Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

জামাল ভুঁইয়াদের অগ্নি-পরীক্ষা

আহসান হাবীব সুমন/ক্রীড়ালোকঃ

ফুটবলে বাংলাদেশের ভাগ্য ব্যর্থতার আবর্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে । মাস খানেক আগে সাফ ফুটবল আসরের ফাইনালে উঠতে না পারার দায় নিয়ে দেশে ফিরেছিল জামাল ভুঁইয়ারা । এখন বাংলাদেশী ফুটবলারদের পরীক্ষা চলছে শ্রীলঙ্কার প্রাইম মিনিস্টার রাজাপাক্সে টুর্নামেন্টে । কিন্তু সেখানেও শুরুটা ভাল করতে পারে নি লাল সবুজের দেশ ।

শ্রীলঙ্কায় রাজাপাক্সে টুর্নামেন্টে খেলছে চারটি দেশ-বাংলাদেশ , মালদ্বীপ , সেশেলেস আর স্বাগতিক শ্রীলংকা । আসরের চারটি দলের মধ্যে কেবল মালদ্বীপ ফিফা র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে । সেই হিসেবে ফাইনালে খেলার আশা নিয়েই শ্রীলঙ্কায় গেছে বাংলাদেশ । এমনটা অবশ্য যে আসরের আগে বলার জন্যই বলে যায় বাংলাদেশ , বাস্তবতার সাথে যার দূরত্ব থেকে যায় আকাশ-পাতাল ।

চলতি রাজাপাক্সে আসরেও বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছে হতাশা দিয়ে । সেশেলেসের সাথে ১-১ গোলের সমতায় বাংলাদেশ শেষ করেছে ম্যাচ । অথচ খেলার শুরু থেকে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ শেষ মুহূর্তে হজম করেছে গোল । মনোযোগ ধরে রাখতে না পারার এই সমস্যা নতুন না বাংলাদেশের জন্য । সাফ আসরের শেষ ম্যাচেও নেপালের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে ফাইনালের সুযোগ হারিয়েছিল জামাল ভুঁইয়ারা ।

সেশেলসের পর বাংলাদেশের সামনে এখন মালদ্বীপ পরীক্ষা । শনিবার (১৩ নভেম্বর) কলম্বোর রেসকোর্স মাঠে বিকেল সাড়ে চারটায় শুরু হবে এই ম্যাচ ।

মালদ্বীপের কাছে সাফ টুর্নামেন্টে ০-২ গোলে হারের ক্ষতচিহ্ন এখনও শুকায় নি । শুধু সর্বশেষ সাফ কেন , মালদ্বীপের সাথে ২০০৩ সালের পর থেকেই কোন জয় নেই বাংলাদেশের । হেরেছে শেষ চার দেখায় । তাই শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ হারিয়ে দেবে মালদ্বীপকে , এমন চিন্তায় ভেসে যাওয়ার সুযোগ কম ।

যদিও মালদ্বীপের শুরুটাও রাজাপাক্সে টুর্নামেন্টে ভাল হয় নি । শ্রীলঙ্কার সাথে চার গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয়ের নাগাল পায় নি আলী আশফাকরা । ম্যাচ শেষ হয় ৪-৪ গোলে । তাই ফাইনালের সম্ভাবনায় বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় আদায়ে মরিয়া হবে মালদ্বীপ , কোন সন্দেহ নেই ।

বাংলাদেশের ডাগ আউটে আছেন মারিও লেমোস । যিনি এই টুর্নামেন্টেই পেয়েছেন অন্তর্বর্তী কোচের দায়িত্ব । জেমি ডে’র সাথে চুক্তি শেষ না হলেও সর্বশেষ সাফ টুর্নামেন্টে অস্কার ব্রুজেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল । কিন্তু সাফের ফাইনাল খেলতে না পারায় ব্রুজেনের বদলে লেমোসকে দায়িত্বে এনেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ।

মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে লেমোসের বক্তব্য , ‘ ফুটবলে যেকোনো কিছুই হতে পারে। জানি তাদের আক্রমণভাগ দারুণ। বলের দখল রেখে খেলতে অভ্যস্ত তারা। মালদ্বীপ তো অজানা প্রতিপক্ষ নয়। এটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামবো।’

