Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন সাকিব !

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান এই মুহূর্তে আছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে । বাংলাদেশ সময় শনিবার (২১ মার্চ) রাতে মার্কিন মুল্লুকে পৌঁছান তিনি । যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নিজেকে তিনি হোটেল রুমে আইসোলেশনে রেখেছেন । ‘করোনা-ভাইরাস সতর্কতা থেকে তিনি নিজেই এমন ব্যবস্থা নিয়েছেন ।

সারা বিশ্বজুড়ে করোনা-ভাইরাস এখন চালাচ্ছে ধ্বংসলীলা । চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস এখন ইউরোপ আমেরিকার মূর্তিমান আতংক । ইটালিতে করোনা-ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ মারা গেছে । একদিনেই সাতশ’র বেশী মানুষ মারা যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে ।

ইটালি ছাড়াও স্পেন আর ফ্রান্সের মত দেশে দ্রুত বাড়ছে মৃত্যুর হার । আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রেও থাবা বিস্তার করে চলেছে করোনা । দেশটিতে জারী করা হয়েছে ‘জরুরী অবস্থা’ । ইতোমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (who) করোনা পরিস্থিতিকে ‘মহামারী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নিজের পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন সাকিব । যদিও সোজা পরিবারের কাছে ছুটে না গিয়ে , সতর্কতা হিসেবে নিজেকে লোক-চক্ষুর আড়ালে রেখেছেন ‘হোটেল’রুম’ এ বন্দী ।

বাংলাদেশেও ইতোমধ্যে করোনা-ভাইরাসে ২৪ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে নিশ্চিতভাবে । মারা গেছে দুইজন । এই পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে করোনা নিয়ে সতর্কবার্তা দিলেন সাকিব ।

নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভেরিফাইড পেইজে সাকিব জানান , ‘ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনা ভাইরাসকে মহামারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। আপনারা জানেন যে বাংলাদেশেও বেশ কয়েকজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। আমাদের এখনই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আমাদের সতর্কতাই পারে আমাদের দেশ এবং আমাদেরকে সুস্থ রাখতে।’

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কিছু পদক্ষেপ বাতলে সাকিব, ‘কিছু সাধারণ পদক্ষেপ অনুসরণ করলেই আমার ধারণা আমরা এই রোগ থেকে আমরা মুক্ত থাকতে পারব এবং আমাদের দেশকেও মুক্ত রাখতে পারব। যেমন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় সঠিক শিষ্ঠাচার মেনে চলা এবং যদি কেউ বিদেশ ফেরত থাকেন তাহলে অবশ্যই নিজেকে ঘরে রাখা এবং ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা। আরেকটা বিষয় মনে রাখতে হবে যেন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীরা যেন আপনার সঙ্গে দেখা না করতে পারে। ১৪ দিন আপনাকে ঘরে থাকতে হবে। এটা খুবই জরুরি।’

নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে সাকিব বলেন, ‘আমার নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি। আমি মাত্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসে পৌঁছলাম। যদিও প্লেনে কিছুটা ভয়ে ছিলাম। তবু চেষ্টা করেছি কীভাবে নিজেকে পরিষ্কার রাখা যায় এবং জীবাণুমুক্ত রাখা যায়। এরপর যখন আমি যুক্তরাষ্ট্রে এসে নামলাম আমি সোজা একটি হোটেলের রুমে উঠেছি।’

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক আরও বলেন , ‘আমি হোটেলের লোকজনকে অবগত করেছি যে আমি এখানে থাকব কিছুদিন এবং আমি যেহেতু প্লেনে করে এসেছি আমার একটু হলেও ঝুঁকি আছে, এজন্য আমি নিজেকে আইসোলেটেড করে রেখেছি। যে কারণে আমি আমার বাচ্চার সঙ্গেও দেখা করিনি। এখানে এসেও বাচ্চার সঙ্গে দেখা না করা অবশ্যই আমার জন্য কষ্টদায়ক, তারপরও আমার মনে হয় এই সামান্য ছাড় দিতে পারলে আমরা অনেকদূর এগোতে পারব’ ।

বিদেশফেরতদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনে প্রতি জোর দেন সাকিব, ‘আমাদের দেশে যারা বিদেশফেরত এসেছেন, আমাদের দেশে আসলে অনেক মানুষই এসেছেন সংবাদপত্রে দেখেছি, আমাদের দেশের মানুষ তারা। যেহেতু তাদের হাতে কম ছুটি থাকে তাই তারা অনেক সময় চায় আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে এবং ঘুরাফেরা করতে, খাওয়া-দাওয়া করতে, আড্ডা দিতে চায় কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে একত্রিত হতে চায়।’

‘যেহেতু আমাদের সময়টা অনুকূলে না, তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব সবাই যেন এই নিয়মগুলো মেনে চলেন। কারণ আমাদের ছোট ছোট এসব সেক্রিফায়িসগুলো আমাদের পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে, সুস্থ রাখতে। আশা করি আপনারা আমার এই কথাগুলো শুনবেন কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন। এছাড়া বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যেসব দিকনির্দেশনা দিয়েছে সেগুলো সম্পর্কেও একটু অবগত হবেন এবং সেভাবে ব্যবস্থা নেবেন । ‘ – জানান সাকিব ।

তবে, মানুষকে আতঙ্কিত না হতে অনুরোধ করেছেন সাকিব আল হাসান। তিনি আরও বলেন, ‘আর একটা কথা অবশ্যই বলতে চাই, কেউ আতঙ্কিত হবেন না। আমার মনে হয় না এটা কোনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারবে। আমি খবরে দেখেছি, অনেকে ৩, ৪, ৫ বা ৬ মাস পর্যন্তও খাবার সংগ্রহ করছেন। আমার ধারণা, খাবারের সংকট কখনওই হবে না ইনশাআল্লাহ। আমরা কেউ না খেয়ে মারা যাব না। তাই আমরা আতঙ্কিত না হই। আমাদের সঠিক সিদ্ধান্তই পারে আমাদের এর থেকে রক্ষা করতে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সেটা সম্ভব। আশা করি, সবাই ভালো থাকবেন এবং প্রয়োজন ছাড়া কেউ ভ্রমণ বা বাড়ির বাইরে বের হবেন না।’

আহাস/ক্রী/০০১