Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ তিন ফুটবলার গ্রেফতার

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে বিদেশী ফুটবলারদের নামে চলে আসছে অপরাধী চক্রের অনেকেই , এমন অভিযোগ অনেক পুরনো । বিশেষ আফ্রিকার দেশগুলো থেকে অনেক সময়েই ফুটবলার পরিচয়ে যারা আসছেন , তারা আদৌ পেশাদার ফুটবলার কিনা – সেটা নিয়েও সন্দেহের অবকাশ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন সময়ে । সর্বশেষ বিপুল পরিমান ইয়াবা নিয়ে ঘানার দুই তথাকথিত ফুটবলারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়া বিষয়টিকে নতুন করে নিয়ে এসেছে সামনে ।

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের কর্ণফুলি শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে ইয়াবাসহ দুই বিদেশিকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। পরে জানা যায় , তারা বাংলাদেশে এসেছেন ফুটবল খেলার নামে । তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত আরেক বাংলাদেশি ফুটবলারকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বাংলাদেশি ফুটবলার মো. মাসুদ (২৪) এবং দুই বিদেশীরা হলেন, ঘানার নাগরিক ফ্রাঙ্ক ও রিচার্ড। ফ্রাঙ্ক ও রিচার্ড বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাবে ভাড়ায় ফুটবল খেলেন। আর মাসুদ বয়সভিত্তিক দলে এবং ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে ফুটবল খেলেন।

জানা গেছে , দুই বিদেশী ফুটবলারের কাছ থেকে সাড়ে সাত হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে ।

গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বাকলিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফ্রাঙ্ক ও রিচার্ড জানিয়েছে, তারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার ফুটবল খেলতে গিয়েছিলেন। সেখানে খেলা না হওয়ায় তারা ঢাকায় ফিরছিলেন। ফেরার সময় কক্সবাজারের এক ব্যক্তি তাদের ইয়াবা ভর্তি প্যাকেটটি মাসুদকে দেওয়ার জন্য দিয়েছিলেন। তাদের দেয়া তথ্যমতে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মাসুদকে।

বাংলাদেশে ফুটবল খেলার নামে আফ্রিকান অনেক নাগরিক জড়িয়ে পড়ছেন বিভিন্ন অপরাধে , এই অভিযোগ নতুন কিছু না । অনেকেই আবার ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে যাবার পরেও রয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ । খেলছেন খ্যাপ । এমন সংখ্যা নেহাতই কম নয় যারা ফুটবলার পরিচয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে এখানেই ঘাঁটি গেড়েছেন! দেশের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার ‘জটিলতাকে’ পুঁজি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে থেকে যাচ্ছেন ফুটবলার (নামধারী) এই বিদেশিরা। পরে অপরাধ জগতেও জড়িত হওয়ার বেশ কয়েকটি নজির লক্ষ্য করা গেছে।

তবে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও তাদের আটক করার ক্ষেত্রে পুলিশের তৎপরতাও চোখে পড়ে কম। যার ফলে দিনদিন অবৈধভাবে থাকা এদের সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে।

জানা গেছে, ঢাকার ক্লাব ফুটবলে বিদেশিদের আধিক্য। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফুটবল টুর্নামেন্টগুলোতেও বিদেশি ফুটবলাররা খেলেন। তাদের বেশির ভাগই নাইজেরিয়া, ঘানা আর হাইতির মতো দেশগুলোর। বিভিন্ন ক্লাবে খেলা এসব বিদেশি ফুটবলাররা জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপরাধে। সম্প্রতি ফেনী সকার ক্লাবের পাঁচ বিদেশি ফুটবলার মিলে একটি ভয়ঙ্কর প্রতারণার মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন। বিদেশি পাঁচ ফুটবলার বাংলাদেশি দুই নাগরিকের সহায়তায় আরেক বাংলাদেশির কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকা। বিদেশে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জিতেছেন জানিয়ে ওই নাগরিককে তারা প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন। এ জন্য প্রতিযোগিতার আয়োজক থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দরের শীর্ষ কর্তাও সাজেন তারা।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফেনী সকার ক্লাবের পাঁচ বিদেশি ফুটবলারকে আটক করে।

এর আগে ঢাকার গুলশানে ফুটবলার পরিচয়ে কয়েকজন আফ্রিকান নাগরিকের অপরাধের ঘটনা সামনে আসে । তারা সাইবার অপরাধ থেকে শুরু করে মাদক পাচার – এমন ভয়াবহ অপরাধের সাথে জড়িত ।

দুই বছর আগে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কাছে বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়ে দুই পাতার একটি চিঠিও দিয়েছিলেন দেশের জুয়েল রানা, নকিব, মনিসহ আরও অনেক ফুটবলার।

তাতে খেলোয়াড়রা আশঙ্কা উল্লেখ করেছিলেন, এদের আনাগোনা কমিয়ে দেশে ফুটবলের একটা সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

‘এই সমস্ত আফ্রিকান খেলোয়াড়েরা ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে খ্যাপ খেলে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। এই অর্থ তারা অবৈধভাবে তাদের দেশে প্রেরণ করছে। ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

সেই সময় বাংলাদেশ ফুটবল জাতীয় দলের সাবেক কোচ মারুফুল হক বলেন , ‘যারা এদেশে আসছে তারা কিন্তু সবাই প্রফেশনাল খেলোয়াড় না। তারা হয়তো কোথাও খেলেছে, বা নিজে নিজে খেলে এসেছে, তাই তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। খেলার সুযোগ নেই। তাই এসব কাজে জড়িয়ে পড়ছে। সে যদি প্রফেশনাল খেলোয়াড় হয় তাহলে কখনো এসব কাজে যাবে না।’

এখন দেখা যাচ্ছে , তাদের আশংকা সত্যি । বিদেশি ফুটবলারদের অবৈধভাবে বসবাস আর তাদের অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনার অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ । দেশে অনু্প্রবেশ ঠেকাতে কাজ করতে হবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আহাস/ক্রী/০০৪