Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

মেসির ব্যালন জয় স্রেফ কেলেঙ্কারি !

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

ফুটবল বিশ্বে ব্যালন ডি’অরকে বিবেচনা করা হয় অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে । ফ্রান্স সাময়িকীর দেয়া বর্ষসেরা পুরস্কারে নিজের নাম লেখাবার স্বপ্ন দেখেন যে কোন ফুটবলার । কারণ এটা যে একজন খেলোয়াড়কে এনে দেয় বিশ্বসেরার স্বীকৃতি । কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যালন ডি’অর নিয়ে বিতর্ক আর সমালোচনা যেন পিছু ছাড়ছে । যে কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে ব্যালনের স্বচ্ছতা ।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) ঘোষণা করা হয়েছে ২০২১ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীদের নাম । প্যারিসের শ্যালে থিয়েটারে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ‘পুরুষ বিভাগে’ বাজীমাৎ করেছেন লিওনেল মেসি । ক্যারিয়ারে রেকর্ড সপ্তম ব্যালন জিতেছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা । তবে মেসির সপ্তম ব্যালন জয় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না জার্মানরা । তাদের দাবী , মেসির চেয়ে চলতি বছর ব্যালন জয়ের ক্ষেত্রে অনেক বেশী যোগ্য ছিলেন রবার্ট লেভেন্ডস্কি ।

চলতি বছর ব্যালন জয়ের ক্ষেত্রে মেসির মুল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন লেভেন্ডস্কি । পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে মেসি পেয়েছেন ৬১৩ আর লেভেন্ডস্কি ৫৮০ পয়েন্ট । অর্থাৎ ৩৩ পয়েন্ট কম পেয়ে ব্যালন ডি’অর প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছেন জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখে খেলা লেভেন্ডস্কি । কিন্তু জার্মানির বর্তমান আর সাবেক খেলোয়াড়দের সাথে সংবাদমাধ্যমের জোর দাবী- দ্বিতীয় হয় , লেভার প্রথম হয়ে পুরস্কার জয়ই ছিল ‘ন্যায্য বিচার’ । আর সেটা না করে ব্যালন কর্তৃপক্ষ জন্ম দিয়েছে কেলেংকারির ।

জার্মানির ‘বিল্ড’ পত্রিকা শিরোনাম করেছে – ‘এটা অবিশ্বাস্য , এটা রীতিমত কেলেঙ্কারি ! ‘

কয়েক বছর ধরেই ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন লেভেন্ডস্কি । জার্মানির বায়ার্নের হয়ে করছেন গোলের পর গোল , গড়ছেন নতুন নতুন রেকর্ড । ২০২০-২১ মৌসুমে বায়ার্নের জার্সিতে সব মিলিয়ে করেছিলেন ৪৮ গোল । হয়েছিলেন বুন্দেস লিগা , উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ আর জার্মান কাপের সেরা গোলদাতা । দেশের হয়েও চার ম্যাচে দুই গোল করে ছুঁয়েছিলেন এক মৌসুমে হাফসেঞ্চুরি গোলের সীমা । জার্মানির ক্লাবকে জিতিয়েছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স লীগ , জার্মান সুপার কাপ , বুন্দেস লিগা , উয়েফা সুপার কাপ , বিশ্ব ক্লাব কাপ । কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে গত বছর ব্যালন দেয়া হয় নি । ফলে নিশ্চিতভাবেই ফস্কে যায় লেভার ব্যালন জয়ের সুযোগ ।

গত এক বছরেও লেভা আছেন স্বপ্নের মত ফর্মে । বায়ার্নকে বুন্দেসলিগা ও জার্মান সুপার কাপ জিতিয়েছেন তিনি। বুন্দেসলিগা জয়ের পথে গড়েছেন অনন্য এক গোলের রেকর্ড। ৪১ গোল করে ভেঙেছেন বুন্দেসলিগায় এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের কিংবদন্তি গার্ড মুলারের ৪৯ বছরের রেকর্ড। এ মৌসুমেও পোলিশ স্ট্রাইকার আছেন দারুণ ছন্দে। এখন পর্যন্ত বায়ার্নের হয়ে ২০ ম্যাচ খেলে করেছেন ২৫ গোল।

