Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

পর্তুগীজ কোচের মতো সমস্যায় নেই আর কেউ !

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ 

পর্তুগালের কোচ ফার্নান্দো সান্তস আছেন ‘মধুর সমস্যা’য় । বর্তমানে পর্তুগালে প্রতিভাবান ফুটবলারের অভাব নেই । যে কোন পজিশনে চলে আসে কমপক্ষে তিনজন ফুটবলারের নাম , যারা প্রত্যেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্য । অথচ সবাইকে একসাথে মাঠে নামাবার কিংবা স্কোয়াডে জায়গা দেবার সুযোগ নেই । তাই যে কোন টুর্নামেন্ট কিংবা আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্কোয়াড ঘোষণায় হিমশিম খাচ্ছেন তিনি ।

বিশ্বকাপের আগে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে উয়েফা নেশন্স লীগের দুটি ম্যাচ খেলতে নামছে পর্তুগাল । চেক প্রজাতন্ত্র আর স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ দুইটি পর্তুগীজদের জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণ । কারণ এই দুইটি ম্যাচের ফলাফলের উপরেই নির্ভর করছে প্রথম নেশন্স লীগের চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালের সেমি ফাইনাল খেলা । আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর চেকদের মাঠ ইডেন অ্যারেনায় স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে ইউরোপিয়ান সেলেকাওরা । আর ২৮ সেপ্টেম্বর নিজ দেশের ব্রাহা মিউনিসিপ্যাল স্টেডিয়ামে স্পেনকে আতিথ্য দেবে পর্তুগাল ।

নেশন্স লীগের ম্যাচ দুটির জন্য ইতোমধ্যে ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন পর্তুগাল । স্কোয়াড ঘোষণা করার সময় কোচ স্যান্তস জানিয়েছেন , ‘ আমরা ৫৫ জন ফুটবলার নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম । সেখান থেক ২৬ জন বেছে নেয়া সহজ কাজ না । আসলে এটা কঠিন …… অনেক কঠিন কাজ । ‘

পর্তুগালের কোচের বক্তব্যের পর প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক , স্কোয়াডের জন্য ২৬ জন খেলোয়াড় বেছে নেয়া যেখানে কঠিন সেখানে মাঠে কোন ১১ জন নিয়ে লাইন-আপ সাজাবেন ? সেই সময় তো সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না । নেশন্স লীগের স্কোয়াডে নেই রেনাটা সাঞ্চেজ আর ওটিয়াভো মন্টেইরো । তারা ইনজুরিতে আছেন । হোয়াও মুতিনিও আর গঞ্জালো গুয়েডেস সুযোগ পান নি ।

নেশন্স লীগের মতো বিশ্বকাপেও ২৬ জনের স্কোয়াড রাখা হবে । সেখানে নেশন লীগের শেষ দুই ম্যাচে বাদ পড়া সাঞ্চেজ আর মুতিনিওরা থাকছেন , সন্দেহ নেই । এমনকি অনেকদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা রিকার্ডো কুয়েরসেমা অভিজ্ঞতার বিচারে চলে আসতে পারেন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে । নেশন্স লীগের স্কোয়াডে থাকা পেদ্রো নেটো আর থিয়াগো ডিলাাউ হয়ত সুযোগ পাচ্ছেনা বিশ্বকাপে । কিন্তু তবু স্যান্তসের সমস্যা থেকেই যাচ্ছে ।

সেই সমস্যা মাঠে শুরুর একাদশ নামানো নামানো নিয়ে । গোলরক্ষক পজিশনে রুই প্যাট্রিসিও নিশ্চিত । যদিও দিয়াগো কস্তা নেশন্স লীগের সর্বশেষ দুই ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্র আর সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন । কিন্তু বিশ্বকাপে প্যাট্রিসিওকেই পছন্দ করবেন স্যান্তস ।

রক্ষণে পেপে , নুনো মেন্ডেজ , ড্যানিলো পেরেইরা , হোয়াও ক্যান্সেলো সাম্প্রতিক সময়ে টানা কয়েক্ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন । কিন্তু রুবেন ডায়াজ আর রাফায়েল গুরেইরোরা আছেন প্রথম একাদশের লড়াইয়ে ।

মধ্যমাঠেও পর্তুগীজদের আছে সমৃদ্ধ পুঁজি । যেখানে ব্রুনো ফার্নান্দেজ , বার্নাড সিলভা আর রুবেন নেভেস এগিয়ে আছেন । কিন্তু উইলিয়াম কারবালহো আর মুতিনহো আর ভিতিনহাকে বেঞ্চে রাখার উপায় কি ? আবার রেনাটা সাঞ্চেজ স্কোয়াডে চলে এলে তো কথাই নেই !

ফরোয়ার্ড লাইনে পর্তুগালের যা অবস্থা , তাতে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকেও বসিয়ে রাখার কথা ভাবতে পারেন স্যান্তস । যদিও সেটা বাস্তবে সম্ভব না । আন্তর্জাতিক ফুটবলের সেরা গোলদাতা আর পর্তুগালের মহানায়ক রোনালদোর অধিনায়কত্বেই বিশ্বকাপ খেলছে ইউরোপের সেলেকাওরা । কিন্তু কথাটি বলার কারণ , স্যান্তসের হাতে এতবেশী অস্ত্র আছে যাদের সঠিক ব্যবহার করাই হবে স্যান্তসের অগ্নি পরীক্ষা ।

দিয়াগো জোতা , হোয়াও ফেলিক্স , রাফায়েল সিলভা , রাফায়েল লিয়াও , কাকে ছেড়ে কাকে খেলাবেন স্যান্তস । স্যান্তসের জন্য প্রতিটা পজিশনে আন্তর্জাতিক মানের অনেক খেলোয়াড় থাকা যেমন সুবিধার , তেমনি অতি সন্যাসিতে গাঁজন নষ্ট না হয় , সেটাও খেয়াল রাখতে হবে । আর এই ক্ষেত্রে স্যান্তসকে দিতে হবে ক্ষুরধার ফুটবল মস্তিস্কের পরিচয় । সেটা তিনি পারবেন কিনা , সময়েই বলে দেবে ।

নেশন্স লীগের স্কোয়াডঃ 

গোলরক্ষকঃ দিয়াগো কস্তা , হোসে সা , রুই প্যাট্রিসিও ।

ডিফেন্ডার- দিয়াগো ডালট , হোয়াও ক্যান্সেলো , ড্যানীলো পেরেইরা , পেপে , রুবেন ডায়াস , থিয়াগো ডিলাউ , নুনো মেন্ডেস , রাফায়েল গুয়েরেরো

মধ্যমাঠ- হোয়াও পালিনিয়া , রুবেন নেভেস , বার্নারডো সিলভা , ব্রুনো ফার্নান্দেজ , হোয়াও মারিনো , ম্যাথিয়াস নুনেজ , ভিতিনহা , উইলিয়াম কারভালহো

ফরোয়ার্ড- ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো , দিয়াগো জোতা , পেদ্রো নেটো , হোয়াও ফেলিক্স , রাফায়েল সিলভা , রাফায়েল্ক লিয়াও , রিকার্দো হোর্তা

আহাস/ক্রী/০০৪