Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

অর্থহীন ফুটবল খেলছে মেসি এন্ড কোং

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

নতুন ২০২০ সালের প্রথম মাসেই দ্বিতীয় হারের স্বাদ নিয়েছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা । স্প্যানিশ সুপার কোপার সেমি ফাইনালের পর এবার তারা হেরেছে লা লীগায় । সর্বশেষ তাদের হারিয়েছে ভ্যালেন্সিয়া ।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) ভ্যালেন্সিয়ার মাঠ মেস্তেল্লা স্টেডিয়ামে খেলতে যায় বার্সেলোনা । ম্যাচটি বার্সেলোনা হেরেছে ০-২ গোলে ।

চলতি জানুয়ারিতে স্প্যানিশ সুপার কোপার সেমি ফাইনালে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে বিদায় নেয় বার্সেলোনা । বরখাস্ত হন কোচ আর্নেস্তি ভেলভার্দে । নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় কুইকে স্যাতিয়েনকে । নতুন কোচ এসেই বার্সেলোনাকে পুরনো টিকি-টাকা ফুটবলে ফিরিয়ে আনেন । যে ফুটবল কিছুটা শুরু করেছিলেন ‘টোটাল ফুটবলের জনক’ ইয়োহান ক্রুয়েফ । পরে পেপে গুয়ার্দিওলা আর লুইস এনরিখের আমলে যা পায় চরম উৎকর্ষ । এই সময়ে তুমুল সাফল্য পাওয়া বার্সেলোনা পরিনত হয় বিশ্বের সেরা ফুটবল ক্লাবে ।

লুইস এনরিকের পর ভেলভার্দে এসে টিকি-টাকা ফুটবল থেকে অনেকটাই সরে আসেন । তার আড়াই বছরের কোচিংয়ে বার্সেলোনা দুইটি লা লীগা , একটি করে কোপা ডেল রে আর স্প্যানিশ সুপার কোপা জিতেছিল । কিন্তু তারপরেও ইউরোপিয়ান ফুটবলের ব্যর্থতায় অনেকেই সন্তুষ্ট ছিল না ভেলভার্দের উপর । সমর্থকদের ধারণা ছিল , সফল টিকি-টাকা ধারা থেকে সরে আসাতেই ফের বিশ্বসেরা হতে পারছে না কাটালান ক্লাবটি ।

স্যাতিয়েন নিয়োগ পাওয়ায় তাই অনেকেই খুশী ছিল । সাবেক রিয়েল মাদ্রিদ কোচ স্যাতিয়েন আবার ক্রুয়েফ এবং টিকি-টাকার বিরাট ভক্ত ! এসেই ঘোষণা দেন , বার্সাকে ফিরিয়ে আনবেন আগের অবস্থায় ।

স্যাতিয়েনের অধীনে প্রথম দুই ম্যাচে দেখা গেছে টিকি-টাকা ফুটবল । নিজেদের কাছে যত বেশী সম্ভব বল রেখে তারা খেলেছে গ্রানাডা আর ইবিজার বিপক্ষে । লীগে গ্রানাডার বিপক্ষে তাদের বল পজিশন ছিল ৮৩% । আর ইবিজার বিপক্ষে ৭৮% । গ্রানাডার বিপক্ষে বল নিজেদের মধ্যে বল আদান প্রদানে তো গড়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড । সেদিন বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যে ১০০২টি পাস । আর কোপা ডেল রে’তে ইবিজার বিপক্ষে পাসের সংখ্যা ছিল ৭১৮টি । তবে গ্রানাডার বিপক্ষে ১-০ আর ইবিজার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় টিকি-টাকার সার্থকতা বয়ান করে না ।

এবার ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে হারের ম্যাচেও ৭৪% বল বার্সেলোনা রেখেছে নিজেদের দখলে । পাস বিনিময় করেছে ৮৬৭টি । পক্ষান্তরে ২৯৭ পাস খেলেই ম্যাচ জিতেছে ভ্যালেন্সিয়া !

তাহলে কি লাভ এমন টিকি-টাকা ফুটবল খেলে ?

ভ্যালেন্সিয়ার কাছে হারের পর অবশ্য বার্সেলোনার কোচ স্যাতিয়েন টিকি-টাকার কোন দোষ দেখছেন না । তিনি সব দায়ভার চাপিয়ে দিয়েছেন দলের খেলোয়াড়দের উপর । বলেছেন , লিওনেল মেসি এন্ড কোং বুঝতেই পারছে না তার কৌশল !

