Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

আরও নীচে নামিয়ে দেয়া হলো মেসিকে !

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

মাঠের খেলায় ভীষণ বিব্রতকর অবস্থায় বার্সেলোনা । কোন দলের বিরুদ্ধেই এখন জয় পাওয়ার কোন নিশ্চয়তা নেই । কোচ আর্নেস্তো ভেলভার্দেকে বরখাস্ত করেও কোন কাজ হয় নি । নতুন কোচ কুইকে স্যাতিয়েন দলে আনতে পারেন নি কোন ইতিবাচক পরিবর্তন । বরং বার্সেলোনার জন্য কার্যকর পরিকল্পনা খুঁজতে হয়রান হতে হচ্ছে কাটালানদের নতুন কোচকে ।

জানুয়ারির শুরুর দিকে স্প্যানিশ সুপার কোপার সেমি ফাইনালে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হারার পর বরখাস্ত হয়েছিলেন ভেলভার্দে । তার জায়গায় দলে আসেন স্যাতিয়েন । যিনি এসেই বার্সাকে ফিরিয়ে নেন ‘টিকিটাকা’ । নিজেদের আয়ত্ত্বে যতবেশী সম্ভব বল রেখে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টায় থাকা ফুটবলকে সাদামাটা ভাষায় বলা হয় ‘টিকিটাকা’ । ছোট-ছোট আর বেশী পাসের এই ফুটবল দিয়েই এক সময় বার্সায় বাজীমাৎ করেছেন পেপে গুয়ার্দিওলা এবং লুইস এনরিকে । যদিও এই ধরণের ফুটবল বার্সায় প্রথম আনেন ‘টোটাল ফুটবলের জনক ‘ খ্যাত ইউহান ক্রুয়েফ । ডাচ ম্যাচের সেই তত্ত্ব কাজে লাগিয়ে স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতান ভিন্সেন্ত ডেল ভস্কে । আর বার্সায় তুমুল সফলতা পান গুয়ার্দিওলা এবং এনরিকে ।

কিন্তু সেই বার্সেলোনা আর বর্তমান বার্সেলোনা এক নয় । সেই সময়ে দলে ছিল জাভি হার্নানদেজ , আন্দ্রে ইনিয়েস্তাদের মত মধ্যমাঠের তারকা । ছিলেন মাশ্চেরানো । ছিলেন কার্লোস পুয়োলের মত রক্ষণসেনা । আবার আক্রমণেও নেইমার , সুয়ারেজ আর লিওনেল মেসিরা ছিলেন অপ্রতিরোধ্য । ফলে ঘরোয়া আর ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার সর্বোচ্চ সাফল্য পেতে কোন সমস্যা হয় নি ।

বর্তমানে সেই অবস্থা আর নেই । স্যাতিয়েন হাতে পেয়েছেন বড় ভঙ্গুর এক দল । যেখানে একমাত্র গোলরক্ষক ছাড়া আর সব পজিশনেই ঝামেলায় আছে বার্সেলোনা ডিফেন্সে জেরাড পিকে তার সেরা সময় ফেলে এসেছেন অনেক পেছনে । স্যামুয়েল উমাতিতি আর নেলসন সেমেডোরাও বার্সার মাপকাঠিতে উৎরাতে পারছেন না । আবার মিডফিল্ডে ইভান রাকিতিচ , সার্জিও বুস্কেটস , আর্তুরো ভিদাল , আর্থার আর ফেডি ডি ইয়াংরা থাকছেন নিজেদের ছায়া হয়ে । ফলে দানা বাঁধছে না বার্সেলোনার আক্রমণ । উল্টো ডিফেন্স আর মধ্যমাঠের ভঙ্গুর দশায় ছোট দলগুলো অবধি বার্সেলোনার সীমানায় হামলে পড়ছে পঙ্গপালের মত আক্রমণ করে ।

