Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

সেরা হওয়ার যোগ্যতা নেই মেসির

আহসান হাবীব সুমন/ক্রীড়ালোকঃ

হল্যান্ডের ফুটবল কিংবদন্তী মার্কো ভ্যান বাস্তেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন , লিওনেল মেসি সর্বকালের সেরা ফুটবলার নন । এমনকি , বাস্তেনের বিবেচনায় সর্বকালের সেরা তালিকার শীর্ষ তিনেও জায়গা পাবার যোগ্য নন আর্জেন্টিনার বর্তমান অধিনায়ক ।

সাবেক ফুটবলার মার্কো ভ্যান বাস্তেনকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই । তিনবার ব্যালন ডি অর’জয়ী ডাচ তারকা নিজের সময়ের তো বটেই , ফরোয়ার্ড’ হিসেবে ফুটবল ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা । ইনজুরির কারণে মাত্র ২৮ বছর বয়সে ফুটবল থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন । নইলে হয়ত ‘সেরাদের সেরা’ হিসেবেও গণ্য হতেন কোন তর্ক ছাড়াই । তারপরেও নিজের সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে  যা করেছেন , তাতেই তিনি ১৯৯৮ সালে ইন্টারনেট ভোটে ফিফা’র ‘প্লেয়ার অফ দা সেঞ্চুরি’ তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ছয় নাম্বার স্থানে । এখানেই শেষ নয় , ‘আইএফএফএইচএস’ (ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল হিস্ট্রি এন্ড স্ট্যাটিস্টিক্স) এর বিবেচনায় ‘ইউরোপিয়ান প্লেয়ার অফ দা সেঞ্চুরি’ তালিকায় দশম আর ‘ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অফ দা সেঞ্চুরি’ তালিকায় বারোতম স্থানে আছেন । আছেন ফ্রান্স সাময়িকীর সেরাদের তালিকায় । 

ফুটবলে বাস্তেন ‘লিভিং লিজেন্ড’ হিসেবেই সমাদৃত । তাই সাবেক এই ডাচ ফুটবলার যখন কোন বিষয়ে মন্তব্য করেন , সেটাকে গুরুত্বের সাথে নেয়া ছাড়া উপায় নেই । সম্প্রতি বিশ্ব মিডিয়ায় মেসিকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে উপস্থাপনের একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে । যা পছন্দ হয় নি বাস্তেনের । তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন , ‘ ফুটবলে সর্বকালের সেরা হওয়ার মত ব্যক্তিত্ব লিওনেল মেসি নন’ ।

ইতালির ‘ক্যুরিয়ার ডেল স্পোর্ট’ পত্রিকায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাস্তেন জানান , ‘ ‘আমার জন্য পেলে, ম্যারাডোনা (ডিয়েগো) এবং ক্রুইফ (ইয়োহান) সর্বকালের সেরা তিন ফুটবলার।’

১৯৬৪ সালের ৩১ অক্টোবর জন্ম নেয়া বাস্তেন দেখেছেন ডাচ কিংবদন্তী ক্রুয়েফের খেলা । যাকে বলা হয় ‘টোটাল ফুটবলের জনক’ ।ক্রুয়েফকে আদর্শ মেনেই ফুটবলার হবার স্বপ্ন দেখেছেন বাস্তেন । এছাড়া ন্যাপলিতে খেলা ম্যারাডোনার সাথে এসি মিলানের ফুটবলার বাস্তেনের আছে  মুখোমুখি লড়াইয়ের  অভিজ্ঞতা  । আর ,  পেলেকে অনেকের মত তিনিও সর্বকালের সেরাই মনে করেন ।

এই নিয়ে বাস্তেন জানান , ‘ শিশুকাল থেকে ক্রুয়েফ ছিল আমার হিরো । আমি ক্রুয়েফের মত হতে চাইতাম । পরবর্তীতে ক্রুয়েফের সাথে আমার বন্ধুর মত সম্পর্ক হয়ে যায় । এছাড়া ফুটবলে পেলে আর ম্যারাডোনা , দুজনেই ছিলেন অবিশ্বাস্য । ‘

