Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

ব্যালন তুমি কার হবে ?

শেখ আসলাম/ক্রীড়ালোকঃ

ব্যক্তিগত পর্যায়ে বার্ষিক শ্রেষ্ঠত্ব। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফুটবলারের মূল্যায়ন প্রসঙ্গেই বলা হচ্ছে। প্রতি বছর নবাবি আদলে ফ্রেঞ্চ সংবাদ মাধ্যম ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ফলত বলতে চায়, এমন পুরস্কার প্রবর্তন করে সাংস্কৃতিক ‘নোবেল’ টা আমাদের কাছেই আছে। আমরা যে ব্যালন ডি’অর দিয়ে থাকি ! গবেষণা করে ও ইউরো বিশ্বের ক্রীড়া সাংবাদিকদের অভিমতকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ফুটবলের মোড়লও তো আমরাই।

ইউরোপের বর্ষসেরা ফুটবলার কে ? দার্শনিক যুক্তি, মত ও প্রশ্ন এককাট্টা করে উত্তর খুঁজে নিতে তাগিদ রাখা। তাঁদের প্রাথমিক পর্যায়ে সৎ উদ্যোগে এমন আয়োজনকে একটা সময় ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল সংস্থা ‘উয়েফা’ অনুমোদন দেয়। ফিরে আর তাকাতে হয় নাই। ‘ফ্রান্স ফুটবল’ নামের সংবাদ মাধ্যম ধীরে ধীরে এক রকম ফুটবলের মাফিয়া হয়ে পড়ে। কারণ, তুমি একটি বছরে যতই ভাল ফুটবল খেলতে থাকো, ব্যালন ডি অ’র না পেলে কি আর বড় খেলোয়াড় হতে পারলে ! এভাবেই এই পুরস্কার যখন শুধুমাত্র উয়েফার অনুমোদিত কোন ক্লাবে খেলা খেলোয়াড়কে দেয়া হত, একদিন তা সংস্কারের রাস্তায় গেল। আইন করা হল, ইউরোপের জাতিভুক্ত নয়, এখন থেকে অন্য যেকোন দেশের খেলোয়াড়ও তা পেতে পারে, তবে অতি অবশ্যই তাঁকে মওসুম শেষ করতে হবে ইউরোপের কোনো লীগে খেলে।

এদিকে ফুটবলের লিওনেল মেসিরা যখনই ইউরোপে খেলতে আসে তাঁরা দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে বলতে চাইতো, আমার কাছে ইউরোপের পাসপোর্টও আছে। কারণ, যতই ভিন্ন মহাদেশের ফুটবল সত্তা ইউরোপে খেলুক, দরদ ও টান একটা ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ম্যাগাজিনের ইউরোপের খেলোয়াড়দের প্রতি থাকে। ব্যালন তাই ইউরোপ সর্বস্ব আধিপত্যবাদী সাংস্কৃতিক মোড়লগিরি। যেখানে তাঁরা বলতে চাইছে, আমরা যাকে প্রতিবছর সেরা খেলোয়াড় ঘোষণা করব, সেই ওই বছরের জন্য শ্রেষ্ঠ। তাহলে ল্যাটিন ফুটবলের পরাজয় নিশ্চিত হচ্ছে কিনা কিংবা উত্তর আমেরিকার ক্লাব ফুটবলকে তুচ্ছ করা হচ্ছে কিনা, তা কেহ খতিয়ে দেখতে চাইছে কি ? হচ্ছে, চার বছর অন্তর অন্তর যখন বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসে তখন ইউরোপের ক্লাবগুলো কেন মেক্সিকান, আফ্রিকার খেলোয়াড়দের দিকে তাকিয়ে থাকে ? ল্যাটিনের দেশগুলোর কথা বাদই দেয়া হোক।

ব্যালন কে তাই শুরুর দিকে সৎ নিয়তে প্রবর্তিত প্রচেষ্টার ফসল হিসাবে ধরা যায়। তবে ব্রিটিশ মাতবরির মত রাজনৈতিক ছদ্দাবরনে এক ধরণের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ, যা তোমাকে ভাবায় কিন্তু নেপথ্য কিছুকে নিয়ে সমাধানের রাস্তায় পথিক হলে, মন খারাপ হয়ে যাবে। মন খারাপ হত না, যদি ফুটবলে কালো টাকার অনুপ্রবেশ রোধ করা যেত। তাই ব্যালন ডি অর হল এখন একটি বার্ষিক ফুটবল উৎসব, যেখানে পয়সা খেকো সাংবাদিকেরা উচ্চারণ করে বলবে, দিস ইয়ার, ব্যালন গোজ টু দ্য ম্যাজিশিয়ান লিওনেল মেসি !

