Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

বিদেশী ফুটবলারে আবাহনীর চমক

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

একটা সময় দেশের ফুটবল আবর্তিত হয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব আর আবাহনী ক্রীড়া চক্রকে ঘিরে । ঘরোয়া ফুটবলে যে কোন শিরোপা নিষ্পত্তি হয়েছে এই দুই দলের মধ্যেই । কালের পরিক্রমায় মোহামেডানের সেই সোনালী সময় আর নেই । তবে আবাহনী এখনও দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব হিসেবে ফুটবলে ধরে রেখেছে নিজেদের দাপট ।

পেশাদার ফুটবল লীগ চালু হবার পর সর্বোচ্চ ছয়টি শিরোপা জিতেছে আবাহনীই । তবে হালে বসুন্ধরা কিংসের আগমনে আবাহনী কিছুটা বেকায়দায় । দেশের অন্যতম সেরা ক্লাব হয়েও ফুটবলে ২০১৮ সালের পর থেকে কোন শিরোপা নেই ঢাকা আবাহনীর । সেই আক্ষেপ ঘুচাতে ২০২১-২২ মৌসুমে কোমর কষে নামছে আবাহনী । বরাবরের মতই দেশী তারকা খেলোয়াড়দের দিকে ঝোঁক আবাহনী । সাথে যোগ দিচ্ছেন উঁচুমানের বিদেশী খেলোয়াড় ।

বাংলাদেশের ফুটবলে বহুকাল যাবত বিদেশী ফুটবলাররাই গড়ে দিচ্ছেন পার্থক্য । আবাহনীতেও তার ব্যতিক্রম নয় । তবে গত কয়েক বছরের মধ্যে আবাহনী আনছে নিজেদের সেরা বিদেশী সংগ্রহ । যাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম ড্যানিয়েল কলিন্ড্রেস । ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে কোস্টারিকার হয়ে খেলেছেন কলিন্দ্রেস । বিশ্বকাপের পরেই ২০১৮-১৯ মৌসুমে কলিন্দ্রেসকে দলে ভিড়িয়ে চমক দেখায় বসুন্ধরা । গত মৌসুমে চুক্তি শেষ করে তিনি ফিরে যান নিজ দেশের ক্লাব সাপারিয়ায় । আবাহনীতে আসার আগে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে ২৯ ম্যাচে করেছিলেন ১৫ গোল এবং করিয়েছিলেন আরও ১২টি গোল। এছাড়া ফেডারেশন কাপে ৪ ম্যাচে ৩ গোল এবং এএফসি কাপে ১ ম্যাচে একটি গোল করেন।

গত মৌসুমে আবাহনীর হয়ে খেলেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ফ্রান্সিসকো তোরেস। কিন্তু আবাহনী তার পারফর্মেন্সে খুশী ছিল না । যে কারণে মধ্যবর্তী দলবদলে তোরেসকে ছেড়ে দিয়ে ঘরের ছেলে সানডে চিজোবাকে আবারো দলে ফেরায় আবাহনী। তবে পুরনো সেনানী সানডেও আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই আসন্ন মৌসুমে সানডেকে রাখছে না আবাহনী ।

আবাহনী নিজেদের ফরোয়ার্ড লাইনে যোগ করতে চলেছে ব্রাজিলিয়ান ডরিয়েলটনকে । ব্রাজিলের বিখ্যাত ক্লাব ফ্লুমিয়েন্সের বয়সভিত্তিক দল থেকে ক্যারিয়ার শুরু এই ফরোওয়ার্ডের । তবে ফ্লুমিয়েন্সের মুল দলের হয়ে একটির বেশী ম্যাচ খেলার সুযোগ হয় নি তার । ৩১ বছর বয়সী এই ফুটবলারের বেশীরভাগ সময় কেটেছে চীনে । চীনের দ্বিতীয় স্তরের লিগ চায়না লিগ ওয়ানে মঙ্গোলিয়া যংহিও এবং মেইজহৌ হাক্কা ক্লাবের হয়ে ১৪৪ টি ম্যাচ খেলে ৪৯ টি গোল এবং ২০টি অ্যাসিস্ট করেছেন এই ফরোয়ার্ড। এছাড়াও চাইনিজ সুপার লিগের ক্লাব চাঙচুং ইয়াতাই ও শাওজিং ইউএজিয়ার হয়ে ৫৪ ম্যাচ খেলে ১৬টি গোল এবং ৩টি অ্যাসিস্ট রয়েছে তার ।

এছাড়া ইরান থেকে সেন্টার ব্যাক মিলাদ শেখ সোলেইমানিকে উড়িয়ে আনছে আবাহনী । সবশেষ পার্সিয়ান গালফ প্রো-লিগের দল পায়কান এফসির হয়ে খেলেছেন ২০১৯ সালে। এরপর থেকেই তিনি ছিলেন ফ্রি-এজেন্ট।

এশিয়ান কোটায় ২৯ বছর বয়সী সোলেইমানিকে দলে নিয়েছে আবাহনী । ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১২ সালে ইরানের ক্লাব নাফট এমআইএস এফসির অনূর্ধ্ব-২১ দল থেকে। এরপর ওই বছরই ক্লাবটির মূল দলে সুযোগ পান এই ডিফেন্ডার। এরপর ইরানেরই ক্লাব ফাজর সেপাসি, মাহসাহর, সেপিদ্রদ ক্লাবে খেলেছেন তিনি ।

নতুন তিনজনের সাথে গত মৌসুমে আবাহনীর হয়ে খেলা ফায়েল আগুস্তো থাকছেন দলে ।

বিদেশী খেলোয়াড়দের নিয়ে আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু বলেন, ‘আমরা একজন স্ট্রাইকার, দুজন মিডফিল্ডার ও একজন ডিফেন্ডার নিয়েছি যাতে স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে খেলানো যায়। এর মধ্যে রাফায়েল ও কলিনদ্রেসের এদেশের ফুটবল সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে। বাকি দুজন যত দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন, ততই মঙ্গল।’

আবাহনীতে উঁচু মানের বিদেশী ফুটবলার খেলে গেছেন অনেক । ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইরাকের হয়ে খেলা সামির শাকির আর করিম মোহাম্মদ যাদের মধ্যে অন্যতম । এছাড়া পাকির আলী , প্রেমলাল আবাহনীকে উপহার দিয়ে গেছেন হ্যাট্রিক লীগ শিরোপা । আরও খেলেছেন সের্গেই , নজর আলী , আন্দ্রে কাজাকভ , ঝুকভ আর লি টাকের মত কুশলী ফুটবলার । যারা প্রত্যেকেই আবাহনীর সেরাদের তালিকায় । এখন দেখার বিষয় , ২০২১-২২ মৌসুমে আবাহনীতে ডেরা বাঁধা ভিনদেশীরা কতটা কি করতে পারে ।

আহাস/ক্রী/০০৬