Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

মেসির গোল ও সন্দেহ

শেখ আসলাম/ ক্রীড়ালোকঃ

যখনই শক্ত প্রতিপক্ষ, সেদিন আর লিওনেল মেসিকে খুঁজে পাওয়া যায় না, এমন দাবী ফুটবল বোদ্ধারা করেই থাকেন। যেমন,তাঁর প্রবল প্রতিপক্ষ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরও বড় ধরণের একটা সমস্যা আছে। সেটি হল, যখন তিনি ইনজুরির কারণে হোক কিংবা অনিবার্য কারণে মাঠে নিয়মিত নন, তখন দীর্ঘদিন পর খেলতে নামলেই তিনি আর ছন্দে থাকেন না। তাই বোদ্ধারা বলেন, রোনালদো হল ইলেক্ট্রনিক পণ্যের মত, যত চলবে তত ভাল সার্ভিস পাবেন।

এই তো কোভিড-১৯ বিপর্যয়ের পর যখন ইটালিতে খেলা ফিরলো, রোনালদো আর রোনালদো নেই। সে যতই কোপা ইটালিয়ার ফাইনাল হোক না কেন, তিনি পেরে উঠলেন না। হ্যাঁ, ছয় থেকে সাত ম্যাচ লাগবে তাঁকে ফিরতে। কাজেই ধরেই নিতে হবে, ইউভেন্টাস এবার লীগ শিরোপা জিততে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। তবে কোনক্রমে তাঁরা যদি উয়েফার চুড়ান্ত আটে উঠে যায়, মনে করার কোন কারণ নেই, রোনালদো পারবেন না। তুমি প্রতিপক্ষ যেই হও না কেন, ক্রিস্টিয়ানো বাজিমাৎ করেই ছাড়বে। কারণ, ততদিনে তিনি তৈরি হয়ে যাবেন।

এদিকে বার্সেলোনার হয়ে লা লীগার সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে  এথলেটিক বিলবাওয়ের  বিপক্ষে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের ৭০০ গোল করা হল না। হয়তো পরের ম্যাচেই তা হয়ে যাবে। তবে তাঁর ক্যারিয়ারে দেশ ও ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে ৬৯৯ গোল নিয়ে ক্রীড়ালোক প্রতিবেদন তৈরিতে উৎসাহিত হতে চাইছে। সন্দেহটা গেল দুই বছর ধরেই দানা বেঁধে উঠছে। ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে অদম্য থাকা, কিছু সু নির্দিষ্ট ক্লাব দলের বিপক্ষে প্রতিনিয়ত একাধিক গোল করার রহস্যজনক কারণ, ডি বক্সের বাইরে অহেতুক পড়ে যেয়ে ফ্রি কিক নেয়ার অনৈতিক উদ্যোগ, রেফারিদের প্রভাবিত করে খেলার ফল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা, একই ক্লাবে খেলতে থাকার অযাচিত লক্ষ্য—– তাঁকে কিংবদন্তী হিসাবে রায় দেয় কিনা তা নিয়ে আলোচনাটা শুরু হওয়া দরকার।

রেসলিং এর মত করে ক্রিকেট যেমন স্ক্রিপ্ট নির্ভর খেলা হয়ে পড়েছে, চাউর আছে, ফুটবলে তা হচ্ছে প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে। ক্রিকেটের চেয়েও ফুটবলে মাফিয়ারাই প্রধান হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেই এক পয়েন্টের খেলোয়াড় হয়েও লিওনেল মেসি আজ ৭০০ গোলের মালিক বনে যাচ্ছে না তো ! প্রায় অকেজো ডান পা, হেড করে গোল করবার দুর্বলতা বা গোল তেমন নেই বললেই চলে—- এমন খেলোয়াড়ের তো এত গোল পাবার কথা নয়। ঠিক তাঁর মতোই খেলার আদলের ফুটবল গ্রেট ম্যারাডোনার থেকে তো এত গোল আসে নাই। ম্যারাডোনার মত নেতৃত্ব, ফুটবল মাঠে সিংহের মত বিচরণ, তাও তো লিওর খেলার মাঝে তা ফুটে ওঠে না। তাহলে এত গোল কিভাবে ? নাকি, তিনি আসলেই অসাধারণ গোত্রের ? যুক্তি, বাস্তবতা দেখাচ্ছে লিওনেল মেসি আঁধারের ময়দানের পথিক, যেখানে অদৃশ্য অস্তিত্ব তাঁকে বলে, তোমাকে আলোয় দেখবে সব্বাই, চালিয়ে যাও, আমরা আছি তোমার সাথে।

