Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

পূর্ণশক্তির জিম্বাবুয়ে হবে মাথাব্যথার কারণ !

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

জিম্বাবুয়ে কখনই ক্রিকেটের সেরা শক্তিদের কাতারে ছিল না । কিন্তু এক সময় ছিল অন্যদের সমীহের কারণ । ১৯৮৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়ে তারা চমকে দিয়েছিল সবাইকে । অথচ সেই সময় তারা ছিল আইসিসি’র সহযোগী সদস্য । ক্রিকেটের ইতিহাসে কোন আইসিসি সদস্যের কাছে টেস্ট খেলুড়ে দেশের পরাজয়ের ঘটনা এটাই প্রথম ।

টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপে সাতবারের মধ্যে পাঁচবার খেলেছে জিম্বাবুয়ে । দুইবার খেলা হয়নি রাজনৈতিক কারণে । প্রথমবার ২০০৯ সালের টুর্নামেন্টে। দেশটির সাবেক স্বৈরশাসক রবার্ট মুগাবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের চাপের মুখে ২০০৮ সালের জুলাইয়ে পরবর্তী বছরের টি২০ বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় জিম্বাবুয়ে। তাদের কারণে সহযোগী দেশগুলোর বাছাইপর্ব থেকে আয়ারল্যান্ড-নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে আরেকটি জায়গা তৈরি হয়, যে জায়গাটি নেয় স্কটল্যান্ড। আর ২০২১ সালের বিশ্বকাপের জন্য যখন বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয়, তখন আইসিসি কর্র্তৃক নিষিদ্ধ জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট ইউনিয়ন। তাদের জায়গায় নাইজেরিয়াকে আফ্রিকা অঞ্চলের বাছাইপর্ব খেলার সুযোগ দেওয়া হয়।

তবে ২০২২ সালে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাওয়া জিম্বাবুয়ে আসছে বিশ্বকাপ মাতাতে । ইতোমধ্যেই বাছাই পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা পা রেখেছে বিশ্বকাপের প্রাথমিক পর্বে । যেখানে সুপার-টুয়েলভে ওঠার লড়াইয়ে ‘বি’ গ্রুপে তাদের খেলতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ , স্কটল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে । সদ্য এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকেও খেলতে হচ্ছে প্রাথমিক পর্বে ।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশকে ওয়ানডে আর টি-টুয়েন্টি সিরিজে হারাবার পর সীমিত ওভারের ম্যাচে ভারতের সাথেও লড়াই করেছে জিম্বাবুয়ে । বিশ্বকাপের দলটি আছে বেশ চাঙ্গা । তাই ‘বি’ গ্রুপে দুই দলের একটি হয়ে বিশ্বকাপের সুপার-টুয়েলভে খেলার বিষয়ে আশাবাদী আফ্রিকার দেশটি ।

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড । সাম্প্রতিক দুটি সিরিজ মিস করা নিয়মিত অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন ফিরেছেন দলে । বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনিই নেতৃত্ব দেবেন জিম্বাবুয়েকে ।

জিম্বাবুয়ের জন্য সুখবর আছে আরও । ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ টেন্ডাই চাতারা, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা এবং মিল্টন শুম্বা। চার অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে ফিরে পাওয়ায় সেরা শক্তির দল নিয়েই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে জিম্বাবুয়ে । সাথে রেজিস চাকাভা , সিকান্দার রাজা, শন উইলিয়ামস এবং ব্লেসিং মুজারাবানি তো আছেই ।

সিকান্দার রাজা কিছুদিন আগেই জিম্বাবুয়ের ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আইসিসি’র মাসের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন । ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস আর নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনারের মতো তারকাকে হারিয়েছেন তিনি । বাংলাদেশের বিপক্ষে দুইটি টানা সেঞ্চুরির পর ভারতের বিপক্ষেও পেয়েছেন শতকের দেখা । বিশ্বকাপ বাছাইয়ে জিম্বাবুয়ের চ্যাম্পিয়ন হবার পেছনে রেখেছেন সবচেয়ে বড় অবদান । সব মিলিয়ে আসন্ন বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের প্রধান ভরসা সিকান্দার রাজা ।

অভিজ্ঞদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ দলে ডাক পেলেন ব্র্যাডলি ইভান্স, টনি মুনিওঙ্গা এবং ক্লাইভ মাদান্ডে।

১৫ সদস্যের স্কোয়াডের সঙ্গে তাদিওয়ানাশে মারুমানি, ইনোসেন্ট কাইয়া, কেভিন কাসুজা, ভিক্টর নিয়াউচি এবং তানাকা চিভাঙ্গাকে রাখা হয়েছে ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসাবে।

প্রথম রাউন্ডে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১৭ অক্টোবর হোবার্টের বেলেরিভ ওভালে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। এরপর ১৯ অক্টোবর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে খেলবে। ২১ অক্টোবর স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদের প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষ করবে। বি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সুপার টুয়েলভ পর্বে যাবার সুযোগ পাবে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য জিম্বাবুয়ের স্কোয়াড:

ক্রেইগ আরভিন (অধিনায়ক), রায়ান বার্ল, রেগিস চাকাবভা, টেন্ডাই চাতারা, ব্র্যাডলি ইভান্স, লুক জংওয়ে, ক্লাইভ মাদান্ডে, ওয়েসলি মাধভেরে, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, টনি মুনিওঙ্গা, ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভা, সিকান্দার রাজা, মিল্টন শুম্বা এবং শন উইলিয়ামস।

রিজার্ভ: তানাকা চিভাঙ্গা, ইনোসেন্ট কাইয়া, কেভিন কাসুজা, তাদিওয়ানাশে মারুমনি এবং ভিক্টর নিয়াউচি।

আহাস/ক্রী/০০৪