Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

বাংলাদেশের টানা হার অব্যাহত

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে হেরেই চলেছে বাংলাদেশ । বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচে হারার পর আশা ছিল নিজেদের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াবার । কিন্তু সেটা হয় নি ।

শনিবার (২০ নভেম্বর) মিরপুরের শের-এ-বাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান পেয়েছে আট উইকেটের অনায়াস জয় । প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ২০ ওভারে সাত উইকেটে ১০৭ রানের বেশী করতে পারে নি । জবাবে পাকিস্তান ১১ বল আর আট উইকেট অক্ষত রেখে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ১০৯ রান তুলে নেয় ।

প্রথম ম্যাচে তবু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চার উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ । কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটে-বলে বাংলাদেশের অসহায়ত্ব ছিল চোখে পড়ার মত । যদিও টার্গেট তাড়ায় পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজমকে ব্যক্তিগত ১ রানেই ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান । তাতে আগের ম্যাচের মত লড়াই করার আভাস ছিল ।

কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচ দূরে নিয়ে যান মোহাম্মদ রিজওয়ান আর ফখর আজম । ৯৮ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ বের করে নেন দুজন । রিজওয়ান ৩৯ রানে আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের বলে সাইফ হাসানের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরলেও ততক্ষণে দেরী হয়ে যায় অনেক । রিজওয়ানের ৪৫ বলের ইনিংসে ছিল চারটি চার ।

বাবর আজম শেষ পর্যন্ত হার না মানা ৫৭ রান করে ম্যাচ জিতিয়ে ফেরেন । তার ৫১ রানের ইনিংসে ছিল দুইটি চারের সাথে তিনটি ছক্কা ।

এর আগে ম্যাচের শুরুটা যথারীতি বাজে হয়েছিল। টপ অর্ডার দ্রুতই ধসে পড়ে। এরপর শান্ত-আফিফ মিলে দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখান। এই জুটি ভাঙার সাথে সাথে আবার ছন্দপতন। খেই হারিয়ে ফেলে টেস্ট খেলতে শুরু করে বাংলাদেশ।

ব্যাটিংয়ে নেমে ধীরগতিতে শুরু করে বাংলাদেশ। শাহিন শাহ আফ্রিদি প্রথম ওভার থেকেই আগুন ঝরা বোলিং শুরু করেন। চতুর্থ বলে মিসফিল্ডিংয়ের সুযোগ কোনোমতে এক রান নেন শেখ নাঈম। স্ট্রাইকে যান গত ম্যাচে অভিষিক্ত সাইফ। কিন্তু আজও তিনি ব্যর্থ। শাহিন আফ্রিদের বলে লেগ বিফোরে ফাঁদে পড়ে তিনি গোল্ডেন ডাক মারেন। আম্পায়ার প্রথমে নট আউট ঘোষণা করলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় পাকিস্তান। ১ রানে বাংলাদেশের প্রথম উইকেটের পতন। পরের ওভারের শেষ বলে দ্বিতীয় আঘাত হানেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। বল না বুঝে শট খেলতে গিয়ে ফার্স্ট স্লিপে ফখর জামানের তালুবন্দি হন নাঈম (২)।

আফ্রিদির ফিরতি ওভারে প্রথম ছক্কা আসে। দ্বিতীয় বলে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ দিয়ে দর্শনীয় শটে বিশাল ছক্কাটি মারেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। পরের বলেই অযথা আফিফের পায়ে প্রচণ্ড জোরে বল থ্রো করেন আফ্রিদি। আফিফ ব্যথায় মাটিতে শুয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে খেলা। মাঠে শুশ্রষার পর আফিফ সুস্থ হলে ফের খেলা শুরু হয়। পরের বলটিই স্কয়ার লেগ দিয়ে পাঠিয়ে দেন সীমানার বাইরে। পঞ্চম ওভারে শোয়েব মালিককে বাউন্ডারি মারেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এই জুটিতে ঘুরতে থাকে রানের চাকা।

৩৭ বলে ৪৬ রানের চমৎকার একটা জুটি গড়ে উঠেছিল। দুজনেই সাবলীল খেলছিলেন। তখনই ঘটে বিপর্যয়। শাদাব খানের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে কিপার রিজওয়ানের গ্লাভসবন্দি হন ২১ বলে ১ চার ১ ছক্কায় ২০ রান করা আফিফ। পরের বলে মাহমুদউল্লাহকে এলবিডাব্লিউ দিয়েছিলেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান অধিনায়ক। তবে তার ইনিংস দীর্ঘ হয়নি। ১৪ বলে ১২ রান করে হারিস রউফের বলে বাজে শটে ধরা পড়েন রিজওয়ানের গ্লাভসে। ভাঙে ২৭বলে ২৮ রানের আরও একটি জুটি। একপ্রান্ত আগলে রেখে দারুণ খেলতে থাকেন সমালোচনার নিশানায় থাকা শান্ত।

দলীয় ৮২ রানে এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের বিদায়ে বাংলাদেশের ইনিংসের অর্ধেক শেষ হয়। ১৩তম ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে ৩৪ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৪০ রান করা শান্তকে চমৎকারভাবে কট অ্যান্ড বোল্ড করেন শাদাব খান। উইকেটে এসে ৮বলে ৩ রান করে নওয়াজের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে যান মেহেদি। ৯ রানের ব্যবধানে পতন হয় ৩ উইকেটের। ১৮তম ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১০০ স্পর্শ করে। ১৯তম ওভারে শাহিন আফ্রিদি ফিরেই তুলে নেন ১৩ বলে ১১ রান করা নুরুল হাসান সোহানকে। শেষে তাসকিনরা আজ ঝড় তুলতে পারেননি। টাইগারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৮ রান।

এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা পাকিস্তান সিরিজ জিতে নিলো । দুই দলের শেষ ম্যাচটি এখন স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা ।

আহাস/ক্রী/০০৯