রেসলিং এর মত করে ক্রিকেট যেমন স্ক্রিপ্ট নির্ভর খেলা হয়ে পড়েছে, চাউর আছে, ফুটবলে তা হচ্ছে প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে। ক্রিকেটের চেয়েও ফুটবলে মাফিয়ারাই প্রধান হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেই এক পয়েন্টের খেলোয়াড় হয়েও লিওনেল মেসি আজ ৭০০ গোলের মালিক বনে যাচ্ছে না তো ! প্রায় অকেজো ডান পা, হেড করে গোল করবার দুর্বলতা বা গোল তেমন নেই বললেই চলে—- এমন খেলোয়াড়ের তো এত গোল পাবার কথা নয়। ঠিক তাঁর মতোই খেলার আদলের ফুটবল গ্রেট ম্যারাডোনার থেকে তো এত গোল আসে নাই। ম্যারাডোনার মত নেতৃত্ব, ফুটবল মাঠে সিংহের মত বিচরণ, তাও তো লিওর খেলার মাঝে তা ফুটে ওঠে না। তাহলে এত গোল কিভাবে ? নাকি, তিনি আসলেই অসাধারণ গোত্রের ? যুক্তি, বাস্তবতা দেখাচ্ছে লিওনেল মেসি আঁধারের ময়দানের পথিক, যেখানে অদৃশ্য অস্তিত্ব তাঁকে বলে, তোমাকে আলোয় দেখবে সব্বাই, চালিয়ে যাও, আমরা আছি তোমার সাথে।

চলুন, আজ লিওনেল মেসির ৬৯৯ গোলের পরিসংখ্যানটা দেখে নিই। কাল থেকে চলবে চুলচেরা বিশ্লেষণ। মেসি ভক্তরা হতাশ হলেও সত্যের সন্ধানে যেয়ে এমন উদ্যোগে যেতেই হয়। যখন দেখা যায়, একজন লিও ক্লাবের হয়ে এওয়ে ম্যাচে তেমন জ্বলে উঠতে পারেন না, হাই ভোল্টেজ ম্যাচে অধিকাংশ সময়ে পেরে ওঠেন না, নিজের দেশের হয়ে যখন খেলেন, তখন আর দশজন আর্জেন্টাইনের মত করেই খেলেন—- ‘মেসি ও সন্দেহ’, হ্যাঁ খুবই চিত্তাকর্ষক প্রতিবেদনে থেকে ধারাবাহিক আয়োজনে যেতে চাইছে ‘ক্রীড়ালোক’। সুদীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছরের মত সময় নিয়ে ক্রীড়া মাধ্যম হয়ে টিকে থেকে এমন অভিভাবকত্বে যেতেই পারে ক্রীড়ালোক।

বার্সার হয়ে অভিষেকঃ

মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার বয়সভিত্তিক দলে যোগ দেয়া লিও মেসির পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয় ২০০৪-০৫ মৌসুমে । এস্পানিওলের ২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর লা লীগার প্রথম ম্যাচ খেলেন তিনি । আর ২০০৫ সালের পয়লা মে সিনিয়র ক্যারিয়ারে প্রথম গোল করেন আলবাসেতে বালোম্পাইয়ের বিপক্ষে , মাত্র ১৭ বছর ১০ মাস এবং ৭ দিন বয়সে বার্সার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে গোলটি করেন তিনি । যে রেকর্ড পরে ভেঙ্গেছেন বোয়ান কিরকিচ আর আন্সু ফাতিহ ।

প্রথম মৌসুমে সব মিলিয়ে ৯ ম্যাচে একটি গোলই পেয়েছিলেন মেসি । আর সেটা সেই বাম পায়ের নেয়া শটে । সেটা ছিল ন্যু ক্যাম্পে ।

২০০৫-০৬ মৌসুম –

পরবর্তী বছরেই স্পেনের নাগরিকত্ব পান মেসি । আর বার্সার সাথে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হন ২০১৪ সাল পর্যন্ত । সে মৌসুমে লা লীগায় ছয় গোল করেন মেসি । আর চ্যাম্পিয়ন্স লীগে একটি । গ্রুপ পর্বে গ্রিসের প্যানাথিনাইকোসের বিপক্ষে গোলটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগে মেসির প্রথম ।

মৌসুমে মেসির সাত গোলের মধ্যে ছয়টি ছিল ন্যু ক্যাম্পে । একমাত্র এওয়ে গোলটি তিনি করেন মায়োর্কার মাঠে , সেটা ডান পায়ে । আর বাকী পাঁচটি গোল তিনি করেছেন বাম পায়ে । এছাড়া কোপা ডেল রে’র কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়েল জারাগোযার বিপক্ষে হেডে একটি গোল করেন তিনি । যা কিনা তাঁর ক্যারিয়ারে বিরল । তবে সেটাও ছিল বার্সেলোনার ঘরের মাঠে ।

২০০৬-০৭ মৌসুম-

এই মৌসুমে ৩৬ ম্যাচ ম্যাচ খেলার সুযোগ পান মেসি । করেন ১৭ গোল । যার মধ্যে ১৪টি লা লীগায় , দুইটি কোপা ডেল রে আর একটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগে । এর মধ্যে রিয়েল মাদ্রিদের বিপক্ষে তিনি হ্যাট্রিক করেন ন্যু ক্যাম্পে ।

