Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

‘ফুটবল ইশ্বর’ চলে গেছেন পুরো এক বছর

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

আর্জেন্টিনার ‘ফুটবল ইশ্বর’ দিয়াগো ম্যারাডোনার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ()২৫ নভেম্বর । ২০২১ সালের ঠিক এই দিনে ম্যারাডোনা পাড়ি জমান পরপারে । মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ষাট বছর ।

ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে এখনও আছে নানা মত । প্রথমদিকে বলা হয়েছিল , নিজের বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ফুটবল দুনিয়ায় অবিসংবাদিত এই সম্রাট। মৃত্যুর মাসখানেক আগে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। ডাক্তারদের তরফ থেকে বলা হয়েছিল , তিনি শংকামুক্ত । কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি । এক সময় ম্যারাডোনার মৃত্যুতে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ ওঠে । এমনকি ম্যারাডোনাকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার’ অভিযোগে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোলদো লুকসহ ৭ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।

ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে রহস্য-ধোঁয়াশা কাটে নি । এর মধ্যেই ২৫ নভেম্বর পালিত হবে ফুটবল কিংবদন্তীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী । ম্যারাডোনার প্রয়ান দিবসে আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে প্রতিটা ম্যাচ শুরুর আগে পালন করা হবে এক মিনিট নীরবতা । ম্যারাডোনার স্মৃতি উদযাপন করবে ইটালির ক্লাব ন্যাপলি । ম্যারাডোনাই ন্যাপলিকে ইউরোপের সেরা ক্লাবের মর্যাদা দিয়েছিলেন । ইটালির নেপলস শহরে ম্যারাডোনার দুটি মূর্তি উন্মোচন করা হবে।

১৯৮৪-১৯৯১ পর্যন্ত নিজের সেরা সময়ে ম্যারাডোনা খেলেছেন ন্যাপলিতে । ১৯৮৪ সালের ৫ জুলাই সাও পাওলো স্টেডিয়ামে ৭৫ হাজার ন্যাপলি ভক্তের সামনে ম্যারাডোনাকে হাজির করা হয় । স্পেনের বার্সেলোনা থেকে ন্যাপলিতে আসা ম্যারাডোনা সাত মৌসুমে জিতেছেন দুইটি সিরি ‘এ’ , একটি করে ইটালিয়ান কাপ আর ইটালিয়ান সুপার কাপ । ন্যাপলিকে ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে এনে দেন ইউরোপ-সেরার মর্যাদা ‘উয়েফা কাপ’ জয়ের মাধ্যমে । ন্যাপলির হয়ে ২৫৯ ম্যাচ খেলে ১১৫ গোল করেছেন ম্যারাডোনা । ২০১৭ সাল পর্যন্ত ফরোয়ার্ড না হয়েও ন্যাপলির সর্বকালের সেরা গোলদাতা ছিলেন তিনি । যদিও ন্যাপলিতে শেষটা তাঁর ভাল ছিল না । ‘কোকেন’ কাণ্ডে কারাগার এড়াতে তাকে ইটালি ছাড়তে হয় ।

ক্লাব পর্যায়ে আর্জেন্টিনা জুনিয়র্সের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা ম্যারাডোনা খেলেছেন বোকা জুনিয়র্স , বার্সেলোনা , ন্যাপলি , সেভিয়া আর নিউ ওল্ড বয়েজে । ১৯৯৭ সালে বোকা জুনিয়র্সে খেলেই ফুটবলকে বিদায় জানান ম্যারাডোনা ।

ম্যারাডোনা ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের একক নায়ক । সেই বিশ্বকাপে প্রায় প্রতিটা দলে ছিল তারকার ছড়াছড়ি । জিকো , সক্রেটিস , এলেমাও , ক্যারেকা , ফ্যালকাওদের নিয়ে ব্রাজিল ছিল হট ফেভারিট । এছাড়া জার্মানিতে কার্ল হেইঞ্জ রুমেনিগে , রুডি ভলার , লোথার ম্যাথুজ খেলেছেন । ছিলেন বেলজিয়ামের এঞ্জো শিফো , উরুগুয়ের এঞ্জো ফ্রান্সিসকোলি , ইংল্যান্ডের জন বার্ন্স আর গ্যারি লিনেকার , ডেনিশ মিকায়েল লাউড্রপ , স্পেনের এমিলে বুত্রাগুয়েনার মত তারকা । সেখানে আর্জেন্টিনা দলে ম্যারাডোনার কাছাকাছি মানের কেউ ছিলেন না । অথচ সেই ম্যারাডোনাই বুরুচাগা আর ভালডানোদের নিয়ে জিতলেন বিশ্বকাপ ।

কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনা করেছিলেন বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল । কিন্তু একই ম্যাচে তাঁর দ্বিতীয় গোলটি হয়ে আছে আনুষ্ঠানিকভাবেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ।

১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ আসরেও ম্যারাডোনা দলকে নিয়ে যান ফাইনালে । তবে সেদিন বিতর্কিত এক পেনাল্টিতে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ধুলিস্যাত হয় ম্যারাডোনার । ট্রফি জেতে লোথার ম্যাথুজের জার্মানি । পরের বিশ্বকাপ ড্রাগ-টেস্টে পজিটিভ হয়ে নিষিদ্ধ হন এই মহানায়ক । আর্জেন্টিনাও বিদায় নেয় দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে ।

ম্যারাডোনা ফিফার সমর্থক জরিপে নির্বাচিত হয়েছেন গত শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড় । ফুটবল লিজেন্ডদের ‘গোল্ডেন ফুট’ জিতেছেন ২০০৩ সালে । সেই সময় ইউরোপের বাইরের খেলোয়াড়দের ‘ব্যালন ডি’অর দেয়া হলে ম্যারাডোনা একাধিকবার জিততেন এই সম্মান , সন্দেহ নেই । তবে ২০২০ সালে ফ্রেঞ্চ সাময়িকী ব্যালনের স্বপ্নের দলে অবধারিতভাবেই জায়গা দিয়েছে এই মহান ফুটবল শিল্পীকে ।

আহাস/ক্রী/০০৭