Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

বহাল থাকছেন ক্যাবেরেরা

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দুরবস্থা চলছেই । মেয়েরা যেখানে একের পর এক জয়ে ছিনিয়ে আনছে সাফ শিরোপা , সেখানে জামাল ভূঁইয়ারা ব্যর্থ হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ । অসহায়ভাবে হারছে নেপালের বিপক্ষে । তাতে বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয় ।

সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ দুইটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে অংশ নেয় কম্বোডিয়া আর নেপালের বিপক্ষে । কম্বোডিয়ার বিপক্ষে কোনমতে ১-০ গোলে জয় নিয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ । কিন্তু নেপালের কাছে করেছে ১-৩ গোলের অসহায় আত্মসমর্পণ । অথচ এই কাঠমুন্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে একই ব্যবধানে বাংলাদেশের মেয়েরা ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে জিতেছে সাফের শিরোপা । হয়েছে জাতীয় বীর ।

মেয়েরা পারছে । কিন্তু ছেলেরা কেন ব্যর্থ হচ্ছে । এই নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন ক্ষোভ জানাতে গিয়ে বলেছেন , বাংলাদেশের ফুটবলাররা খেলার প্রতি সিরিয়াস নয় । দেশের প্রতি কমিটমেন্টের অভাব আছে জামাল ভুঁইয়াদের ।

কথাটা মিথ্যেও নয় । ঘরোয়া ফুটবলে জামাল ভুঁইয়াদের যে ফর্মে পাওয়া যায় , দেশের জার্সিতে তাদের পারফর্মেন্স যেন খুঁজে পাওয়া যায় না । তবু পূর্ববর্তী কোচ জেমি ডের অধীনে বাংলাদেশ তবু একটা ধারাবাহিকতার মধ্যে ছিল । মাঝেমাঝে ভাক ফল আসছিল । কিন্তু হঠাৎ করেই ইংলিশ কোচ জেমি ডেকে সরিয়ে সাফে দায়িত্ব দেয়া হয় অস্কার ব্রুজেনকে । আর মারিও লেমাসের অধীনে শ্রীলঙ্কায় জাতীয় দলকে পাঠানো হয় চার জাতির ফুটবল খেলতে । বাফুফে হয়ত ভেবেছিল , ঘরোয়া ফুটবলে বসুন্ধরা আর আবাহনীর হয়ে কাজ করায় ব্রুজেন আর লেমাস দলের খেলোয়াড়দের ভাল চেনেন । তাদের দিয়ে সেরা ফল এনে দিতে পারবেন । যদিও বাস্তবে সেটা হয় নি । দুইটি আসরেই ব্যর্থ হয়ে ফেরে লাল সবুজের দল ।

এরপরেই চলতি বছরের শুরুতে উড়িয়ে আনা হয় হাভিয়ের ক্যাবেরেরাকে । ক্যাবেরেরা প্রথম বারের মতো কোন দেশের জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে বাংলাদেশে আসেন । তার অধীনে আট ম্যাচের পাঁচটি হেরেছে বাংলাদেশ । ড্র দুইটি ম্যাচে । আর জয় কম্বোডিয়ার বিপক্ষে ।

জাতীয় দলে ক্যাবেরেরার দল পরচালনা নিয়েও আছে বিতর্ক । স্ট্রাইকার সংকটের মধ্যে নাবিব নেওয়াজ জীবনকে তিনি শৃঙ্খলা ভঙ্গের দোহাই দিয়ে দেন । খেলান তরুণ সাজ্জাদ হোসেনকে । যিনি নেপালের বিপক্ষে প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন । এছাড়া একাদশ নির্বাচনে ক্যাবেরারর ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েও আছে সমালোচনা ।

