Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

পাপনসহ বিসিবি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা!

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

নিজেরাই নিজেদের নিয়ম ভাঙ্গায় ফেঁসে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) । নিজেদের পছন্দের দলকে সুবিধা দিতে নিয়ম ভাঙ্গার অভিযোগ বিসিবি;’র বিরুদ্ধে এনেছে সোনার বাংলা ক্রীড়াচক্র । আর সেই অভিযোগে ব ইসিবি’র কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে তৃতীয় বিভাগের ক্লাবটি ।

সম্প্রতি শেষ হয়েছে তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লীগ । কিন্তু দেশের অন্যান্য ঘরোয়া লীগের মত তৃতীয় বিভাগের খেলা নিয়েও উঠেছে বিস্তর অভিযোগ । পাতানো ম্যাচ আর বাজে আম্পায়ারিংয়ের সাথে এবার খোদ বিসিবি’র উপর উঠেছে পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ ।

বিসিবি;র বাইলজ অনুযায়ী সেরা দুই দল উঠে যায় দ্বিতীয় বিভাগে । এবারের লীগ শেষে ১৪ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় বিভাগের টিকেট পায় যাত্রাবাড়ী ক্রীড়া চক্র। সমান ম্যাচে সবুজ বাংলা আর গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের পয়েন্ট ২৬ করে।

এই ক্ষেত্রে সমান পয়েন্ট পাওয়া দুই দলের ক্ষেত্রে হিসেব হবার কথা ‘হেড টু হেড’ । আর তাতে দ্বিতীয় বিভাগে প্রমোশন পাওয়ার কথা সবুজ বাংলার । কিন্তু এখানে অনিয়মের এক দারুণ দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা । তারা ‘হেড টু হেড’ নয় , বরং বেশী জয় পাওয়ায় সবুজ বাংলাকে বঞ্চিত করে প্রমোশন দিয়েছে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে !

অথচ ২০ দলের আসরে সুপার এইট পর্ব নির্ধারিত হয় ‘হেড টু হেড’ বিবেচনায় । যেখানে ঢাকা ক্রিক্রেটার্সের পরিবর্তে শীর্ষ আটে জায়গা পেয়েছিলো নারায়ণগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমি। এক টুর্নামেন্টে বিসিবির এমন দুই নিয়ম, কোনভাবেই মানতে পারছে না ভুক্তভোগী ক্লাব সবুজ বাংলা ক্রীড়া চক্র।

এমন অন্যায়ের প্রতিবাদে গেলো ১৫ ডিসেম্বর ক্রিকেট বোর্ড বরাবর একটি চিঠি পাঠায় ক্লাবটি। সেখানেও কোন জবাব না পেয়ে বিসিবিকে পাঠায় লিগ্যাল নোটিশ। এমনকি মামলার হুকিও দেয় তারা।

সবুজ বাংলা ক্রীড়া চক্রের ক্রিকেট সেক্রেটারি রিয়াজ আহমেদ বাবু বলেন, প্রথম লিগ থেকে সুপার লিগে উঠার জন্য তারা একটা প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে। আবার দ্বিতীয় বিভাগে উঠার জন্য আরেক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। এই অসঙ্গতি জানার জন্য আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে চিঠি দিয়েছিলাম। সেই চিঠির কোনো উত্তর না পাওয়ায় এই উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সবুজ বাংলা ক্রীড়া চক্রের সমন্বয়ক আলী আহম্মেদ বলেন, এখন পরিস্থিতি যেটা দাঁড়িয়েছে সেখানে আইনি প্রসেস ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।

আইনি নোটিশ প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করলেও এ নিয়ে বিস্তারিত কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন। যেমনটা রাজি হননি, কেন এক টুর্নামেন্টে দুই নিয়ম থাকবে সেটা নিয়েও কথা বলতে। সিসিডিএমের সদস্য সচিব তো ছিলেন আরো একধাপ এগিয়ে। বিসিবি নয় উল্টো তিনি দুষলেন ক্লাবগুলোকেই।

সিসিডিএমের সদস্য সচিব আলী হোসেন বলেন, এটা অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে মন্তব্য করার কিছুই নেই। যখন অ্যাকশন নেয়া হবে তখনই নেয়া হবে। তারা মামলা করবে কিনা সেটা তাদের ব্যাপার। ব্যাপারটা বিসির লিগ্যাল ডিপার্ন্টমেন্ট দেখছে। এগুলো ফালতু বিষয়। আসল ব্যাপারটা হলো মুষ্ঠিমেয় কিছু ক্লাব আমাদের বিতর্কিত করার জন্য এমনটা করছে। তারা ভালো টিম করে না আর একটু উনিশ বিশ হলেই এটা নিয়ে শোরগাল করে।

লিগ্যাল নোটিশের জবাবের জন্য সর্বোচ্চ ১০ দিন অপেক্ষা করবে সবুজ বাংলা কেসি। জবাব সন্তোষজনক না হলে বিসিবির বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ,  এ বিষয়ে বিসিবি’র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বোর্ড বলছে, এ ব্যাপারে তাদের লিগ্যাল ডিপার্টমেন্ট পদক্ষেপ নেবে।

আহাস/ক্রী/০০৪