Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

চেলসির ‘তুরুপের তাস’ রাহিম স্টারলিং

আহসান হাবীব সুমন/ক্রীড়ালোকঃ

রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রভাব ইংলিশ ক্লাব চেলসির উপর পড়েছিল প্রত্যক্ষভাবে । রাশিয়ান ধনকুবের রোমান আব্রাহোমোভিচকে ছাড়তে হয়েছে চেলসির মালিকানা । তার বিরুদ্ধে অভিযোগ , ইউক্রেইনে আগ্রাসন চালাবার দায়ে অভিযুক্ত রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তিনি । আর গ্রেট ব্রিটেনসহ ইউরোপের বেশীরভাগ দেশ ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরোধী । যে কারণে ব্রিটিশ রাজনৈতিক চাপে আব্রাহোমোভিচ বাধ্য হয়েছেন চেলসির মালিকানা ছাড়তে ।

চলতি বছরের মে মাসে আব্রাহোভিচের কাছ থেকে চেলসির মালিকানা বুঝে নিয়েছে আমেরিকান বেসবল ক্লাব এলএ ডজার্সের মালিক টড বোয়েলি, মার্ক ওয়াল্টার, সুইস বিলিয়নিয়ার হান্সইয়োর্গ উইস এবং ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটালের সম্মিলিত কনসোর্টিয়াম । যার কেন্দ্রীয় চরিত্র টড বোয়েলি । আব্রাহোমোভিচের পর তিনিই চেলসির নতুন সভাপতি । জানা গেছে , চেলসির মালিকানার হাতবদলে খরচ হচ্ছে দুই পক্ষ ৪.২৫ বিলিয়ন পাউন্ড বা ৫.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার । সবমিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে ৪৯০ কোটি ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে । এছাড়াও ক্লাবে নতুন মালিকপক্ষ শুরুতেই ১৮ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে ।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে , নতুন মালিকপক্ষের অধীনে চেলসি কি পারবে তাদের আভিজাত্য আর সাফল্য ধরে রাখতে ? ২০০৪ সালে মালিকানা ক্রয়ের পর রাশিয়ান আব্রাহোভিচ চেলসিকে বিশ্বের সেরা ক্লাবে পরিনত করার জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন । যার ফলও পেয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি । আব্রাহোমোভিচ যুগে চেলসি জিতেছে পাঁচটি প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা । সেই সাথে পাঁচটি এফএ কাপ , তিনটি ইংলিশ লীগ কাপ , দুইটি কমুনিটি শিল্ড । এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ের স্বাদও ব্লুজরা পেয়ে গেছে ২০১১-১২ আর ২০২০-২১ মৌসুমে । সাথে দুইটি উইয়েফা ইউরোপা লীগ আর একটি উয়েফা সুপার কাপ এবং একটি ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ । সব মিলিয়ে আব্রাহোমিচের চেলসি পরিনত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবে । যারা এখন যে কোন বিবেচনাতে ‘অভিজাত’ ।

তবে আমেরিকার মালিকপক্ষের অধীনে নতুন মৌসুম শুরুর আগে খুব বেশী কিছু আশা করা যাচ্ছে না । চলমান ইউরোপিয়ান দলবদলে চেলসিকে সেভাবে সক্রিয় দেখা যায় নি । কোচ থমাস টুশেলের অধীনে ২০২০-২১ সালে চেলসি জিতেছিল চ্যাম্পিয়ন্স লীগ , উয়েফা সুপার কাপ আর ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ । তবে সর্বশেষ প্রিমিয়ার লীগে তৃতীয় হয়েছিল চেলসি । আর সেই স্কোয়াড থেকে ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছেন এন্টনিও রুডিগার আর আন্দ্রেস ক্রিস্টিয়েনসেন । এছাড়া রুমেলু লুকাকু ধারে পাড়ি জমিয়েছেন পুরনো ক্লাব ইন্টার মিলানে ।

