Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

মাফিয়া পরিকল্পনায় এগিয়ে যাচ্ছেন মেসি ?

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

এস্তোনিয়ার বিপক্ষে যা ভাবা হয়েছিল , সেটাই হয়েছে । বড় ব্যবধানে জিতেছে আর্জেন্টিনা । গোল উৎসব করেছেন দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি । আর তাতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৩৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকা আর্জেন্টিনা এগিয়ে চলেছে বিশ্বরেকর্ডের দিকে । ইতালি টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে যে রেকর্ড গড়ে রেখেছে ।

রবিবার (৫ জুন) পামপ্লোনার এল সাদর স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা আর এস্তোনিয়া । বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের ১১০ নাম্বারে থাকা এস্তোনিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা । ম্যাচের সব কয়টি একাই করেছেন লিওনেল মেসি । গড়েছেন অনেক রেকর্ড ।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসি প্রথমবার এক ম্যাচে পাঁচ গোলের দেখা পেলেন । আর্জেন্টিনার জার্সিতে এই কৃতিত্ব আছে কেবল ম্যানুয়েল মোরেনোর । ১৯৪২ সালে ইকুয়েডরের বিপক্ষে তিনি একাই করেছিলেন পাঁচ গোল । এদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির গোলের সংখ্যা এখন ১৬২ ম্যাচে ৮৬টি । ১১৭ গোল করে তালিকার শীর্ষে আছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো । এছাড়া ইরানের আলী দাই ১০৯ আর মালয়েসিয়ার মোখতার দাহিরি ৮৯ গোল নিয়ে আছেন মেসির আগে । এস্তোনিয়ার বিপক্ষে পাঁচ গোলে মেসি হাঙ্গেরির কিংবদন্তী ফেরেংক পুসকাসকে (৮৪ গোল) ।

সাম্প্রতিক সময় গোল করার ক্ষেত্রে মেসির যা পারফর্মেন্স , তাতে এক ম্যাচ ম্যাচ পাঁচ গোল অবাক করেছে অনেককেই । যেখানে গোটা ক্যারিয়ারে ২০১২ সালে মেসি বার্সেলোনার জার্সিতে একবারই পাঁচ গোল করেছিলেন । জার্মানির বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেই ম্যাচে বার্সা জিতেছিল ৭-১ গোলে । কিন্তু সেই সময়ের মেসি আর এখনকার মেসি এক নয় । তাই ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে চলে আসা মেসি , হোক সে দল যত দুর্বল এস্তোনিয়া , এক ম্যাচে পাঁচ গোল করবেন – সেটা অবশ্যই ভিন্ন আলোচনার দাবী রাখে ।

২০২১-২২ মৌসুমে গোটা ক্যারিয়ার কাটিয়ে দেয়া বার্সেলোনা শিবির ছাড়েন মেসি । যোগ দেন ফ্রান্সের ক্লাব পিএসজিতে । ফ্রান্সের লীগ ওয়ান এমনিতে ইউরোপের সেরা নয় । কিন্তু তাদের ডিফেন্ডাররা শারীরিক ট্যাকলে অভ্যস্ত । যে কারণে নিজের প্রথম মৌসুমে লীগ ওয়ানে যে কোন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মেসিকে গোলের জন্য হাহাকার করতে দেখা গেছে । প্যারিসের সেরা দলের হয়ে ২৬ ম্যাচে মাঠে নেমে করতে পেরেছেন মাত্র ছয়টি গোল ।আর সব মিলিয়ে গোলের সংখ্যা ১১টি । যদিও এসিস্ট করেছেন ১৪টি গোলে , কিন্তু সুযোগ পান নি ফ্রেঞ্চ লীগ ওয়ানের বর্ষসেরা একাদশে ।  জায়গা হয় নি বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের  সেরা পাঁচে ।

সেই মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলে কাটাচ্ছেন দারুণ সময় ! সর্বশেষ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ১৫ ম্যাচে করেছেন সাত গোল । যা লাউটেরো মার্টিনেজের সাথে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ । তবে মেসির মুল সাফল্য শুরু আসলে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা থেকে । ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত আসরের ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়েই ২৮ বছর পর আর্জেন্টিনা প্রথম কোন আন্তর্জাতিক শিরোপা জয় করে । ২০১৫ সাল থেকে ল্যাটিন আমেরিকার সেরা আসরটি অনুষ্ঠিত হয়েছে চারবার । আর শেষবার ২০২১ সালে বাজীমাৎ করেছে আলবেসেলেস্তেরা । ছয় বছরে চারটি আয়োজনে কোপা আমেরিকা যেন পরিনত হয়েছে স্থানীয় কোন ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ।

