Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অধিনায়ক থাকবেন তো মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ?

আহসান হাবীব সুমন/ক্রীড়ালোকঃ

শেষ হয়েছে বাংলাদেশ আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটীয় দ্বৈরথ । ক্যারিবিয় দ্বীপে সফরের শুরুটা টাইগাররা করেছিল টেস্ট সিরিজে ‘হোয়াইট ওয়াশ’ হবার মধ্য দিয়ে । সফরের দ্বিতীয় ভাগে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে স্বাগতিকরা জিতেছে ২-০ ব্যবধানে (একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত) । তবে বাংলাদেশের আশা ছিল তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে । কারণ এই ফরম্যাটেই এখনও বাংলাদেশ ক্রিকেটটা ভাল খেলে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তো বলতে গেলে একদিনের ম্যাচে হারতেই ভুলে গেছে টাইগাররা । সেই ধারাবাহিকতায় ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইট ওয়াশ করে একদিনের সিরিজ জয়ের মধ্য দিয়েই দেশে ফিরছে ক্রিকেটাররা ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাকিব আল হাসান । তাকে নেতৃত্বে আনা হয়েছে মুমিনুল হকের ব্যর্থতায় । টানা ব্যাটিং ব্যর্থতায় মুমিনুল শুধু অধিনায়কত্ব হারান নি , একাদশে থেকেও ছিটকে গেছেন সেইন্ট লুসিয়া টেস্টে । মুমিনুলের এমন পরিনতির পর টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন । কারণ টেস্টের মুমিনুলের মত একই পথেই চলছেন টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক ।

মাহমুদুল্লাহর নেতৃত্বে সর্বশেষ ১২টি টি-টুয়েন্টি ম্যাচে কোন জয় নেই বাংলাদেশের । হেরেছে ১০টি ম্যাচ আর পরিত্যক্ত দুইটি । এই ১২ ম্যাচে মাহমুদুল্লাহর পারফর্মেন্স আরও করুণ । কোন ম্যাচেই তিনি পান নি অর্ধশতকের দেখা । করেছেন ১৫.৬৪ গড়ে মাত্র ১৭২ রান। ফলে মাহমুদুল্লাহর শুধু অধিনায়কত্ব না , টি-টুয়েন্টি স্কোয়াডে টিক থাকা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন । আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে মাহমুদুল্লাহর নেতৃত্বে বাংলাদেশের খুব ভাল ভবিষ্যৎ দেখছেন না কেউ ।

এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন , হুট করে মাহমুদুল্লাহকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া খুব সহজ না । এটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার । আর তাছাড়া মাহমুদুল্লাহকে অধিনায়কত্ব থেকে সরালেই বাংলাদেশ দল রাতারাতি বদলে যাবে , এমন ভাবাও ঠিক না ।

কথাটা সত্যি । মুমিনুলের পর সাকিবকে অধিনায়ক করার পরেও ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হয়েছে টাইগাররা । দুইটি ম্যাচেই বাংলাদেশের পারফর্মেন্সে পাওয়া যায় নি কোন উন্নতির ছোঁয়া । পাপন জানিয়েছেন , ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ফিরে এলে মাহমুদুল্লাহর সাথে অধিনায়কত্ব আর দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করবেন বোর্ড কর্তারা ।

এদিকে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তামিম ইকবাল খান । অনেকদিন ধরেই তিনি ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন । এবার সরে দাঁড়িয়েছেন চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়ে । তামিমের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি নিয়েও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে । গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে লিটন দাস , সৌম্য সরকার , নাইম শেখ , মুনিম শাহরিয়ার , নাজমুল হাসান শান্ত এমনকি এনামুল হক বিজয়কে দিয়ে চেষ্টা করানো হয়েছে । কিন্তু ওপেনিং জুটি হিসেবে স্থায়ী হওয়ার লক্ষণ দেখাতে পারেন নি কেউ । বর্তমান স্কোয়াডে লিটন একমাত্র ধারাবাহিক পারফর্মার , কিন্তু বাকীরা টানছেন ব্যর্থতার ঘানি । তাই বিশ্বকাপের আগে একটি কার্যকর ওপেনিং জুটি খুঁজে বের করা বাংলাদেশের জন্য অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে । নইলে সর্বশেষ বিশ্বকাপের মতই বাংলাদেশকে ফিরতে হবে কলংকের গ্লানি নিয়ে ।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বাংলাদেশের জন্য হবে কঠিন পরীক্ষা । পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে অস্ট্রেলিয়ায় কন্ডিশনিং ক্যাম্প করার কথা থাকলেও সেটা হচ্ছে না । তবে বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা । সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান আর স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড । টি-টুয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজে ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের বিপক্ষে নামবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। দু’দিন পর ৯ অক্টোবর স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ বাংলাদেশের। ১২ ও ১৩ অক্টোবর পরপর দুদিন নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা । এছাড়া বিশ্বকাপের মুল মঞ্চে মাঠে নামার আগে দুইটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে টাইগাররা ।

বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন , ‘ বিশ্বকাপের খুব বেশী বাকী নেই । অধিনায়ক কিংবা দলে বিরাট কোন পরিবর্তন এনে আগামী দুই তিনমাসে খুব উন্নতি হবে , এমন ভাবনা ভুল হবে । আমরা বরং ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ফিরে আসার পর খেলোয়াড়দের কাছ থেকেই শুনবো বিশ্বকাপ নিয়ে কি করা যায়। ‘

রবিবার (১৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয়েছে বিসিবি’র কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক । বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে শুধু মাহমুদুল্লাহ বিষয়ে না , পাপণ কথা বলেছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও । তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের বিপিএল শুরু হবে ৫ জানুয়ারি, শেষ হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি। ২০২৪ সালের বিপিএল শুরু হবে ৬ জানুয়ারি, শেষ হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি এবং ২০২৫ সালের বিপিএল শুরু হবে ১ জানুয়ারি, শেষ হবে ১১ ফেব্রুয়ারি। আর প্রতিটি আসরেই অংশ নেবে ৭টি করে ফ্রাঞ্চাইজি।’

আহাস/ক্রী/০০৩