Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

ভিন্ন দেশ অভিন্ন কীর্তি’র যত ইতিহাস

আহসান হাবীব সুমন/ক্রীড়ালোকঃ

ক্রীড়াঙ্গনে একই খেলোয়াড়ের একাধিক দেশের হয়ে খেলা নতুন কিছু না । কখনও রাজনৈতিক , কখনও পারিবারিক কিংবা কখনও ব্যক্তিগত কারণে ক্রীড়াবিদরা এক দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান অন্য দেশে । তাদের অনেকেই সুযোগ পেয়ে যান একাধিক দেশের জাতীয় দলে খেলার । আবার দুই দেশের হয়ে খেলা কেউ কেউ দারুণ কিছু রেকর্ডে জায়গা করে নেন ইতিহাসের পাতায় সম্প্রতি মার্ক চ্যাপম্যান যেমন নতুন ইতিহাস গড়েছেন টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে যাওয়া নিউজিল্যান্ড এখন আছে ভারত সফরে । মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) স্বাগতিকদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টিতে কিউইরা হেরেছে পাঁচ উইকেটে ।

জয়পুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মার্ক চ্যাপম্যান করেছেন ৬৩ রান । ৫০ বলের মোকাবেলায় ছয়টি চার আর দুইটি ছক্কা মেরেছেন তিনি ।

মার্ক চ্যাপম্যানের ইনিংসটি নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচ জেতাতে পারে নি । কিন্তু চ্যাপম্যান নিজে ঢুকে গেছেন ইতিহাসের পাতায় । টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যে কিনা ভিন্ন দুইটি দেশের হয়ে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক হাফসেঞ্চুরির দেখা । ২০১৫ সালে হংকংয়ের হয়ে প্রথম টি-টুয়েন্টি হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন চ্যাপম্যান ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হংকং জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে সেখান থেকে নিউজিল্যান্ডে স্থানান্তরিত হন হংকংয়ে নিউজিল্যান্ড বাবা ও চাইনিজ মায়ের ঘরে জন্ম নেয়া চাপম্যান। একসময় পেয়ে যান কিউইদের জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগও।

এদিকে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে না হলেও দুই দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হাফসেঞ্চুরির রেকর্ড আছে আরও । এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে সমৃদ্ধ রেকর্ডের মালিক কেপলার ওয়েসেলস । যিনি ১৯৮২-৮৬ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন সেই সময় তার নিজের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা বর্ণবাদের কারণে নিষিদ্ধ ছিল । ওয়েসেলস অজিদের পক্ষে চারটি সেঞ্চুরি আর নয়টি হাফসেঞ্চুরি করেন । আর দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে করেছেন তার সেঞ্চুরির সংখ্যা দুইটি আর হাফসেঞ্চুরি আটটি । তার এসব কীর্তিই টেস্ট ক্রিকেটে ।

জাভিয়ের মার্শালঃ 

একদিনের ক্রিকেটে জাভিয়ার মার্শাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে করেছেন একটি করে সেঞ্চুরি আর হাফসেঞ্চুরি । ২০০৫-০৯ পর্যন্ত ক্যারিবিয়ানদের হয়ে ২৪ ওয়ানডে খেলেছেন জাভিয়ের । পরবর্তীতে ২০১৯-২০ মৌসুমে ১৩টি ওয়ানডে খেলেছেন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে । ২০১৯ সালে আমেরিকার হয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে করেন ৫০ রান ।

এড জয়েসঃ

তিনি ইংল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ডের হয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলেছেন । ২০০৬-০৭ মৌসুমে ইংল্যান্ডের হয়ে ১৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা জয়েস করেছেন একটি সেঞ্চুরি আর তিওন্তি হাফসেঞ্চুরি । অন্যদিকে ২০১১-১৮ পর্যন্ত আইরিশদের হয়ে ৬৩টি ওয়ানডে খেলা জয়েস করেছেন পাঁচ সেঞ্চুরির সাথে এক ডজন হাফসেঞ্চুরি । ২০১৬ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ১৬০ রানের ইনিংস খেলেন আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার এড জয়েস ।

ইয়ান মরগানঃ 

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইয়ান মরগানেরও আছে আয়ারল্যান্ড আর ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে সেঞ্চুরি-হাফসেঞ্চুরির রেকর্ড । আইরিশের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু কড়া মরগান করেছিলেন একটি শতকের সাথে পাঁচটি অর্ধশতক । আয়ারল্যান্ডের হয়ে ২০০৬-২০০৯ অবধি তিনি খেলেছেন ২৩টি ওয়ানডে । অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হয়ে এখন পর্যন্ত মরগানের একদিনের ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সংখ্যা ১৩টি আর হাফসেঞ্চুরি ৪২টি !

লুকে রঞ্চিঃ

এই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডের হয়ে । খেলেছেন ওয়ানডে আর টি-টুয়েন্টি দুই দেশের হয়েই । ২০০৮-০৯ মৌসুমে অজিদের হয়ে চারটি ওয়ানডে আর তিনটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন রঞ্চি । আর ২০১৩-১৭ পর্যন্ত ব্যাক-ক্যাপসদের হয়ে তার প্রতিনিধিত্ব ৮১ ওয়ানডে এবং ২৭ টি-টুয়েন্টি ম্যাচে ।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২০০৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রঞ্চির ব্যাট থেকে আসে ৬৪ রান । আর নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনি করেছিলেন অপরাজিত ১৭০ রান , সেটাও মাত্র ৯৯ বলে । রঞ্চির ইনিংসটি এখনও ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা হয়ে আছে ।

আহাস/ক্রী/০০৫