অথচ  ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা খেলতে রাজি ছিল  না খোদ ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা । আসরটি অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল আর্জেন্টিনা আর  কলম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে । কিন্তু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আয়োজক দেশ থেকে বাদ দেওয়া হয় কলম্বিয়াকে। আর করোনা সংক্রমণ বেড়ে  যাওয়ায় বাদ দেয়া হয় আর্জেন্টিনাকে ।  এরপরেই হুট করে আয়োজক হিসেবে আসে ব্রাজিলের নাম । অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর এক সপ্তাহ আগে ব্রাজিলিয়ান কোচ তিতে জানান , এই আসরে খেলা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ক্যাসিমিরোসহ বেশ কয়েকজন ফুটবলার । এমনকি দেশের মানুষ এই কোপা আয়োজন নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল ব্রাজিলিয়ান সরকারের কাছে । কিন্তু খেলোয়াড় কিংবা সাধারণ মানুষের কোন আপত্তি ধোপে টেকে নি ।  ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন অনেকটা একগুঁয়ে ভাব নিয়েই আয়োজন করে কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্ট ! সেটা কার স্বার্থে  কে বলবে ? 

২০২২ সালে মেসি জিতেছেন আরেকটি শিরোপা । সেটার  নাম ‘লা ফিনালিসিমা’ । ইউরোপ আর ল্যাটিনের দুই চ্যাম্পিয়ন দল নিয়ে এক ম্যাচের আসর ! সেখানে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ‘লা ফিনালিসিমা’ জিতেছে লিওনেল স্কোলানির দল । অথচ এই ফিনালিসিমা ১৯৯৩ সালের পর আর কখনও আয়োজন করা হয় নি । সেবারেও এই ট্রফি জিতেছিল দিয়াগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা । আর এবার আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা জয়ের পরেই যেন ফিফা’র মনে পড়ল ,  লা ফাইনালিসিমা আয়োজন করতে হবে !

এবার আসা যাক , এস্তোনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আলোচনায় । এই ম্যাচে স্কোলানি ইতালির বিপক্ষে খেলা একাদশের সবাইকে বিশ্রাম দিয়েছেন । মাঠে ছিলেন শুধু মেসি । তিনি হয়ত জানতেন , মেসি একাই ধসিয়ে দেবেন ফুটবল র‍্যাংকিংয়ে ভারতেরও নিচে থাকা এস্তোনিয়াকে । আর সেটাই হয়েছে । শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোল পেয়ে যাওয়া মেসি পরবর্তীতে আরও চারবার জালের দেখা পান !

অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে , লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে শিরোপা পাইয়ে দেয়ার একটা অসাধু পরিকল্পনা চলছে । নইলে বারবার কোপা আয়োজন আর  আচমকা লা ফিনালিসিমা আয়োজন নানা প্রশ্নের জন্ম দেবে কেন ?

এদিকে এখন থেকে আবার কোপা আমেরিকা আয়োজিত হবে চার বছর পর পর , ২০২৪ সালে ইকুয়েডর আর ২০২৮ সালে প্যারাগুয়েতে । কিন্তু এর মধ্যেই টানা আয়োজনে মেসির হাতে উঠে গেছে আন্তর্জাতিক ট্রফি ! আর কথিত ফিনালিসিমায় সেই সংখ্যা বলা হচ্ছে দুইয়ে !

মজার ব্যাপার হচ্ছে , ম্যারাডোনার ফিনালিসিমা জয়ের কথা সেভাবে কখনও উচ্চারিত হয় নি । সেটাকে ‘মেজর ট্রফি’ হিসেবে গণনায়ও আনা হয় নি কখনও । আর্জেন্টিনার ইতিহাসেও এই ট্রফির উল্লেখ ছিল না কখনও । কিন্তু মেসির ফিনালিসিমা’র পর এটি এখন ধরা হচ্ছে ‘মেজর হিসেবে’ । সাথে হিসেবে আসছে ম্যারাডোনার ট্রফিটি । অর্থাৎ হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে আর্জেন্টিনার দুইটি আন্তর্জাতিক ট্রফির সংখ্যা !

আরও মজার ব্যাপার , বিশ্বের সব মহাদেশের সেরা আর সাথে স্বাগতিক দল এবং বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে আয়োজিত কনফেডারেশন্স কাপকেও ‘মেজর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না ফিফা । সেখানে এক ম্যাচের ফিনালিসিমা এখন অনেক বড় । আর সেটা হয়ত মেসি জিতেছেন বলেই !

তাহলে এসবই কি হচ্ছে একজন লিওনেল মেসিকে যাতে সর্বকালের অন্যতম  সেরা হিসেবে বিবেচনায় রাখা যায় , সেই হিসেব কষে ? প্রশ্নটা এসেই যাচ্ছে !

স/ক্রী/০০১