Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

এশিয়ার সেরা এখন শ্রীলঙ্কা

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যা কেউ ভাবেনি , শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে । শ্রীলঙ্কা জিতে নিয়েছে এশিয়া কাপের শিরোপা । একপেশে ফাইনালে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে এশিয়া কাপের ষষ্ট ট্রফি এখন শ্রীলঙ্কার ঘরে ।অথচ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে এই শ্রীলঙ্কা থেকেই টুর্নামেন্ট সরিয়ে নিতে হয়েছিল আমিরাতে । কিন্তু তাতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েনি লংকানরা । বরং সমস্ত প্রতিকুলতাকে জয় করার মানসিক শক্তিকে পুঁজি করে টেক্কা দিয়েছে সবাইকে ।

রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা । প্রথমে ব্যাট করে লংকানরা তুলেছিল ২০ ওভারে তুলেছিল ৬ উইকেটে খরচায় ১৭০ রান । জবাবে শেষ বল পর্যন্ত খেলা পাকিস্তান অল আউট হয়েছে ১৪৭ রানে ।

ম্যাচের শুরুতে টস জয়ের সাথে সাথে ম্যাচ জয়ের ইঙ্গিত পেয়েছিল পাকিস্তান । এবারের আসরে ‘টস’ জিতে প্রথম ফিল্ডিং নেয়া দলই তো বারবার হেসেছে জয়ের হাসি । ফাইনালেও প্রথম ১০ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা তুলেছিল ৬৭ রান । সেই সময়েও কেউ ভাবে নি শ্রীলঙ্কা এই ম্যাচ জিতবে ।

অথচ পরের ১০ ওভারেই পাকিস্তানী বোলারদের কাঁদিয়ে ১০৩ রান তোলে শ্রীলঙ্কা । ৫৮ রান পাঁচ উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কাকে পথ দেখান ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা আর ভানুকা রাজাপাক্সে । দুজনে মিলে ৩৬ বলে যোগ করেন ৫৮ রান । হাসারাঙ্গা করেছেন ২১ বলে ৩৬ রান । মেরেছেন পাঁচটি চার এবং একটি ছক্কা ।

পরবর্তী গল্প শুধুই রাজাপাক্সের । চামিকা করুনারত্নেকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৫৪ রানের জুটি গড়েন মাত্র ৩১ বলে । রাজাপাক্সে অপরাজিত ছিলেন ৭১ রানে । তার ৪৫ বলের ইনিংস থেকে আসে ছয়টি ছয় আর তিনটি ছক্কা ।

অন্যদিকে করুনারত্নে ১৪ বলে একটি ছক্কায় করেছেন ১৪ রান ।

শ্রীলঙ্কার রান বাড়ায় ছিল পাকিস্তানী ফিল্ডারদের ব্যর্থতা । ৪৬ রানে রাজাপাক্সের ক্যাচ ফেলেন শাদাব খান । এছাড়া ৪৯তম ওভারে আসিফ আলীর সাথে ধাক্কা খেয়ে রাজাপক্সের নিশ্চিত ক্যাচ মিস করান শাদাব খান । ডিপ মিডউইকেট বাউন্ডারিতে আসিফ আর শাদাবের সংঘর্ষে উল্টো ছক্কা হয়ে যায় । যদিও কেউ না ধরলেও সেটা বড়জোর চার হত ।

পুরো আসরে , এমনকি ফাইনালে বল হাতে দুর্দান্ত শাদাব খান এখন অনেকের চোখে খলনায়ক । তার মিসফিল্ড আর আসিফের নিশ্চিত ক্যাচ ধরার সময়ে বাঁধা , পাকিস্তানের হারের অন্যতম কারণ ।

তবে শ্রীলঙ্কার জয়ে ক্রিকেটারদের দৃঢ় মানসিকতা আর জয়ের জেদ ছিল প্রশংসা করার মতো । অবশ্য প্রথম ওভারেই দিলশাণ মাধুশাংকা আটটি ওয়াইড আর একটি ‘নো’ বল দিয়ে চমকে দিয়েছিলেন । কিন্তু পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কা গুছিয়ে নেয় নিজেদের । বোলাররা টাইট বোলিং করেছেন । ফিল্ডাররা কোন বাড়তি রানের সুযোগ দেন নি । ফেলেন নি একটি ক্যাচ । পাকিস্তানের ইনিংসে শ্রীলঙ্কার ফিল্ডাররা ধরেছেন আটটি ক্যাচ ।

শ্রীলঙ্কান সেনাপতি ধানুশ শানাকার প্রশংসা না করলে অন্যায় হবে । মোহাম্মদ রিজওয়ান বিপজ্জনক হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন । কিন্তু হাসারাঙ্গাকে এনে অধিনায়ক শানাকা ঘুরিয়ে দেন ম্যাচ । ১৭তম ওভারে হাসারাঙ্গা তুলে নেন তিন উইকেট । টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশী রান করা রিজওয়ান , খুশদিল শাহ আর আসিফ আলীকে ফিরিয়ে ম্যাচে পাকিস্তানের সব আশা শেষ করে দেন তিনি । রিজওয়ান ফাইনালেও ছিলেন পাকিস্তানের সেরা । করেছেন ৪৯ বলে ৫৫ রান । তার ব্যাট থেকে আসে চারটি চার আর একটি ছক্কা ।

এছাড়া ইফিতিখারের ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান ।

হাসারাঙ্গা তিনটি উইকেট নিয়েছেন । কিন্তু চার উইকেট নিয়ে সেরা ছিলেন প্রমোদ মাদুশান । ফাইনালের সেরা ভানুকা রাজাপাক্সে । আর টুর্নামেন্টের সেরা হাসারাঙ্গা ।

আহাস/ক্রী/০০১