Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

কি শুরু করেছেন মাশরাফি ?

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

চলমান বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) প্লে-অফ থেকে বিদায় নিয়েছে  মাশরাফি বিন মুর্তজার ঢাকা প্লাটুন  । সোমবার (১৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের কাছে অসহায়ভাবে সাত উইকেটে হেরেছে মাশরাফির ঢাকা ।

ঢাকার হারের পর অনেকেই প্রশংসা করেছেন মাশরাফির । কারণ চট্টগ্রামের বিপক্ষে ‘বাঁচা মরার ম্যাচে’ হাতে ১৪টি সেলাই নিয়ে খেলেছেন ঢাকার অধিনায়ক ।   আবার  একইসাথে সমালোচনাও কম  হচ্ছে না  ।আনফিট’ মাশরাফিকে খেলার অনুমতি দেয় নি দলের চিকিৎসক । কিন্তু অনেকটা জোর করেই মাঠে নামেন ম্যাশ । খেলার জন্য ফিট না থাকা মাশরাফি অবশ্য দলের তেমন কোন উপকারে আসতে পারেন নি ।

মাশরাফি অনেক ধরেই ফর্মে নেই । সর্বশেষ আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক পেয়েছেন আট ম্যাচে এক উইকেট । বয়সের ভারে ন্যুজ মাশরাফির কারণেই বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত সাফল্য পায় নি বাংলাদেশ – এমন অভিমত বিদেশী অনেক বিশেষজ্ঞের । বাংলাদেশে এমন কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন সাকিব আল হাসান । বর্তমানে নিষিদ্ধ সাকিব জানিয়েছিলনে , বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ছিলেন ম্যাশ ।

অথচ পারফর্ম করতে না পারা মাশরাফি যদি নিজেকে প্রথম একাদশ থেকে সরিয়ে নিতেন , তাহলে দলের অন্য কেউ সুযোগ পেত । যে মাশরাফির চেয়ে ভাল না করলেও,  খারাপ করত না । অথচ শুধু অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেমে তিনি দলের বোঝা বাড়িয়েছেন ।  ক্ষতি করেছেন । এমন না দলের অধিনায়ক আসরের মাঝপথে বিশ্রামে থাকতে পারবেন না – এমন কোন নিয়ম আছে !

মাশরাফি ঢাকাকেও ডুবিয়েছেন শেষ ম্যাচে । যদিও দলে তার জায়গা নেয়ার মত খেলোয়াড় ছিল । কিন্তু শুধু প্রভাব খাঁটিয়ে তিনি নেমে গেছেন খেলতে । আর সেটা সম্ভবত নিজেকে ‘ সাহসী হিরো’ জাতীয় কিছু প্রমাণ করতে । ইনজুরি নিয়েও মাঠে খেলছেন , যা নিয়ে  আবেগে ভাসবে ভক্তরা – এটাই হয়ত ছিল তার ভাবনায় । সেটা  কিছুটা অবশ্য হয়েছেও ! 

অথচ দলের প্রতি ভালবাসা আর দায় থাকলে এমনটা করতেন না মাশরাফি । নিজেই নিজেকে সরিয়ে নিতেন খেলা থেকে । শেষ পর্যন্ত খেলে কি করলেন ? চার ওভারে দিলেন ৩৩ রান । আর ২ বলে কোন রান না করে অপরাজিত থাকলেন ! ধরেছেন এক হাতে ক্রিস গেইলের একটি ক্যাচ , যা নিয়ে চলছে প্রশংসা , হয়ত এটাই চান মাশরাফি !

জাতীয় দলের হয়ে গত বিশ্বকাপের পর থেকে মাঠে নেই ম্যাশ । ঘোষণা দিয়ে শেষ করেছেন বিদেশে খেলা সেই সময়েই । কিন্তু ছাড়ছেন না অধিনায়কত্ব । এই নিয়েও অনিশ্চয়তায় রেখেছেন দলকে । বলছেন , বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) চাইলে সরে দাঁড়াবেন ওয়ানডে অধিনায়কের পদ থেকে !

