Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির সম্ভাবনায় ডোমিঙ্গোর ভুল বিশ্লেষণ !

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের দুর্বলতা সকলের জানা । টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটেও বাংলাদেশের অবস্থা একই । তবে ওয়ানডে ক্রিকেট খেলতে নামলেই যেন বদলে যায় টাইগাররা । শক্ত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসে পৃথিবীর যে কোন দলকে । চলমান ওয়েস্ট সফরেও যার ব্যতিক্রম হয় নি । টেস্ট আর টি-টুয়েন্টি সিরিজে খাবি খাওয়ার পর তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ওয়ানডে মোকাবেলায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ । টানা দুইটি ওয়ানডে জয়ে নিশ্চিত করেছে তিন ম্যাচের সিরিজ ।

টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভাল করতে না পারার কারণ সবার জানা । এই নিয়ে অনাকে আলোচনাও হয়েছে । আসলে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট হচ্ছে ব্যাটারদের খেলা । ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে খেলার জন্য বলই পাওয়া যায় ১২০টি । প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তাই ব্যাটিং করতে হয় তেড়েফুঁড়ে । কিন্তু বাংলাদেশে হার্ড-হিটার ব্যাটারের বড় অভাব । সৌম্য সরকার , সাব্বির রহমান , নাইম ইসলামদের সম্ভাবনা ছিল । কিন্তু তারা কেউই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের থিতু করতে পারেন নি । এছাড়া তামিম ইকবাল , সাকিব আল হাসান , মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ , মুশফিকুর রহিম কিংবা হালের লিটন দাস , নাইম শেখ – কেউই তথাকথিত হার্ড হিটার না । যেমনটা ক্রিস গেইল , আন্দ্রে রাসেল , ডেভিড মিলার এমনকি রোহিত শর্মারা । বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা শারীরিক গঠনের কারণেই হার্ড-হিটিং ব্যাটার হয়ে উঠতে পারেন না – এমন মন্তব্যও অতীতে অনেকে করেছেন ।

অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্মের পর থেকেই একদিনের ক্রিকেটের চর্চা সবচেয়ে বেশী । সেই তুলনায় দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে অংশগ্রহণ কম । টি-টুয়েন্টি যুগে বিপিএলের মত আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে । ঘরোয়া ক্রিকেটেও থাকছে নাম-কা-ওয়াস্তে প্রতিযোগিতার সুযোগ । কিন্তু তাতে বেরিয়ে আসছে না সত্যিকারের টি-টুয়েন্টি মেজাজের ক্রিকেটার । যদিও আইপিএলের মত আসর করে ভারতীয় ক্রিকেটাররা ঠিকই নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে টি-টুয়েন্টি মেজাজের সাথে । কিন্তু বাংলাদেশ সেখানে ব্যর্থ , হয়ত সেই শারীরিক সক্ষমতার কারণেই !

টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যর্থতার কারণ না হয় শারীরিক গঠন । কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে ব্যর্থ কেন বাংলাদেশের ক্রিকেটটাররা ? অতি সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ । দুইটি ম্যাচেই বাংলাদেশের পরাজয় ছিল অসহায়ের মত । অ্যান্টিগার প্রথম টেস্টে সাড়ে তিনদিনেই সাত উইকেটে হার মেনে নিয়েছিল টাইগাররা । পক্ষান্তরে দ্বিতীয় টেস্টের চিত্র তো ছিল আরও করুণ । দুই দিনের বৃষ্টিতে সেন্ট লুসিয়া টেস্টটা রূপ নিয়েছিল খন্ডাংশে। তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের বেশিরভাগ সময় খেলাই হতে পারেনি। আর সেই টেস্টেই কিনা বাংলাদেশ ১০ উইকেটের হার মেনে নিয়েছে । তাও ম্যাচ পঞ্চম দিনে গড়ায় নি ।

সেই ম্যাচের পর অধিনায়ক সাকিব আল হাসান দোষ দিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের টেস্ট সংস্কৃতিকে । বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে দর্শক হয় না , ক্রিকেটাররা টেস্ট ক্রিকেটে তাই আগ্রহ পায় না – এমন কিছুই হয়ত বলার চেষ্টা করেছেন তিনি ।

যদিও বাংলাদেশের কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো মনে করেন , বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামো টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতির অন্তরায় । তিনি মনে করেন , বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা চার দিনের প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলার সুযোগ কম পান । সেই কারণেই টেস্ট মেজাজে অভ্যস্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা কম !

