Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

শেখ হাসিনা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনাল

আহসান হাবীব সুমন/ক্রীড়ালোকঃ

রাজধানী ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণ করা হবে অত্যাধুনিক শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়াম । নৌকার আদলে গড়ে তোলার পরিকল্পনায় থাকা স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ এখনও শুরু হয় নি । যদিও ইতোমধ্যেই সেই পরিকল্পিত স্টেডিয়ামে আগামী নারী বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের স্বপ্ন দেখিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নাজমুল হাসান পাপন ।

কিছুদিন আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘আইসিসি’জানিয়েছে , ২০২৪ সালের নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজন হবে বাংলাদেশে । ইতোপূর্বে ২০১৪ সালে নারী-পুরুষ দুই বিভাগেরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজন করেছিল বিসিবি। ১০ বছর আবার ২০২৪ সালে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্বাগতিক হয়েছে বিসিবি। তবে এবার নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজন হবে এককভাবে ।

গত ২৬ জুলাই আইসিসি’র সভায় ২০২৪ সালের নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের নাম ঘোষণা করা হয় । সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি । রবিবার (৩১ জুলাই) আইসিসি সভার কাজ শেষ করে দেশে ফিরেছেন পাপন । দেশে ফিরেই হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে উচ্ছাসের সঙ্গে জানিয়েছেন , ২০২৪ সালের নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ পূর্বাচলের শেখ হাসিনা স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে চান ।

যদিও পাপন নিজেই জানেন , এটা আসলে কার্যত সম্ভব না । কারণ পূর্বাচলে জমি বরাদ্দ পাওয়া আর নকশা তৈরি ছাড়া পরিকল্পিত স্টেডিয়ামের কাজ আসলে এগুয় নি । স্টেডিয়াম নির্মাণে একটা প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখনও ঠিক হয় নি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান । মোট কথা , শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম এখনও শুধু পরিকল্পনাতেই সীমাবদ্ধ আছে , যার নির্মাণ প্রক্রিয়া চলছে নিয়ম মেনে , ধীর গতিতে ।

তবে বার্মিংহ্যামের আইসিসি সভায় নারী বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ায় শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজে গতিসঞ্চার হবার সম্ভাবনা প্রবল । কারণ বোর্ড সভাপতি নিজেই নির্মীয়মাণ স্টেডিয়ামে ২০২৪ সালের নারী বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের স্বপ্ন দেখছেন । এই নিয়ে পাপন জানিয়েছেন , ‘ ২০২৪ সালের ফাইনাল শেখ হাসিনা স্টেডিয়ামে করতে পারলে ভাল হত । যদিও আমি জানি , এটা সম্ভব না । তারপরেও আমি বলছি চেষ্টা করবো। যেহেতু আমাদের সবকিছুই শেষ, এখন শুধু কনসালটেন্টের নাম ঘোষণার বাকি। এরপর তারা যত তাড়াতাড়ি করতে পারবে তত ভালো হয়। ওটার মধ্যে যদি হয় তাহলে আমরা শুধু ফাইনালটা আয়োজন করতে পারলে খুব ভালো হয়। এই টার্গেটটা নিয়েই নামবো, না হলে বিকল্প তো আছেই।’

পাপনের কথায় স্পষ্ট , ২০২৪ সালের নারী বিশ্বকাপ সামনে রেখে জোর পেতে চলেছে শেখ হাসিনা স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজে । বাংলাদেশে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে। ১০টি দল মিলে খেলবে মোট ২৩টি ম্যাচ।

নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে , সেই কারণে বাংলাদেশের মেয়েদের উপর থাকছে ‘ভাল করার’ বাড়তি চাপ । এই নিয়ে পাপন জানিয়েছেন , ‘ ‘আমাদের মেয়েরা ভালো করছে। আসলে আমরা তো তাদেরকে তেমন কিছু করতে পারিনি। একটা সময় তাদেরকে বাইরে থেকে কোচ দিয়েছিলাম। এশিয়া কাপে যেবার চ্যাম্পিয়ন হলো সেবার। তবে এখন কোচিং স্টাফও নেই। আমাদের এখনই ফিজিও, কোচ, ট্রেনার যা যা লাগবে সব নিতে বলেছি।’