এসব গোলের মধ্যে ১৩টি মেসি করেছেন বাম পায়ের শটে । ঘরের মাঠে গোল ছিল আটটি । মৌসুমে সেভিয়া আর এস্পানিওলের বিপক্ষে দুইটি গোল আসে তাঁর ডান পায়ের কারিগরিতে , ঘরের মাঠে । এছাড়া কোপা ডেল রে’র সেমি ফাইনালে ন্যু ক্যাম্পে একক প্রচেষ্টায় একটি গোল করে সবার নজরে আসেন মেসি ।

২০০৭-০৮ মৌসুম-

এই বছর বার্সার জার্সিতে ৪০ ম্যাচ খেলে সব প্রতিযোগিতায় ১৬ গোল করেন । যার মধ্যে লীগে ১০টি আর চ্যাম্পিয়ন্স ৬টি । এর মধ্যে আবার ঘরের মাঠে মেসির গোলের সংখ্যা ১১টি । পেনাল্টি থেকে গোল পেয়েছেন পাঁচটি । মৌসুমে সব কয়টি গোল তিনি করেন বাম পায়ের ক্যারিশমায় ।

 

২০০৮-০৯ মৌসুমঃ

লীগের ৩১ ম্যাচ খেলা মেসি করেন ২৩ গোল । আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর গোলের সংখ্যা ৩৮টি । যার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে নয়টি আর কোপা ডেল রে আসরে করেন ছয়টি গোল ।

এই বছর সর্বোচ্চ ২৩টি গোল করেন মেসি এওয়ে ম্যাচে । ১৫টি করেছেন ঘরের মাঠে । পেনাল্টি থেকে গোলের সংখ্যা ছিল চারটি । চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে মৌসুমের শেষ গোলটি করেন হেডে । এছাড়া মৌসুমের শুরুর দিকে লা লীগায় লেগানেসের বিপক্ষেও একটি গোল তিনি মাথা দিয়ে করেছিলেন ।

মৌসুমে একটি গোল তিনি পান ফ্রি কিক থেকে । আর ডান পায়ে গোলের সংখ্যা ছিল সাতটি ।

২০০৯-১০ মৌসুমঃ

লা লীগায় ৩৫ ম্যাচে ৩৪ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার ‘পিচিচি এ্যাওয়ার্ড’ জেতেন মেসি । করেন সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৩ ম্যাচে ৪৭ গোল ।

দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানো মেসি চ্যাম্পিয়ন্স লীগেও করেন আট গোল ।

সেই মৌসুমে মেসি হ্যাট্রিক করেন তিনি ম্যাচে । প্রথমে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে আর পরের ম্যাচেই রিয়েল জারাগোজার বিপক্ষে এওয়ে ম্যাচ । চ্যাম্পিয়ন্স লীগে আর্সেনালের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের হোম ম্যাচে একাই করেন চার গোল ।

মৌসুমে মেসি ২৪টি গোল করেছিলেন ঘরের মাঠে । পুরো মৌসুমে একটিমাত্র গোল তিনি করেন পেনাল্টি থেকে । মাথা দিয়ে করেন দুইটি গোল । ১০টি গোল আসে তাঁর ডান পা থেকে । দুইটি গোল ডিরেক্ট ফ্রি কিক আর একটি গোল তাঁর বুক দিয়ে করা । তাঁর মানে সেই মৌসুমে তাঁর বাম পায়ে করা গোলের সংখ্যা ছিল ১৮টি ।

২০১০-১১ মৌসুমঃ

এবার লা লীগা মৌসুমের ৩৩ ম্যাচে ৩১ গোল করেন মেসি । আর সব মিলিয়ে তাঁর গোলের সংখ্যা ছিল ৫৫ ম্যাচে ৫৩টি । যার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে করেন ১২ গোল ।

ঘরের মাঠে স্প্যানিশ সুপার কোপায় সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাট্রিক দিয়ে মৌসুম শুরু করেন মেসি । পুরো মৌসুমে মাত্র পাঁচটি গোল তিনি করেন ডান পায়ে । হেডে গোল একটি । একটি গোল একক প্রচেষ্টায় । পেনাল্টি থেকে পেয়েছেন পাঁচটি গোল । সরাসরি ফ্রি কিকে গোলের সংখ্যা ছিল একটি আর ট্যাপ ইন দুইটি গোল ।

এই মৌসুমে ঘরের মাঠে মেসি করেছেন ২৬টি ।

২০১১-১২ঃ

মেসি তাঁর ক্লাব ক্যারিয়ারে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৭৩ গোল করেন , সেটাও মাত্র ৬০ ম্যাচ খেলে । এটাকেই মেসির ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম বলা যায় অনায়াসে । লীগে ৩৭ ম্যাচে ৫০ গোল করে জেতেন ‘পিচিচি’ । আর চ্যাম্পিয়ন্স লীগে করেন সর্বোচ্চ ১৪ গোল । কোপা ডেল রে আসরে তিনটি আর অন্যান্য প্রতিযোগিতায় ৬টি গোল করেন মেসি বার্সার জার্সিতে ।