ডোমিঙ্গোর অধীনে বাংলাদেশ ২৩ ওয়ানডের মধ্যে ১৭টি জিতেছে । অন্যদিকে ২০ টেস্টে হেরেছে ১৫টি আর জয় তিনটি । বাকী দুইটি ম্যাচ ড্র হয়েছে । ডোমিঙ্গোর আমলেও যে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের কোন পরিবর্তন হয় নি , সেটা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট ।

ডোমিঙ্গো জানিয়েছেন , ‘ আমি বাংলাদেশের ক্রিকেটের অবকাঠামো নিয়ে মন্তব্য করার কেউ নই । তবে আমার সত্যি মনে হয় ছেলেরা প্রথম শ্রেণীর (চার দিনের) ক্রিকেট খেলার সুযোগ পায় কম , হয়ত বছরে চার-পাঁচটা । এনামুল হক বিজয়ের কথাই ধরুন । সে ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট খেলেছে । কিন্তু গত এক বছরে সম্ভবত লাল বলের ক্রিকেট খেলারই সুযোগ হয় নি তার । এই অবস্থায় ভাল করা সত্যি মুশকিল । ‘
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের উইকেট নিয়ে অনেকেই অভিযোগ করেছেন । তাদের মতে , দেশের যেসব উইকেটে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা হয় সেগুলো মানসম্মত না । তাই দেশের মাটিতে ঘরোয়া আসরে শত শত রান করার পরেও বাংলাদেশের নতুন ক্রিকেটাররা ব্যর্থ হচ্ছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে । এই ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে বাংলাদেশের রাজিন সালেহ , তুষার ইমরানদের কথা বলা যায় । তারা জাতীয় দলে সুযোগ পেলেও খুব বেশীদিন নিজেদের স্থায়ী করতে পারেন নি ।

ডোমিঙ্গো অবশ্য মানের চেয়ে খেলার সংখ্যা বাড়াবার দিকেই জোর দিচ্ছেন , ‘ আসলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বেশী বেশী প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলতে হবে । ‘এ’ দলের খেলা বাড়াতে হবে । ঘরোয়া আসরেও খেলা বাড়াবার বিকল্প নেই । ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা বছরে কমপক্ষে ১৫/১৬টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলে । দক্ষিণ আফ্রিকায় সেই সংখ্যা ১০টির কম না । অস্ট্রেলিয়াও ১২/১৩টি ফার্স্ট ম্যাচ খেলায় তাদের ক্রিকেটারদের । কিন্তু সেই তুলনায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচের সংখ্যা বছরে ক’টি? ‘

এনামুল হক বিজয়ের ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট খেলা সত্যি অবাক করার মত । প্রায় আট বছর পর ইয়াসির আলী রাব্বির ইনজুরিতে তিনি স্কোয়াডে সুযোগ পান । আর দ্বিতীয় টেস্টে নেমে যান মুমিনুল হক বাজে ফর্মের কারণে বাদ পড়ায় । রঙিন পোশাকের ঘরোয়া আসরে বিশ্বরেকর্ড রানের দেখা পাওয়া বিজয় দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে অনভ্যস্ততার মাশুল দিয়েছেন । দুই ইনিংসে করেছেন ২৩ আর ৪ রান । আবার টি-টুয়েন্টি সিরিজে সুযোগ পেয়ে খুব ভাল করেছেন সেটাও বলা যাবে না ।

আসলে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ঘরোয়া আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে যে পার্থক্য , সেটাই অনুধাবন করতে অক্ষম । কারণ ডোমিঙ্গো বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলার সুযোগ না পাওয়ার যে কথা বলছেন , সেটা ঠিক না । জাতীয় ক্রিকেট লীগ (এনএসএল) আর ফেঞ্চাইজিভিত্তিক বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে (বিসিএল) কমপক্ষে ১০-১২টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন । কিন্তু তাতেও টেস্ট ক্রিকেট খেলার মানসিকতা গড়ে উঠছে না ক্রিকেটারদের । এটা কম খেলার জন্য না , হতে পারে ক্রিকেটারদের মানসিক অসাড়তার কারণে !

আহাস/ক্রী/০০৩