Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে ক্রীড়ালোক প্রধান সম্পাদকের খোলা চিঠি

ক্রীড়ালোক ডেস্কঃ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে ক্রীড়ালোক প্রধান সম্পাদকের খোলা চিঠি

‘ফুটবল মন্ত্রী’ উপহার দিন

সুপ্রিয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

বৈশাখের অন্তিমক্ষণ এবং জ্যোষ্ঠমাস বরণের প্রস্তুতি। ফলের দেশে জন্ম আমাদের। আম-জাম-লিচু-কাঠাল ! গ্রীষ্মকালীন উৎসবের মহড়ায় থেকে ডুবে যাবে বাংলাদেশ। উপলক্ষ, ফল। হ্যাঁ, ফল পাকতে শুরু করবে। তবু অপেক্ষা ! অবশ্য আর ক’টা দিনই তো। কিন্তু ফুটবলে কাঁচাই থেকে যাচ্ছি। ফুটবল পাকছে না। না, ফুটবল তো কোন ফল নয়। তবে খেলার ফল ভাল, নাকি খারাপ হচ্ছে ? ফিফা রেটিং-এ আমরা কোথায়?

বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে মানুষের আগ্রহ আছে ভেতরে ভেতরে। দেশের জনশ্রেণি সত্যিকার অর্থে ফুটবলকে ভালবাসে। ভালবাসে বলেই তাঁরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিও মেসিকে নিয়ে মেতে আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিও আর ক্রিস্টিয়ানোকে নিয়ে তাঁরা কম সময় পার করে না ! উঠতি ফুটবলার থেকে শুরু করে ফুটবল ভক্তদের দিনভর আলোচনা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ, স্প্যানিশ লা লীগা সহ সব লীগের টুকিটাকি খবর তাঁরাই তো ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের আগেও।

প্রিয় বিচক্ষণ নেত্রী

বাংলাদেশের ফুটবল, গেল পঞ্চাশ বছরে অর্থবহ গন্তব্যে পৌঁছুতে রওনা করেও পারলো না। মনে হচ্ছে সবাই বিশ্রাম নিচ্ছে। আপনার সুপ্রিয় ভাই প্রয়াত শেখ কামাল যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে গবেষণা দাবী করে, বাংলাদেশ এতদিনে দুই একবার করে হলেও এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন হত। এমনকি বিশ্বকাপ ফুটবলেও চলে যেত।


আপনি নিজেও একজন অসাধারণ মানের ক্রীড়াবান্ধব সত্তা। যার দরুণ, খোলা মনে উন্মুক্ত পত্র প্রদানে উৎসাহী হওয়া যায়। আপনি অবগত যে, কয়েক বছর আগে ফুটবলের স্থায়ী সমাধান চেয়ে আপনাকে পত্র প্রদানের একটা অনুশীলন শুরু করেছিলাম। তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করাটা দরকার। কারণ, ঝিমিয়ে পড়লে হবে না। আপনাকে তাগাদা দিতে হবে।

আপনার মন যখন এই বর্ষায় বিষন্নতায় ভর করবে, তখন ফুটবল নিয়ে বিপ্লব করার আয়োজনে যেয়ে আবার হার্ডকোর রাজনীতির কোর্টে বল ফেলে দিবেন। কিন্তু, কিছু একটা করেন। ফুটবলের একটা ফেডারেশন আছে। সেখানে নেতৃত্ব যেমন তেমন, স্মার্ট একজন গ্রেট তো দায়িত্ব নিয়েছেন বা পেয়েই যাচ্ছেন । তিনি নিজেও দেশের লেজেন্ডারি ফুটবলার। ইদানিং বোঝাও যায়, তিনি ফুটবলের জন্য সেরাটা দিতে চান। উদাসী মনকে দমন করে তিনি ফুটবলের জন্য এখন সপ্রতিভ ভুমিকায় থেকে বলতে চান, পারতেই হবে। কিন্তু, আদৌতে পারা যাচ্ছে না।

প্রিয় গণমানুষের নেত্রী

কিছু একটা করেন, এমন উক্তির মধ্যে কিংবা দাবীর মধ্যে আবেগ রয়েছে। পুরো বাংলাদেশের হয়ে বলছি, আপনার মত সফল মা পারবেন। মা সবাই হতে পারে না। মা হওয়াটা কঠিন। যেমন ধরুন, দেশের আরেক সাবেক নারী প্রধানমন্ত্রী মা হতে পারেন নি। ঘরেই পারেন নি। দেশ তো অনেক পরে। মা হতে পারলে তার কনিষ্ঠ পুত্র কেন মাদকাসক্ত হল? ধীর বিষের পানীয় পান করে কেন অকালে গ্রহান্তরীত হলেন?

