Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

মহাবিপর্যয়ের মধ্যেও কিছুটা তৃপ্ত সাকিব

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন দুঃস্বপ্নের মধ্য দিয়েই কেটেছে বাংলাদেশের । স্বাগতিক বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে টাইগার ব্যাটসম্যানরা । যদিও দিনের শেষে বোলারদের পারফর্মেন্স কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে টাইগার কাপ্তান সাকিব আল হাসানকে !

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম দিন ৩২.৫ ওভারেই শেষ হয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস রান উঠেছে ১০৩টি । দলের ছয়জন ব্যাটসম্যান ব্যর্থ রানের খাতা খুলতে । এমন দিনে সর্বোচ্চ ৫১ রান এসেছে অধিনায়ক সাকিবের ব্যাট থেকে । ৬৭ বলের ইনিংসে সাকিব মেরেছেন ছয়টি চার আর একটি ছক্কা ।

সাকিব ছাড়া দুই অংকের রানের দেখা পেয়েছেন তামিম ইকবাল খান আর লিটন কুমার দাস । তামিম করেছেন ৪৩ বলে ২৯ রান । তার ব্যাট থেকে বাউন্ডারি এসেছে চারটি । আউট হবার আগে তামিম বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিকুর রহিমের পর ছুঁয়েছেন পাঁচ হাজার রানের মাইল ফলক । ইনিংসের হিসেবে অবশ্য মুশফিকের চেয়ে দ্রুততম সময়ে তামিম এই মাইল ফলক ছুঁয়েছেন । পাঁচ হাজার রান করতে ৬৮ টেস্টে ১২৯ ইনিংস লেগেছে তামিমের। অন্যদিকে মুশফিকের লাগে ৮১ ম্যাচে ১৪৯ ইনিংস।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামার আগে পাঁচ হাজারের চেয়ে ১৯ রান দূরে ছিলেন তিনি ।

বাংলাদেশের ইনিংসে ছয় ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন ‘শুন্য’ রানে । তারা হলেন – মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, নুরুল হাসান সোহান, মোস্তাফিজুর রহমান আর খালিদ আহমেদ। চলতি বছরের ২৩ মে মিরপুর স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক ইনিংসেই বাংলাদেশের ছয় ব্যাটসম্যান রানের দেখা পান নি । এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ঢাকায় ২০০২ সালে প্রথমবার বাংলাদেশের ৬ ব্যাটার শূন্য করেছিলেন। যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিশ্বরেকর্ড । লজ্জার বিশ্বরেকর্ড। ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের ৬ ব্যাটসম্যান শূন্য রানে আউট হয়েছেন।

অ্যান্টিগার ঘাসযুক্ত বাউন্সি উইকেটের সুবিধা ভালভাবে কাজে লাগিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসাররা । দলের চার ফাস্ট বোলারেই শেষ হয়েছে বাংলাদেশের ১০ উইকেট । আলজারি জোসেফ আর জেইডেন সিলস নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট । কেমার রোচ আর মেয়ার্স পেয়েছেন দুইটি করে উইকেট ।

বাংলাদেশ যে টেস্টের ব্যাটিং এখনও শেখে নি , সেটা বুঝিয়ে দিয়েছে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা । বাংলাদেশের বোলারদের সামনে দিয়েছেন ধৈর্যের পরীক্ষা । বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংকে মোকাবেলার চেষ্টা করেছেন আস্থার সাথে । তাতে দিনের শেষে দুই উইকেট হারালেও অস্বস্তিতে পড়তে হয় নি ক্যারিবিয়দের । দিন শেষে ক্যারিবিয়দের স্কোর বোর্ডে জমা পড়েছে ৯৫ রান । আর সেই রান এসেছে ৪৮ ওভারে , অর্থাৎ ওভার প্রতি দুইয়েরও নীচে । কিন্তু টেস্টের কঠিন পরিস্থিতিতে এটাই উপযুক্ত ব্যাটিং নিদর্শন । আর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তারা পিছিয়ে মাত্র ৮ রান ।

ব্যাটারদের ভরাডুবির পর তিন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান , খালেদ আহমেদ আর এবাদত হোসেনের আঁটসাঁট বোলিং তাই কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে সাকিবকে । দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে তাই পেসারদের প্রশংসা আলাদা করেই করলেন সাকিব, ‘আমার মনে হয় পেস বিভাগ খুবই ভালো বল করেছে। জুটিতে ভাল বল করেছে (ওরা)। মুস্তাফিজ দারুণ ছিল। খালেদও অনেক ভালো বল করেছে নতুন বলে। ইবাদত সাম্প্রতিক সময়ে ভালো বল করছে । তিনজনই ভালো করেছে।’

মুস্তাফিজ ১২ ওভারে ছয়টি মেডেনসহ ১০ রানে নিয়েছেন একটি উইকেট । এবাদত ১২ ওভারে ১৮ রান দিয়ে নিয়েছেন একটি উইকেট । এবাদত আর খালেদ , দুজনেই চারটি করে মেইডেন দিয়েছেন ।

দিন শেষে ক্যারিবিয় অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রেটওয়েট ৪২ রানে অপরাজিত আছেন । তার ১৪৯ বলের ইনিংসে ছিল চারটি চার । ৭২ বলে একটি চার আর ছক্কায় ২৪ রান করেছেন আরেক ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ।

আহাস/ক্রী/০০১