Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

নক-আউট পর্বের শুরুতেই অঘটনের শংকা

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

চলতি সপ্তাহ থেকেই আবারও মাঠে গড়াচ্ছে উইয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের প্রতিযোগিতা । সেটাও আবার জমজমাট নক-আউট পর্ব দিয়ে । যেখান থেকেই মুলত শুরু হবে ২০১৯-২০ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা জয়ের লড়াই ।

চলমান চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেরা ষোলয় খেলছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল , সর্বাধিক তেরোবারের চ্যাম্পিয়ন রিয়েল মাদ্রিদ , বার্সেলোনা , জুভেন্টাস , অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ , প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) , বায়ার্ন মিউনিখ , বুরুশিয়া ডর্টমুণ্ড , টটেনহ্যাম হটস্পার্স , ম্যানচেস্টার সিটি , আরবি লেইপজিগ , ভ্যালেন্সিয়া , চেলসি , ন্যাপলি , অলিম্পিক লিও আর আটলান্টা । এখান থেকেই পরস্পরের বিপক্ষে দুইবার করে লড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে আটটি দল ।

চলতি সপ্তাহে আছে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের চারটি ম্যাচ । আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি নিজেদের মাঠে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ খেলবে লিভারপুলের বিপক্ষে । একই দিন জার্মানির ইদুনা পার্কে বুরুশিয়ার মাঠে খেলতে যাবে পিএসজি । পরের দিন ইটালির আটলান্টার মাঠে খেলতে যাবে ভ্যালেন্সিয়া । আর টটেনহ্যামের মাঠে খেলবে লেইপজিগ ।

পরের সপ্তাহে অর্থাৎ ২৫ ফেব্রুয়ারি চেলসির মাঠ স্ট্যাম্পফোর্ড ব্রিজে খেলতে যাবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন । একই দিন ন্যাপলির সান পাওলো স্টেডিয়ামে লড়াইয়ে নামছে বার্সেলোনা । আর ২৬ ফেব্রুয়ারি লিওর মাঠে খেলতে যাবে জুভেন্টাস । একই সময় রিয়েল মাদ্রিদের স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলবে ম্যানচেস্টার সিটি ।

নক আউট পর্বে মাঠে নামার আগে শিরোপা প্রত্যাশীদের অনেকেই অবস্থাই ভাল না । চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল শনিবার কোনোমতে জিতেছে নরউইচ সিটির সাথে । তবে লিভারপুল টানা জয়ের মধ্যেই আছে । আর পাঁচ ম্যাচ জিতলেই ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের অল রেডরা জিতবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা । অন্যদিকে তাদের প্রতিপক্ষ অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের অবস্থা খুব ভাল না । শনিবার ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে ড্র করেছে লা রোজা ব্লাংকসরা । তারও আগের চার ম্যাচে তারা পেয়েছে মাত্র একটি জয় । হেরেছে দুইটিতে আর ড্র একটি । অর্থাৎ ভীষণ চাপে থাকা দিয়াগো সিমিওনের দলের বিপক্ষে স্পষ্ট ফেভারিট লিভারপুল । তার উপর পরের লেগের ম্যাচ লিভারপুলের মাঠে । ফলে শেষ আটে ওঠার ব্যাপারে ইউর্গেন ক্লপসের দল অনেকটাই এগিয়ে ।

কিন্তু একই দিন ইদুনা পার্কে ঝামেলায় পড়তে পারে ফেভারিট পিএসজি । ইনজুরিতে থাকা নেইমার জুনিয়র বুরুশিয়ার বিপক্ষে খেলবে কিবা , সেটা এখনো নিশ্চিত না । শনিবার কিলিয়ান এমবাপ্পে আর নেইমারকে ছাড়া খেলা পিএসজি ৪-৪ গোলে ড্র করেছে নীচের সারির অ্যামিয়েন্সের বিপক্ষে । প্রতিপক্ষের মাঠে তিন গোলে পিছিয়ে পড়েও পিএসজির জন্য এই ড্র ছিল সৌভাগ্যের । এছাড়া ফেব্রুয়ারির পাঁচ তারিখেই নন্তের কাছে হেরেছে পিএসজি ।

