Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

পেতেই হবে বিশ্বকাপের টিকেট

আহসান হাবীব সুমন/ক্রীড়ালোকঃ

২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে নারীদের আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ । ১০টি দেশ নিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে টুর্নামেন্ট । ২৬ ফেব্রুয়ারি ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে নারীদের ক্রিকেটের বিশ্বকাপ লড়াই ।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতোমধ্যে আট দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে । স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা , অস্ট্রেলিয়া , ইংল্যান্ড , নিউজিল্যান্ড , ওয়েস্ট ইন্ডিজ , ভারত , পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কা খেলছে সরাসরি । বাকী দুইটি দেশকে বাছাই পর্বের বাঁধা পেরিয়ে আসতে হবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত লড়াইয়ে । নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সাত আসরে পাঁচবার শিরোপা জিতেছে অস্ট্রেলিয়া । ২০২০ সালেও অজি মেয়েরা উঁচিয়ে ধরেছিল ট্রফি । এছাড়া ২০০৯ সালের প্রথম আসরে ইংল্যান্ড আর ২০১৬ সালে শিরোপা জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ টিকেট পেতে আটটি দল লড়বে দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে । ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সাথে জায়গা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , স্কটল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ডের । ‘বি’ গ্রুপে খেলবে সংযুক্ত আরব আমিরাত , থাইল্যান্ড , পাপুয়া নিউ গিনি আর জিম্বাবুয়ে । প্রতি গ্রুপের সেরা দুই দল সেমি ফাইনালে লড়বে । বাকীরা খেলবে স্থান নির্ধারণী ম্যাচ । আর ফাইনালে ওঠা দুই দলের হাতে উঠে যাবে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ টিকেট ।

বাছাই পর্ব পেরিয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ চারবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছে । প্রথমবার ২০১৪ সালে স্বাগতিক হিসেবে । পরের তিনটি বিশ্বকাপেও টানা অংশগ্রহণ ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের । বাংলাদেশ ছাড়া আয়ারল্যান্ড তিনবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলেছে । তবে এখন পর্যন্ত কেউই প্রথম পর্বে বাঁধা পেরুতে পারেনি ।

রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৩ সালের নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচ । আয়োজক মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত । আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে প্রথম দিনেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশের মেয়েরা ।

বাছাই পেরিয়ে বিশ্বকাপের মুলপর্বে খেলার লক্ষ্য নিয়েই আমিরাত গেছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল । যদিও বাছাইপর্বের খেলা শুরুর আগেই জোড়া আঘাতে খানিকটা বেকায়দায় টাইগ্রেসরা । ছিটকে গেছেন অভিজ্ঞ জাহানারা আলম আর ফারজানা হক পিংকি ।

নারী জাতীয় ক্রিকেট দলের মূল পেসার জাহানারা আলম বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে গেছেন চোটে পড়ে। এই ডানহাতি পেসার তার ডানহাতে ব্যথা পেয়েছেন। যা থেকে সেরা উঠতে টুর্নামেন্ট চলাকালীন বিশ্রামে থাকতে হবে জাহানারাকে।

অন্যদিকে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার ফারজানা হক পিঙ্কি বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে গেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে। এই দুই ক্রিকেটারকে তাই দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফারজানা করোনা আক্রান্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পাঠানো হয়েছে দুই ক্রিকেটারকে।

জাহানারা ও ফারজানার বদলি হিসেবে স্কোয়াডে নেয়া হয়েছে বাঁ-হাতি পেসার ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা ও স্পিন অলরাউন্ডার সোহেলী আক্তার । দুইজনের মধ্যে তৃষ্ণার টি-টুয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার কোন অভিজ্ঞতা নেই । তবে ৫টি ওয়ানডেতে ৫ উইকেট আছে তার। আর দেশের হয়ে ২টি ওয়ানডে ও ৫টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন সোহেলি। সর্বশেষ জাতীয় লীগে ৫ ম্যাচে সোহেলির সংগ্রহ ৬২ রান। বল হাতে শিকার তিন উইকেট।

