Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

এসেছে জয় , কিন্তু কমে নি দুশ্চিন্তা

আহসান হাবীব সুমন/ক্রীড়ালোকঃ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টানা হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ । টেস্ট আর টি-টুয়েন্টি সিরিজে ভরাডুবির পর জয় এসেছে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে । তাতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে তামিম ইকবালের দল । কিন্তু এই জয়ের পরেও ক্যাচ মিস আর মিডল টপ অর্ডার নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা খানিকটা রয়েই গেছে ।

রবিবার (১০ জুলাই) গায়ানায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে । এই নিয়ে টানা নয় ওয়ানডে ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে জয় পেলো টাইগাররা । ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর একদিনের ক্রিকেটে হারাতে পারে নি বাংলাদেশকে ।

ম্যাচে অধিনায়ক তামিম করেছেন ২৫ বলে ৩৩ রান । ৪১ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৪৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের ওপেনার তামিম মেরেছেন একটি ছক্কা । অ্যান্ডারসনের ফিলিপের বলে ছক্কা মেরে তিনি ছুঁয়েছেন অনন্য একটি মাইল ফলক । তামিম এখন ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র ছক্কার সেঞ্চুরির মালিক । দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুশফিকুর রহিম মেরেছেন ৮৫ ওয়ানডে ছক্কা । ৭১ ছক্কা নিয়ে তৃতীয় মাহমুদউল্লাহ। মুশফিক বা অন্য কেউ ভবিষ্যতে একশ ছক্কার মালিক হলেও ‘প্রথম ছক্কা সেঞ্চুরিয়ান’ হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে তামিমের জায়গা নিতে পারবে না কেউ ।

প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের জয়টা একদিকে ছিল দারুণ স্বস্তির । একে তো টেস্ট আর টি-টুয়েন্টি সিরিজে লজ্জাজনক হার । তার উপর সিরিজে নেই সাকিব আল হাসান আর মুশফিকুর রহিমের মত সিনিয়র খেলোয়াড় । এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত কামরুল হাসান রাব্বি , মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনরাও ওয়ানডে স্কোয়াডের বাইরে । তাই তামিমের জন্য ম্যাচে একাদশ সাজানো ছিল বেশ চ্যালেঞ্জের ।

ম্যাচে তামিম পাঁচ বোলার নিয়ে খেলিয়েছেন দলকে । নাসুম আহমেদের অভিষেক হয়েছে এই ম্যাচ দিয়ে । এছাড়া মোস্তাফিজুর রহমান , শরিফুল ইসলাম , মেহেদি হাসান মিরাজ , তাসকিন আহমেদ খেলেছেন । অল রাউন্ডার হিসেবে ছিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব । যদিও আফিফকে দিয়ে বল করানো হয় নি ।

ম্যাচে নাসুম কোন উইকেট পান নি । কিন্তু আট ওভার বল করে তিনটি মেইডেনসহ দিয়েছেন মাত্র ১৬ রান । নয় ওভারে দুইটি মেইডেনসহ তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা মেহেদি হাসান মিরাজ । চার উইকেট পেয়েছেন শরিফুল । আর একটি মোস্তাফিজ । তাসকিন আট ওভারে ২৫ রান দিয়ে ছিলেন মিতব্যয়ী ।

ম্যাচ শেষে দেখা যাচ্ছে , পাঁচ বোলার নিয়ে খেলার তামিমের সিদ্ধান্ত সঠিক । এই নিয়ে তামিম জানিয়েছেন , ‘ দলে সাকিব নেই । তাই আমাদের একজন ব্যাটার আর বোলার কমে গেছে । এই অবস্থায় আমি পাঁচজন জেনুইন বোলার নিয়ে খেলাকেই নিরাপদ মনে করেছি । কারণ একদিনের ক্রিকেটে ম্যাচ বের করতে হলে পাঁচজন ব্যাটার যথেষ্ট । তারচেয়ে বরং একজন বেশী জেনুইন বোলার প্রতিপক্ষের জন্য চাপের হতে পারে । ‘

প্রশ্ন উঠেছিল , এনামুল হক বিজয়কে বসিয়ে রাখা নিয়েও । কারণ এনামুল সর্বশেষ ঘরোয়া আসরে রানের পাহাড় গড়েছিলেন । তিনি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক আসরে ছাড়িয়ে যান হাজার রান। এমন পারফর্মেন্স দিয়ে তিনি জায়গা করে নেন টি-টুয়েন্টি আর ওয়ানডে স্কোয়াডে । এমনকি নাটকীয়ভাবে খেলেন আট বছর পর টেস্ট ক্রিকেট । যদিও টেস্ট আর টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরতে পারেন নি বিজয় ।

এই কারণেই কি এনামুলকে সুযোগ না দিয়ে খেলানো হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তকে ?