তবে বার্সেলোনা এখন সবচেয়ে বড় সমস্যায় আছে ফরোয়ার্ডদের নিয়ে । ইনজুরির কারণে লুইস সুয়ারেজ আর উসমান ডেম্বেলে মাঠের বাইরে । দলে এন্থইন গ্রিজম্যানের সাথে ভরসা করার মত কেউ নেই । আন্সু ফাতিহদের মত তরুণদের দিয়ে কাজ চালানো যায় কোনোমতে , কিন্তু শিরোপার প্রশ্নে তাদের উপর আস্থা রাখা যায় না । তার উপর অধিনায়ক মেসি এখন চারিদিকের চাপে দিশেহারা হয়ে যেন ভুলে যাচ্ছেন গোল করতে । সব মিলিয়ে বার্সেলোনার নতুন কোচ স্যাতিয়েন এখন নিজের চুল ছিঁড়ছেন , দলের জন্য কার্যকরী পরিকল্পনার খোঁজে ।

যদিও দুই দিন আগেই লেগানেস থেকে জরুরী ভিত্তিতে ডেনিশ স্ট্রাইকার মার্টিন ব্রাথওয়েটকে কিনেছে বার্সেলোনা । কিন্তু খুবই সাধারণ মানের এই ফরোয়ার্ডকে বার্সার কাজ খুব বেশী হাসিল হবে না , সেটা হয়ত বুঝে গেছেন স্যাতিয়েন । সেই কারণেই নতুন পরিকল্পনায় মেসিকে আরও নীচে নামিয়ে খেলার পরিকল্পনা করেছেন বার্সার কোচ ।

এখন থেকে ফলস-নাইন না , মেসিকে দেখা যাবে পুরোপুরি মিডফিল্ডারের ভূমিকায় । তিনি গোল করায় নয় , মাঝমাঠের বল দখলে আর সতীর্থ ফরোয়ার্ডদের বল জোগান দেয়ায় । সেই সাথে দলের রক্ষণেও সহায়তা করতে হবে তাকে । ফলে নেমে আসতে হবে আরও নীচে ।

এই নিয়ে মেসি নিজেই জানিয়েছেন , ‘ আমাকে খেলায় আরও বেশী কার্যকর হতে হবে । খেলতে হবে নীচে নেমে । সোজা কথায় , মধ্যমাঠের সাথে আমার সংযোগ বাড়াতে হবে আরও বেশী । যাতে অন্যদের উপর চাপ কমে । ‘

মুণ্ডো ডেপোর্টিভোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ ভুমিকা নিয়ে মেসি জানান , ‘ আমি জানি দলের জন্য খুব খারাপ সময় যাচ্ছে । আমাদের সবাইকে আরও মনোযোগী হতে হবে মাঠের খেলায় । বাড়তি শ্রম দিতে হবে । সেটা করতে আমরা প্রস্তুত আছি । ‘

সর্বশেষ গেটাফের বিপক্ষে ম্যাচে মেসিকে এমন ভূমিকায় দেখা গেছে । যেখানে দলের আক্রমণ গড়ে দিতেই মনোযোগী হতে হয়েছে তাকে । যদিও বার্সেলোনা ম্যাচটি জিতেছে ২-১ গোলের ব্যবধানে , অনেক কষ্টে । তবে ম্যাচে দুইটি গোলেই এসিস্ট করেছেন তিনি । তার আগে রিয়েল বেটিসের ম্যাচেও তিনটি এসিস্ট ছিল তার । আর শেষ তিন ম্যাচে মোট এসিস্ট করেছেন ছয়টি । যদিও শেষ চার ম্যাচে তার কোন গোল নেই ।

এই অবশ্য খুব বেশী চিন্তা করছেন না মেসি , ‘ আমি চার ম্যাচে অনেক সুযোগ পেয়েছি । কিন্তু কাজে লাগাতে পারি নি । এটা নিয়ে ভাবছিও না । আমি আমার নতুন ভুমিকা আরও কত ভালভাবে পালন করা যায় , সেই দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি । ‘

শনিবার নিজেদের মাঠে এইবারের বিপক্ষে লা লীগার ম্যাচ খেলতে নামছে বার্সা । আর মঙ্গলবার যাবে উইয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ন্যাপলির মাঠে খেলতে ।

আহাস/ক্রী/০০৩