Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

বিয়ের আসর থেকে পালানো মেয়েটি জিতলো সোনার পদক

ক্রীড়ালোক প্রতিবেদকঃ

নেপালের মাটিতে চলমান দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের (এসএ) ১৩তম আসরে দারুণ সাফল্যের মধ্য দিচ্ছে বাংলাদেশ দল । অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে জয় করে চলেছে একের পর এক সোনার পদক ।

মোট ১৪টি সোনার পদক জিতে বাংলাদেশ দল বেশ চমক জাগিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ক্রীড়া উৎসবে । দেশের বাইরে এসএ গেমসে বাংলাদেশের এটাই সেরা সাফল্য। এর আগে ১৯৯৫ মাদ্রাজ গেমসে ৭টি স্বর্ণপদক ছিল সেরা অর্জন। এসএ গেমসে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য আসে ২০১০ সালে । সেবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত আসরে ১৮টি সোনার পদক জিতেছিল বাংলাদেশ । এবার নিজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ পেয়েছে অনন্য সাফল্য । আসর শেষ না হওয়ায় বাংলাদেশের সামনে আছে আরও সোনার পদক জেতার সুযোগ ।

রবিবার (৮ ডিসেম্বর) আসরের অষ্টম দিনে আর্চারি বিভাগে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সবার সেরা । গেমস শুরুর আগেই অবশ্য আর্চারি থেকে সবচেয়ে সোনা জয়ের লক্ষ্য ছিল লাল সবুজের দেশের । এখন পর্যন্ত এই খেলার ছয় সোনার সবকটি জিতে নিয়েছে বাংলাদেশের তীরন্দাজরা । সোমবার এককের চারটি ফাইনাল হবে। বাংলাদেশের সামনে সুযোগ আছে ১০ ইভেন্টের সবগুলো থেকে সোনার পদক জয়ের।

চলমান এসএ গেমসে আর্চারিতে নারীদের রিকার্ভ বো এবং দলগত মিশ্র ইভেন্টে বাংলাদেশকে সোনা এনে দিয়েছেন চুয়াডা’ঙ্গার মেয়ে ইতি খাতুন। পোখারায় মেয়েদের রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে ভুটানের বিপক্ষে ৬-০ সেট পয়েন্টে জিতে মেয়েরা। পরে রিকার্ভ মিশ্র ইভেন্টে রোমান সানার সঙ্গে ভুটানকে ৬-২ সেট পয়েন্টে হারিয়ে সোনার পদক জিতেন ইতি।

এখন পর্যন্ত দুইটি সোনার পদকজয়ী আর্চার ইতি খাতুনের জীবনের গল্প হার মানায় সিনেমাকেও । মাত্র ১১ বছর বয়সে দরিদ্র পরিবারের সন্তান ইতির বিয়ের আয়োজন করা হয়ে গিয়েছিল । সেই সময় ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ইতি মেনে নেন নি এই বাল্য-বিয়ের চেষ্টা । কারণ তার চোখে ছিল বড় কিছুর স্বপ্ন । সেই জন্যই বিয়ের পিঁড়ি থেকে পালিয়ে ইতি চলে আসেন আর্চারি ফেডারেশনের ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতায়। সেই সাহসী ইতি আজ বাংলাদেশের ‘সোনার মেয়ে’ ।

ইতির এই সিনেমাটিক জীবনকাহিনীর পেছনে অবদান রয়েছে আর্চারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপলের। তার প্রচেষ্টাতেই ইতির আর্চার হয়ে ওঠা। তবে এই অপরিচিত খেলাটি নিয়ে শুরুতে কোনো স্বপ্ন ছিল না ইতির। তিনি চেয়েছিলেন পড়াশোনা করতে। পড়াশোনা করবেন বলেই তিনি বিয়ের আসর থেকে উঠে গিয়েছিলেন। চুয়াডাঙ্গার ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতায় নজরে পড়েন কোচদের। তীরন্দাজ সংসদ তাকে দলে নেয়। সেই ইতি এখন দেশের গর্ব। 

বাংলাদেশের ইতি আক্তার দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে এখন দেখছেন বিশ্ব মাত করার স্বপ্ন । সাহসী সোনার-মেয়ের জন্য শুভকামনা । 

আহাস/ক্রী/০০৩