৭৩ গোলের মধ্যে মেসির ২৫টি গোল ছিল প্রতিপক্ষ কিংবা নিরপেক্ষ মাঠে । এছাড়া ১৪টি গোল পেনাল্টি থেকে করেছেন মেসি । ডান পায়ে গোলের সংখ্যা ছিল নয়টি । সরাসরি ফ্রি কিক আর হেড থেকে গোল পেয়েছেন তিনটি করে ।

নিজের সেরা মৌসুমে ঘরের মাঠে অর্থাৎ ন্যু ক্যাম্পে মেসির গোলের সংখ্যা ৪৮টি ।

২০১২-১৩ মৌসুমঃ

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫০ ম্যাচে ৬০ গোলের দেখা পান মেসি । লা লীগায় তাঁর গোলের সংখ্যা ছিল ৪৬টি আর চ্যাম্পিয়ন লীগে আটটি ।

৩২টি গোল তিনি পেয়েছেন প্রতিপক্ষ কিংবা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে । চারটি গোল পান পেনাল্টি উৎস থেকে । চারটি গোল আসে সরাসরি ফ্রি কিক থেকে । পুরো মৌসুমে মাথা খাঁটিয়ে দুইটি গোল করতে পেরেছেন মেসি । আর ডান পায়ে গোলের সংখ্যা ছিল পাঁচটি ।

২০১৩-১৪ মৌসুমঃ

সব মিলিয়ে ৪৬ ম্যাচে ৪১ গোল করেন মেসি । লা লীগায় করেছেন করেছেন ৩১টি আর চ্যাম্পিয়ন্স লীগে আটটি ।

লা লীগার প্রথম ম্যাচে ঘরের মাঠে জোড়া গোল করে মৌসুম শুরু করেন মেসি । পুরো মৌসুমে তাঁর বাম পায়ে গোলের সংখ্যা ছিল ২২টি । পেনাল্টি গোল আটটি । এই মৌসুমে মেসির মাথা থেকে একটি গোলই আসে রিয়েল সোসিদাদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ।

ঘরের মাঠে ২০১৩-১৪ মৌসুমে মেসি করেছেন ২৫ গোল । তবে রিয়েল মাদ্রিদের বিপক্ষে স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে মেসির হ্যাট্রিক ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা । যদিও সেই ম্যাচে তাঁর দুইটি গোল এসেছিল পেনাল্টি থেকে । আর তিনটি গোল করেন সরাসরি ফ্রি কিক থেকে ।

২০১৪-১৫ মৌসুমঃ

এই মৌসুমে মেসি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৭ ম্যাচে করেন ৫৮ গোল । যার মধ্যে লীগে তাঁর গোলের সংখ্যা ৪৩ টি । চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ১০টি আর কোপা ডেল রে প্রতিযোগিতায় পাঁচটি ।

৩৪ টি গোল মেসি করেছেন ঘরের মাঠে । এই মৌসুমেই সর্বোচ্চ ১৬টি গোল তিনি করেন ডান পায়ের ব্যবহারে । এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স লীগের গ্রুপ পর্বে সাইপ্রাসের নিকোসিয়ার বিপক্ষে ডান পায়ের তিন গোলে হ্যাট্রিক পূরণ করেন মেসি ।

এই মৌসুমে মোট পাঁচটি হ্যাট্রিক উপহার দেন মেসি । যার মধ্যে তিনটি ছিল ঘরের মাঠে । এছাড়া পুরো মৌসুমে তিনটি গোলে মেসির মাথা কার্যকর ভুমিকায় ছিল । আর পেনাল্টি গোলের সংখ্যা আধা ডজন । সরাসরি ফ্রি কিক থেকে দুইটি গোল আসে মেসির ।

২০১৫-১৬ মৌসুমঃ

এই মৌসুমের সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৯ ম্যাচে ৪১ গোলের দেখা পান মেসি । লীগে ২৬টি আর চ্যাম্পিয়ন্স লীগে করেন ছয়টি গোল ।

এই বছর ঘরের মাঠে মেসির গোলের সংখ্যা ২৭টি । তিনটি হ্যাট্রিকের দুইটি ঘরের মাঠে করেন গ্রানাডা আর ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে । এছাড়া আরেকটি হ্যাট্রিক করেছেন রায়ো ভায়াকানোর মাঠে ।

এই মৌসুমে মেসির ডান পায়ে গোলের সংখ্যা ছিল মাত্র দুইটি । সরাসরি ফ্রি কিক থেকে মেসি পেয়েছেন ছয়টি । পেনাল্টি গোল করেছেন চারটি ।

লা লীগার একেবারে শেষবেলায় ঘরের মাঠে স্পোর্টিং গিহনের বিপক্ষে মৌসুমের একমাত্র হেড গোলের দেখা পান মেসি ।