পাপন শুধু নারী বিশ্বকাপের সফল আয়োজন নিয়েই ভাবছেন না , মেয়েরা যাতে আসরে সেরা কিছু দিতে পারে – সেই পরিকল্পনাও করছেন । তিনি জানিয়েছেন , ‘ আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই। এটা একটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। বিশ্বকাপে যে দলগুলো খেলে, কয়েকটা দল খুবই শক্তিশালী, চিন্তার বাইরে। উদাহরণ হিসেবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া অবিশ্বাস্য। অন্য যারা আছে তারাও খুব ভালো লড়াই করছে। এদিকে ভারত-পাকিস্তান তো শক্তিশালী আছেই, ধারাবাহিক খেলার মধ্যেও আছে। আমাদের মেয়েদের পরিকল্পনা নিয়ে বসতে হবে। বাংলাদেশে বিশ্বকাপ হচ্ছে আমাদের মেয়েরা যেন ভালো লড়াই করতে পারে। হার জিত নিয়ে আমি চিন্তিত না, যেন ভালো একটা ফাইট দিতে পারে সেটা আমাদের দেখতে হবে।’

বিসিবি সভাপতি কথা বলেন আগামী পাঁচ বছরের (২০২৩-২০২৭) এফটিপি নিয়েও। এই পাঁচ বছরের চক্রে বাংলাদেশ আগের থেকে বেশি ম্যাচ পেয়েছে। ৩৪ টেস্ট, ৫৯ ওয়ানডে ও ৫১ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ১৪৪টি ম্যাচ। যা সর্বোচ্চ ম্যাচ পাওয়া উইন্ডিজের ১৪৬টির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।এর বাইরে বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট ও মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা তো রয়েছেই।

এফটিপিতে ম্যাচের সংখ্যা বাড়ায় নীতিনির্ধারকদের মুখে হাসি থাকলেও ক্রিকেটারদের কথা ভেবে কিছুটা শঙ্কাও বিরাজ করছে। আগে কখনোই এত ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ। হঠাৎ করে পেয়ে যাওয়া এত বেশী ম্যাচের চাপ বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা সামাল দিতে পারবে কিনা সেটাও প্রশ্ন ।

এই নিয়ে পাপন বলেছেন , , ‘এত বেশি ম্যাচ খেলব কীভাবে? আইসিসির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত অনেক ছিল। একটা ছিল, খেলা বণ্টন। এফটিপি আছে। অফিসিয়ালি ঘোষণা না দেওয়া পযন্ত আমরা বলছি না। এক সপ্তাহের ভেতরে দিয়ে দেওয়ার কথা। এফটিপি যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যে পরিমাণে খেলা আছে, আমার মনে হয় এখন আমাদের দুঃশ্চিন্তার বিষয় খেলবো কীভাবে? এত ম্যাচ খেলা আসলেও কঠিন।’

বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘এখন আমাদের দল আলাদা করা ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব না। কয়েকটা খেলোয়াড়ের উপর চাপ এত বেশি পড়বে, যেটা আসলে ওদেরকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। অদল-বদল করে খেলতে হবে। এ ছাড়া কোনো উপায় নেই।’

রোটেশন পদ্ধতি চলমান রাখতে জাতীয় দলের সাথে অন্যান্য স্কোয়াডের ক্রিকেটারদের খেলার মধ্যে রাখা জরুরী । এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ‘এ’ দল আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে । এছাড়া বাংলাদেশ টাইগার্স নামে আরেক দলেও অনুশীলনের মধ্যে থাকছেন ক্রিকেটাররা । এইসব দলের সাথে আছে বয়সভিত্তিক স্কোয়াড । যাদের কার্যকারিতা বাড়িয়ে জাতীয় দলের জন্য ক্রিকেটার তৈরি রাখা এখন সময়ের দাবী । ভারতসহ অন্যান্য দেশের মত ক্রিকেটারদের সিরিজ বাই সিরিজ বিশ্রাম দিয়ে খেলাতে পারবে বাংলাদেশ । আর এতে ক্রিকেটারদের উপরেও পড়বে না টানা খেলার বাড়তি ধকল ।

আহাস/ক্রী/০০৫