আপনার মধ্যকার যে দুইটি চোখ আছে, তা গোষ্ঠিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য যেন দুইটি ইতিবাচক অস্ত্র। আপনার চোখদু’টো অস্ত্রের মতই। সঙ্গত যুক্তিতে আপনি দুই সফল সন্তানের মা হতে পেরেছেন। প্রজন্ম আপনার চেহারায় হারিয়ে যাওয়া মাকেও খোঁজে। এটা একদিনে হয়নি।

মায়ের আঁচল যেমন সন্তানের জন্য পাহাড়ের মত করে, ঠিক অনুরুপভাবে বাংলাদেশ এখন একজন শেখ হাসিনায় কেবল আস্থা খোঁজে। আস্থা রাখার জন্য এমন এক সত্তা হতে পেরে আপনি কার্যকর ‘মা’ হতে পেরেছেন। তা সে সব বয়সী জনগোষ্ঠীর জন্যই। কিন্তু, ফুটবলের জন্য কিছু করতে হবে।

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের সবচাইতে পুরোনো ক্রীড়ামাধ্যম হিসাবে ক্রীড়ালোক সাধারণ কিছু ভুমিকা রাখতে যাচ্ছে। অসাধারণ বলতে যাব না। বিশেষত ফুটবলের জন্য। না, ক্রীড়াঙ্গনে রাজনীতি করার কিছু নেই। আমাদেরও একটা ফুটবল ফেডারেশন আছে। তাঁরা এএফসি ও ফিফার সাথে তাল মিলিয়ে সাংস্কৃতিক পর্যায়ের আইনি দিক নিয়ে চলুক। যতটা পারে করতে থাকুক। কিন্তু, দেখভালের জন্য শক্ত দুই চোখ দরকার। যারা দেখবে সারাদেশের উপজেলায় ফুটবল একাডেমি আছে কিনা ? যারা দেখবে জেলার লীগগুলো হচ্ছে কিনা ? যারা দেখবে বয়সভিত্তিক ফুটবল নিয়ে আসরের পর আসর চলছে কিনা ? যারা দেখবে বিভাগীয় পর্যায়ের জেলাগুলো নিয়ে কোন নতুন আসরের প্রচলন করা হচ্ছে কিনা ? যারা দেখবে বাংলাদেশের লীগে ক্লাবগুলোর পেশাদারিত্ব আছে কিনা ? যারা দেখবে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও পাইওনিয়ার লীগগুলো হচ্ছে কিনা ? যারা স্টেডিয়াম সংকট কাটাতে পারছে কিনা ? খেলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠের আয়োজনে থাকা যাচ্ছে কিনা ?

প্রতিভা অন্বেষণে দুই বছর পর পর বিশেষ আসরের আয়োজন করা যাচ্ছে কিনা ? ফুটবলে নারীদের অংশগ্রহনে কোন বাঁধা বিপত্তি তথা সামাজিক সংকট থাকছে কিনা ? পুনরায় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তবিভাগীয় আসরগুলো করা যাচ্ছে কিনা ? বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে ফুটবলের জন্য আলাদা পাতা বা অনলাইনে মেন্যু থাকছে কিনা ? তাঁরা ফুটবল ফেডারেশনের জবাবদিহিতা নিতে পারছে কিনা ?

