Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

জিম্বাবুয়ে সিরিজের মাঝপথেই বাদ মুশফিক !

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

অনেকদিন পর প্রিয় প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়েকে পেয়ে জ্বলে উঠেছে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দল । দুর্বল জিম্বাবুয়েকে ইতোমধ্যেই একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়েছে টাইগাররা । প্রথম ওয়ানডেতেও জিতেছে ১৬৯ রানের রেকর্ড ব্যবধানে । সব মিলিয়ে ক্রিকেটে আবারও জয়ের ধারায় বাংলাদেশ ।

তবে এই মুহূর্তে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ নয় , বাংলাদেশের মূল চিন্তা আসলে পাকিস্তানের অবশিষ্ট সিরিজ নিয়ে । ইতোমধ্যেই দুই দফার পাকিস্তান সফরে হারের লজ্জা নিয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ । দুইটি টি-২০ আর একটি টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর বাংলাদেশ ছিল বেকায়দায় । জিম্বাবুয়ে চলে আসায় সেই অস্বস্তি কিছুটা কেটেছে ।

কিন্তু আগামী মাসের শুরুতেই আবার পাকিস্তান যাচ্ছে বাংলাদেশ দল । করাচীতে টাইগাররা পাকিস্তানের সাথে খেলবে আরও একটি টেস্ট এবং ওয়ানডে । সেই দুই ম্যাচেও কি আবারও ভরাডুবি ঘটবে বাংলাদেশের ?

সেই আশংকা তো আছেই । যে কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তৃতীয় আর শেষ দফায় কোন ঝুঁকি নিতে চায় না । পাঠাতে চায় সম্ভাব্য সেরা স্কোয়াড । অথচ মুশফিকুর রহিমকে ছাড়া বাংলাদেশ দলকে কখনই পরিপূর্ণ মনে হয় না ।

আগের দুই সফরে বাংলাদেশ দলের সাথে ছিলেন না মুশফিক । নিরাপত্তার কারণে পাকিস্তানে যান নি তিনি । এবারেও আগেভাগেই জানিয়েছেন , এপ্রিলেও পাকিস্তানে যাওয়ার কোন ইচ্ছে নেই তার ! কিন্তু এবার আর মুশিকে ইচ্ছেমত সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ সম্ভবত দিয়ে চায় না বিসিবি ।

জানা গেছে , জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগের দিন মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন ও কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। সেখানে ছিলেন বিসিবির কয়েকজন পরিচালকও। সেখানে আলাপ হয়েছে আসন্ন পাকিস্তান সফর নিয়ে ।

সভায় মুশফিককে জানিয়ে দেয়া হয়েছে , পাকিস্তানে না গেলে দ্বিতীয় ওয়ানডের একাদশ থেকে তাকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনা পাঠিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন । এমনকি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাদবাকী ম্যাচগুলোতে নাও রাখা হতে পারে তাকে একাদশে !

অর্থাৎ বিসিবি চাপ সৃষ্টি করেই পাকিস্তান সফরে পাঠাতে চাইছে মুশফিককে ।

যদিও মুশফিককে চাপ দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন নির্বাচক মিনহাজুল। তিনি বলেছেন, ‘মুশফিককে দল থেকে বাদ দেয়ার হুমকি দেবো কেন? টিম হোটেলে আমরা মিটিং করেছি। সেখানে তাকে পাকিস্তান যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, সে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আমরা তাকে আর কিছুই বলিনি।’

বিপিএলে খুলনা টাইগার্সকে নেতৃত্ব দেয়া মুশফিক আসর শেষ করেই আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দেন, তিন সংস্করণের কোনটিতেই খেলতে পাকিস্তানে যাবেন না। কারণ হিসেবে পরিবারের শঙ্কার কথা বলেছিলেন। তখন সিদ্ধান্তটি মেনেও নিয়েছিল বিসিবি। কিন্তু দুই দফা সফরে টি-টুয়েন্টি ও সিরিজের প্রথম টেস্টে বাজেভাবে হেরে আসার পর সুর বদলান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরিতে সিরিজের একমাত্র টেস্টে জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর পর নাজমুল হাসান বলেন, বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ সব ক্রিকেটারেরই পাকিস্তান যাওয়া উচিত। মুশফিকের পরিবার পাকিস্তানে নিরাপত্তা নিয়ে সত্যিই শঙ্কিত কিনা, সেটি নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, তৃতীয় দফার পাকিস্তান সফরে করাচিতে একটি ওয়ানডে ও একটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। আগামী ৩ এপ্রিল হবে ওয়ানডে ম্যাচটি, ৫ এপ্রিল থেকে টেস্ট।

আহাস/ক্রী/০০২