বাছাই পর্বে মাঠে নামার আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ । যে ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা ৫৪ রানে হারিয়েছে স্বাগতিক আমিরাতকে । ম্যাচের তিন ওভারে ৩ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন লতা মণ্ডল । গা গরমের ম্যাচে ৭ বোলার ব্যবহার করে বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ সালমা খাতুন আর সানজিদা উইকেট পেয়েছেন । ভাল বোলিং করেছেন নাহিদা আক্তার এবং রুমানা আহমেদ । ব্যাট হাতে ৩২ বলে পাঁচ বাউন্ডারিতে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন সুবহানা মুস্তারি । এছাড়া ২৮ বলে ৩২ রান করেন মুর্শিদা খাতুন । অধিনায়ক নিগার সুলতানার ব্যাট থেকে আসে ২৫ বলে ২৫ রান ।

টুর্নামেন্ট সামনে রেখে আগেভাগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে যায় বাংলাদেশ নারী দল । অনুশীলন ক্যাম্প করতে গত ৮ই সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়ে টাইগ্রেসরা। এসময় নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেন, মূল পর্বে খেলার দাবিদার তারা। নিজের দল নিয়ে আশাবাদী তিনি।

বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমরা মূল ইভেন্টের জন্য যোগ্যতা অর্জনের অন্যতম দাবিদার। আর সেখানে চ্যালেঞ্জ হলো প্রত্যাশা পূরণ করা। আমি আমার দলের সামর্থ্য নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু আমাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে হবে এবং ধারাবাহিক হতে হবে।’

তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে নিজেদের ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবেই দেখছেন জ্যোতি। যেখানে তার বাজির ঘোড়া হতে পারেন অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা পেসার মারুফা আক্তার। টাইগ্রেস অধিনায়ক বলেন, ‘এটি এমন একটি টুর্নামেন্ট যেখানে আমরা মারুফা আক্তারের মতো আমাদের কিছু তরুণ প্রতিভা দেখার সুযোগ পাবো যে জোরে বোলিং করে, হার্ড হিটিংয়ের ক্ষমতা রাখে এবং একজন দারুণ ফিল্ডার। আমরা অভিজ্ঞদের উপরও নির্ভর করতে পারি। সব মিলিয়ে আমরা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দলই।’

জ্যোতি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই বাছাই পর্ব উতরাতে চাই। এটা প্রতিপক্ষ বা কন্ডিশনের ব্যাপার নয়। আমরা সবসময় উন্নতিতে মনযোগ দিচ্ছি। আমি মনে করি অভিজ্ঞতা এবং মানের দিক থেকে, আমরা ঠিক অবস্থানেই আছি। ক্রিকেটাররা লম্বা সময় ধরে একসাথে তাই দলের মানসিকতাও চমৎকার।’

চলতি বছর নারীদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলেছে বাংলাদেশ । টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ৯ রানে হারিয়েছিল পাকিস্তানকে । ফারজানা খাতুন দুর্দান্ত ব্যাট করেছিলেন । তার ব্যাট থেকে আসে ১১৫ বলে ৭১ রান । দেশের হয়ে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের ৭২ ম্যাচে সর্বোচ্চ ১০৬৪ রান আছে এই ব্যাটারের । আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে সেঞ্চুরি আছে তার । বাছাই পর্বেও তার ব্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ ।

ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে নিগার সুলতানা খেলেছেন ৫৬ ম্যাচ । করেছেন ৮৮২ রান । সর্বোচ্চ ১১৩ রান । অল রাউন্ডার হিসেবে রুমানা আহমেদের পারফর্মেন্স সবার সেরা । ৬৯ ম্যুয়াচে ৭৪৮ রানের সাথে তার আছে ৬১ উইকেট ।

তবে জাহানারা আলমের অভিজ্ঞতা মিস করবে বাংলাদেশ । এই বোলার বাংলাদেশের হয়ে ৭১ ম্যাচে ৫৫ উইকেট নিয়েছেন । কিন্তু জাহানারার অনুপস্থিতি স্বত্বেও বাংলাদেশ দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অভাব নেই । অন্তত বাছাই পর্ব পেরুবার মতো স্কোয়াড বাংলাদেশের আছে । তাই টানা পঞ্চমবারের মতো টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের মুল আসরে বাংলাদেশের খেলা নিয়ে আশাবাদী না হওয়ার কোন কারণ নেই ।

বাংলাদেশ নারী দল : নিগার সুলতানা, শারমিন আক্তার  সুপ্তা, শারমিন সুলতানা,  রুমানা আহমেদ, রিতু মনি, লতা মন্ডল, সালমা খাতুন, নাহিদা আকতার, মুর্শিদা খাতুন, ফাহিমা খাতুন, সানজিদা আকতার ,  মারুফা খাতুন , ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা , সোহেলী আক্তার । 

আহাস/ক্রী/০০২