Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

আশা অনেক ভরসা কম

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম দুই দিন শেষ হয়েছে মাত্র । তাতেই বাংলাদেশের সামনে দেখা দিয়েছে পরাজয়ের শংকা । ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের দাপটে প্রথম ইনিংসে খাবি খাওয়া বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়াবে , এমন আশা করছেন ক্রিকেট ভক্তরা । কিন্তু বাস্তবতা বলছে , ব্যাটসম্যানরা ম্যাচ বাঁচিয়ে দেবে এমন ভরসা খুব কম !

অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয়েছে ১০৩ রানে । জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে তুলেছে ২৬৫ রান । ১৬২ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ নেমে পড়েছে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে । দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত টাইগারদের সংগ্রহ দুই উইকেটে ৫০ রান ।

শুক্রবার (১৭ জুন) প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহের দিকে এগুচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ । এক পর্যায়ে স্বাগতিকদের রান ছিল ২ উইকেটে ১৯৭ রান । কিন্তু সেখান থেকে স্বাগতিকরা শেষ সাত উইকেট হারিয়েছে ৬৮ রানে ।

অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রেটওয়েটের আউট ছিল টার্নিং পয়েন্ট । দৃঢ়তার সাথে খেলতে থাকা ক্যারিবিয়ান অধিনায়কের সেঞ্চুরি ছিল সময়ের ব্যাপার । কিন্তু খালেদ আহমেদের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে মাত্র ৬ রানের জন্য তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেননি ব্রেথওয়েট। ব্রেথওয়েটের ২৬৮ বলের ইনিংসে ছিল নয়টি চারের মার ।

অধিনায়কের বিদায়ের পরেই মড়ক লাগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে । দলের পাঁচ ব্যাটসম্যান পান নি দুই অংকের রানের দেখা । তবে ব্যতিক্রম ছিলেন জার্মেইন ব্ল্যাকউড । ৩০ বছরের এই ব্যাটসম্যান তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি । চাপের মুখে থেকেও ১৩৯ বলের মোকাবেলায় তিনি করেছেন ৬৩ রান । মেরেছেন নয়টি চার ।

এছাড়া ১১তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ২১ বলে চারটি চারে অপরাজিত ২৩ রান করেছেন গুদাকেশ মোতি । ব্ল্যাকউড আর মোতির অবদানেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস পেরিয়েছে আড়াই শ রানের সীমা ।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ । খালেদ আর এবাদত নিয়েছেন দুইটি করে উইকেট । আগের দিন দারুণ বোলিং করা মুস্তাফিজ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন নি । নিয়েছেন একটি উইকেট । অধিনায়ক সাকিবের ঝুলিতেও গেছে একটি উইকেট ।

দিনের দিনের শেষে বাংলাদেশ ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছে ২০ ওভার । তাতেই হারাতে হয়েছে ওপেনার তামিম ইকবাল আর নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে নামা মিরাজকে । তামিম ভাল শুরু করেও টিকে থাকতে পারেন নি । বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি ভাঙ্গে ৩৩ রানে । আলঝারি জোসেফের বলে উইকেটের পেছনে জশুয়া ডা সিলভার গ্লাভসে ধরা পড়েন তিনি । আউট হবার আগে ৩১ বলের মোকাবেলায় চারটি চারে ২১ রান করেছেন তামিম ।

মেহেদি মিরাজকে প্রমোশন দিয়ে নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে পাঠানো হলেও ২ রানের বেশী করতে পারেন নি । দিনের শেষে মাহমুদুল হাসান জয় ৬০ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত আছেন । তার ব্যাত থেকে এসেছে দুইটি চার । তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন ২৩ বলে ৮ রান করা নাজমুল হাসান শান্ত ।

বাংলাদেশের দুইটি উইকেটই নিয়েছেন জোসেফ । প্রথম ইনিংসেও তিনি পেয়েছিলেন তিনটি উইকেটের দেখা ।

দ্বিতীয় দিনের শেষ উইকেট কিছুটা সহজ হয়ে এলেও রান তোলা সহজ হয় নি । তবে প্রথম ইনিংসে ব্যর্থতার পর জয় ধৈর্য দেখাচ্ছেন । সাথে আছেন শান্ত । আসলে টেস্ট ক্রিকেট পুরোটাই ধৈর্যের পরীক্ষা । আর ম্যাচ এমন অবস্থায় আছে , যেখান থেকে ব্যাটসম্যানদের ধৈর্যই বাংলাদেশকে দাঁড় করাতে পারে সম্মানের জায়গায় । যেখান থেকে পরাজয় এলেও সেটা হতে পারে সম্মানের । বাংলাদেশের সমর্থকদের এখন এটাই চাওয়া ।

আহাস/ক্রী/০০১