৬১ বছরের স্যাতিয়েন জানিয়েছেন , ‘ আমরা একেবারেই ভাল খেলি নি । বিশেষ করে প্রথমার্ধে আমরা যাচ্ছেতাই খেলেছি । দলের খেলোয়াড়রা আমার কৌশল বুঝতেই পারছ না ! ‘

বার্সেলোনার মূল সমস্যা রক্ষণে । চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত তারা লীগে গোল খেয়েছে ২৫টি ! চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ২১ ম্যাচে ২৫ গোল হজম করা একটু বাড়াবাড়ি । বিশেষ করে অ্যাওয়ে ম্যাচে বার্সেলোনা হারছে এইসব ম্যাচ ।

তার উপর বার্সেলোনার হয়ে মাঠে নামতে পারছেন না লুইস সুয়ারেজ । বার্সেলোনার ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার ইনজুরির কারণে আগামী আরও প্রায় এক মাস মাঠে নামতে পারবেন না । শুধু এন্থইন গ্রিজম্যান আর ফলস নাইনে মেসিকে দিয়ে প্রত্যাশিত গোল আসছে না । যা ভোগাচ্ছে বার্সেলোনাকে ।

নিজের কৌশল নিয়ে স্যাতিয়েন জানিয়েছেন , ‘ আমরা খেলায় অনেক পাস দিচ্ছি । কিন্তু সেগুলো সব অর্থহীন । শুধু নিজেদের মধ্যে বল রেখে খেললেই চলবে না , প্রতিপক্ষকেও আঘাত করতে হবে – এটাই বুঝতে পারছে না আমার খেলোয়াড়রা । ‘

মধ্যমাঠে ফ্রাংকি ডি ইয়ং খেলছেন , এটা যেন বোঝাই যাচ্ছে না । আন্দ্রে ইনিয়েস্তা আর জাভিদের সেই মধ্যমাঠের সাথে এখনকার জর্ডি আলবা , সার্জিও বুস্কেটস আর ডি ইয়ংদের তুলনা স্রেফ হাস্যকর হয়ে যাচ্ছে । এখানে ভীষণ মার খাচ্ছে বার্সেলোনা । মধ্যমাঠ নিস্ক্রিয় থাকায় গড়ে উঠছে না আক্রমণ , পাওয়া যাচ্ছে না প্রত্যাশিত গোলের দেখা । ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে দুই উইংয়ে আর্থার আর আন্সু ফাতিহ স্রেফ ছুটে বেরিয়েছেন । কাজের কাজ করতে পারেন নি কিছুই ।

এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণে বার্সেলোনার নতুন কোচ জানিয়েছেন , ‘ আমার খুব তাড়াতাড়ি নিজেদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে । আমরা কোচিং স্টাফরা হয়ত খেলোয়াড়দের বোঝাতে পারছি না । ফলে তারাও নির্দেশমত খেলতে পারছে না ! ‘

তবে ঘটনা যাই হোক , এই মুহূর্তে বার্সেলোনার অধিনায়ক মেসি আছেন ভীষণ চাপে । সুয়ারেজকে হারিয়ে মেসি যেন হয়ে পড়েছেন ভীষণ অসহায় । নিজে তিনি খারাপ খেলেন নি । বার্সেলোনার নেয়া ১৪টি শটের মধ্যে ১১টি নিয়েছেন তিনি । কিন্তু একাধিকবার তাকে হতাশ করেছেন ভ্যালেন্সিয়ার কিপার জমুয়া ডমিনিখ । আসলে সুয়ারেজ না থাকায় শুধু মেসির উপরেই এখন নজর দিচ্ছে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স । তাদের কাজ এখন এটাই । ফলে মেসি হয়ে পড়ছেন নকদন্তহীন ।

এমন অবস্থায় , সামনের কঠিন সময়ে বার্সার ভাগ্যে কি আছে সেটা অনিশ্চিত । বিশেষ করে উইয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের মত আসরে । দেশের মাটিতেই বার্সেলোনাকে অ্যাওয়ে ম্যাচে মনে হচ্ছে অসহায় । আর এটা তো ইউরোপের কঠিন পাল্লা । নিজেও অ্যাওয়ে ম্যাচে দুর্বল মেসি বার্সেলোনাকে সব বৈতরণী পার করিয়ে দেবেন , এমন ভরসা আর রাখা যাচ্ছে না ।

সব মিলিয়ে ভীষণ বাজে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাওয়া বার্সেলোনার কোচ বদল হয়েছে , কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টায় নি । কোচ স্যাতিয়েন সেটা সহসাই পাল্টে দেবেন সেটাও বলা যাচ্ছে না ।

আহাস/ক্রী/০০৪