এমন প্রশ্নের উত্তরে তামিম জানিয়েছেন , ‘ বিষয়টা আসলে এমন নয় । এমনিতেই সাকিব , মুশফিক আর ইয়াসির রাব্বি না থাকায় আমাদের তিন-চার-পাঁচ নাম্বার জায়গা নিয়ে বাড়তি চিন্তা ছিল । তামিমের সাথে আমরা লিটনকে ওপেন করাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি । তাহলে তিন নাম্বারে খেলবে কে ? ঘরোয়া ক্রিকেটে এনামুল ওপেন করলেও জাতীয় দলে তিনি অনায়াসে তিনে আসতে পারবেন । কিন্তু সে বহু বছর পর জাতীয় দলে এসেছে । অন্যদিকে শান্ত কয়েক সিরিজ ধরেই স্কোয়াডে আছে । সুযোগটা তাই শান্তর প্রাপ্য ছিল । আসলে একটা ছেলে (শান্ত) দলের সাথে তিন সিরিজ ধরে আছে , তাকে সুযোগ না দিলে সেটা ভুল হত । এনামুল স্কোয়াডে থাকলে আগামীতে সুযোগ পাবে । কিন্তু এই মুহূর্তে এনামুলের চেয়ে সুযোগ পাওয়ার চেয়ে শান্ত এগিয়ে । ‘

যদিও নিজের ক্যারিয়ারে আগের আট ওয়ানডে ম্যাচে সব মিলিয়ে ৯৩ রানের বেশী করতে পারেন নি শান্ত । তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেছেন ৪৬ বলে পাঁচটি চারে ৩৭ রান । যদিও ম্যাচের অবস্থা অনুযায়ী শান্তর আরও ভাল করার সুযোগ ছিল । অন্তত ম্যাচ শেষ করার চেষ্টা তিনি করতে পারতেন । যেহেতু টার্গেট বড় ছিল না , ওভার ছিল অনেক । কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন নি শান্ত ।

এই নিয়ে তামিম বলেছেন , ‘ শান্তর উচিৎ ছিল ম্যাচ শেষ করার চেষ্টা চালনো । কারণে সাকিব, মুশফিক আর রাব্বিরা ফিরলে তার একাদশে সুযোগ পাওয়া কঠিন হবে । সেই কারণে এখন যে সুযোগ আসবে , সেটা কাজে লাগাবার সর্বোচ্চ চেষ্টা সবার করা উচিৎ । ‘

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশের ফিল্ডাররা চারটি ক্যাচ ছেড়েছে । এর মধ্যে তিনটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ উইকেট জুটিতে। নইলে স্বাগতিকেরা অলআউট হয়ে যেতে পারত ১১২ রানেই।

এই নিয়ে তামিম জানিয়েছেন , ‘ আমাদের ভাগ্য ভাল , এত ক্যাচ ছাড়ার পরেও ম্যাচটি সহজে জিতেছি । কিন্তু অন্য যে কোন ম্যাচ বা দলের বিপক্ষে এমন ক্যাচ মিস আমাদের বিপদে ফেলবে । আমাদের এই নিয়ে আরও সিরিয়াস হতে হবে । বারবার ক্যাচ মিস কোন ভাল লক্ষণ না । ‘

প্রথম ম্যাচ জয়ে বাংলাদেশ মানসিকভাবে কিছুটা উৎসাহ পাচ্ছে । তাছাড়া ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে টানা নয় ম্যাচের সাথে আগের তিন সিরিজে জয় বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে । যদিও এখনই সিরিজ জয় নিয়ে নিশ্চিত হতে চান না তামিম , ‘ ভালো লাগছে যে ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রথম ম্যাচ জিততে পারলাম। তবে বলব না এটা সহজ। আমাদের যদি জিততে হয় সেরা খেলাটাই খেলতে হবে। তারা যে ভালো দল, বিপজ্জনক দল, এটা টেস্ট এবং টি–টোয়েন্টিতেই প্রমাণ করেছে।’

আগামী ১৩ জুলাই বাংলাদেশ আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে । সিরিজের শেষ ওয়ানডে ১৬ জুলাই । ওয়ানডে সিরিজের সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হচ্ছে গায়ানায় । এই ম্যাচ দিয়েই শেষ হচ্ছে টাইগারদের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর ।

আহাস/ক্রী/০০৪