২০১৬-১৭ মৌসুমঃ

আবারও মেসি করেন পঞ্চাশের বেশী গোল । সব মিলিয়ে ৫২ ম্যাচে ৫৪ গোল করেন তিনি । এর মধ্যে লীগে তাঁর গোলের সংখ্যা লীগে তাঁর গোলের সংখ্যা ৩৭টি আর চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ১১টি । এছাড়া কোপা ডেল রে প্রতিযোগিতায় মেসি করেন পাঁচটি গোল । একটি গোল আসে স্প্যানিশ সুপার কোপার ফাইনালে নিজেদের মাঠে সেভিয়ার বিপক্ষে , বিরল হেডে ।

২০১৬-১৭ মৌসুমে ঘরের মাঠে মেসির গোলের সংখ্যা ৩৫টি । যার মধ্যে বাম পায়ের গোল পুরো মৌসুমে ৩৩টি । এই মৌসুমে ফ্রি কিকে মেসি করেছেন চারটি । হেড ছিল দুইটি । আর পেনাল্টি গোলের সংখ্যা নয়টি ।

চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ঘরের মাঠে দুইটি হ্যাট্রিক করেছেন সেল্টিক আর ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে ।

পুরো মৌসুমে মেসির মাথা থেকে আসে স্রেফ দুইটি গোল ।

২০১৭-১৮ মৌসুমঃ

মেসি এবার করেছেন ৫৪ ম্যাচে ৪৫ গোল । যার মধ্যে লীগে ৩৪টি , চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ছয়টি আর কোপা ডেল রে আসরে চারটি কোল করেন আর্জেন্টাইন তারকা ।

পুরো মৌসুমে প্রতিপক্ষের মাটিতে মেসির গোলের সংখ্যা ১৫টি । হ্যাট্রিক করেন লা করুনার মাঠে । এছাড়া লেগানেস , এইবার আর এস্পানিওলের বিপক্ষে ন্যু ক্যাম্পে হ্যাট্রিকের দেখা পান মেসি ।

এই মৌসুমে মেসির ডান পায়ে গোলের সংখ্যা ছিল চারটি । পেনাল্টি গোল তিনটি । এই বছর মেসির মাথা কোন কাজে লাগে নি । আর সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল করেছেন সাতটি । ডান পায়ের ব্যবহারে গোল এসেছে তিনটি ।

২০১৮-১৯ মৌসুমঃ

৫০ ম্যাচে ৫১ গোল করে মৌসুম শেষ করেছেন মেসি । যা মধ্যে লা লীগায় গোল ছিল ৩৬টি আর চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ১২টি । কোপা ডেল রে আসরে করেছেন তিনটি গোল ।

ঘরের মাঠে গোল ৩১টি । বিখ্যাত বাম পায়ে মেসির গোলের সংখ্যা ৩১ টি । আর ডান পায়ে গোল ছিল সাতটি । এছাড়া সরাসরি ফ্রি কিক থেকে মেসি গোল পেয়েছেন আটটি । পেনাল্টি থেকে গোল এসেছে পাঁচটি ।

এই মৌসুমেও মেসির মাথা থেকে যায় অব্যবহৃত ।

২০১৯-২০ মৌসুমঃ

চলমান মৌসুমেও ঘরের মাঠে মেসির বাম পায়ের ব্যবহার অবাাহত আছে । এখন পর্যন্ত মৌসুমে মেসি ৩৪ ম্যাচ খেলে ২৬ গোল করেছেন । লীগে ২১ গোল করে আছেন শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে । চ্যাম্পিয়ন্স লীগ আর কোপা ডেল রে আসরে পেয়েছেন দুইটি করে গোল ।

এখন পর্যন্ত চলমান মৌসুমে ন্যু ক্যাম্পে মেসির গোলের সংখ্যা ২১টি । আর বাম পায়ে তাঁর করা গোল ১৫টি । পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন চারটি । আর সরাসরি ফ্রী কিকের বল প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়েছেন তিনবার । ডান পায়ে গোল করেছেন তিনটি । মাথাকে এখন পর্যন্ত এই মৌসুমে কাজে লাগান নি মেসি !