এতদ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে হলে ফুটবল বিষয়ক মন্ত্রনালয়-ই একমাত্র সমাধান। প্রিয় মানুষ, আপনি ‘ফুটবল মন্ত্রী’ উপহার দিন। সারাবিশ্বের জন্যও তা একটি উদাহরণ হয়ে পড়বে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাও তখন বাংলাদেশকে নিয়ে আলাদা করে গুরুত্ব দিবে।

আপনি অবগত যে, ফুটবলের দেশ ব্রাজিল খুব ভাল করে জানে যে, বাংলাদেশ ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত হওয়া দেশ। কিন্তু তাঁরাও ক্রীড়ামন্ত্রীকে দিয়ে ফেডারেশন চালায়। আপনি একটি উদাহরণ সৃষ্টি করুন। একজন মন্ত্রী যদি টানা ৫ বছর ফুটবলের জন্য দিবানিশি কাজ করতে থাকেন, দেখবেন যে, বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে গেছে। হ্যাঁ, আমাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি ফুটবলেরপরিচয় করাতে হবে। হ্যাঁ, আমাদের দেশি ও বিদেশি পৃষ্ঠপোষক সংস্থা লাগবে ফুটবলের জন্য। হ্যাঁ, আগামী অর্থ বছরের বাজেটে ফুটবলের জন্য ২৫০০ কোটি বরাদ্দ দিতে হবে। বাজেট দেয়ার আগেই আপনি এই মে ২০২২ মাসের শেষভাগে চমক দেখান। ফুটবল মন্ত্রীর নাম ঘোষণা করে !

তবে যাকেই মন্ত্রী করেন, সেই সত্তা যেন ধারেভারে কাটে ! ফুটবল ফেডারেশনকে চালাতে পারবেন এমন কেহ। তৃনমূল থেকে জাতীয় ফুটবল বুঝতে পারার সক্ষমতায় থাকতে হবে তাঁকে। অতি অবশ্যই তাঁকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করতে হলে চরিত্রের মধ্যে ক্যারিশ্মেটিক দিকটা থাকতে হবে। নেতৃত্বের এমন দিক নিয়ে কাজ করলে তেমন মন্ত্রী পাওয়া মুশকিল। কিন্তু রাজনৈতিক- সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার মিশেলে দুই একজন কে পাওয়া যাবে বলে মনে করছি।

ফুটবল উন্নয়নে ভিটামিন প্রজেক্টও আছে। অনেকটা কোরামিনের মত করে। ২০১০ সালে এক অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখতে যেয়ে সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারকে বলেছিলাম যে, কিভাবে বাংলাদেশ ২০৩০ কিংবা ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপে যেতে পারবে ? ফর্মুলা দিয়েছিলাম। সেই ফর্মুলা নিয়ে কাজ করলে আমি বলছি, সম্ভব। সেই সম্ভব করাটা আপনার দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত হোক। যা খোলা চিঠি মারফত নয়, গোপন পত্র প্রদানে যেয়ে উল্লেখ করতে চাই। লিখবও।

ক্রীড়ালোক নতুন করে বাজারে আসছে। ট্যাবলয়েড হয়ে পাক্ষিক প্রকাশের ধারাবাহিকতা রেখেই। তবে ক্রীড়ালোক চলতি মে মাসে ফুটবলের জন্য একাধিক সেমিনারের আয়োজন করবে। ভিন্ন ধর্মী আয়োজনে যেয়ে, টানা ৪৮ ঘন্টা সংগঠক, কোচ, সাবেক জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে তাঁবু করে বলতে চাইবে, ফুটবলে একদিন আমরাও বিশ্বকাপে খেলতে চাই। মন্ত্রী চাই। হ্যাঁ, এই বছরেই কাতারে বিশ্বকাপের আসর বসবে। জার্মানি, ব্রাজিল, পর্তুগাল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স কিংবা ইংল্যান্ডের সমর্থকও আমরা বনে যাব। ঘরের ছাদে
উড়বে বিদেশি পতাকা !

বাংলাদেশের পতাকা ওড়াতে চাই প্রিয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনি ফুটবল মন্ত্রী দিন। কথা দিচ্ছি, আপনি ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে দেখতে পাবেন।

ক্রীড়ালোক প্রধান সম্পাদক হয়ে নয়, আমার সাংস্কৃতিক সত্তা সেরাটা দেবে একজন শেখ কামালের বোনের জন্য। কারণ, ওই লোকটা বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন দেখতে হত না, তা বাস্তবতায় ধরা দিতো।

আপনার সু স্বাস্থ্য কামনা করছি।

-কামরুল হাসান নাসিম

প্রধান সম্পাদক,ক্রীড়ালোক।