অন্যদিকে পিএসজির প্রতিপক্ষ বুরুশিয়া আছে একই অবস্থায় । গেলো সপ্তাহে বায়ার্নের কাছে হেরেছে বুরুশিয়া । জানুয়ারিতেও তারা বুন্দেস লিগায় হেরেছিল মেইঞ্জের কাছে । চলতি মাসের শুরুতে তাদের জার্মান কাপের চতুর্থ রাউন্ডে হারতে হয়েছে ওয়ের্ডার ব্রেমেনের কাছে । কিন্তু এই হারের মধ্যেও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গত ছয় ম্যাচে ২৪ গোল করেছে জার্মানির দলটি । তাদের দুই ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড হাল্যান্ড আর সাঞ্চো আছেন দুর্দান্ত ফর্মে । করে চলেছেন টানা গোল । তাই বুরুশিয়ার মাঠে পিএসজিকে পড়তে হতে পারে কঠিন সমস্যায় ।

আটলান্টার বিপক্ষে ভ্যালেন্সিয়া অবশ্যই পিছিয়ে থাকবে প্রথম লেগে । ইটালিয়ান সিরি ‘এ’ তে আটলান্টা শনিবার হারিয়েছে রোমাকে । আগের তিন ম্যাচে একটি ড্র কেবল জেনোয়ার বিপক্ষে । জিতেছে ফিওরেন্টিনা আর তুরিনোর মত দলের বিপক্ষে । এর মধ্যে তুরিনোকে তো সাত গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আটলান্টা ।

অন্যদিকে ভ্যালেন্সিয়া ২৫ জানুয়ারি হারিয়েছে বার্সেলোনাকে । আর শনিবার ড্র করেছে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে । সেল্টা ভিগোর বিপক্ষেও জিতেছে তারা । এই তিন ম্যাচেই ভ্যালেন্সিয়া চমক দেখিয়েছে নিজেদের মাঠে । কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই প্রতিপক্ষের মাঠে কোপা ডেল রে ম্যাচ হেরেছে গ্রানাডার বিপক্ষে । আর লা লীগায় তাদের হারিয়েছে গেটাফে । অর্থাৎ প্রতিপক্ষের মাঠে খেলা হলেই চুপসে যাচ্ছে ভ্যালেন্সিয়া । কাজেই ইটালির মাঠে আটলান্টার বিপক্ষে ২০০০ আর ২০০১ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনাল খেলা ভ্যালেন্সিয়াকে যে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে , সেটা জানা কথাই ।

দিনের আরেক ম্যাচে নিজেদের মাঠে টটেনহ্যাম ফেভারিট লেইপজিগের বিপক্ষে । যে কোন বিবেচনায় টটেনহ্যাম এমনইতেই এগিয়ে লেইপজিগের তুলনায় । সর্বশেষ আসরের ফাইনালেও খেলেছে স্পার্সরা । আর লেইপজিগ প্রথমবারের মত সেরা ষোলয় উঠেই ইতিহাস গড়েছে । তবে তাদের সাফল্যের মূল কারিগর হালান্ড যোগ দিয়েছেন ডর্টমুণ্ড দলে , যিনি গ্রুপ পর্বে আট গোল করে আসরের দ্বিতীয় সেরা গোলদাতা । কিন্তু হালান্ড চলে যাওয়ায় এখন অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে লেইপজিগ ।

এই গেলো চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য চার ম্যাচে আট দলের সাম্প্রতিক অবস্থা । যেখান থেকে ধারণা নেয়ার চেষ্টা কড়া হয়েছে , কি হতে পারে ম্যাচের ফলাফল । যদিও চ্যাম্পিয়ন্স লীগের মত আসরে কোন আগাম ধারণা নেয়া কঠিন । বিশেষ করে খেলা হয় দুই লেগে । হোম এন্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে যে কোন সময়েই বদলে যেতে পারে সার্বিক অবস্থা । আর যেহেতু খেলা নক আউট পর্বের , তাই উত্তেজনা এবং অনিশ্চয়তার পরিমাণটাও এখানে অনেক । সেই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে কারা শেষ হাসি হেসে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে , সেটার জন্য খেলার শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া কোন উপায় নেই ।

আহাস/ক্রী/০০৩