Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

ব্রাজিল একাদশে ভারসাম্যের অভাব!

আহসান হাবীব সুমন/ক্রীড়ালোকঃ

২০ নভেম্বর থেকে পর্দা উঠছে বহুল প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ফুটবলের । ৩২ দেশ নিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের ২২তম আসরটি অনুষ্ঠিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে । যার পর্দা নামবে ১৮ ডিসেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে ।

আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলে স্বাগতিক কাতার ছাড়া বাকী সবাইকে পেরিয়ে আসতে হয়েছে বাছাইপর্বের বাঁধা । চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইটালি টানা দ্বিতীয়বারের মতো আটকে গেছে বাছাইপর্বে । অথচ ফুটবলে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন তারাই । তাই বিশ্বকাপে আজ্জুরিদের না থাকা বড় ধরণের অঘটন । তবে ইটালি ছাড়া বাকী বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের সবাই পেয়েছে কাতারের টিকেট । যাদের মধ্যে বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় ফেভারিট ‘তকমা’ নিয়ে কাতার যাচ্ছে ব্রাজিল , আর্জেন্টিনা , ফ্রান্স , জার্মানি , স্পেন আর ইংল্যান্ড । শুধুমাত্র সাবেক চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষেত্রে ফেভারিট বলা যাচ্ছে না । আবার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় পর্তুগাল , হল্যান্ড আর বেলজিয়ামকে হিসেবের বাইরে রাখার উপায় নেই ।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বকাপ ফুটবলে চলছে ইউরোপিয়ানদের একচেটিয়া রাজত্ব । যদিও এক সময় ইউরোপ আর ল্যাটিন আমেরিকা বিশ্বকাপ সাফল্যে ছিল সমানে-সমান । কিন্তু ২০০২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোন ল্যাটিন দেশ বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় নি । তবে ২০২২ সালে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার দারুণ সম্ভাবনা আছে বিশ্বকাপ জয়ের ।

ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে থাকা ব্রাজিল এই মুহূর্তে ফিফা র‍্যাংকিংয়ের এক নাম্বার দল । যারা সর্বশেষ ২০২১ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালের পর আর কোন ম্যাচ হারেনি । বিশ্বকাপ বাছাইয়েও আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলে ১৭ ম্যাচে সর্বাধিক ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে পেয়েছে কাতারের টিকেট । আসন্ন বিশ্বকাপেও ‘হট ফেভারিট’ ব্রাজিল । কাগজে-কলমে ফেভারিট হলেও ব্রাজিলের কি আসলেই বিশ্বকাপ জয়ের মতো ১১ জন  ফুটবলার আছে ? চলুন , দেখে নেই । 

বর্তমানে ব্রাজিল দল বেশ শক্তিশালী । দলটির প্রতিটা পজিশনেই রয়েছে একাধিক কুশলী খেলোয়াড় । গোলরক্ষক পজিশনে লড়াই হবে অ্যালিসন বেকার আর এডারসনের মধ্যে । অ্যালিসন খেলেন লিভারপুলে আর অ্যাডারসেন ম্যানচেস্টার সিটিতে । বিশ্বের অন্যতম বড় দুই ক্লাবে খেলা দুই গোলরক্ষকই সেরা একাদশে সুযোগ পাওয়ার দাবী রাখে । গত কোপা আমেরিকায় অ্যালিসন ভেনেজুয়েলা আর কলম্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচে একাদশে ছিলেন । বাকী চারম্যাচে খেলেছেন এডারসন । বিশ্বকাপেও দুই গোলরক্ষককে সুযোগ দেবেন কোচ তিতে , নিঃসন্দেহে ।

ব্রাজিলের ডিফেন্ডার হিসেবে দুই সেন্টারব্যাক মার্কুইনহোস আর থিয়াগো সিলভার একাদশে থাকাও নিশ্চিত । তাদের ব্যাক-আপ হিসেবে ২৪ বছরের এডার মিলিতাও অনেক ভরসা । রিয়েল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগা আর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ে মিলিতাও রেখেছেন বড় ভুমিকা । বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তিতে একাধিক ম্যাচে মার্কুইনহোস বা সিলভাকে বিশ্রামে রেখে খেলিয়েছেন মিলিতাওকে । বিশ্বকাপেও ২৪ বছর বয়সীকে দেখা যেতে পাড়ে কোন একাদশের শুরুর একাদশে । আবার রাইট ব্যাক পজিশনে খেলার যোগ্যতায় মিলিতাও মার্কুইনহোস আর সিলভার সাথেও শুরু করতে পারেন যে কোন ম্যাচ ।

রাইট ব্যাক পজিশনে অবশ্য তিতের প্রধান পছন্দ ৩১ বছরের দানিলো । বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ৩৯ বছরের দানি আলাভেজ থাকবেন কিনা নিশ্চিত না । থাকলেও শুরুর একাদশে অভিজ্ঞ আলাভেজের থাকার সম্ভাবনা কম । বর্তমানে মেক্সিকোর ক্লাবে খেলা আলাভেজকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেতে কাঠখড় পোহাতে হবে ।

লেফট ব্যাক হিসেবে আলসান্দ্রোর স্থান পাকা । যদিও স্কোয়াডে থাকবেন এলেক্স টেলেস , কিন্তু শুরুর একাদশে আলেক্সান্দ্রোকেই পছন্দ তিতের ।

ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে এখনও ব্রাজিল দলে ক্যাসিমিরোর কোন বিকল্প নেই । যদিও ফ্যাবিনহো , ব্রুনো গুইমারেস আছেন । কিন্তু ক্যাসিমিরো এখনও ব্রাজিলের বাজির-ঘোড়া । এছাড়া মধ্যমাঠে ফ্রেড আর লুকাস পাকুইতার সুযোগ বেশী । সাথে এটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে এভারটন রিভেইরো থাকছেন বিকল্প হিসেবে । 

ফ্রেড, পাকুইতাদের নিয়ে ব্রাজিলের মধ্যমাঠ ভাল । কিন্তু বিশ্বজয়ের মতো কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে । অন্তত ব্রাজিলের এই দলে রোনালদিনিও আর কাকার মতো এটাকিং মিডফিল্ডার নেই ।   ইউরোপিয়ান ঘরনার  পাওয়ার আর প্রেসিং  ফুটবলে অভ্যস্ত দলগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের মধ্যমাঠ কতটা কার্যকর হবে , বলা যাচ্ছে না । 

তবে  ব্রাজিলের বর্তমান স্কোয়াডে লেফট উইং পজিশনে ভিনিসিয়াস জুনিয়র যে কোন দলের জন্য বড় সম্পদ । রিয়েল মাদ্রিদের হয়ে সর্বশেষ লা লিগা আর চ্যাম্পিয়ন্স জয়ের অন্যতম নায়ক তিনি । তবে রাইট উইংয়ে রড্রিগো , রাফিনিয়া কারো জায়গা পাকা নয় । এছাড়া তাদের সাথে লড়াই হতে পারে সদ্য  ম্যান ইউতে যোগ দেয়া এন্টোনির । তবে বার্সেলোনায় খেলা রাফিনিয়া  শুরুর একাদশে থাকলেও তাঁকে বেঞ্চে  পাঠিয়ে যে কোন সময় মাঠে নামতে পারেন রড্রিগো ।

মধ্যমাঠ ছাড়াও  স্ট্রাইকার পজিশন নিয়ে ঝামেলায় পড়তে পারে সেলেকাওরা ।  এই  দলে যেমন রোনালদিলনিও আর কাকা নেই , তেমনি  রোনাল্ডো নাজারিও কিংবা রোমারিও মানের বিশ্বকাপ এনে দেয়ার মতো কোন বিশ্বস্ত কোন ফরোয়ার্ডও  নেই । গ্যাব্রিয়েল হেসুস আর রিচার্লিশনরা, রবার্ট ফিরমিনিও কিংবা ম্যাথিয়াস কুনহা – কেউই ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী  ফরোয়ার্ডদের মানের না । তবে  আর্সেনালে ফর্ম ফিরে পাওয়া হেসুস আর টটেনহ্যামে খেলা রিচার্লিশনের মধ্যে একজনকেই সেরা একাদশে রাখতে হবে তিতেকে । সেটাও   ফর্মেশন আর প্রতিপক্ষ বিবেচনায়। নইলে  তিতে সেন্টার ফরোয়ার্ড ছাড়াই বহু ম্যাচে ব্রাজিলকে খেলিয়েছেন । বিশ্বকাপেও তিনি সেটা করবেন ।

এবারেও ব্রাজিল দলের মুল ভরসা নেইমার জুনিয়র । তাঁকে ঘিরেই গড়ে উঠবে ব্রাজিলের আক্রমণ । দলে উইঙ্গার , মধ্যমাঠ  কিংবা  স্ট্রাইকার – প্রয়োজনে সব ভুমিকাতেই দায়িত্ব পালন করতে হবে তাঁকে । পিএসজির হয়ে দারুণ ফর্মে থাকা নেইমার চলতি    মৌসুমে করে ফেলেছেন সবচেয়ে বেশী  ১০ গোল আর ৭  এসিস্ট । নেইমার পিএসজিতে যে ফর্মে আছেন , সেটা বিশ্বকাপে ধরে রাখতে পারলে ব্রাজিলের গোল নিয়ে হয়ত খুব বেশী ভাবনায় থাকতে হবে না । সেই ক্ষেত্রে ফরোয়ার্ড যেই থাক , গোল করার মতো  বলের যোগান আসবেই ।

এক কথায় , ফুটবল দলগত খেলা হলেও   ব্রাজিলের সাফল্য নির্ভর করছে নেইমারের কার্যকারিতার উপর ।   আর এতেই বেশ ঝুঁকিতে  থেকে যাচ্ছে ব্রাজিল । নেইমারকে কোন ম্যাচে আটকে দিতে পারলে ব্রাজিলের অর্ধেক খেলা নষ্ট হয়ে যায় । ঠিক যেমন ২০১৪ সালে নেইমারের ইনজুরিতে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের লজ্জায় ডুবেছে ব্রাজিল । ২০১৮ সালেও বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে একা নেইমার পার করাতে পারে নি সেলেকাওদের বৈতরণী । ২০২২ সালে তো ব্রাজিল আরও বেশী নির্ভরশীল নেইমারের উপর । এটা  ব্রাজিলের জন্য ভালর চেয়ে মন্দ হয়ে গেলে বিস্ময়ের কিছু থাকবে না ।

ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ –  এডারসন (গোলরক্ষক) , মার্কুইনহোস , থিয়াগো সিলভা ,  আলেক্সান্দ্রো , দানিলো , ক্যাসিমিরো , ফ্রেড , লুকাস পাকুইতা , ভিনিসিয়াস , রাফিনহা/রিচার্লিশন ,  নেইমার

আহাস/ক্রী/০০১