কিন্তু নিজে কেন সরে দাঁড়াচ্ছেন না মাশরাফি ? তার নিজের বোঝা উচিৎ , বর্তমান ফর্মের বিচারে জাতীয় দলে  কোনভাবেই খেলার যোগ্যতা তার নেই । তবু তিনি রয়ে যাচ্ছেন শুধু অধিনায়ক হিসেবে । হয়ত বিসিবি’র কাছ থেকে ইতিহাস-সেরা কোন বিদায়ী অভ্যর্থনার আশায় বসে আছেন । অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বিসিবি সেটা দেবেও । তাতে সারাজীবন দেশের ক্রিকেটে ‘আইকন’ হিসেবে টিকে থাকা পাকা হবে মাশরাফি- সেই আশাতেই এখনও অচল হয়েও  জাতীয় দলের সাথে ঝুলে আছেন মাশরাফি । 

এটা ঠিক , মাশরাফি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সেরাদের একজন । সেটা খেলোয়াড় আর অধিনায়ক – দুই বিবেচনাতেই । তার অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ অনেক সাফল্য পেয়েছে । কিন্তু এই সময়ে বাংলাদেশ  পেয়েছে নিজেদের ইতিহাসের সেরা স্কোয়াড – সেটাও মনে রাখতে হবে । অবশ্য  একটা ক্ষেত্রে মাশরাফি অনন্য , সেটা হল ক্যারিয়ারে অনেকবার বড় বড় ইনজুরি নিয়ে তার ফিরে আসা । তবে সেই সময় তার বয়স আরও কম ছিল । তিনি পেরেছেন । কিন্তু এখন বয়স আর ফর্মে বিচারে মাশরাফি আসলে জাতীয় দল দূরে থাক , ঘরোয়া ক্রিকেটের বড় দলেও সুযোগ পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন না । যেটা দেখা গেছে এবারের বিপিএলের প্লেয়ার্স-চয়েজে । যেখানে প্রথম কয়েক দফায় কোন দলই মাশরাফির প্রতি আগ্রহ দেখায় নি । একেবারে শেষবেলায় ঢাকা তাকে নিয়ে মান বাঁচিয়েছে ।

আলামত যা দেখা যাচ্ছে , তাতে আগামী বিপিএলে মাশরাফিকে কেউ নেবে কিনা সেটা সন্দেহ । ফলে এখনই সময় তার মানে মানে সরে পড়া । তাতে তার নিজের সম্মান বাঁচবে । এইভাবে ইনজুরি নিয়ে খেলার স্ট্যান্টবাজি করে আর দলকে ডুবিয়ে খুব বেশীদিন নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন না মাশরাফি , নিশ্চিত ।

এই ক্ষেত্রে বিসিবিও নিতে পারে কার্যকর ভুমিকা । মাশরাফি নিজে সরতে না চাইলে , নির্বাচকরাই নিতে পারে কঠোর সিদ্ধান্ত । দলের বোঝা হয়ে থাকা কোন খেলোয়াড়কে তারা কেন বারবার সুযোগ দেবে ? এমন না , অধিনায়ক হবার মত কেউ নেই । আর না থাকলেও সেই ক্ষেত্রে তৈরি করে নিতে হবে নতুন অধিনায়ক । তা না করে মাশরাফির পেছনে কেন পড়ে আছে বিসিবি , সেটাই বোঝা যাচ্ছে না ।

পৃথিবীতে অনেক বড় বড় ক্রিকেটার ফর্মে থাকাবস্থায় অবসরে গিয়ে পুজ্য হয়ে আছেন । যেমন-রিকি পন্টিং । আবার অনেকেই জোর করে টিকে থাকার চেষ্টায় এক সময় অপাংক্তে হিসেবে ছিটকে পড়েছেন একটা সময়  । হারিয়েছেন সম্মান । মাশরাফি যেভাবে চলছেন , তাতে অচিরেই তার ললাটে  অসম্মানজনক পরিনতি ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয় না । হয়ত একদিন ক্রিকেট ভক্তরা দাবী তুলে দাঁড়িয়ে যাবে রাস্তায় – মাশরাফি তুমি সরে দাঁড়াও ।

সেই কারণেই মাশরাফির উচিৎ , সস্তা স্ট্যান্টবাজি বাদ দিয়ে মানে মানে সব ধরণের ক্রিকেট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়া ।এটা দেশের ক্রিকেট আর তার নিজের সম্মানজনক বিদায়ের জন্য খুব জরুরী  । 

মাশরাফি তার টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩৬  ম্যাচে নিয়েছেন ৭৮ উইকেট । করেছেন ৭৯৭ রান । টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫৪ ম্যাচে পেয়েছেন ৪২ উইকেট । পেয়েছেন ৩৭৭ রান । এই দুই ধারার ক্রিকেট থেকেই বিদায় ঘটেছে তার । 

আর ওয়ানডে  ক্যারিয়ার নিয়ে ঝুলে থাকা মাশরাফি দেশের হয়ে ২১৭ ম্যাচে শিকার করেছেন ২৬৬ উইকেট । আর ব্যাট হাতে তার ঝুলিতে আছে একটি ফিফটিসহ ১৭৮৬ রান । তিন ধারার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাশরাফির এই একটাই ফিফটি রানের ইনিংস । 

আহাস/ক্রী/০০৪