তবে চেলসি দলে ভিড়িয়েছে সেনেগালের ডিফেন্ডার কালিদু কোলুবেলি আর ইংল্যান্ডের রাহিম স্টারলিংকে । মুলত রাহিম স্টারলিংকে ঘিরেই আগামী মৌসুমে চেলসির সব স্বপ্ন বিস্তৃতি পাচ্ছে । কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের একাডেমী থেকে উঠে আসা স্টারলিং খেলতে পারেন উইঙ্গার আর মধ্যমাঠে । এমনকি , ইনল্যাং জাতীয় দলে কোচ সাউথগেট তাকে ব্যবহার করেছেন পুরোপুরি স্ট্রাইকার হিসেবে । লিভারপুল আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে এখন পর্যন্ত সিনিয়র ক্যারিয়ারে ৪৬৮ ম্যাচে ১৫৪ গোল করেছেন স্টারলিং । এছাড়া দেশের হয়েও ৭৭ ম্যাচে ১৯ গোল আছে তার । এছাড়া ২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে সবচেয়ে বেশী ম্যাচ জয়ের রেকর্ড স্টারলিংয়ের (১৫৪) । ম্যান সিটির হয়ে চারটি প্রিমিয়ার লীগ , পাঁচটি ইএফএল লীগ কাপ , একটি করে এফএ কাপ আর কমুনিটি শিল্ড জিতেছেন । খেলেছেন ২০২০-২১ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে । যদিও ফাইনালে জেতা হয় নি সাবেক ক্লাব লিভারপুলের বিপক্ষে ।

সব মিলিয়ে আসন্ন মৌসুমে স্টারলিং যে হবেন কোচ টুশেলের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু , তাতে কোন সন্দেহ নেই । আর মাত্র ২৭ বছর বয়সী স্টারলিংয়ের এখনও দেয়ার অনেক কিছুই বাকী । তিনি নিজেও চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ের খুব কাছ থেকে ফিরেছেন । তাই তিনিও চাইবেন চেলসির জন্য নিজের সেরাটা দিয়ে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিততে ।

অবশ্য চেলসির বাদবাকী স্কোয়াড নিয়ে খুব বেশী আশা করা যায় সেটাও বলা যাচ্ছে না । চেলসির অধিনায়ক সিজার আজপেলেকুয়েতা দল ছাড়তে পারেন যে কোন মুহূর্তে । একই সম্ভাবনা রয়েছে লেফট ব্যাক মার্কাস আলোনসোকে নিয়েও । তাদের দুজনকেই দলে ভেড়াতে চাচ্ছে বার্সেলোনা । এই দুজন দল ছাড়লে চেলসির রক্ষণ অনেকটাই ভঙ্গুর হয়ে যাবে । সেই ক্ষেত্রে নতুন মৌসুম শুরুর আগে নতুন ডিফেন্ডার না ভেড়াতে পারলে চেলসিকে ভুগতে হবে নিঃসন্দেহে । দলে থিয়াগো সিলভা আর নতুন যোগ দেয়া কোলিবালির সাথে এমারসন , মালাং সার আর রিসে জেমসরা আছেন । তবু সেরা হতে গেলে রক্ষণের শক্তি বাড়াতে হবে চেলসির ।

চেলসির মধ্যমাঠে অবশ্য এনগোলো কন্তে , কাই হাভার্টস , হাকীম জয়েশ , ম্যাথিউ কোভাচিচ আর জর্জিনিওর মত খেলোয়াড় আছেন । আক্রমণে থাকছেন ক্রিস্টিয়ান পালিসিচ , টিমো ভার্নার আর আর্মান্দো ব্রোহা । সেই সাথে স্টারলিং তো আছেনই । 

 শোনা গিয়েছিল ,   আক্রমণভাগে চেলসি  ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে কিনতে আগ্রহী । আর রোনালদো চ্যাম্পিয়ন্স লীগে খেলার লক্ষ্যপূরণ করতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়তে চান । কিন্তু স্টারলিংকে কেনার পর রোনালদো বিষয়ে আর এগোয় নি চেলসি । তবে ইউরোপের দলবদলের উইন্ডো খোলা থাকছে আগস্ট মাস জুড়ে ।  তাই কি হয় বলা যায় না । শেষ পর্যন্ত যদি চেলসি রোনালদোকে নিয়ে নেয় , তবে ব্লুজরা ক্লাব আর আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সেরা গোলদাতাকে পেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে । 

আহাস/ক্রী/০০৫