Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

ফুটবলের আরও একটি ভয়ঙ্কর ‘ত্রিফলা’ এখন ইতিহাস

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ 

ফুটবলে যে কোন দলের  ফরোয়ার্ড লাইনে তিনজন সেরা মানের খেলোয়াড় পাওয়া অনেকটাই  কঠিন ব্যাপার । যারা নিজেদের মধ্যে গড়ে ওঠা তালমিলে প্রতিপক্ষ শিবিরকে ধ্বংস করে দিতে পারেন ।  সর্বশেষ এমন  তিন ফুটবলারের মিলমিশ পারফর্মেন্স দেখা গিয়েছিল লিভারপুলে । তবে সেটাও এখন অতীত । 

 ক্লাব  ফুটবলের আক্রমণভাগে ভাগে ভয়ংকর ‘ত্রয়ী’ প্রসঙ্গ উঠলেই চলে আসে ‘বিবিসি’ এবং ‘এমএসএন’ এর  আলোচনা । রিয়েল মাদ্রিদে গ্যারেথ বেল , করিম বেঞ্জেমা আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো গড়ে তুলেছিলেন ‘বিবিসি’ । অন্যদিকে  একই সময়ে রিয়েলের প্রতিপক্ষ বার্সেলোনা  পেয়েছিল  লিওনেল মেসি , নেইমার জুনিয়র আর লুইস সুয়ারেজকে  । তারাই পরবর্তীতে পরিচিতি পেয়েছিল ‘এমএসএন’ নামে । ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই ক্লাবের দুই ত্রয়ী সারা বিশ্বের মানুষকে মাতিয়ে রেখেছিল বেশ কয়েক বছর । আবার আন্তর্জাতিক  ফুটবলে ‘ত্রয়ী’ বলতে সবার আগে মনে পড়ে রিভালদো , রোনালদিনিও আর রোনাল্ডো নাজারিওর নাম , যারা ছিল ‘ট্রিপল আর’ । এই ‘ট্রিপল আর’ ২০০২ সালে সালে ব্রাজিলকে এনে দিয়েছিল পঞ্চম বিশ্বকাপ । 

বার্সেলোনায় ‘ এমএসএন’ ছিল  শুধু ল্যাটিন খেলোয়াড়দের নিয়ে । মেসি আর্জেন্টিনার , নেইমার ব্রাজিলের আর সুয়ারেজ উরুগুয়ের । বার্সায়  এই ত্রিফলা কার্যকর ছিল তিন বছর । যারা গোল করেছেন মোট ৩৬৩টি । এক মৌসুমে এই ত্রয়ীর কাছ থেকে বার্সেলোনা পেয়েছে ১৩১টি  গোল । যা যে কোন ত্রয়ীর এক  মৌসুমে  সর্বোচ্চ ।  এছাড়া তিন বছরে এই তিন খেলোয়াড় একজন আরেকজনের জন্য এসিস্ট করেছেন ১৭৩টি ।  একসাথে খেলা ত্রয়ীর তিনজনেই গোলের দেখা পেয়েছেন ১৬ ম্যাচে !  এই ত্রয়ীর কাঁধে  চড়ে টানা  দুইটি লা লিগা ছাড়াও বার্সা জিতেছে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ , কোপা ডেল রে , স্প্যানিশ সুপার কাপ , উয়েফা সুপার কাপ  আর ফিফা  ক্লাব বিশ্বকাপ । তারা সব মিলিয়ে জিতেছে নয়টি শিরোপা । 

অন্যদিকে শিরোপা সংখ্যায় সবাইকে পেছনে ফেলেছে রিয়েল মাদ্রিদের ‘বিবিসি’ । তাদের শিরোপা সংখ্যা ১৪টি ।  যার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ আর ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ আছে চারটি করে । তারা  একত্রে করেছেন  ৪৪২টি গোল ।  তবে ক্লাব ফুটবলে সবচেয়ে  সফল বলা যায় আলফ্রেডো ডি স্টেফানো , পাকো জেন্তো আর ফেরেংক পুশকাস ত্রিফলাকে ।  ১৯৫৮-৬৪ পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এই ত্রয়ী  রিয়েল মাদ্রিদের হয়ে করেছেন ৪৬৪ গোল । এছাড়া আশির দশকের মাঝামাঝি  সময়ে মিকায়েল , এমিলি বুত্রাগুয়েনা আর হুগো সাঞ্চেজ মিলে করেছেন ৪২০ গোল । 