ফুটবলের আসল মাফিয়া কারা তা নিয়ে অন্যদিন বলা যাবে। যদিও আগেও বলা হয়েছে। তবে তাঁদের প্রধান দুইটি অস্ত্রের নাম ‘ফিফা’ এবং ‘ফ্রান্স ফুটবল’। মাফিয়াদের কালো টাকা, ছোট বড় সব জায়গায় তাঁদের এজেন্টকে নেতা বানিয়ে দেয়া, কালো যাদু, ফিক্সিং, বিজ্ঞাপন, টিভি স্বত্ব, ফিকচার নিয়ন্ত্রণ, স্বাগতিক নির্বাচন, দর্শক নিয়ন্ত্রণ— এই রকম অযুত কিছুর মাধ্যমে বাৎসরিক পাণ্ডুলিপি কিংবা স্ক্রিপ্ট তৈরি করে চলছে অভিনব মুক্ত দীর্ঘ চলচ্চিত্রের মহড়া। যেখানে অস্কারকে তাঁরা হার মানাতে সক্ষম। অস্কারও যেমন মনুষ্য সৃষ্ট নেতিবাচক বলয় হতে আসা সু উদ্যোগের কুফল, ঠিক তেমনি ফিফা কর্তৃক বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন থেকে শুরু করে ফ্রান্স ফুটবল এর ব্যালন দেয়া নিয়েও রয়েছে ভাল চেষ্টায় মন্দ সঙ্গীর উপস্থাপনা। অথচ এমন ছিল না। ‘অর্থ’ নিয়ন্ত্রণ করছে ফিফাকে, ফ্রান্স ফুটবল নামক ম্যাগাজিন কে। তো, প্রশ্ন হল, ২০২০ সালে ফ্রেঞ্চ ম্যাগাজিন কার হাতে তুলে দিবে এবার ব্যলন ? এদিকে পয়সা পাবার প্রতিশ্রুতি না থাকায় কোভিড অজুহাতে ফিফা সরে গেছে ফিফা মেন্স বেস্ট এওয়ার্ড হতে । যদিও তাঁরাও পারতো একটু পিছিয়ে ডিসেম্বরের শেষে এই আয়োজনে যেতে। যেটায় হোক, ব্যালন নিয়ে ফ্রেঞ্চ ডনেরা এবার কি করবে ?

করোনা মহামারীর কারণে চলতি বছর বাতিল হয়েছে ইউরোপসহ ঘরোয়া আর আন্তর্জাতিক ফুটবল আসর । মাঝপথেই বাতিল করে আগেভাগে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছে ফ্রেঞ্চ লীগ ওয়ান আর স্কটিশ লীগের । ইউরোপের অন্যান্য লীগ দীর্ঘ বিরতির পর শুরু করে শেষ হচ্ছে তড়িঘড়ি করে । তবে চলতি বছর আর মাঠে গড়াচ্ছে না কোপা আমেরিকা এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মত বড় ফুটবল আসর ।এদিকে আগস্টে বন্ধ হয়ে থাকা উইয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ আয়োজনের সব প্রস্তুতি শেষ , তাই ধরে নেয়া যায় ২০২০ সালের এই দুইটি পুরস্কার যথাসময়েই দেয়া হবে । চলুন, ব্যালন দৌড়ে এগিয়ে কে, যদিও ব্যালন কে পাবেন তা তোমার দু’টি চোখ দেখতে  পারলেও, সব কিছু নির্ধারণ করবে ফুটবল মাফিয়া।

লেভেন্ডস্কি আছেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শ্যু জয়ের দৌড়েও

সাধারণ বিচারে ব্যালন জয়ের দৌড়ে চলতি মৌসুমে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভেন্ডস্কি । তাঁর দল জিতেছে বুন্দেস লীগা । চ্যাম্পিয়ন্স লীগেও কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বায়ার্নের । ইতোমধ্যেই ১১ গোল করে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেরা গোলদাতা এই লেভাই। লেভা আসলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হতে চেয়েছিলেন। বড় অসময়ে তাঁর ফুটবলে আসা। একদিকে লিও মেসিকে নিয়ে বিশ্বে মাতলামি আছে, যেহেতু তিনি ফিফা ও ফ্রান্স ফুটবলের ব্র্যান্ডিং পেয়ে যাচ্ছেন—- সেখানে পোল্যান্ডের হয়ে বড়কিছু জিততে হলে এমন কিছু দেখাতে হবে,  যাতে  করে তাঁর প্রাপ্য বুঝিয়ে না দিলে ফ্রান্স ম্যাগাজিনের অস্তিত্বকে যাতে করে সকলে অস্বীকার করে। এভাবেই ৫ বার ক্রিস্টিয়ানো কে ব্যালন জিততে হয়েছে। যদি নিরপেক্ষ ভাবে ব্যালন দেয়া হত, তবে ক্রিষ্টিয়ানোর নামের পাশে ৯ টা ব্যালন থাকত। লেভাকে তাই আসন্ন উয়েফা চ্যাম্পিয়নশীপে সেরার সেরা কিছু করে কাপ জিততে হবে, পারলে ক্রিস্টিয়ানোর করা এক আসরে ১৭ গোলের রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলতে হবে। তবে কাগজে কলমে এখনো তিনিই নিরপেক্ষভাবে এগিয়ে রয়েছেন। 

ফুটবলের ভবিষ্যৎ রাজা এমবাপ্পে ?