সার্বিক পরিসংখ্যান (ক্লাব ফুটবল)———–

মেসি তাঁর ক্যারিয়ারে বার্সেলোনার পক্ষে শুধু ন্যু ক্যাম্পে গোল করেছেন ৩৭৪টি । পরিচিত তৃণায় তাঁর বুট জোড়া অতি ভয়ংকর হয়ে ওঠে এখানে। পুরো ক্যারিয়ারে তাঁকে নানা দেশে বিমানে চড়ে অপরিচিত তথা আগন্তক হয়ে কারোর সামনে দাঁড়াতে হয় নাই। ইংলিশ, ইটালি, জার্মানির কোন রাজ্যের ক্লাবের ড্রেসিং রুম, ক্লাব পাড়ায় থাকতে থাকতে কারো বন্ধু হতে অভ্যস্ত হতে হয় নাই। তিনি ইউরোপ এর নানা ক্লাবে যেয়ে মন জয় করবেন, এমন যুগান্তকারী উদ্যোগে যেতে পারেন নি। বরং তাই বার্সার হয়ে যারা নতুনেরা খেলতে আসে, তাঁদেরকে তিনি সাফ বলে দেন, এই আমাকে স্বাগত না জানিয়ে এখানে কি টিকতে পারবে? কেহই পারে নাই। তাই তো পিকে, শাভি, ইনিয়েস্তা ও আজকের সুয়ারেজরাই তাঁর কেবল বন্ধু। তাঁর অনুগত হয়েই অসাধারণ সহযোদ্ধা হয়ে মেসির পাশে তাঁরা থেকেছে। নতুন কোন তারকা খুব সহজে জায়গা করে নিতে পারে না। পেরেছিল কেবল নেইমার জুনিয়র। তাও মেসি স্তুতিতে থেকেই তাঁর বার্সায় খেলতে হয়েছিল বলে কথিত আছে। যা এলেক্সিজ সানচেজ করতে পারেন নি। তিনি তাঁর মত করে খেলতে যেয়ে দেখলেন একদিন, তাঁকে বার্সা ছাড়তে হচ্ছে। আজকের গ্রিজম্যানকেও তাই বলতে শোনা যায়, মেসিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু গ্রিজ তো সুবিধে করতে পারছেন না। গ্রিজ প্রকারন্তরে মেসির পজিশনের খেলোয়াড়। তাঁকে তাই অন্য পজিশন নিয়ে খেলতে হচ্ছে। যা হবার হচ্ছে। তিনি ব্যর্থ। একদিন গ্রিজ বলবেন, সুখে ছিলাম না সেথায়।

মেসি তাই নানান দেশে যেয়ে মানিয়ে নেয়া অদম্য সত্তা হতে ঝুঁকি নেন নাই। আর বয়স এখন যে পর্যায়ে আছে, এটি ভাবা ভুল হবে তিনি তেমন সাহসে যাবেন। গুঞ্জন আছে, আবারো দুই বছরের চুক্তি হতে যাচ্ছে তাঁর সাথে বার্সেলোনার। এদিক ক্লাব ফুটবলে প্রতিপক্ষের মাঠ আর নিরপেক্ষ ভেন্যুতে মেসির গোলের সংখ্যা ২১৩টি । খুব খারাপ নয় বলে অনুমিত হয়। তবে ঝামেলা আছে। লা লীগার সাথে বার্সেলোনা একটা চুক্তি আছে। সেটি হল, যদি তাঁদের প্রবল প্রতিপক্ষ রিয়েল মাদ্রিদ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগে সম্ভাব্য ভাল ফলাফলের জন্য দারুন জায়গায় পৌঁছে যায়, তবে লিগার শিরোপা তাঁদেরকে দিতে হবে। না হলে তাঁরা স্পেন সরকারকে এক হাত নিয়ে বলতে থাকে, কাটালানেরা অশান্ত হয়ে স্বাধীনতার জন্য লড়াই শুরু করবে। বার্সেলোনার জনগোষ্ঠী ও দর্শক যেন এক সূত্রে গাঁথা ! পিকে কে যেমন যদি শুধু মাঠের রক্ষণকর্তা মনে করা হয়, তা তিনি কিছুই জানেন না। তিনি ফলত রাজনৈতিক কর্তা। তিনি নেতা। এভাবেই স্পেন ফুটবল ফেডারেশন তাই ছাড় দিচ্ছে। তাই তো রিয়েল মাদ্রিদ ক্রিস্টিয়ানোকে নিয়ে শুধু উয়েফা জিততে চেয়েছে। হ্যাঁ, তাঁরা সফলও হয়েছে। এক ক্রিস্টিয়ানো যখন থেকে স্পেনে খেলা শুরু করেছেন, লিও মেসি কিন্তু গোলের সংখ্যায় তাঁর সাথে পেরে ওঠেনি। আজ হয়তো একটি ক্লাবের হয়ে ৫০০ গোলের মাইলফলক তিনি অতিক্রম করেছেন। কিন্তু ৪৩৮ ম্যাচে ৪৫০ গোল করে ক্রিস্টিয়ানোর মত পারফর্মেন্স তিনি করে দেখাতে পারেন নাই। অন্যদিকে হোম এবং এওয়ে ম্যাচে যথাক্রমে ৩৭৪ ও ২১৩টি গোল প্রসঙ্গে লিও মেসিকে নিয়ে জোর আলোচনাটা শুরু করা যাক।

