Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

হয় মারো , নইলে মরো !

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

অস্ট্রেলিয়া আর পেরুর মধ্যকার ম্যাচে ১২০ মিনিটেও কেউ পায় নি গোলের দেখা । ফলে খেলা গড়িয়েছে টাইব্রেকারে । কাতারের আল রাইয়ান স্টেডিয়ামে তখন টানটান উত্তেজনা । সেই উত্তেজনা স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে আছড়ে পড়েছে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সীমানায় । সাথে যোগ হয়েছে সারা বিশ্বের অগণিত ফুটবল দর্শক । সবার চোখ টেলিভিশনের স্ক্রিনে । আর হবে নাই বা কেন ? এই টাইব্রেকারেই যে নির্ধারিত হতে চলেছে পেরু আর অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ভাগ্য ।

টাইব্রেকার শুরু হতেই অস্ট্রেলিয়ার পোস্টের নীচে অভিনব দৃশ্য । শ্মশ্রুমণ্ডিত ছয় ফুট চার ইঞ্চি উচ্চতার একটি মানুষ গোললাইনের উপর রীতিমত নাচানাচি করছে । কখনও ডানে , কখনও বামে সরছেন । হাত ওঠাচ্ছেন নামাচ্ছেন দ্রুতলয়ে । পরিস্থিতি এমন , স্পট-কিক নিতে আসা প্রতিপক্ষের ফুটবলার পুরো ধন্দে । কোনদিকে শট মারবেন ? সেই দ্বিধার মধ্যে পড়েই বুঝি ভুল করলেন পেরুর অ্যালেক্স ভ্যালেরা। তিনি শট করলেন যেদিকে অস্ট্রেলিয়ার ‘নাচুনে’ গোলরক্ষক ঝাঁপিয়েছেন । আর সেই শট ফিরিয়ে ‘নায়ক’ হয়ে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক ।

ম্যাচের ফল , পেরুর বিপক্ষে টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে জয়ী অস্ট্রেলিয়া । সেই সাথে টানা পঞ্চমবারের মত ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত সকারুদের । আর অস্ট্রেলিয়ার এই দারুণ অর্জনের পুরো কৃতিত্ব নিয়ে অস্ট্রেলিয়াবাসীর কাছে ‘হিরো’ তাদের দীর্ঘদেহী’ গোলরক্ষক ।

এতক্ষণ যার কথা বলা হল , তার নাম অ্যান্ড্রু রেডমাইন । যাকে অতিরিক্ত সময় শেষ হবার আগে মাঠে নামিয়ে রীতিমত ‘জুয়া’ খেলেছেন কোচ গ্রাহাম আর্নোল্ড । কোচের আস্থার প্রতদান অবশ্য দিয়েছেন রেডমাইন । প্রতিপক্ষের একটি মাত্র শট ঠেকিয়ে তিনিই অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গেছেন বিশ্বকাপে । ম্যাচ জয়ের পর রেডমাইনের উল্লাস ছিল দেখার মত । হাত পা ছুঁড়ে , পেশী ফুলিয়ে তার বুনো উল্লাসও মুগ্ধ করেছে দর্শকদের ।

অথচ পেরুর বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত রেডমাইনকে সেভাবে চিনতো বিশ্ব ফুটবলের দর্শকরা । চিনবে কিভাবে ? ৩২ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক দেশের বাইরে কোন লীগে কখনও খেলেন নি । ২০১৭ সাল থেকে আছেন সিডনি এফসিতে । দেশের হয়েও ২০১৯ সাল থেকে গোলপোস্ট সামাল দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র তিনবার । একবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে । আর একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছেন নেপালের সাথে ।

সেই কিপারকেই বিশ্বকাপ টিকেট পাওয়ার শেষ লড়াইয়ের মহাগুরুত্বপূর্ণ সময়ে নামিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে কোচ গ্রাহাম আর্নোল্ড জানিয়েছেন , ‘ সে খুব ভালো পেনাল্টি সেভার এবং আমি এমন কিছু করেছি যেটা তাদের মানসিকভাবে প্রভাব ফেলে। তারা সম্ভবত নিজেদের প্রশ্ন করছিল, কেন এই গোলকিপারকে আনা হলো, তাকে তো ভালো করতে হবে। সম্ভবত এই কারণে তারা পোস্টে আঘাত করলো। পেরুর পেনাল্টি টেকারদের মানসিকভাবে বিপদে ফেলার এক ভাগ প্রচেষ্টা ছিল এটি। ঝুঁকি ছিল কিন্তু এটা কাজ করেছে।’

ম্যাচ শেষে রেড মাইন বলেছিলেন , ‘ ‘স্টুপিডের মতো কিছু করে বা নিজেকে হাস্যকর করে তুলে যদি আমি এক শতাংশ বাড়তি সুবিধাও পাই, আমার তা করতে আপত্তি নেই। তবে আমার অবদান সামান্য। ফুটবল দলীয় খেলা । তাই নিজেকে নায়ক ভাবছি না আমি।’

এদিকে পেরুর বিপক্ষে টাইব্রেকারে রেডমাইনের গোলপোস্টের নীচে ‘নাচ’ এর ভিডিও এখন ভাইরাল । এই নিয়ে তিনি জানিয়েছেন , ‘ আসলে বিষয়টা ছিল – হয় মারো , নইলে মরো । আমি জানতাম , এমন পরিস্থিতি এলে আমাকে নামানো হতে পারে । সেই আভাস কোচ অনেক আগেই দিয়েছিলেন । সেই কারণে এক মাস আগে থেকে শুধু পেনাল্টি রখবার অনুশীলন চালিয়ে গেছি । ‘

নিজ দেশে ‘নায়ক’ হিসেবে পরিচিত পেলেও অস্ট্রেলিয়ার কিপারের নাচানাচি ভালভাবে নেয় নি পেরু । ল্যাটিন আমেরিকার দেশটিতে তাই এখন খলনায়ক সকারুজ কিপার । তার নাচানাচিকে বলা হচ্ছে ‘ ডার্টি প্লে’ । সেটাও অবশ্য স্বাভাবিক । কারণ এই নাচানাচির কারণেই যে শেষ হয়েছে পেরুর বিশ্বকাপ স্বপ্ন । কিন্তু তাতে বয়েই গেছে রেডমাইনের । তিনি তার দেশকে বিশ্বকাপে নিতে পেরেই খুশী ।

কাতার বিশ্বকাপে ‘ডি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও তিউনেশিয়া।

আহাস/ক্রী/০০২