অন্যদিকে ব্যালন বিজয়ী হিসেবে নাম ওঠা মেসি সর্বশেষ মৌসুমে ৩০ গোল করে জিতেছেন স্প্যানিশ লা লিগার সেরা গোলদাতা ‘পিচিচি’ পুরস্কার । নিজের সদ্য সাবেক ক্লাব বার্সেলোনাকে জিতিয়েছিলেন কোপা ডেল রে । তবে চলতি বছর কোপা আমেরিকা জিতে সব হিসেব যেন পাল্টে দিয়েছেন মেসি । আসরে চার গোল আর চার এসিস্ট করে মনোনীত হয়েছিলেন সেরা খেলোয়াড় । আর ২৮ বছর পর আর্জেন্টিনা জিতেছে প্রথম কোন আন্তর্জাতিক শিরোপা । মেসি নিজেও মনে করেন, আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২১ কোপা আমেরিকা জয়ই তাকে এনে দিয়েছে ক্যারিয়ারের সপ্তম ব্যালন ডি’অর।

কিন্তু শুধু কোপা আমেরিকার বিবেচনায় মেসিকে ব্যালনজয়ী হিসেবে ঘোষণা মেনে নিতে পারছেন না লোথার ম্যাথিউজ । ১৯৯০ সালের জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক জানান , ‘ লিওনেল মেসি এবং মনোনীত বাকি সব খেলোয়াড়ের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, লেভানডফস্কির চেয়ে বড় দাবিদার আর কেউই নয়। ‘

নতুন চলমান মৌসুমে মেসি যোগ দিয়েছেন পিএসজিতে । ফ্রান্সের ক্লাবের হয়ে এখন পর্যন্ত ১১ ম্যাচে করেছেন চার গোল । আর ২০২১ সালে দেশের হয়ে মেসির গোলের সংখ্যা নয়টি । যেখানে লেভা দেশের হয়েই করেছেন ১১ গোল ।

১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ম্যাথিউজ আরও বলেছেন , ‘ এমনকি শুধু ২০২১ সালকেও যদি বিবেচনায় নেওয়া হয়, তাহলেও বাকিদের চেয়ে এগিয়ে সে। সে গার্ড মুলারের রেকর্ড ভেঙেছে। সব ধরনের প্রতিযোগিতারই সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আছে সে। জাতীয় আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাকি সবাইকে সে পেছনে ফেলেছে।’

জার্মান মিডফিল্ডার টনি ক্রুজ লেভার ব্যালন না জেতায় আক্ষেপ করে বলেছেন , ‘ এমনটা ঘটা উচিত হয়নি।’

রিয়েল মাদ্রিদের সাবেক গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসের সমালোচনার মুখেও পড়েছে ব্যালন , ‘ ব্যালন ন্যায্য বিচার করে নি । পুরস্কারটা পাওনা ছিল লেভেন্ডস্কির । কোনো সন্দেহ নেই যে- দশকের সেরা ফুটবলার মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে এ বছর তাদের দুজনের চেয়ে অন্যরা এগিয়ে আছে। ‘

ব্যালনে এমন ঘটনা অবশ্য নতুন না । সর্বশেষ ২০১৮ সালেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ছিলেন ব্যালন জয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে । কিন্তু শুধু বিশ্বকাপ সাফল্যে পুরস্কার দেয়া হয় লুকা মদ্রিচকে । ২০১৯ সালে মেসির ব্যালন জয় নিয়েও আছে বিতর্ক । লা লীগার বাইরে আর কোন শিরোপা না পাওয়া বার্সেলোনার হয়ে তিনি জেতেন ব্যালন । চলতি বছরেও ব্যালন নিয়ে বিতর্ক এড়ানো যায় নি , আর সেটা হয়েছে সেই মেসিকে নিয়েই !

উল্লেখ্য , ১৯৫৬ সাল থেকে ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়কে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার দেওয়া চালু হয়। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত পুরস্কারটি শুধু ইউরোপের খেলোয়াড়দেরই দেওয়া হতো। এর পর থেকে ইউরোপে খেলা বিশ্বের যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আর ২০০৭ সাল থেকে কেবল ইউরোপের সেরা নয়, পুরস্কারটি দেওয়া শুরু হয় বিশ্বের সেরা ফুটবলারকে। ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার আর ফ্রান্স ফুটবলের ব্যালন ডি’অর একীভূত হয়েছিল ২০১০ সালে। ফিফার সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০১৬ সাল থেকে আবার একাই ব্যালন ডি’অর দেওয়া শুরু করে ফ্রান্স ফুটবল। ব্যালন ডি’অর জয়ী নির্ধারণ করা হয় সাংবাদিকদের ভোটে।

আহাস/ক্রী/০০১