বাস্তেন মনে করেন , ‘ ফুটবলার হিসেবে মেসি অনেক উঁচু মানের । কিন্তু সবার সেরা হওয়ার মত ব্যক্তিত্ব তার নেই । কারণ মেসি যুদ্ধের ময়দানে সবার সামনে নিজেকে এগিয়ে দেয়ার মত সাহসী নন । ‘


মেসিকে নিয়ে এমন সমালোচনা অবশ্য একেবারেই মিথ্যে নয় । মুলত ক্লাব ফুটবল , আরও সংক্ষেপে বলতে গেলে বার্সেলোনার সাফল্যে নিজেকে রাঙ্গানো মেসি শুরু থেকেই সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন সেরাদের । শুরুটা হয়েছিল রোনালদিনিওকে দিয়ে । এরপর শাভি , ইনিয়েস্তা থেকে শুরু করে নেইমার , সুয়ারেজরা বড় অবদান রেখেছেন মেসির ‘সেরা’ হয়ে ওঠায় । বর্তমানে পিএসজিতেও তিনি সতীর্থ হিসেবে পাচ্ছেন নেইমার , কিলিয়ান এমবাপ্পে আর আনহেল ডি মারিয়ার মত সময়ের সেরাদের । অর্থাৎ ক্লাব ফুটবলে কখনও শক্তিশালী দল ছাড়া কোন চ্যালেঞ্জে নামেন নি আর্জেন্টিনার ফুটবলার ।

অন্যদিকে  দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মেসি হয়ে উঠতে পারেন নি আর্জেন্টিনার ভরসা কিংবা প্রকৃত নেতা । সম্প্রতি কোপা আমেরিকা কিংবা এক ম্যাচের লা ফিনালিসিমা জিতলেও মেসির নেতৃত্ব নিয়ে আছে প্রশ্ন । খোদ আর্জেন্টিনার সর্বকালের সেরা দিয়াগো ম্যারাডোনা মেসিকে কখনও সেরা হিসেবে মানেন নি নিজের জীবদ্দশায় । গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা কিংবা ক্লদিও ক্যানিজিয়ার মত আর্জেন্টাইন কিংবদন্তীরাও মেসিকে সেরা হিসেবে স্বীকার করে নি এখনও । তাতেই বোঝা যায় , সেরা হয়ে উঠতে যেসব গুণাবলি দরকার তাতে অবশ্যই ঘাটতি আছে মেসির । যা সর্বশেষ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন ভ্যান বাস্তেন ।

বাস্তেন বলেছেন , ‘ ম্যারাডোনার মত ব্যক্তিত্ব কিংবা লড়াই করার সাহস মেসির নেই । তিনি ফুটবল যুদ্ধের কোন সেনাপতি নন । কারণ তিনি নিজেকে কোন যুদ্ধে সামনে এগিয়ে দেয়ার মত আত্মবিশ্বাসী নন । ‘

১৯৮১ সালে নিজ দেশের আয়াক্সের হয়ে সিনিয়র ফুটবলে নাম লেখান বাস্তেন । সেখান থেকে ইতালির এসি মিলানে পাড়ি জমান ১৯৮৭ সালে । ১৯৯৫ সালে ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিক অবসর নেন । কিন্তু ১৯২-৯৩ মৌসুমের পর আর একটি ম্যাচেও মাঠে নামতে পারেন নি । ক্লাব ক্যারিয়ারে ৩৭৯ ম্যাচে তার গোলের সংখ্যা ২৮২টি । আর দেশের হয়ে ৫৮ ম্যাচে করেছেন ২৪ গোল ।

রুদ গুলিত , ফ্রাংক রাইকার্ডদের নিয়ে বাস্তেন গড়ে তুলে ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ‘ত্রয়ী’ । যা এখনও ইতিহাসের সেরা । এই তিনব ফুটবলার মিলে ১৯৮৮ সালে হল্যান্ডকে এনে দেন ইউরোপিয়ান সেরার মুকুট । যেখানে পাঁচ গোল করে আসরের সেরা গোলদাতা আর ফুটবলারের দুইটি পুরস্কারই পান বাস্তেন । একবার জিতেছেন ফিফা বর্ষসেরা । উয়েফার বর্ষসেরা হয়েছেন তিনবার । পেয়েছেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট । ইতালি আর এসি মিলানের ‘হল অফ ফেম’ এ জায়গা করে নেয়া ফুটবলার তিনি ।

আহাস/ক্রী/০০২