সময়ের পরিক্রমায় ,  উপরের  সব কয়টি  ভয়ংকর ‘ত্রয়ী’ই  বিচ্ছিন্ন ।   বার্সেলোনা আর রিয়েলের ‘ত্রয়ী’ সদস্যা খেলার মাঠে থাকলেও , খেলছেন ভিন্ন ভিন্ন ক্লাবে ।এদিকে বার্সেলোনা আর আক্রমণভাগের  ‘ত্রিফলা’  ভেঙ্গে যাওয়ার পর লিভারপুলের হয়ে আধিপত্য দেখাতে শুরু করছিলেন   মোহাম্মদ সালাহ , সাদিও মানে আর রবার্টো ফির্মিনিও ।  যাদেরকে ডাকা হত ‘ এসএমএফ’ নামে । তারাও লিভারপুলকে এনে দিয়েছেন স্মরণীয় সাফল্য । তবে সম্প্রতি সাদিও মানে লিভারপুল ছেড়ে যোগ দিয়েছেন জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখে । তাই লিভাপুলের ত্রিফলাও এখন ইতিহাসের পাতায় ।   সময়ের হিসেবে ১৭৫০দিন টিকেছিল এই ত্রয়ী । 

 সালাহ , মানে আর ফির্মিনিও মিলিতভাবে লিভারপুলের হয়ে গোল করেছেন ৩৩৮টি । যেখানে সবচেয়ে বেশী ১৫৬ গোল সালাহর । এছাড়া মানে ১০৭টি আর ফির্মিনিও করেছেন ৭৫টি । এছাড়া তিনজন মিলে একে অন্যের জন্য এসিস্ট  করেছেন ১৩৯টি । এসিস্টেও সালাহ সবচেয়ে এগিয়ে । তার এসিস্ট সংখ্যা ৫৮টি ।  এছাড়া ফির্মিনিও  দুই সতীর্থের ৫০ গোলে অবদান রেখেছেন । আর সাদিও মানে করেছেন ৩১টি এসিস্ট । 

অসমান্য ত্রয়ী’র কাঁধে ভর  করে লিভারপুল পেয়েছে চিরস্মরণীয় সাফল্য । ত্রিশ বছর পর  ২০১৯-২০ মৌসুমে অল রেডরা জিতেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের শিরোপা । জিতেছে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ আর প্রথমবারের মত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ । এছাড়া ১৬ বছর পর এফএ কাপের শিরোপাও এসেছে এই সময়ে । সব মিলিয়ে লিভারপুলকে তারা এনে দিয়েছেন ছয়টি  ট্রফি । 

চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ২০১৮-১৯ মৌসুমে লিভারপুলের ত্রয়ীর প্রত্যেকে করেছেন কমপক্ষে ১০টি করে গোল । যা এখন পর্যন্ত  আর  কেউ করে দেখাতে পারে নি । লিভারপুল সব সময়েই  ইউরোপের অন্যতম  শক্তি । কিন্তু ভাগ্যের বিড়ম্বনায় বারবার  তাদের হাত ফস্কে   যাচ্ছিল চূড়ান্ত সাফল্য । কিন্তু ইউর্গেন ক্লপসের  যুগে ‘ এসএমএফ’ ভাগ্যকে জয় করতে পেরেছে সফলভাবে । কিন্তু লিভারপুল আর পাবে না এই ত্রিফলার সাহায্য । কারণ সাদিও মানে দল ছেড়েছেন । অল রেড সমর্থকরা কোনদিন এই ত্রয়ী’কে ভুলে পারবে না , নিশ্চিত । 

তবে ফুটবল সমর্থকদের জন্যে এখনও আশা হয়ে আছে পিএসজি । কারণ সেই দলে মিলিয় হয়েছেন মেসি আর নেইমার ।  সেখানে আগে থেকেই আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে । যদিও এই ত্রয়ী  প্রথম ২০২১-২২ মৌসুমে তেমন কিছুই করতে পারেন নি । বার্সা থেকে আসা মেসি ছিলেন নিজের ছায়ায় ।  নেইমারকেও গোল করায় সেভাবে পাওয়া যায় নি । তবে  এমবাপ্পে ছিলেন সেরা ফর্মেই ।  আসন্ন মৌসুমে মেসি-নেইমার-এমবাপ্পে অসাধারণ কিছু করতে পারে কিনা সেটা দেখা অপেক্ষায় আছে সবাই । তারা  সফল হলে হয়ত ফুটবল ভক্তরা দেখতে  পাবে আরও একটি   ত্রিফলার আধিপত্য । 

আহাস/ক্রী/০০২