কোচ যাই বলুক , বাংলাদেশের যেখানে দুর্বলতা সেখানেই মালদ্বীপের শক্তি । কারণ দেশটির আছে আলী আশপফাক আর আলী ফাসিরদের মত তারকা । আলী আশফাক তো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের কিংবদন্তী । দেশের হয়ে ৮৬ ম্যাচে ৫৬ আন্তর্জাতিক গোল করা হয়ে গেছে আশফাকের । উইঙ্গার ফাসিরের আছে ১১ গোল । বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য গোল করা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ ! এই আসরের আগে সব মিলিয়ে সর্বশেষ ১০ ম্যাচে বাংলাদেশ গোলের দেখা পেয়েছে পাঁচটি আর বিপরীতে হজম করেছে ২১টি ! এই হিসেবেই বোঝা যায় ফুটবলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক চিত্র ।

বাংলাদেশের ফুটবলারদের মধ্যে গোল না করতে পারার প্রবণতা সীমাহীন । অপেক্ষাকৃত বড় দলের বিপক্ষে সুযোগ এমনিতেই আসে কম । আবার  তুলনায় কম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার ব্যর্থতায় মাশুল গোনে বাংলাদেশ । সেশেলেসের বিপক্ষেই একাধিক গোলের সুযোগ প্রথমার্ধে নষ্ট করেছে লাল সবুজের দল । সেই ম্যাচে দলের হয়ে একমাত্র গোল করা ইব্রাহিম জানান , ‘ আমরা সবাই আলাদা আলাদা দল থেকে আসি। আমি খেলি উইঙ্গে কিন্তু এখানে এসে খেলতে হয় স্ট্রাইকারে। আবার সেন্ট্রাল মিড থেকে উইঙ্গে খেলতে হয়। এরকম পজিশন পরিবর্তনের কারণে আমাদের স্কোরিংয়ে কম নজর থাকে। ‘ 

আসলেই তাই । বাংলাদেশের অধিকাংশ  ক্লাবই বিদেশি ফরোয়ার্ডদের উপর নির্ভরশীল। এতে পরিবর্তন করতে হচ্ছে পজিশন। যার ফলে ফুটবলারদের গোল করার দিকেও নজর কম থাকে-এমনটাই জানালেন সেশেলসের বিপক্ষে গোল করা মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

 এই মালদ্বীপের বিপক্ষে আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম তিন দেখায় ১৮ গোল করেছিল বাংলাদেশ । ১৯৮৪ সালের সাফে বাংলাদেশ দুবার করে মালদ্বীপকে হারিয়েছিল ৫-০ গোলের সমান ব্যবধানে । আর পরের সাফে বাংলাদেশ জিতেছিল ৮-০ গোলে । সেই মালদ্বীপের বিপক্ষে এখন মাঠে নামার আগেই হারের শংকায় কাঁপে বাংলাদেশের সমর্থকরা ।

যদিও মালদ্বীপের রক্ষণভাগ হতে পারে বাংলাদেশের জন্য কিছুটা সুবিধার । সম্প্রতি মালদ্বীপের ডিফেন্ডাররা খেই হারিয়ে ফেলছেন মাঝেমাঝেই । শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চার গোলের লিড নিয়েও জিততে না পারার দায় অনেকটাই মালদ্বীপ রক্ষণের । কিন্তু তাই বলে শ্রীলঙ্কার অদম্য মানসিকতাকেও ছোট করে দেখার উপায় নেই । ঠিক যেখানে রয়েছে বাংলাদেশের ফুটবলাররা কাঠগড়ায় । এগিয়ে গিয়েও সেশেলসকে হারাতে না পারা বাংলাদেশের জন্য ক্ষমাহীন ব্যর্থতা। এ ম্যাচের পর ফুটবলারদের কমিটমেন্ট নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে- আসলে জামালরা জয়ের জন্য মাঠে নামে তো?

সব অভিযোগ খণ্ডনের দায়িত্ব এখন খেলোয়াড়দের । মালদ্বীপের বিপক্ষে ড্র করলেও ফাইনালের আশা বেঁচে থাকবে । সেই ক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিততে হবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে । আবার আজ হেরে গেলে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেকটাই শেষ যাবে । যেহেতু শ্রীলংকা আর মালদ্বীপের ম্যাচ বাকী আসরের সবচেয়ে দুর্বল দল সেশেলেসের বিপক্ষে । তাই মালদ্বীপের বিপক্ষে জয় পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য খুবই জরুরী । নতুবা আরও একটি আসর থেকে খালি হাতেই ফিরতে হবে । যার পথ ইতোমধ্যেই তৈরি করে রেখেছে জামাল ভুঁইয়ারা সেশেলেসের সাথে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া করে ।

আহাস/ক্রী/০০৩