ফুটবল মাফিয়া এবং স্পেন ফুটবল ফেডারেশনের সমন্বয় উদ্যোগে নয়, দুইটি আলাদা শক্তির আশীর্বাদে লিওনেল মেসির গোলগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বার্সেলোনা ক্লাবের সাথে লা লীগায় থাকা মাঝারি ও ছোট দলগুলোর অদৃশ্য চুক্তি থাকায় বিনা বাঁধায় তাঁকে প্রায়শই গোল করতে দেয়া হয়। লিও মেসি, যিনি এক পয়েন্টের খেলোয়াড়। এক পয়েন্ট টা কি ? তিনি ময়দানের প্রতিপক্ষের ডানদিক টার আক্রমণে শাণিত যোদ্ধা হবেন, অতঃপর বাম দিকে সোজা বল নিয়ে ড্রিবলের মত করে যেতেই থাকবেন, প্রতিপক্ষ ডিফেন্সের একাধিকেরা তাঁর থেকে প্রায় চার ফুট দূরত্বে থেকে বোঝাতে চাইবে, তাঁরা রক্ষণ সামলাচ্ছেন। আসলে নয়। লিও তখন চেষ্টা করে বাম পায়ে শট নিয়ে গোল করতে, নতুবা কাউকে এসিস্ট করে দিয়ে গোল ! ক্লাবের হয়ে ৪৮০টি বাম পায়ের গোলের মধ্যে এমন দৃশ্য প্রায় চারশত গোল হবে। গোল হওয়ার পরেই পয়সা খাওয়া ধারাভাষ্যকারেরা বলবে, ইজ হি হিউম্যান ? ইউটিউবে যেয়ে মেসির ৬০০ গোলের ফুটেজ দেখতে চাইলে জানা যায়, তিনি কিভাবে এক পয়েন্টের খেলোয়াড়। খেলায় বৈচিত্র নেই। দিনের পর দিন একই কায়দায় গোল করে যাচ্ছেন। এভাবেই এক পয়েন্টের খেলোয়াড় হতে হতে তাঁর অভ্যাস হয়ে গেছে। মাঝেমাঝে তাই পাতানো ম্যাচের মত করে নয়, এই আঙ্গিকেই দারুন সব গোলও করে বসেন। মানুষ অভ্যাসের দাস তো। কিন্তু যখন পাতানো ম্যাচ করা সম্ভব হয় না, তখন তিনি প্রশ্রয় পান মাফিয়াদের। কিভাবে ? যখন ওই একই কায়দায় বল নিয়ে ডি বক্স এর সামনে তাঁর চিরচরায়িত ড্রিবল মহড়া চলছে, তখন প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাগ মারকিং তো তাঁকে করেছেই, তাঁরা আর চার ফুট দূরত্বে নেই, বল তাঁর পা হতে নিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে, ঠিক সাথে সাথে ক্রয়কৃৎ রেফারী ও লাইন্সম্যান ফ্ল্যাগ উঁচু করে বলছে, ফাউল, ফাউল, ফাউল !

মেসি খুবই ভাল করে রপ্ত করেছে ডি বক্সের বাইরে হতে ফ্রি কিক নেয়ার দিকটা। এটাকে দখল বলে ! ডি বক্সের ঠিক বাইরে ডান প্রান্ত বা মাঝামাঝি হলে তাঁর জন্য ভাল। কারণ, ওখানেই তিনি পড়ে যান, যেতে অভ্যস্ত। এভাবে ম্যাচ প্রতি গড়ে চারবার করে তিনি ফ্রি কিক আদায় করেন রেফারী যোগসাজশে। ফলশ্রুতিতে ফ্রি কিক থেকে তাঁর গোলের সংখ্যা ৪৪টি । লা লীগা কর্তৃপক্ষের আরেকটি মওসুম ভিত্তিক চুক্তি হল, যদি তাঁরা বার্সেলোনাকে লীগ শিরোপা দেয়ার চেষ্টায় চলে যায়, তখন প্রতিপক্ষ যারাই হোক, তুমি গোল করলেও অফসাইডের ফাঁদে তা বাতিল করা হবে, তোমাদের বিরুদ্ধে পেনাল্টি দেয়া হবে। ইত্যাদি , ইত্যাদি। এটি শুধু বার্সেলোনা নয়, যদি তাঁরা রিয়েল মাদ্রিদকে কাপ দিতে চায়, তবে একই কাহিনী। তবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো থাকাকালীন তাঁরা চারবার উয়েফা জেতায় রিয়েলের হয়ে লা লীগা কর্তৃপক্ষ, অনেকদিন এমনকিছু দেখা যাচ্ছে না। এই প্রসঙ্গেই নেতা পিকে তাঁর বক্তব্য দিতে ওস্তাদ। এই সেদিনেও তিনি দাবী করছেন, রেফারিরা জেতাচ্ছে রিয়েল কে । এমন বলার উদ্দেশ্যই হল, খুব সাবধান, স্বাধীনতামুখী যেন না হতে হয় ! যদিও এবারের মওসুম নিয়ে দুই দলই রেফারি সমর্থন পাচ্ছে। কারণ, দুইটি দলের এবার উয়েফা জেতাটা অলৌকিক হবে।

