Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

ইপিএলে এখনও সবার শীর্ষে রোনালদো

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

ইউরোপের ফুটবল মানেই টাকার ছড়াছড়ি । বাংলাদেশের মতো মধ্যম আয়ের দেশের মানুষের কল্পনাকেও হার মানায় ইউরোপিয়ান ফুটবলে খেলোয়াড়দের আয় । শীর্ষসারির খেলোয়াড়দের পেছনে মুড়ি-মুড়কির মতো কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ক্লাবগুলো । এই ক্ষেত্রে আবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ (ইপিএল) এক কাঠি সরেস । সামগ্রিকভাবে তাদের আয়ব্যয় ইউরোপের যে কোন লীগের চেয়ে বেশী ।

২০২২-২৩ মৌসুমের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ইপিএলের ক্লাবগুলোর মোট ব্যয় ১.৯ বিলিয়ন পাউন্ড । বাংলাদেশি মুদ্রায় ২১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর আগে ২০১৭ সালে ১.৪ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছিল ইপিএল’র ক্লাবগুলো। চলতি বছরের ১০ই জুন থেকে ১লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রিমিয়ার লীগের ২০ ক্লাব গত গ্রীষ্মের তুলনায় ৬৭% বেশি ব্যয় করেছে। এদের মধ্যে ৯টি ক্লাবের খরচ ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি।

খেলোয়াড় কেনা-বেচায় খরচ ছাড়াও প্রতিমাসে ফুটবলারদের পেছনে বেতন হিসেবেও বিপুল টাকা খরচ করে ইপিএলের প্রতিটা ক্লাব । বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ ১০ সর্বোচ্চ বেতন পাওয়ার ফুটবলারদের পাঁচজন ইপিএলে খেলেন । যাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড সাপ্তাহিক বেতন পান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো । ২০২০-২১ মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যান ইউতে যোগ দিয়েছেন পর্তুগীজ মহাতারকা । সেই থেকে তিনি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বেশী বেতনধারী খেলোয়াড় ।

দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন ম্যান সিটির বেলজিয়ান তারকা কেভিন ডি ব্রুইন । তিনি বেতন পান সাপ্তাহিক ৪ লাখ পাউন্ড ।

২২ বছরের আর্লিং হাল্যান্ড চলতি মৌসুমে যোগ দিয়েছেন ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব ম্যান সিটিতে । বুরুশিয়া ডর্টমুণ্ড থেকে হাল্যান্ডকে আনতে ৬০ মিলিয়ন ইউরো রিলিজ ক্লজ মেটাতে হয়েছে সিটিজেনদের । সেই সাথে বোনাস , এজেন্টদের খরচ তো আছেই । এছাড়া সাপ্তাহিক হিসেবে হাল্যান্ডকে দিতে হচ্ছে মোটা বেতন । যার পরিমান ৩ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড । বর্তমানে তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী বেতন পাচ্ছেন নরওয়ের ফরোয়ার্ড ।

হাল্যান্ডের সমান বেতন পাচ্ছেন ম্যান ইউ গোলরক্ষক স্পেনের ডেভিড ডি হিয়া । প্রিমিয়ার লীগে অন্য যে কোন কিপারের তুলনায় ডি হিয়ার বেতন আকাশছোঁয়া । চেলসির কেপা আরিজাবালাগা গোলরক্ষকদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেতন পান সাপ্তাহিক ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড । এমনকি , ব্রাজিলের এডারসন কিংবা এলিসন বেকাররাও অনেক পেছনে । আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজ বেতনের বিচারে কাছাকাছি নেই ।

ডি হিয়া শুধু ইপিএল না , এখনও বিশ্বের সবচেয়ে দামী কিপার । লা লিগার এথলেটিকো মাদ্রিদের ইয়ান ওবালাক পান সাপ্তাহিক সাড়ে তিন লাখ পাউন্ড ।

ইপিএলে বেতনের বিচারে যৌথভাবে পাঁচ নাম্বারে আছেন ম্যান ইউর জেডন সাঞ্চো আর লিভারপুলের মোহাম্মদ সালাহ । তারা দুজনেই সাপ্তাহিক পান সাড়ে তিন লাখ পাউন্ড ।

তবে সারা বিশ্বে বেতনের হিসেবে সেরা তিনে অবস্থান পিএসজির তিন তারকা লিওনেল মেসি , নেইমার জুনিয়র আর কিলিয়ান এমবাপ্পের । ফ্রান্সের এমবাপ্পে তো প্যারিসের ক্লাব থেকে মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার মতো বেতন । এমবাপ্পের পেছনে পিএসজির সাপ্তাহিক বেতন হিসেবে খরচ ১৬ লাখ পাউন্ড । এটাই বিশ্বরেকর্ড । দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসি সপ্তাহে পান সাড়ে ৯ লাখ পাউন্ড । আর নেইমার সাড়ে ছয় লাখ ।

আহাস/ক্রী/০০৫