Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

জেলও হতে পারে সৌম্যর !

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

সর্বশেষ ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ছিলেন না সৌম্য সরকার । বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার খেলা থেকে সাময়িক ছুটি নিয়েছিলেন ‘বিয়ে’র জন্য । কিন্তু বিয়ে’র একটি আনুষ্ঠানিকতা সারতে  গিয়েই  এখন বেশ ঝামেলায়  পড়ে  গেছেন সৌম্য ।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি খুলনার মেয়ে প্রিয়ন্তি দেবনাথ পূজার সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন সৌম্য । পারিবারিকভাবে আয়োজিত এই বিয়ে পরবর্তী বৌ-ভাত অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরা শহরের মোজাফ্‌ফর গার্ডেনে । তবে বিয়ের অনুষ্ঠান থেকেই ঝামেলা পিছু নেয় সৌম্যর ।

বুধবার মধ্যরাতে খুলনা ক্লাব মিলনায়তনে বিয়ের অনুষ্ঠানে মোবাইল চুরির মত ঘটনা নিয়ে হয়েছে হাতাহাতি । বিয়েতে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এবার ঝামেলা দেখা দিয়েছে বিয়ের আগে আশীর্বাদ অনুষ্ঠান নিয়ে । গত ২১ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরায় নিজ বাড়িতে সৌম্য সরকার তার বিয়ের আশীর্বাদে হরিণের চামড়াকে আসন হিসেবে ব্যবহার করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আশীর্বাদের ছবি ভাইরাল হয় । অনেকেই হরিণের চামড়ার ব্যবহার নিয়ে সৌম্য সরকার আর তার পরিবারের সমালোচনা করে ।

বাংলাদেশের আইনে বন্য-প্রাণীর চামড়ার যে কোন ব্যবহার নিষিদ্ধ । এই নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে অনেকের জেল-জরিমানা হয়েছে । বিয়ের আশীর্বাদ অনুষ্ঠানের হরিনের চামড়া ব্যবহারের কারণেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে সৌম্যকে।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট মাঠে নেমেছে । ঘটনা তদন্ত করছে প্রতিষ্ঠানের ইন্সপেক্টর অসীম মল্লিক। জানা গেছে , এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়লেই ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট।

তবে এটি কোন ধর্মীয় রীতি কিনা সেই নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন । কেউ কেউ এটাকে ধর্মীয় রীতি বলে মন্তব্য করলেও অনেকে বলেছেন সনাতন ধর্মে এমন কোনো লৌকিকতা নেই। বিষয়টি সৌম্যের পারিবারিক ব্যাপার। কেউ কেউ বলেছেন, এমন রীতি থাকলেও তা পালন করা উচিত নয়।

এই বিষয়ে সৌম্যের বাবা সাতক্ষীরার সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা কিশোরী মোহন সরকার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন , ‘ এটি আমাদের পা‌রিবা‌রিক ঐতি‌হ্যের নিদর্শন। চামড়া‌টি মূলত প্রার্থনার জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি বহু পুরনো। যুগ যুগ ধরে তা ব্যবহৃত হ‌য়ে আস‌ছে। বংশানুক্রমে সেটি পেয়েছি। আমার বাবার কাছ থেকে হরিণের চামড়াটি পে‌য়ে‌ছি আমি। আমার জানা মতে, উনি উনার বাবার কাছ থেকে পেয়েছি‌লেন। ‘

তবে হরিণের চামড়া রাখার কোন লাইসেন্স আছে কিনা সেটা জানান নি সৌম্যর বাবা ।

প্রসঙ্গত, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী, লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ব্যক্তির কাছে বন্যপ্রাণী, বন্যপ্রাণীর অংশ পাওয়া গেলে অথবা বন্যপ্রাণী থেকে উৎপন্ন দ্রব্য বিক্রয়, আমদানি-রফতানি করলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ এক বছরের সাজা অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তিন বছরের সাজা অথবা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা।

আহাস/ক্রী/০০৯