Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

রিফিউজি ক্যাম্প থেকে বিশ্বকাপে

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ 

কাতার বিশ্বকাপ শুরুর আগেই রেকর্ড বুকে নাম উঠে গেছে এশিয়া মহাদেশের । এই প্রথম এশিয়া মহাদেশ থেকে ছয়টি দেশ অংশ নিচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে । সর্বশেষ মহাদেশীয় প্লে-অফ জিতে কাতারের টিকেট কেটেছে অস্ট্রেলিয়া । আর তাতেই ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে এশিয়া মহাদেশ থেকে ছয়টি দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে ।

সোমবার (১২ জুন) কাতারের আল রাইয়ান স্টেডিয়ামে মহাদেশীয় প্লে-অফে মুখোমুখি হয় পেরু আর অস্ট্রেলিয়া । এই ম্যাচে ল্যাটিনের প্রতিনিধি পেরু ছিল ফেভারিট । কিন্তু দীর্ঘ ১২০ মিনিটের গোলশূন্য লড়াই ম্যাচ নিয়ে যায় টাইব্রেকারে । সেখানেই পেরুকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে যাওয়ার উল্লাসে মাতে অস্ট্রেলিয়া ।

এশিয়া থেকে স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলছে কাতার এছাড়া বাছাই পর্ব পেরিয়ে কাতারে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে সৌদি আরব , ইরান , জাপান আর দক্ষিণ কোরিয়া । তাদের সাথে প্লে অফ খেলে যোগ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া । এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মত বিশ্বকাপের মুল মঞ্চে খেলতে চলেছে সকারুজরা । ১৯৭৪ সালে সেই সময়ের পশ্চিম জার্মানিতে আয়োজিত বিশ্বকাপে প্রথম সুযোগ পায় তারা । পরবর্তীতে দীর্ঘ বিরতি নিয়ে ২০০৬ সাল থেকে ফিফা বিশ্বকাপে নিয়মিত অস্ট্রেলিয়া ।

অস্ট্রেলিয়া অবশ্য এশিয়া মহাদেশের কোন দেশ না । বরং ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশটি বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন নিয়েই ২০০৬ সালে যোগ দেয় এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনে (এএফসি) । কারণ ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলার সুযোগ নেই । নিজেদের মধ্যে বাছাই পর্ব খেলে তাদের অপেক্ষায় থাকতে হত মহাদেশীয় প্লে-অফের । যেখানে বার কয়েক প্লে- অফে হেরে ভাঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন । সেই কারণেই অস্ট্রেলিয়ার ভাবনা ছিল , শক্তির বিচারে এশিয়া মহাদেশ থেকে চারটির একটি হয়ে তারা বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে । আর সেটা হয়েছেও । ২০০৬ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলে নিয়মিত । এছাড়াও তাদের ক্লাবগুলো এশিয়ান ক্লাব কাপের মত মহাদেশীয় প্রতিযোগিতামূলক আসরে খেলার সুযোগ পাচ্ছে । ওশেনিয়া অঞ্চলের প্রতিযোগিতা যেহেতু তেমন শক্তিশালী নয় , তাই এশিয়ায় এসে লাভবান হয়েছে অস্ট্রেলিয়াই । যদিও তাদের কারণে এশিয়ার একটি দেশের ভাগ্য পুড়ছে সব সময়েই । ফাঁকতালে এশিয়ার দেশ না হয়েও এশিয়া থেকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে নিচ্ছে সকারুজরা ।

তবে এবারে অস্ট্রেলিয়াকে পড়তে হয়েছিল কঠিন প্রতিযোগিতায় । এশিয়া থেকে সরাসরি চার দেশের একটি হয়ে বিশ্বকাপের টিকেট পায় নি তারা । খেলতে হয়েছে ইউনাইটেড আরব আমিরাতের সাথে চতুর্থ রাউন্ড । সেখানে ২-১ গোলে জয়ের পর পেরুকে হারিয়েই আসতে হচ্ছে বিশ্বকাপে । এইদিক থেকে অস্ট্রেলিয়ার কৃতিত্ব না দিয়ে উপায় নেই । পেরুর হারে ল্যাটিন থেকে চার থেকে পাঁচে যায় নি বিশ্বকাপ অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা । 

পেরুর বিপক্ষে জয়ের নায়ক ছিলেন অ্যান্ড্রু রেডমাইন। যিনি অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় নয় । তৃতীয় গোলরক্ষক ।  ১২০ মিনিটের হার না মানা লড়াই শেষ হবার মিনিট কয়েক আগে তাকে নামানো হয় । টাইব্রেকারে শট নিতে আসা পেরুর খেলোয়াড়দের শুরু থেকে বিভ্রান্ত করছিলেন ৩৩ বছর বয়সী রেডমাইন। দুই দিকে দুই হাত বাড়িয়ে কোমর বাঁকিয়ে একটু নেচে নিচ্ছিলেন তিনি। রেফারি সতর্কও করেছেন তাঁকে। তাতেই বিভ্রান্ত পেরুর অ্যালেক্স ভ্যালোরার দুর্বল শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন রেডমাইন। পোস্টের নিচে নিজের মজার অঙ্গভঙ্গি নিয়ে তিনি জানালেন, ‘ এটা  দেখতে হাস্যকর  । কিন্তু এতে যদি  ১ বা ২ শতাংশ বাড়তি সুবিধা পাই, তাতে আপত্তি নেই আমার।’ 

এদিকে টাইব্রেকারে ‘সাডেন-ডেথ’ শটে গোল করে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন  আওয়ের  মাবিল। যার জন্ম কেনিয়ার রেফিউজি ক্যাম্পে ।  ২০০৬ সালে  মা-বাবার হাত ধরে  পাড়ি জমিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়। কাতার বিশ্বকাপ নিশ্চিত হওয়ার পর  মাবিল জানিয়েছেন , ‘ রিফিউজি ক্যাম্পে আমরা  পুরো পরিবার যে কুঁড়েঘরে থেকেছি , সেটার চেয়ে কাতারের হোটেল রুম অনেক বড় আর আরামদায়ক হবে ! ‘ 

২৬ বছর বয়সী উইঙ্গার নাবিল অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে ২৮ ম্যাচে সাত গোল করেছেন । 

আহাস/ক্রী/০০১