পরের নামটি কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইতোমধ্যে এই তরুণ বিশ্বকাপ জিতে প্রমাণ করেছেন, দুই বছর আগেই কিংবা গেলবার তো তোমরা আমাকে ব্যালন দিতে পারতে ! কেন দিলে না ? প্রশ্ন রাখতেই পারেন। কিন্তু হাত বাঁধা ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের। তাঁদেরকে স্বদেশী এমবাপ্পের প্রতি দরদ দেখাতে চাইলে লিওনেল মেসিকে সেরার জায়গায় রাখা যায় না। অশুভ চক্রান্তে লুকা মড্রিচ কে দিয়েই তো খেলাটা শুর হয়েছিল ! ছয়টা ব্যালন দিয়ে মেসিকে সিকিউর করে রাখার মধ্যে দুষ্টু চক্রের খেলা তো আছেই। এক মেসির খেলা দেখতে তো পয়সা আসে মাফিয়াদের। ওই সেই বাণিজ্যিক ধারার হিরোদের মত করে ! তুমি যত বড় অভিনেতাই হও, কার সিনেমা দেখে পয়সা আসবে, সেটার উপরেই সাংস্কৃতিক মূল্যায়ন। তবে যেটাই হোক, লীগ ওয়ান এর সেরা গোলদাতা এবং আসন্ন তিনটি উইয়েফা ম্যাচে বাজিমাত করতে পারলে মহামারির এই বছরে নৈতিক সমর্থন মিলতে পারে এমবাপ্পের উপর। কাজেই দ্বিতীয় ফেভারিট হিসাবে এমবাপ্পে ! তবে তাঁকে নিজ উদ্যোগে ক্রীড়া সাংবাদিকদের একাউন্টে অর্থ লগ্নি করতে হবে। নচেৎ, অন্য কোন খেলায় পড়ে যেতে হবেন। এই প্রসঙ্গেই বাংলাদেশের এক দার্শনিক বলে থাকেন, তুমি পন্ডিত ব্যাক্তি কিন্তু সেটিকে পরিচিত করতেও এই যুগে পয়সা খরচ করতে হবে।

এদিকে এমবাপ্পের  কথা বলতে যেয়ে স্মরণ করতে হবে একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যের। যেখানে ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার কাকা মনে করেন , চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতলে নেইমার পেতে পারেন ব্যালন ডি অর । তবে বাস্তবতা সেদিকে যায় না। অসধারন ফুটবল শৈলী দেখিয়ে নেইমার একক প্রচেষ্টায় উয়েফা জিতলেও তাঁকে ফুটবলের গারিঞ্চা হয়েই থাকতে হবে এই বছর। পেলে হয়েই থাকবেন এমবাপ্পে !

ম্যান সিটিকে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতাতে পারবেন ব্রুইন ?

তৃতীয় সেরা হয়ে মাঠে আছেন ম্যান সিটির এটাকিং মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুয়েন। যিনি যে ইংলিশ লীগে প্রতি ম্যাচে গোল পাচ্ছেন তা নয়। তবে বড় ম্যাচে গোল করতে শুরু করেছেন। অসম্ভব পর্যায়ের ভাল ফুটবল খেলে তিনি ইংলিশ লীগে গোলে এসিস্ট করছেন। রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে যেয়ে উয়েফার দ্বিতীয় রাউন্ডে দলকে জিতিয়ে তিনি আসলে বলতে চেয়েছেন, আমিও আছি। এখন যদি ৭ আগস্ট তাঁরা রিয়েল মাদ্রিদকে বিদায় করতে পারে এবং কেভিন যদি ম্যান সিটিকে কাপ জেতানোয় অদম্য চরিত্র হয়ে পড়েন, তবে তিনিও দাবীদার হয়ে পড়বেন। কিন্তু ওই ঘুরেফিরে বেলজিয়ামের কাউকে ব্র্যান্ডিং করে ফ্রেঞ্চ ম্যাগাজিনের কী লাভ হবে, সব সমীকরণ মিলিয়েই তো বাজিমাত করার ব্যাপার ।

