয়ে সংয়ের ক্যামেরুন জিতেছে দুইটি ম্যাচ । আর হেরেছে আলজেরিয়া , উজবেকিস্তান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে । ড্র হয়েছে জ্যামাইকার সাথে ম্যাচ ।

ক্যামেরুন দলে বর্তমানে খেলছেন এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে এরিক ম্যাক্সিম চুপো মটিংকে আলাদাভাবে নজরে রাখতে হবে । জার্মানিতে জন্ম নেয়া  ফরোয়ার্ড দেশের হয়ে ৬৮ ম্যাচে ১৮ গোল করেছেন । খেলেছেন জার্মানির হার্মসবুর্গ , নিউমবার্গ , শালকে জিরো ফোর , ইংল্যান্ডের স্টোক সিটি আর ফ্রান্সের পিএসজির মতো দলে । বর্তমানে আছেন জার্মানির সেরা বায়ার্ন মিউনিখে । চলতি মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে ১৫ ম্যাচে ১০ গোল করে নিজেদের ফর্মের ইঙ্গিত দিচ্ছেন । কাতারে এই ফর্ম ধরে রাখতে পারলে ভাল কিছু আশা করা যায় ।
ক্যামেরুনের বর্তমান স্কোয়াডে সবচেয়ে বেশী ৭৬ ম্যাচের অভিজ্ঞতা আছে নিকোলাস এনকুলুর । ফ্রান্স , ইটালি আর ইংল্যান্ড হয়ে এখন খেলছেন গ্রীসর ক্লাব ফুটবলে । ডিফেন্ডার হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ আর তিনটি আফ্রিকান নেশন্স কাপ খেলেছেন । ২০২২ সালের নেশন্স কাপে পাঁচ বছর পর তাঁকে ডেকেছেন নতুন কোচ রবার্টো সং । কাতার বিশ্বকাপের ২৬ জনের স্কোয়াডেও থাকবেন তিনি , মনে করা যায় । ২০১৭ সালে জিতেছেন নেশন্স কাপ ট্রফি ।

দলের অধিনায়ক অভিজ্ঞ ভিনসেন্ট আবুবাক্কার বর্তমানে সৌদি আরবের লীগে খেলেন । দেশের হয়ে ৮৯ ম্যাচে ৩৩ গোল করেছেন । ২০২১ সালে আফ্রিকান নেশন্স কাপে সেরা গোলদাতা ছিলেন । এছাড়া কলিন্স ফাই ডিফেন্ডার হিসেবে দারুণ দক্ষ ।

মধ্যমাঠে পিয়েরে কুন্ডে আর আন্দ্রে ফ্রাংক জাম্বো দলের নির্ভরতা ।

আসন্ন বিশ্বকাপে সং দলকে খেলাবেন ৪-৩-৩ কৌশলে । তাঁর একাদশ হয়ে পারে – আন্দ্রে ওনানা (গোলরক্ষক) , কলিন্স ফাই , জিন্স-চার্লস ক্যাস্টেলেটো , নিকোলাস এনকুলু , নুহু টোলো , মার্টিন হংলা , স্যামুয়েল গুয়েট , গিল ওন্দুয়া , ব্রায়ান এমবিউমো , ভিনসেন্ট আবুবাক্কার , কারি টোকো একাম্বি

বিশ্বকাপ স্কোয়াডঃ

ইতোমধ্যেই ক্যামেরুন ঘোষণা করেছে ২৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড । যেখানে জায়গা পেয়েছেন –

গোলরক্ষক – আন্দ্রে ওনানা , ডেভিস অ্যাপাচি , সাইমন নাফেন্ডাবু

ডিফেন্ডার- জ্যা-চার্লস ক্যাস্টেলেটো , এঞ্জো এবোসে , কলিন্স ফাই , অলিভিয়ের এমবাইজো , নিকোলাস এনকুলু , টোলো নুহু , ক্রিস্টোফার উহ

মধ্যমাঠ- মার্টিন হংলা , পিয়েরে কুণ্ডে , অলিভার নিশাম , জোয়েল অন্দুয়া , স্যামুয়েল গুয়েট , আন্দ্রে ফ্রাংক জাম্বো আগুইসা

আক্রমণভাগ- ভিনসেন্ট আবুবাক্কার , ক্রিস্টিয়ান বাসোগগ , এরিক ম্যাক্সিম চুপো-মোটিং , সুইয়াইবু মারু , ব্রায়ান এমবিউমো , নিকোলাস মৌমি নামালিউ , জেরোমে নাগোম, জর্জেস কেভিন এনকুডু , জ্যা পিয়েরে নিশামে , কার্ল টোকো একাম্বি

সবশেষঃ

ক্যামেরুন ফেলে এসেছে তাদের সোনালী সময় । বর্তমানে নিজেদের হারিয়ে খোঁজা ক্যামেরুন সাফল্যের পথে ফিরতে মরিয়া । কিন্তু কাতার বিশ্বকাপে শক্ত গ্রুপের ফাঁদ ছিঁড়ে তারা বেরিয়ে আসতে পারবে , এমন আশাবাদী হওয়ার মতো মানুষ খুব কম ।

আহাস/বিশ্বকাপ-২৭