মেসির গোলে আবার যাওয়া যাক। খেলতে খেলতে কেহ তাঁকে ক্রস করেছে। তিনি অসামান্য উচ্চতায় যেয়ে না হোক, উঁচুতে লাফিয়ে হেড করে গোল করছেন, এমন দৃশ্য দেড় যুগে ঘটেছে মাত্র ১৬ বার ! ১৬ বছরে ১৬ ! মন্দ নয়, তাই না ? ডান পায়ে খুব জোরে শট নিয়ে চার কি পাঁচ বার গোল করতে পারলেও টিকিটাকার ফুটবল আর ডান পায়ের টোকায় তাও ৮২টি গোল কম নয়। টোকাই তো ! এদিকে কর্নার নিয়ে তো চুরি চলে না। আর তিনি নিজেই তা বেশীর ভাগ সময় নেন। কর্নার কিকের অপেক্ষায় থেকে খর্বকায় লিওর মনে কষ্ট অবশ্যই আছে, চিরন্তন স্ট্রাইকার হয়ে এই ধারায় আর গোল তেমন করা হল না। তবে পেনাল্টি তো আছে। খুবই ভাল লিও, পেনাল্টি নেয়াতে। পেনাল্টি থেকে ৭২টি গোল করেছেন মেসি । এছাড়া ট্যাপ ইন আর একক প্রচেষ্টায় মেসি করেছেন ১৪টি গোল । চোখ ধাঁধানো তবে ওই ঘুরেফিরে এক পয়েন্টে থেকে। একটি গোল তাঁর আছে বুক দিয়েও ।

জাতীয় দলে মেসির পরিসংখ্যানঃ

২০০৫ সালে অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ১৩৮ ম্যাচে ৭০ গোল করেছেন । তাঁর আন্তর্জাতিক হ্যাট্রিকের সংখ্যা ছয়টি । ১১ বার ম্যাচে করেছেন কমপক্ষে দুইটি গোল । নিজ দেশের জার্সি গায়ে তিনি সর্বকালের সেরা গোলদাতা ।

সবচেয়ে বেশী পাঁচটি করে গোল করেছেন ব্রাজিল , উরুগুয়ে আর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে । ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে তাঁর গোলের সংখ্যা ৩৪টি । ২১টি গোল আছে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে । ৯টি গোল কোপা আমেরিকা আর ৬টি গোল বিশ্বকাপের মুল প্রতিযোগিতায় । গোল নেই কনফেডারেশন্স কাপের মত আসরে । অর্থাৎ যে কোন বড় টুর্নামেন্টে দেশের হয় মেসির গোলের সংখ্যা সাধারণের চেয়েও সাধারণ মানের !

তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির নিজের দেশের মাঠে গোলের সংখ্যা কম , মাত্র ২০টি । ছয়টি আন্তর্জাতিক হ্যাট্রিকের মধ্যে মাত্র একটি । সেটা তিনি করেন ২০১৮ সালের ২৯ মে বুয়েন্স আইরেসে হাইতির বিপক্ষে ।

মেসি সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক আঙ্গিনায় গোল করেছেন ৩৬টি। ফ্রেন্ডলি ম্যাচে এত গোল করে মরা ম্যাচে হিরো সাজার তো কিছু নেই। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ২১টি গোল কম নয়। তবে গেল বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে হ্যাট্রিকের আসল নায়ক তাঁর পেছনের চির অপশক্তি, সেই মাফিয়া। গোলগুলো পাতানো ছিল। কমে দাঁড়ায় হিসাব করলে ১৮। আরেকটু কঠোর হলে ক্যারিয়ারের অপর দুই হ্যাট্ট্রিক ছিল পানামা এবং হাইতির বিরুদ্ধে— সেটি নিয়েও কথা থাকে। যদিও তার একটি কোপায়, অন্যটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ !

বড় আসর মানেই লিও মেসির মাথা নীচু করে মাঠ থেকে বের হয়ে যাওয়া। একটি শক্ত প্রতিপক্ষ সামনে এলেই চার গোল খাওয়ার অভ্যাস। ২০১০ সালে জার্মানি তা করে দেখিয়েছিল। ২০১৮ সালে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। লুকা ও রাকিটিচেরা একই লজ্জা দিয়েছিল। আবার যখন ফিফাপুত্র বলে খ্যাত লিওনেল মেসির হাতে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ প্রায় তাঁর হাতে তুলে দেয়ার প্রস্ততি, যখন চোর ব্ল্যাটার নামে খ্যাত মানুষটি স্টেডিয়ামে হাজির, ঈশ্বর যেন বললেন, না, এমন হতে দেয়া যায় না। মারিও গোটসে যেন মিকাইলের মত করে নাৎসিদের কপালে ঝরালেন বৃষ্টি ! মেসি প্রায় কাঁদে, বমিও করেন। যখন প্রতিপক্ষের মাটিতে প্যারিসে যেয়ে চার গোল খেতে হয়, ইংলিশ রাজ্য লিভারপুলেও চার গোল, তখন সে হামাগুড়ি দিয়ে ন্যু ক্যাম্পের সবুজ ঘাস আঁকড়ে কাঁদে। সেও জানে, তিনি ফুটবলের অশুভ শক্তিকে সঙ্গী করে ম্যারাডোনার মত গ্রেটকে অন্তত গোল বিবেচনায় ছাড়িয়ে যেয়েও কোথায় যেন অপূর্ণতা ! সেই গদ্য কাল রচিত হোক। ততক্ষন পর্যন্ত সাথেই থাকুন।

শেখআস/ক্রী/৭১৭