Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

এশিয়ার সেরা কাতারকে রুখতে বাংলাদেশের একটাই কৌশল

আহসান হাবীব সুমন/ক্রীড়ালোকঃ

নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবার স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য সামনে কঠিন পরীক্ষা । বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে চলতি মাসেই বাংলাদেশকে মুখোমুখি হতে হবে ২০২২ সালের স্বাগতিক কাতার আর প্রতিবেশী দেশ ভারতের । আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ । আর ভারতের সাথে পরবর্তী ম্যাচ পাঁচদিন পর কোলকাতায় ।

বাংলাদেশের জন্য কাতার অনেক বড় প্রতিপক্ষ , কোন সন্দেহ নেই । সর্বশেষ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে কাতার শিরোপা জিতেছে দাপটের সাথে । আগামী বিশ্বকাপের স্বাগতিক হিসেবে এখন থেকেই নিজেদের প্রমাণ করে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি । বাংলাদেশের বিপক্ষে ধারে-ভারে অনেক এগিয়ে থাকা কাতার নিঃসন্দেহে স্পষ্ট ফেভারিট ।

কাতারের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কিছুটা আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের । কারণ কাতারের মোকাবেলা করার আগে বাংলাদেশ দুইটি প্রীতি ম্যাচে হারিয়েছে ভুটানকে । অবশ্য ফুটবলে কাতার আর ভুটান এক না । তার উপর বাংলাদেশ খেলেছে ভুটানের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে । কিন্তু তারপরেও কাতারের মত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ম্যাচ প্র্যাকটিসের সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ , এটাও কম কথা না !

ইতোমধ্যেই চলতি বাছাই পর্বে আফগানিস্তানের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ । অন্যদিকে সেই আফগানদের রীতিমত উড়িয়ে দিয়েছে কাতার । যদিও নিজেদের মাঠে পরের ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে ড্র করেছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা । ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় নিয়েই দেশে ফিরতে চায় কাতার ।

এই মুহূর্তে ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ৬২ নাম্বারে আছে কাতার । অন্যদিকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৭ তম । দুই দলের ফারাক বোঝাতে এই র‍্যাংকিং অবস্থানই স্পষ্ট ।

সর্বশেষ কোপা আমেরিকা আসরে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে কাতার । সেখানে আর্জেন্টিনা আর কলম্বিয়ার মত দলের বিপক্ষে হেরেছে লড়াই করে । ড্র করেছে প্যারাগুয়ের সাথে । তারও আগে এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন হবার পথে হারিয়েছে জাপান আর দক্ষিন কোরিয়াকে । কাতারের ফুটবল শক্তি এখন কোন পর্যায়ে সেটা বোঝা যায় তাদের এই সাম্প্রতিক পারফর্মেন্স দেখেই ।

কাতারের শক্তি মেনে নিয়ে বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে জানিয়েছেন , ‘ ‘ফুটবলের কোনো বিভাগেই আমরা তাদের ধারে-কাছে নেই। সব দিক দিয়ে কাতার আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তবে আমরা লড়াইয়ের যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। অনুশীলনে ছেলেদের বলা হচ্ছে, কিছুতেই হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না।’

বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ জানান , ‘ ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভয় নয়, বলতে পারেন তাদের সমীহ করছি। সবাই জানে ফুটবলে বাংলাদেশ আর কাতারের মধ্যে কতটা পার্থক্য। শুধু ডিফেন্ডাররা নয়, পুরো দল প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা ওদের প্রতিটি আক্রমণ রুখে দিতে চাই।’

জেমি ডে’র একটাই লক্ষ্য , ম্যাচে কোনভাবে কাতারকে গোল করতে না দেয়া । যদিও বাংলাদেশের জন্য সেটাও প্রায় অসম্ভব কঠিন একটা কাজ । কিন্তু ফুটবলে নিজের দিনে অনেক অসম্ভব কাজ করে ফেলা সম্ভব । সেই আশাতেই আপাতত আছেন বাংলাদেশের কোচ ।

জেমি ডে জানান , ‘ এখনও ম্যাচের তিনদিন বাকী । এই সময়ে আমরা অনুশীলনে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চেষ্টা করব । নিজেদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে হলে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা জরুরী । ‘

আহাস/ক্রী/০০৬