Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারালেই সেমিতে বাংলাদেশ

আহসান হাবীব সুমন/ক্রীড়ালোকঃ

দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের সামনে কঠিন পরীক্ষা । শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে জুনিয়র টাইগারদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিকরা । ব্রিহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) পচেফস্ট্রমে অনুষ্ঠিত হবে আসরের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালটি । ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায়।

বাংলাদেশের যুবারা কখনই বিশ্বকাপ জেতে নি । ২০১৬ সালে একবারই জুনিয়র টাইগাররা সেমি ফাইনালে খেলেছে । সেটাও দেশের মাটিতে । সেই আসরে নিজ দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বাংলাদেশ তৃতীয় স্থান লাভ করেছিল।তবে এবার অনেক বড় স্বপ্ন নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকায় গেছে বাংলাদেশের যুব ক্রিকেট দল । সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক সাফল্যের মধ্যে থাকা জুনিয়র টাইগাররা খেলতে চায় আসরের ফাইনালে ।

২০১৬ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে ৩৩টি ওয়ানডে খেলে ১৮টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। হেরেছে মাত্র ৮টি ম্যাচ। এমন ধারাবাহিক সাফল্যে আকবর আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ফাইনালের স্বপ্ন দেখতেই পারে ।

চলতি বিশ্বকাপের শুরুটাও দারুণ করেছে আকবর আলীর দল । প্রথম দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে আর স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ । আর শেষ ম্যাচ পাকিস্তানের সাথে পরিত্যাক্ত হয় বৃষ্টির কারণে । ফলে ‘সি’ গ্রুপ থেকে সেরা হয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এসেছে বাংলাদেশের যুবারা । আর পাকিস্থান পায় দ্বিতীয় স্থান ।

যদিও পাকিস্তানের সাথে শেষ গ্রুপ ম্যাচে বাংলাদেশের পারফর্মেন্স ছিল হতাশাজনক । পাকিস্তানের পেস আক্রমণের সামনে ৯ উইকেটে ১০৬ রান তোলার পর বৃষ্টিতে খেলা হয়নি আর। বলা যায় , প্রকৃতির কল্যাণে অনেকটাই নিশ্চিত পরাজয় থেকে বেঁচে গেছে ইয়াং টাইগাররা ।

তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে হয়ে যাওয়া ভুল-ত্রুটি শুধরে নিতে আশাবাদী অধিনায়ক আকবর আলী । দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সম্পূর্ণ নতুন মানসিকতায় ম্যাচ জয়ের জন্যই ঝাঁপাতে চান তিনি । জানান , আগের ম্যাচের ভুলগুলি শুধরে পরের চ্যালেঞ্জ জিততে চায় দল।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আকবর আলী বলেছেন , ‘ খেলা আমার মনে হয় ৫০-৫০ হবে। চ্যালেঞ্জিং ম্যাচ হবে আমাদের জন্য। দক্ষিণ আফ্রিকা বেশ ভালো দল। ব্যাটিং-বোলিং, দুটি দিকে যদি আমরা ভালো করতে পারি, ওদেরকে হারানো সম্ভব। ‘

পাকিস্তানের বিপক্ষে হয়ে যাওয়া ম্যাচ নিয়ে আকবর আলী বলেছেন , ‘ পাকিস্তান ম্যাচে আমাদের ব্যাটিং ভালো হয়নি। বেশ কিছু বাজে শট খেলেছি আমরা। ভুলগুলো শোধরাতে আমরা ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিয়েছি গত কয়েকদিনে। বোলিংয়েও প্রথম পাওয়ার প্লে ও শেষ পাওয়ার প্লেতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে অনুশীলন করেছি। ‘

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে না বলেই জানিয়েছেন বাংলাদেশের যুব দলের অধিনায়ক ।

আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ চেয়ে থাকবে হৃদয়-রাকিবুলদের দিকে। রাকিবুল ২ ইনিংসে বল করে হ্যাটট্রিকসহ নিয়েছেন ৫ উইকেট। ৩ ম্যাচে ৮৮ রান নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মাহমুদুল হাসান জয়। একমাত্র ফিফটির দেখা পেয়েছেন ওপেনার পারভেজ হাসান ইমন।

দলের সেরা আর ইনফর্ম ব্যাটসম্যান তৌহিদ হৃদয় এখন পর্যন্ত কঠিন পরীক্ষায় পড়েন নি । তিন ম্যাচে দুটিতে ব্যাটিংয়ে নামতে পেরেছেন। একটিতে ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। আরেকটিতে ৪ রান করে আউট হন। আর সেটা পাকিস্তানের বিপক্ষে । আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দলের প্রয়োজনে হৃদয়ের উপর ভরসা করতেই হবে বাংলাদেশকে ।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দল আছে ইনজুরি সমস্যায় । পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী চোটে পড়ে দেশেই ফিরে এসেছেন। চোটগ্রস্ত অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার শামিম হোসেনও। দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের ইনজুরি কিছুটা হলেও চাপে ফেলেছে বাংলাদেশকে । বিশেষ করে অল রাউন্ডার মৃত্যুঞ্জয়কে বাংলাদেশ মিস করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই । আর শামিম হোসেন শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে পারেন , এই আশা পাওয়া গেছে ।

এদিকে মৃত্যুঞ্জয়ের বদলে ইতোমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় গেছেন আরেক অলরাউন্ডার মেহেরা ব হাসান। তিনি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এবং অফস্পিনার।

এদিকে শেষ আটে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা এখনও নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারে নি । আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ১২৯ রানে অল আউট হয়ে তারা হেরেছে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে । দ্বিতীয় ম্যাচে কানাডাকে ১৫০ রানে পরাজিত করে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। তৃতীয় ম্যাচে ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে আরব আমিরাতকে ২৩ রানে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়।

তবে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান ব্রাইস পারসনস। ৩ ম্যাচে একটি করে ফিফটি ও সেঞ্চুরিতে তার সংগ্রহ ২৪৫ রান। তিনি এখন পর্যন্ত আসরের সেরা রান-সংগ্রাহক । এছাড়া বল হাতে আকিল ক্লোট নিয়েছেন ৫ উইকেট। এ দুজন বাংলাদেশের জন্য বিপদের কারণ হতে পারেন কোয়ার্টার ফাইনালে ।

এখন পর্যন্ত দুই দেশের যুবাদের লড়াইয়ে ইতিহাস বাংলাদেশের পক্ষে । দুই দলের পাঁচবারের মুখোমুখি দেখায় বাংলাদেশ জিতেছে তিনটি ম্যাচে । এছাড়া যুব বিশ্বকাপে আগের দুই দেখায় একটি করে জয় আছে উভয়ের ।

২০১৬তে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪৩ রানে হারায় বাংলাদেশ। আর সর্বশেষ ২০১৮তে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী প্লে-অফে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৮ উইকেটে পরাজিত হয় বাংলাদেশ।

তবে এবারের বাংলাদেশ দলটি অনেক বেশী আত্মবিশ্বাসী আর অভিজ্ঞ । অনেকদিন ধরে দলের খেলোয়াড়রা খেলছেন একসাথে । ইংল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ জিতে আসা এই দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাবে এবং খেলুবে সেমি ফাইনালে , এটা আশা করাই যায় । তবে সেই জন্য প্রয়োজনের সময়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার কোন বিকল্প নেই । আর খেলাটি যেহেতু নক-আউট পর্বে , তাই সামান্য ভুলেই ছিটকে যেতে হতে পারে বাংলাদেশকে ।

আহাস/ক্রী/০০৩