চতুর্থ অবস্থানে ফুটবল বিশ্বের জনপ্রিয় মুখ লিওনেল মেসি। ক্যারিয়ারের ৭০০ গোল করার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তিনি। লা লীগা কে নিজের হাতে নিতে রেফারি সহ সব্বাইকে নিয়ে তিনি ভাল আছেন। নামের পাশে ছয়টা ব্যালন আছে। সঙ্গত কারণে, এবার ব্যালন না পেলেও চলবে তাঁর। তদবির কম। দল নিয়েও তিনি আশাবাদী নন। হয়তো স্ক্রিপ্ট আগেই জানা তাঁর। খুব ইচ্ছে ছিল এই বছর নিজ দেশে কোপা আমেরিকা খেলে শিরোপা জিতবেন। সেটিও আগ হতে নির্ধারণ করা থাকতে পারে। সেটি আগামী বছর পেয়েও যেতে পারেন। এবার তাই মেসিকে লা লীগা নিতে আগ্রহী হতে দেখা যাচ্ছে। উয়েফায় পরের লেগে ন্যাপোলিকে হারানোটাও কঠিন তাঁদের জন্য। উয়েফার ইচ্ছায় তা যদি সম্ভবও হয়, শেষটা সুখের হবে বলে মনে করা হচ্ছে না। এর পরেই লিও এক অদম্য সত্তা। চেষ্টা করে যাবেন। ফ্রেঞ্চ ম্যাগাজিনের সাথেও তাঁর দারুণ সম্পর্ক। যে বছর তিনি ব্যক্তিগত পর্যায়ে সফল থাকেন না, তখন দলগত সাফল্যের বিচার দাঁড় করিয়ে দিয়ে বলা হয়, মেসি পাচ্ছেন। আবার যে বছর দলীয় সাফল্য নেই, সে বছর দেখিয়ে দেয়া হয়, তোমরা দেখতে পারছো না যে, তিনি লা লীগার সেরা গোলদাতা ! মেসির জন্য যুক্তির অভাব নেই। এখানেই ফুটবল হেরে যায়, হেরে যায় ‘ফ্রান্স ফুটবল’। তাই লা লীগায় এক বছরে ৪৭ গোল করেও বড় শিরোপা কেন জিততে পারো নাই, তা দেখিয়েও ব্যালন বঞ্চিত করতে কুন্ঠাবোধ করে না ফ্রেঞ্চ মোড়ল ! মেসির হাতেও হিসাবে সাড়ে তিন ম্যাচ। এই তিন ম্যাচে জ্বলে উঠে উয়েফায় সেরা কিছু করলে তিনিও সত্যিকারের দাবীদার হয়ে পড়বেন।

সাড়ে তিন ম্যাচ ঘিরে কথাটা চলুক। লিওনেল মেসির মত করে তাঁর প্রবল প্রতিপক্ষ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরও একই দশা। যদিও মেসি তো তাও ড্র করে শান্তিতে আছেন। ন্যাপোলির সাথে তাঁদের মাটিতে যেয়েই ড্র। পরের লেগে নিজের মাটিতে জিতলেই তিন ম্যাচের যাত্রাটা করতে পারবে। অন্যদিকে উয়েভেন্টাস ঝামেলায় আছে। প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের লিওর কাছে হেরে যাওয়া। কাজেই এখন নিজ মাঠে তাঁদেরকে হারিয়ে অবশেষে তাঁদের উয়েফার এবারের অভিনব আসরে খেলতে যেতে হবে। যদিও তিন ম্যাচ টানা জিতলেই নতুন ইতিহাস। রোনালদো হয়তো চেষ্টা করবেন, চেষ্টা করবেন জুভেন্টাসকে লীগ শিরোপা তুলে দিতেও। ২২ গোল করেছেন। এই মওসুমে দেশের হয়ে অনেকগুলো গোল করে আর মাত্র ১টি গোলের অপেক্ষায় আছেন। ভাগ্য খারাপ। মার্চেই তা হয়ে যেত। ১০০ গোল করার মাহেন্দ্রক্ষণ ! ক্যারিয়ারে ৭০০ গোল অনেক আগেই করা হয়ে গেছে। রোনালদো যদি উয়েফা জিতেন তা হবে বিরল ইতিহাস। তিন ক্লাবের হয়ে ছয়টি ট্রফি ! সেই চেষ্টা সে করবে। এরপর নিজ এজেন্ট মেন্ডেস ক্রীড়া সাংবাদিকদের একাউন্টে ইউরো মুদ্রা পাঠাতে পারলে তাঁর হাতেও ব্যালন চলে আসতে পারে ! তিনিই তো সবচেয়ে এই বিশ্বের জনপ্রিয় ফুটবলার। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে এত ফ্যান ফলোয়ারস তা প্রমাণ করে। কাজেই মাফিয়াদের ক্ষতি কোথায় !

শেআস/ক্রী/০১৭