ক্যাবেরেরর সাথে বাফুফের চুক্তি আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে । তার যে পারফর্মেন্স তাতে নতুন করে চুক্তি করার কোন কারণ নেই । কিন্তু শোনা যাচ্ছে , ক্যাবেরেরা টিকে যাচ্ছেন জাতীয় দলের প্রধান কোচের পদে । তেমন ইচ্ছা খোদ বাফুফে সভাপতি কাজী সাকাহউদ্দিনের । । তার মতে, ‘কাবরেরার অধীনে রেজাল্ট আসেনি বলে তাকে বাদ দেয়ার দাবি উঠছে। তবে দায়িত্ব পালনে সে খুব নিবেদিত। ঠিক পল স্মলির মতো। তাই ন্যাশনাল টিমস কমিটি যদি আমার কাছে মতামত চায় তাহলে আমি কাবরেরার সাথে চুক্তি বাড়ানোর মতামতই দেবো।’

ক্যাবেরেরা নিজেও বাংলাদেশে কাজ চালিয়ে যেতে চান । তার মতে , বাংলাদেশ দল প্রত্যাশিত ফল পায় নি । কিন্তু উন্নতির মধ্যে রয়েছে । বিশেষ করে নেপালের বিপক্ষে ২০ মিনিট বাংলাদেশ খুব খারাপ খেলেছে । এছাড়া সেটপিস থেকে গোল খাওয়ার ক্ষেত্রে রক্ষণের মনোযোগের অভাবকে দায়ী করেন তিনি । সাথে দায়ী করেন দুর্ভাগ্যকে । জামালের একটি শট ক্রসবাড়ে না লাগলে খেলার ফলাফল অন্যরকম হতে পারত বলে মনে করেন বাংলাদেশের কোচ ।

দল নির্বাচন নিয়ে ক্যাবেরেরা জানান , ‘ শুরুতেই আমার পলের (পল থমাস স্মলি, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর) সঙ্গে কথা হয়। টেকনিক্যাল স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে একদম পরিষ্কার ধারণা নিয়ে দল নির্বাচন করেছি। এখন পর্যন্ত যে কয়বার দল নির্বাচন করেছি, তার সবগুলোই আমার সিদ্ধান্তে হয়েছে। বাইরে থেকে কেউ কোনো রকম হস্তক্ষেপ করেনি।’

বাংলাদেশে কাজ করা নিয়ে তিনি জানান , ‘ আমি এখানে কাজ করার ব্যাপারে আশাবাদী। আমি মনে করি, চুক্তি নবায়ন হলে সবার জন্য ইতিবাচক হতে পারে। বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে পল স্মলি ও কাজী সালাউদ্দিন যা চায়, আমিও সেটাই চাই। আমাদের লক্ষ্য এক জায়গায় মিলে যায়। আশা করি, সামনে আমরা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পারব। বাংলাদেশের ফুটবল উন্নতি করছে। ছেলেদের বয়সভিত্তিক দল ভালো করছে। মেয়েরা তো দুর্দান্ত করছে। আমি এসবের অংশ হতে চাই।

জেমি ডের বিদায়ের পর বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেয়ার জন্য অনেক কোচই আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। ২০১৮ সাফে মালদ্বীপকে চ্যাম্পিয়ন করানো ক্রোয়েশিয়ান কোচ পিটার সেগার্ট বারবার যোগাযোগ করেন। কিন্তু বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলি তাকে পছন্দ করেননি। শ্রীলঙ্কার বসনিয়ার কোচ আমির এলাজিচও আগ্রহ দেখান। পিটার সেগার্ট এখন তিনি তাজিকিস্তানের কোচ। এবারের এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে মধ্য এশিয়ান দেশটিকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার কিংস কাপে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো ও মালয়েশিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০২৩ সালের এশিয়ান কাপ পর্যন্ত তার সাথে তাজিকিস্তানের চুক্তি। এরপর তিনি বাংলাদেশে আসতে চান যদি বাফুফে চায়। জানান সেগার্ট। বাফুফে অবশ্য কয়েক বছর ধরেই অনভিজ্ঞ কোচদের দায়িত্ব দিতেই বেশি পছন্দ করছে। অ্যান্ড্রু অর্ড, জেমি ডের পর এখন কাবরেরা।

আহাস/ক্রী/০০২